আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

পলিমাটির প্রবক্তা গবেষক কবি কায়সার আহমেদ দুলাল

রিপন শান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উপকূলীয় লোকসাহিত্য উপকূলের ইতিহাস ঐতিহ্য ও লোকজীবনের আয়না। নদীশিকস্তি ও নদীপয়স্হী মানুষ প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে সংগ্রাম করে জীবনের ঠিকানা তৈরি করে বারবার। বসতভিটা বাড়িঘর, আবাদী অনাবাদী জমিজমা খরস্রোতা নদীর পানিতে মিশে গেলে পলি জমে জেগে ওঠা নতুন চরে গড়ে ওঠে উপকূলীয় নতুন জনপদ ও জনজীবন। পলিমাটির সাথেই উপকূলীয় জনজীবনের জন্মগত ঐক্যসুত্র । ঐ মাটিতে ফসল ফলিয়ে দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকা, লোকজ কৃষ্টি, সভ্যতা, সংস্কৃতি যুগ থেকে যুগান্তরে আবর্তিত হয় । উপকূলীয় লোকসংস্কৃতির উপাদান সংগ্রহ করতে গিয়ে এর প্রাচুর্য দেখে বিস্মিত হয়েছেন দক্ষিণ বাংলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ গবেষক কবি কায়সার আহমেদ দুলাল । মাধুর্য প্রকাশন প্রকাশিত তাঁর ‘পলিমাটির পদবাচ্য’ গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি জানিয়েছেন – ঐতিহ্য লালনের মধ্যে একধরনের সুখ আছে আত্মতৃপ্তি আছে । পূর্ব পুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে একধরনের গৌরব আছে। চারদিকে ছড়িয়ে থাকা অপ্রকাশিত ও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত সেই সব লোকজ উপাদানগুলোর মাঝে যে শিল্প প্রাচুর্য রয়েছে তা সংগ্রহ, আলোচনা ও পর্যালোচনা করলে আমাদের লোকসংস্কৃতির ভান্ডার সমৃদ্ধ হবে । এরফলে তথাকথিত আধুনিকতায় ক্ষতবিক্ষত হবেনা আমাদের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ। এতে করে নতুন প্রজন্মের মাঝে মনুষ্যত্ববোধের উন্মোচন হবে ।
“দধি মামলা গোলা এই তিনে ভোলা” পদবাচ্যের দ্বীপজেলা ভোলার জনজীবনে প্রচলিত লোকজ প্রবাদ প্রবচন ও গ্রামীণ পঙতিমালার গবেষণালব্ধ এক অনবদ্য সংকলন গবেষক কায়সার আহমেদ দুলালের ‘পলিমাটির পদবাচ্য’ । বিয়ের গান, জারি সারি, কৃষিকথা, পল্লীগীতিকা, পল্লীকথিকা, ধাঁধা,কিসসা, রূপকথা, গৃহস্থালি কথা, পল্লীর প্রেমপ্রীতি, সুখদুঃখ, হর্ষ বিষাদের এক অনবদ্য আলেখ্য গবেষক দুলালের পলিমাটির পদবাচ্য ‌। স্বশিক্ষিত দাদা রুস্তম আলী মাঝি, নানা পুঁথিকার আলী একাব্বর ও তাঁর ভাবশিষ্য সেকান্তর আলী ফরাজী এবং বাবা-মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত শেকড়সন্ধানী অনুপ্রেরণা , লোককথা, শ্লোক,ছন্দ, লোককবিতা, লোকতথ্য গবেষক কায়সার আহমেদ দুলালের পলিমাটির পদবাচ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। দেশের একমাত্র দ্বীপজেলা আজকের ভোলা জেলার ইতিহাস অনুসন্ধানে এই বইটি হতে পারে সময়োপযোগী মাইলফলক।

লেখালেখির প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা ছিল কবি কায়সার আহমেদ দুলালের সেই দুরন্ত শৈশব থেকেই । স্বপ্ন ছিলো অনেক বড়ো কবি হবেন, সাংবাদিক হবেন, লেখক হবেন । অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিবন্ধকতার কারণে নিজের স্বপ্নটা ছাইচাপা আগুনের মতো তলিয়েছিল তাঁর । এক পরম হিতৈষীর অনুপ্রেরণায় আবার সেই স্বপ্ন জেগে ওঠে । মানুষের হৃদয়ে নতুন করে বাঁচার ইচ্ছে হয়েছে এক পরমব্রত শিক্ষাসেবকের । নির্মল আনন্দ ও সৃজনের উষ্ণতায় বেঁচে থাকার জন্যেই কলম হাতে তুলে নিয়েছেন সময়ের কবি । চারপাশের অসঙ্গতি অসংলগ্নতা, মানবিকতা ও মানবাধিকারের করুন আর্তি, নিজস্ব গোপন গভীর প্রেম কবি কায়সার আহমেদ দুলালের ভেতর বাড়িকে ক্রমশ আঘাত করতে থাকে। কবি নিত্যদিন ক্ষতবিক্ষত হন কবিতার দাবানলে । মনের চিন্তাগুলো কষ্টগুলো একিভূত হয়ে কবিতার আখরে বেরিয়ে আসতে থাকে। হৃদয়ের জলছাপ, কোরক মুক্তির যন্ত্রণা,বিষন্ন পাথর, আশার অরুণ আলো- শীর্ষক কাব্যগ্রন্থগুলো কবি কায়সার আহমেদ দুলালের স্বনির্ভর শব্দমালার সুনিপুণ বিন্যাস। কবি হাসান মাহমুদের নেতৃত্বাধীন সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বপ্নকুঁড়ি’র প্রতিষ্ঠা জয়ন্তীতে কবি কায়সার আহমেদ দুলালের কাব্যগ্রন্থ গুলোর পাঠ উন্মোচন করেন দেশবরেণ্য কবি আসাদ চৌধুরী।

মোবাইল সেটের কীবোর্ড টিপে টিপে রোজকার শব্দমালায় করোনার সেই দুঃসময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনের অশান্তি মনের ভার কমানোর চেষ্টা করেছেন বহুমাত্রিক লেখক কায়সার আহমেদ দুলাল । তাঁর হোম কোয়ারেন্টাইন জার্নাল ‘ করোনাবন্দির জবানবন্দি’ পড়েই অনাগত নতুন প্রজন্ম একদিন জানবে অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের কাছে আমাদের আধুনিক সভ্যতার নাকানি-চুবানি খাওয়ার কথা । আমাদের ব্যর্থতা আমাদের সফলতার কথা। লেখক বলছেন – করোনা ভাইরাস পৃথিবীতে এসেছিলো মানুষের লাগামহীন গতিপথের লাগাম টেনে ধরার জন্য। অদৃশ্য অব্যয় শক্তির কাছে মাথা নত করে নতুনভাবে জীবন পথ চলার জন্য। কভিড থেকে প্রাপ্ত এমন শিক্ষা মনুষ্য সভ্যতার ইতিহাসে বিরল । আগামি দিনগুলোতে করোনার চেয়ে কঠিন মহামারী মোকাবেলায় নতুন প্রজন্ম পৃথিবীতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে বলে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন হোম কোয়ারেন্টাইন জার্নালিস্ট কায়সার আহমেদ দুলাল । স্মর্তব্য: বাংলাদেশে কভিড বিষয়ে কায়সার আহমেদ দুলাল রচিত ‘করোনাবন্দির জবানবন্দি’ ই প্রথম বই ।

জাতীয় মঙ্গলের কবি মোজাম্মেল হক, জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামাল, স্বাধীনতার কবি শামসুর রাহমান, বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক জনপ্রিয় কথাশিল্পী হূমায়ুন আহমেদ এর জীবন ও কর্ম নানামাত্রিক ব্যঞ্জনা নিয়ে ওঠে এসেছে লেখক কায়সার আহমেদ দুলালের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘পথের পান্ডুলিপি’তে । ভোলার রাজনীতির অনন্য ব্যক্তিত্ব দক্ষিণ বাংলার গৌরব শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ এম এম নজরুল ইসলাম, রূপের শহর চরফ্যাসন, দ্বীপজেলার পর্যটন সৌন্দর্যসহ বিবিধ বিষয় স্ব মহিমায় বিধৃত হয়েছে পথের পান্ডুলিপিতে । ভোলার জেলার সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় সাপ্তাহিক উপকূল এর বিন্দুবৃত্ত , পাঠকের প্রবল অনুরাগ ও অনুভূতি বিবৃত হয়েছে সম্পাদক লেখক সাংবাদিক কায়সার আহমেদ দুলালের ‘উপকূল সম্পাদকীয়’ নামক ব্যতিক্রমধর্মী গ্রন্থে । সদূর মফস্বল থেকে প্রকাশিত পত্রিকার জীবন সংগ্রাম, সম্পাদকীর রূপ রীতি, সঙ্কট ও সম্ভাবনা উত্তরণের গল্প উপকূল সম্পাদকীয়ের পাতায় পাতায় বহতা জীবন ও সময়ের কথা বলে যায় ।

‘চরফ্যাসনে মুক্তিযুদ্ধ’ লেখক কায়সার আহমেদ দুলালের আরেকটি অবিস্মরণীয় কাজ । বাংলাদেশ ও বাঙালির জাতীয় ইতিহাসে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রোজ্জ্বল থাকবে কাল থেকে কালান্তর। মুক্তিযুদ্ধের অঞ্চল ভিত্তিক ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন লেখকের হাতে বিভিন্ন জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিভিন্ন সময়ে লেখা হলেও মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন থানাগুলোর ( পরবতীতে উপজেলা) প্রকৃত চিত্র সেই অর্থে কোনো লেখকেই উপহার দিতে পারেননি। সব জায়গায় জেলা সদর কেন্দ্রিকতার একটা প্রাধান্য ও মনোবৃত্তি লক্ষ্য করা গেছে। ভোলা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ক্ষেত্রেও তেমনটির ব্যর্তয় ঘটেনি। চরফ্যাসনে মুক্তিযুদ্ধ উপজেলাভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনার একটা আন্তরিক সাজেশান । দেশের প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক নির্মাণ করে তাতে বীরশহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা নিখুঁতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন গবেষক কায়সার আহমেদ দুলাল । তিনি আরো মনে করেন- মাতৃভাষা মাতৃভূমি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিব এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এক ও অভিন্ন সত্তায় আমাদের স্বাধীনতা ও জাতীয় জীবনেকে সমৃদ্ধ করেছে। যুগে যুগে সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসের পথে আমাদের আরো বেশি করে হাঁটতে হবে।
উপজেলাভিত্তিক তৃণমূল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিপিবদ্ধ হওয়া অনেক বেশি জরুরী। পঞ্চান্ন বছরে এ পথ অনেক পিচ্ছিল হয়ে গেছে। অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আজো স্বীকৃতি পায়নি। অনেক মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি না পেয়েই পরপারে চলে গেছেন । আবার অনেক অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধার খাতায় নাম লিখিয়ে নানান সুবিধা নিয়েছেন। ভোলা জেলার মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্পট পেয়ার আলী বেপারী ক্যাম্পের ইতিকথা ও ভোলা জেলার মুক্তিযুদ্ধের অনেক আত্মঘাতী স্মৃতিকথায় টইইম্বুর গবেষক কায়সার আহমেদ দুলালের ‘চরফ্যাসনে মুক্তিযুদ্ধ’ ।

চরফ্যাসন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সাংবাদিক কবি কায়সার আহমেদ দুলাল মাটিবর্তি মানুষের জীবনবোধ, গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের অনিমিখ চেতনা ও সমকালীন সাহিত্য সংস্কৃতির মানবতাবাদী আদর্শে উজ্জীবিত একজন সাদামনের মানুষ। তিনি ১৯৬০ সালের ৯ জুলাই দ্বীপজেলা ভোলার উপকূলীয় জনপদ চরফ্যাসন উপজেলার আমিনাবাদ গ্রামের এক শিক্ষামনস্ক পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন । সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রপ্রিয় সাবেক শিক্ষক পিতা আব্দুস সোবহান মিয়া ও গৃহিণী মাতা হালিমা খাতুনের আদরের ‘দুলাল’ বাবার একান্ত আগ্রহে বাংলা সাহিত্যে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন । তিনি ১৯৮৭ সালে চরফ্যাসন সরকারি কলেজে বাংলা বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতা, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন কায়সার আহমেদ দুলাল। ১৯৯১ সালে জননেতা অধ্যক্ষ এম এম নজরুল ইসলাম (সাবেক এমপি) সাপ্তাহিক উপকূল পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিন সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে কবি আহসান হাবীব, কবি সুফিয়া কামাল, কবি শামসুর রাহমান, কবি আসাদ চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী , কবি নাসির আহমেদসহ দেশবরেণ্য লেখক সাহিত্যিকদের নিবিড় সান্নিধ্য পেয়েছেন তিনি। তাঁর রকমারি স্বাদ ও গন্ধের পাঁচটি বই- পথের পান্ডুলিপি, পলিমাটির পদবাচ্য, করোনাবন্দির জবানবন্দি, উপকূল সম্পাদকীয় এবং চরফ্যাসনে মুক্তিযুদ্ধে’র মোড়ক উন্মোচন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ( বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী ) হাছান মাহমুদ।

কায়সার আহমেদ দুলাল চরফ্যাসন প্রেসক্লাবের একটানা পাঁচবছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলার সভাপতি। ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাবের সিনিয়র উপদেষ্টা। তিনি ওসমানগঞ্জ আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব কলেজ এবং বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি। চরফ্যাসন উপজেলা আওয়ামীলীগের জনপ্রিয় সহ-সভাপতি কায়সার আহমেদ দুলাল সাহিত্য সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য লালমোহন মিডিয়া ক্লাব পুরস্কার ২০২০ ভূষিত হয়েছেন । কবি ও নাট্যকার কায়সার আহমেদ দুলাল বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের অধিভুক্ত নাট্য সংগঠন মালঞ্চ নাট্যম চরফ্যাসনের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮৪ সালে তিনি মালঞ্চ নাট্যম প্রতিষ্ঠা করেন । একই বছর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ভোরের পাখি সাহিত্য আসর । তাঁর জন্মগ্রাম আমিনাবাদ থেকে সাহিত্য সংগঠনটির শুভযাত্রা । সেসময় তাঁর সম্পাদনায় ভোরের পাখি শীর্ষক সাহিত্য ম্যাগাজিন নিয়মিত প্রকাশ হতো । তাঁর রচিত ‘ঝড় ও জীবন’ , ‘ লাল সূর্যের নীচে’ , ‘বেড়ির পাড়ের মানুষ ‘ মালঞ্চ নাট্যম কর্তৃক একাধিকবার মঞ্চায়িত হয় । তাঁর লেখা ‘ বঙ্গবন্ধু বাংলার অবয়ব’ ,কাব্যগ্রন্হ ‘ফিরে যাই মাটির কাছে, ছড়াগ্রন্হ ‘গাঁয়ের ছড়া’ সহ দুটি উপন্যাস প্রকাশের পথে ।

শিক্ষাবিদ কায়সার আহমেদ দুলাল ২০০৯ সাল থেকে চরফ্যাসন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিয়ে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করে এক দারুণ কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেন । শিক্ষা সাহিত্য সমাজকর্মে বহুমুখী অবদানের জন্যে দেশের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে পেয়েছেন নানান সম্মাননা ।

জয়তু পলিমাটির মানসপুত্র গবেষক কবি শিক্ষাবিদ সাংবাদিক কায়সার আহমেদ দুলাল । আপনার কোরক মুক্তির যন্ত্রনা হৃদয়ের জলছাপে বিষন্ন পাথর ভেদ করে আশার অরুণ আলোয় উদ্ভাসিত হোক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

উপকূলে বাড়ছে বজ্রপাতের তাণ্ডব: জীবন রক্ষায় চাই বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​দক্ষিণাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত খুলনা জেলার পাইকগাছাসহ উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে এখন বোরো ধান কাটার মহোৎসব চলছে। তবে এই উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপ দিচ্ছে আকাশের ‘অগ্নিঝলক’ বা বজ্রপাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন খোলা মাঠে কর্মরত কৃষকরা।

​পাইকগাছার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ এবং লোনা পানির ঘের সংলগ্ন এলাকায় কোনো বড় গাছপালা বা উঁচু স্থাপনা নেই। ফলে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কৃষকরাই সরাসরি এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা গরম ও আর্দ্র বাতাসের সাথে উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে এই উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘের ঘর্ষণ বেশি হয়, যার ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা দুই-ই বাড়ছে।

​সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে খুলনা অঞ্চলে দুপুরের পর থেকেই কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। ঠিক এই সময়েই কৃষকরা ধান কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। পাইকগাছার অনেক কৃষকের মতে, হঠাত মেঘ জমলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই বজ্রপাত শুরু হয়ে যায়। কাছাকাছি কোনো পাকা দালান বা উঁচু গাছ না থাকায় তারা চরম জীবনের ঝুঁকিতে থাকেন।

​বজ্রপাত থেকে বাঁচতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ , আকাশে ঘন কালো মেঘ বা বিদ্যুৎ চমকানো শুরু করলে দ্রুত পাকা দালান বা টিনের চালের নিচে আশ্রয় নিন, বজ্রপাতের সময় মাছের ঘের, নদী বা খোলা ধানখেত থেকে দ্রুত সরে আসতে হবে, বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ,ছাতা বা কাস্তের মতো ধাতব হাতলযুক্ত কোনো কিছু এ সময় ব্যবহার করবেন না, .কাজ করার সময় রাবারের জুতো বা গামবুট ব্যবহার করলে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব, বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

​বজ্রপাতকে বর্তমানে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পাইকগাছাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জীবন সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ