আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

পলিমাটির প্রবক্তা গবেষক কবি কায়সার আহমেদ দুলাল

রিপন শান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উপকূলীয় লোকসাহিত্য উপকূলের ইতিহাস ঐতিহ্য ও লোকজীবনের আয়না। নদীশিকস্তি ও নদীপয়স্হী মানুষ প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে সংগ্রাম করে জীবনের ঠিকানা তৈরি করে বারবার। বসতভিটা বাড়িঘর, আবাদী অনাবাদী জমিজমা খরস্রোতা নদীর পানিতে মিশে গেলে পলি জমে জেগে ওঠা নতুন চরে গড়ে ওঠে উপকূলীয় নতুন জনপদ ও জনজীবন। পলিমাটির সাথেই উপকূলীয় জনজীবনের জন্মগত ঐক্যসুত্র । ঐ মাটিতে ফসল ফলিয়ে দ্বীপাঞ্চলের মানুষের জীবন জীবিকা, লোকজ কৃষ্টি, সভ্যতা, সংস্কৃতি যুগ থেকে যুগান্তরে আবর্তিত হয় । উপকূলীয় লোকসংস্কৃতির উপাদান সংগ্রহ করতে গিয়ে এর প্রাচুর্য দেখে বিস্মিত হয়েছেন দক্ষিণ বাংলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ গবেষক কবি কায়সার আহমেদ দুলাল । মাধুর্য প্রকাশন প্রকাশিত তাঁর ‘পলিমাটির পদবাচ্য’ গ্রন্থের ভূমিকায় তিনি জানিয়েছেন – ঐতিহ্য লালনের মধ্যে একধরনের সুখ আছে আত্মতৃপ্তি আছে । পূর্ব পুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে একধরনের গৌরব আছে। চারদিকে ছড়িয়ে থাকা অপ্রকাশিত ও মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত সেই সব লোকজ উপাদানগুলোর মাঝে যে শিল্প প্রাচুর্য রয়েছে তা সংগ্রহ, আলোচনা ও পর্যালোচনা করলে আমাদের লোকসংস্কৃতির ভান্ডার সমৃদ্ধ হবে । এরফলে তথাকথিত আধুনিকতায় ক্ষতবিক্ষত হবেনা আমাদের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ। এতে করে নতুন প্রজন্মের মাঝে মনুষ্যত্ববোধের উন্মোচন হবে ।
“দধি মামলা গোলা এই তিনে ভোলা” পদবাচ্যের দ্বীপজেলা ভোলার জনজীবনে প্রচলিত লোকজ প্রবাদ প্রবচন ও গ্রামীণ পঙতিমালার গবেষণালব্ধ এক অনবদ্য সংকলন গবেষক কায়সার আহমেদ দুলালের ‘পলিমাটির পদবাচ্য’ । বিয়ের গান, জারি সারি, কৃষিকথা, পল্লীগীতিকা, পল্লীকথিকা, ধাঁধা,কিসসা, রূপকথা, গৃহস্থালি কথা, পল্লীর প্রেমপ্রীতি, সুখদুঃখ, হর্ষ বিষাদের এক অনবদ্য আলেখ্য গবেষক দুলালের পলিমাটির পদবাচ্য ‌। স্বশিক্ষিত দাদা রুস্তম আলী মাঝি, নানা পুঁথিকার আলী একাব্বর ও তাঁর ভাবশিষ্য সেকান্তর আলী ফরাজী এবং বাবা-মায়ের কাছ থেকে প্রাপ্ত শেকড়সন্ধানী অনুপ্রেরণা , লোককথা, শ্লোক,ছন্দ, লোককবিতা, লোকতথ্য গবেষক কায়সার আহমেদ দুলালের পলিমাটির পদবাচ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। দেশের একমাত্র দ্বীপজেলা আজকের ভোলা জেলার ইতিহাস অনুসন্ধানে এই বইটি হতে পারে সময়োপযোগী মাইলফলক।

লেখালেখির প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা ছিল কবি কায়সার আহমেদ দুলালের সেই দুরন্ত শৈশব থেকেই । স্বপ্ন ছিলো অনেক বড়ো কবি হবেন, সাংবাদিক হবেন, লেখক হবেন । অনাকাঙ্ক্ষিত প্রতিবন্ধকতার কারণে নিজের স্বপ্নটা ছাইচাপা আগুনের মতো তলিয়েছিল তাঁর । এক পরম হিতৈষীর অনুপ্রেরণায় আবার সেই স্বপ্ন জেগে ওঠে । মানুষের হৃদয়ে নতুন করে বাঁচার ইচ্ছে হয়েছে এক পরমব্রত শিক্ষাসেবকের । নির্মল আনন্দ ও সৃজনের উষ্ণতায় বেঁচে থাকার জন্যেই কলম হাতে তুলে নিয়েছেন সময়ের কবি । চারপাশের অসঙ্গতি অসংলগ্নতা, মানবিকতা ও মানবাধিকারের করুন আর্তি, নিজস্ব গোপন গভীর প্রেম কবি কায়সার আহমেদ দুলালের ভেতর বাড়িকে ক্রমশ আঘাত করতে থাকে। কবি নিত্যদিন ক্ষতবিক্ষত হন কবিতার দাবানলে । মনের চিন্তাগুলো কষ্টগুলো একিভূত হয়ে কবিতার আখরে বেরিয়ে আসতে থাকে। হৃদয়ের জলছাপ, কোরক মুক্তির যন্ত্রণা,বিষন্ন পাথর, আশার অরুণ আলো- শীর্ষক কাব্যগ্রন্থগুলো কবি কায়সার আহমেদ দুলালের স্বনির্ভর শব্দমালার সুনিপুণ বিন্যাস। কবি হাসান মাহমুদের নেতৃত্বাধীন সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন স্বপ্নকুঁড়ি’র প্রতিষ্ঠা জয়ন্তীতে কবি কায়সার আহমেদ দুলালের কাব্যগ্রন্থ গুলোর পাঠ উন্মোচন করেন দেশবরেণ্য কবি আসাদ চৌধুরী।

মোবাইল সেটের কীবোর্ড টিপে টিপে রোজকার শব্দমালায় করোনার সেই দুঃসময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মনের অশান্তি মনের ভার কমানোর চেষ্টা করেছেন বহুমাত্রিক লেখক কায়সার আহমেদ দুলাল । তাঁর হোম কোয়ারেন্টাইন জার্নাল ‘ করোনাবন্দির জবানবন্দি’ পড়েই অনাগত নতুন প্রজন্ম একদিন জানবে অদৃশ্য করোনা ভাইরাসের কাছে আমাদের আধুনিক সভ্যতার নাকানি-চুবানি খাওয়ার কথা । আমাদের ব্যর্থতা আমাদের সফলতার কথা। লেখক বলছেন – করোনা ভাইরাস পৃথিবীতে এসেছিলো মানুষের লাগামহীন গতিপথের লাগাম টেনে ধরার জন্য। অদৃশ্য অব্যয় শক্তির কাছে মাথা নত করে নতুনভাবে জীবন পথ চলার জন্য। কভিড থেকে প্রাপ্ত এমন শিক্ষা মনুষ্য সভ্যতার ইতিহাসে বিরল । আগামি দিনগুলোতে করোনার চেয়ে কঠিন মহামারী মোকাবেলায় নতুন প্রজন্ম পৃথিবীতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করবে বলে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন হোম কোয়ারেন্টাইন জার্নালিস্ট কায়সার আহমেদ দুলাল । স্মর্তব্য: বাংলাদেশে কভিড বিষয়ে কায়সার আহমেদ দুলাল রচিত ‘করোনাবন্দির জবানবন্দি’ ই প্রথম বই ।

জাতীয় মঙ্গলের কবি মোজাম্মেল হক, জননী সাহসিকা কবি সুফিয়া কামাল, স্বাধীনতার কবি শামসুর রাহমান, বাংলা সাহিত্যের সর্বাধিক জনপ্রিয় কথাশিল্পী হূমায়ুন আহমেদ এর জীবন ও কর্ম নানামাত্রিক ব্যঞ্জনা নিয়ে ওঠে এসেছে লেখক কায়সার আহমেদ দুলালের স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ ‘পথের পান্ডুলিপি’তে । ভোলার রাজনীতির অনন্য ব্যক্তিত্ব দক্ষিণ বাংলার গৌরব শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ এম এম নজরুল ইসলাম, রূপের শহর চরফ্যাসন, দ্বীপজেলার পর্যটন সৌন্দর্যসহ বিবিধ বিষয় স্ব মহিমায় বিধৃত হয়েছে পথের পান্ডুলিপিতে । ভোলার জেলার সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় সাপ্তাহিক উপকূল এর বিন্দুবৃত্ত , পাঠকের প্রবল অনুরাগ ও অনুভূতি বিবৃত হয়েছে সম্পাদক লেখক সাংবাদিক কায়সার আহমেদ দুলালের ‘উপকূল সম্পাদকীয়’ নামক ব্যতিক্রমধর্মী গ্রন্থে । সদূর মফস্বল থেকে প্রকাশিত পত্রিকার জীবন সংগ্রাম, সম্পাদকীর রূপ রীতি, সঙ্কট ও সম্ভাবনা উত্তরণের গল্প উপকূল সম্পাদকীয়ের পাতায় পাতায় বহতা জীবন ও সময়ের কথা বলে যায় ।

‘চরফ্যাসনে মুক্তিযুদ্ধ’ লেখক কায়সার আহমেদ দুলালের আরেকটি অবিস্মরণীয় কাজ । বাংলাদেশ ও বাঙালির জাতীয় ইতিহাসে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ প্রোজ্জ্বল থাকবে কাল থেকে কালান্তর। মুক্তিযুদ্ধের অঞ্চল ভিত্তিক ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন লেখকের হাতে বিভিন্ন জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিভিন্ন সময়ে লেখা হলেও মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন থানাগুলোর ( পরবতীতে উপজেলা) প্রকৃত চিত্র সেই অর্থে কোনো লেখকেই উপহার দিতে পারেননি। সব জায়গায় জেলা সদর কেন্দ্রিকতার একটা প্রাধান্য ও মনোবৃত্তি লক্ষ্য করা গেছে। ভোলা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের ক্ষেত্রেও তেমনটির ব্যর্তয় ঘটেনি। চরফ্যাসনে মুক্তিযুদ্ধ উপজেলাভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচনার একটা আন্তরিক সাজেশান । দেশের প্রতিটি উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক নির্মাণ করে তাতে বীরশহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা নিখুঁতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করেন গবেষক কায়সার আহমেদ দুলাল । তিনি আরো মনে করেন- মাতৃভাষা মাতৃভূমি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিব এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ এক ও অভিন্ন সত্তায় আমাদের স্বাধীনতা ও জাতীয় জীবনেকে সমৃদ্ধ করেছে। যুগে যুগে সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাসের পথে আমাদের আরো বেশি করে হাঁটতে হবে।
উপজেলাভিত্তিক তৃণমূল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস লিপিবদ্ধ হওয়া অনেক বেশি জরুরী। পঞ্চান্ন বছরে এ পথ অনেক পিচ্ছিল হয়ে গেছে। অনেক প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আজো স্বীকৃতি পায়নি। অনেক মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি না পেয়েই পরপারে চলে গেছেন । আবার অনেক অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধার খাতায় নাম লিখিয়ে নানান সুবিধা নিয়েছেন। ভোলা জেলার মুক্তিযুদ্ধের প্রথম স্পট পেয়ার আলী বেপারী ক্যাম্পের ইতিকথা ও ভোলা জেলার মুক্তিযুদ্ধের অনেক আত্মঘাতী স্মৃতিকথায় টইইম্বুর গবেষক কায়সার আহমেদ দুলালের ‘চরফ্যাসনে মুক্তিযুদ্ধ’ ।

চরফ্যাসন সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সাংবাদিক কবি কায়সার আহমেদ দুলাল মাটিবর্তি মানুষের জীবনবোধ, গৌরবোজ্জ্বল মুক্তিযুদ্ধের অনিমিখ চেতনা ও সমকালীন সাহিত্য সংস্কৃতির মানবতাবাদী আদর্শে উজ্জীবিত একজন সাদামনের মানুষ। তিনি ১৯৬০ সালের ৯ জুলাই দ্বীপজেলা ভোলার উপকূলীয় জনপদ চরফ্যাসন উপজেলার আমিনাবাদ গ্রামের এক শিক্ষামনস্ক পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন । সরকারি প্রাইমারি স্কুলের ছাত্রপ্রিয় সাবেক শিক্ষক পিতা আব্দুস সোবহান মিয়া ও গৃহিণী মাতা হালিমা খাতুনের আদরের ‘দুলাল’ বাবার একান্ত আগ্রহে বাংলা সাহিত্যে সম্মানসহ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন । তিনি ১৯৮৭ সালে চরফ্যাসন সরকারি কলেজে বাংলা বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন। ছাত্রজীবন থেকেই সাংবাদিকতা, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন কায়সার আহমেদ দুলাল। ১৯৯১ সালে জননেতা অধ্যক্ষ এম এম নজরুল ইসলাম (সাবেক এমপি) সাপ্তাহিক উপকূল পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করলে তিনি সেখানে সম্পাদক হিসেবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিন সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্রজীবনে কবি আহসান হাবীব, কবি সুফিয়া কামাল, কবি শামসুর রাহমান, কবি আসাদ চৌধুরী, কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ, অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী , কবি নাসির আহমেদসহ দেশবরেণ্য লেখক সাহিত্যিকদের নিবিড় সান্নিধ্য পেয়েছেন তিনি। তাঁর রকমারি স্বাদ ও গন্ধের পাঁচটি বই- পথের পান্ডুলিপি, পলিমাটির পদবাচ্য, করোনাবন্দির জবানবন্দি, উপকূল সম্পাদকীয় এবং চরফ্যাসনে মুক্তিযুদ্ধে’র মোড়ক উন্মোচন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ( বর্তমান পররাষ্ট্র মন্ত্রী ) হাছান মাহমুদ।

কায়সার আহমেদ দুলাল চরফ্যাসন প্রেসক্লাবের একটানা পাঁচবছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলার সভাপতি। ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাবের সিনিয়র উপদেষ্টা। তিনি ওসমানগঞ্জ আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব কলেজ এবং বেগম রহিমা ইসলাম কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি। চরফ্যাসন উপজেলা আওয়ামীলীগের জনপ্রিয় সহ-সভাপতি কায়সার আহমেদ দুলাল সাহিত্য সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য লালমোহন মিডিয়া ক্লাব পুরস্কার ২০২০ ভূষিত হয়েছেন । কবি ও নাট্যকার কায়সার আহমেদ দুলাল বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের অধিভুক্ত নাট্য সংগঠন মালঞ্চ নাট্যম চরফ্যাসনের প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৮৪ সালে তিনি মালঞ্চ নাট্যম প্রতিষ্ঠা করেন । একই বছর তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ভোরের পাখি সাহিত্য আসর । তাঁর জন্মগ্রাম আমিনাবাদ থেকে সাহিত্য সংগঠনটির শুভযাত্রা । সেসময় তাঁর সম্পাদনায় ভোরের পাখি শীর্ষক সাহিত্য ম্যাগাজিন নিয়মিত প্রকাশ হতো । তাঁর রচিত ‘ঝড় ও জীবন’ , ‘ লাল সূর্যের নীচে’ , ‘বেড়ির পাড়ের মানুষ ‘ মালঞ্চ নাট্যম কর্তৃক একাধিকবার মঞ্চায়িত হয় । তাঁর লেখা ‘ বঙ্গবন্ধু বাংলার অবয়ব’ ,কাব্যগ্রন্হ ‘ফিরে যাই মাটির কাছে, ছড়াগ্রন্হ ‘গাঁয়ের ছড়া’ সহ দুটি উপন্যাস প্রকাশের পথে ।

শিক্ষাবিদ কায়সার আহমেদ দুলাল ২০০৯ সাল থেকে চরফ্যাসন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দিয়ে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর অবসর গ্রহণ করে এক দারুণ কর্মময় জীবন অতিবাহিত করেন । শিক্ষা সাহিত্য সমাজকর্মে বহুমুখী অবদানের জন্যে দেশের বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন থেকে পেয়েছেন নানান সম্মাননা ।

জয়তু পলিমাটির মানসপুত্র গবেষক কবি শিক্ষাবিদ সাংবাদিক কায়সার আহমেদ দুলাল । আপনার কোরক মুক্তির যন্ত্রনা হৃদয়ের জলছাপে বিষন্ন পাথর ভেদ করে আশার অরুণ আলোয় উদ্ভাসিত হোক।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাবার বন্ধুদের কাছে পেয়ে সম্মান জানাতে ভুললেন না প্রতিমন্ত্রী পুতুল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারি সফরে পাবনা এসে বাবার বাল্যবন্ধুদের সান্নিধ্যে আবেগতাড়িত হলেন প্রয়াত সমাজকল্যান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে বর্তমান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।

সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসে বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রবি, প্রফেসর শিবজিত নাগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম ও অধ্যক্ষ মাহাতাব বিশ্বাসকে দেখে ছুটে কাছে যান এবং পরম শ্রদ্ধায় দোয়া চান প্রতিমন্ত্রী পুতুল। এ সময় মাথায় হাত দিয়ে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন বাবার বন্ধুরা। এরপর পাবনার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।

পাবনা প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রয়াত প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের কৈশোর তারুণ্য কেটেছে পাবনায়। তিনি পাবনার সাবেক এমপি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এডভোকেট আমিনউদ্দিনের ভাতুষ্পুত্র। শহীদ আমিনউদ্দিনের মধ্য শহরের পুষ্পালয় নামক বাড়িতেই ফজলুর রহমান পটল থাকতেন ও ছাত্র রাজনীতি, মুুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। সে সময়ের তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কয়েকজন জীবিত আছেন। পাবনা প্রেসক্লাব প্রতিমন্ত্রী পুতুলের অনুরোধে তার পিতার বন্ধুদের প্রেসক্লাবে আমন্ত্রন জানান। পিতার বন্ধুদের কাছে পেয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বিনয় ও সম্মান দেখিয়েছেন তা সত্যিই অনুকরণীয়।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক জীবনের কর্মক্ষেত্রে যেখানেই যাই, শুনতে পাই- ও আচ্ছা তুমি পটলের মেয়ে, পটল ভাইয়ের মেয়ে? আমার এগিয়ে যাবার প্রধান নিয়ামক আমার বাবা। আমার বাবা যাদের হাতে হাত মিলিয়ে আড্ডা দিয়েছেন, সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করেছেন। আজ তাদের হাতের স্নেহের পরশ পেয়েছি। সন্তান হিসেবে এটি আমার জন্য ভীষণ সৌভাগ্যের।

পাবনা প্রেসক্লাবের ঐহিত্য ও প্রয়াত সংবাদকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী পুতুল বলেন, বিগত সময়ে আপনারা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে আপনাদের সহযোগিতা ভীষণ প্রয়োজন। আপনারা আমাদের পথ দেখান, ভুলগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করবেন বলে আশা রাখি।

পাবনার প্রতি স্মৃতিচারণ করে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, পাবনা ও নাটোর লালপুরের মাটির গন্ধ একই। কারণ এই পাবনায় আমার শেকড় পোতা। সুতরাং নাটোর লালপুরের মত উন্নয়নের ছোঁয়া পাবনাতেও লাগবে। পাইলটিং পদ্ধতিতে দ্বিতীয় ধাপে পাবনার হতদরিদ্র মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। অন্যান্য সকল উন্নয়নে তিনি পাবনাবাসীর সাথে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা ২ আসনের এমপি একেএম সেলিম রেজা হাবিব, প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান,প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা প্রমুখ।

 

 

দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বিএনপি – প্রতিমন্ত্রী পুতুল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বিএনপি।সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পাবনার পদ্মকোল খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, অত্যন্ত ক্রান্তিলগ্নে আমরা দেশের দায়িত্ব পেয়েছি। সরকার গঠনের একমাসও পূর্ণ হয়নি। তবুও এরই মধ্যে বিএনপি সরকার দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মসজিদ মন্দিরের ইমাম পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা ও কৃষি ঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগ আমরা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু করেছি।

তিনি আরও বলেন, কৃষি ও কৃষক আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। সেই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সহ জীবনমান উন্নয়নের জন্য শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক সময় খাল থেকে সেচ ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। তার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান এবার খননের মাধ্যমে খাল কে পুনরুজ্জীবন দিয়ে সেচ ব্যবস্থা কে আরো উন্নত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগের আওতায় সারা দেশে ৫৪টি খাল খনন কর্মসূচির আজ উদ্বোধন হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মরে যাওয়া খালগুলো পানিপ্রবাহ ফিরে পেলে যেমন কৃষি উৎপাদন বাড়বে, তেমনই গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এর ফলে ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে, যা খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়ক হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য মরে যাওয়া খালগুলো খনন করে জীবন ফিরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই সারা দেশের মতো পাবনায় এ খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্টরা খেয়াল রাখবেন, শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে যেন খাল খনন সম্পন্ন হয়৷

পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে খাল খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার, পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম সহ অনেকেই।

প্রসঙ্গত, পাবনার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর থেকে মন্ডলমোড় পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এই খালটি পাবনা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদীতে গিয়ে মিশেছে। ৬ ফুট গভীর ও গড় ৪০ ফুট প্রশস্ত করে খালটি খনন কাজ শুরু হচ্ছে।

এই খালটি পূর্ণ খনন হলে পদ্মা থেকে ইছামতিতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে। খালের পার্শ্ববর্তী হেমায়েতপুর ইউনিয়নের জমিগুলো সহজেই সেচ সুবিধা পাবে। এই কর্মসূচির আওতায় এটি ছাড়াও পাবনায় ১০৬ টি খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

 

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ