আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে বেনজীরসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা, জালিয়াতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জালিয়াতির মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরির অভিযোগে সোমবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন সংস্থার উপ-পরিচালক মো. হাফিজুল ইসলাম।আসামিরা হলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, ঢাকা বিভাগীয় পাসপোর্ট অফিসের সাবেক পরিচালক মো. ফজলুল হক, সাবেক পরিচালক মুন্সী মুয়ীদ ইকরাম, পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ই-পাসপোর্ট ও স্বয়ংক্রিয় বর্ডার নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের টেকনিক্যাল ম্যানেজার সাহেনা হক।
দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, বেনজীর আহমেদ পুলিশ সদর দফতরের ডিআইজি, অতিরিক্ত আইজিপির পদমর্যাদায় র‌্যাবের মহাপরিচালক ও ডিএমপি কমিশনার পদে দায়িত্ব পালনের সময় পাসপোর্টের আবেদনপত্রের প্রফেশনের জায়গায় সরকারি চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও জাল জালিয়াতি-প্রতারণার আশ্রয় নেন। তিনি মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রাইভেট সার্ভিস উল্লেখ করে বিভিন্ন সময়ে বিভাগীয় অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ছাড়া মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) ও ই-পাসপোর্টের (ইলেক্ট্রনিক পাসপোর্ট) জন্য আবেদন করেন।
অন্যান্য আসামিরা বেনজীর আহমেদের দাফতরিক পরিচয় সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জ্ঞাত থেকেও বিভাগীয় অনাপত্তি সনদ (এনওসি) সংগ্রহ ও যাচাই না করে স্বেচ্ছায় স্বজ্ঞানে পরস্পর যোগসাজশে অপরাধমূলক অসদাচরণ করেছেন। আসামিরা বেনজীর আহমেদের নামে সাধারণ পাসপোর্ট, ই-পাসপোর্ট (ইলেক্ট্রনিক্স পাসপোর্ট) ইস্যুর জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদান করে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩ এর ১১ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
মামলার এজাহারে আরও বলা হয়, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ নারায়ণগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় বসনিয়াতে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০০২ সালের জুলাই থেকে ২০০৩ সালের জুন পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় কসোভোতে কর্মরত ছিলেন। তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে চিফ অব মিশন ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সেকশনে (পি-ফাইভ/ভি) ২০০৮ সালের ২ মে থেকে ২০০৯ সালের ১০ মে পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। তিনি ডিএমপি কমিশনার (অতিরিক্ত আইজিপি) হিসেবে ২০১০ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং র‌্যাবের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) হিসেবে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে আইজিপি পদে যোগদান করেন। ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পুলিশ সদর দফতরে আইজিপি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রামে ব্যাংকের ৪৭ টাকা আত্মসাৎ মামলায় ব্যবসায়ীর ১১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে একটি ব্যাংকের প্রায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় সীতাকুণ্ডের তনহা স্টিলের মালিক গিয়াস উদ্দিন প্রকাশ কুসুম নামের এক ব্যবসায়ীকে ১১ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গিয়াস উদ্দিন প্রকাশ কুসুম (৫৩) সীতাকুণ্ড থানার উত্তর ছলিমপুর এলাকার মোহাম্মদ মিয়ার ছেলে। আরেক আসামি মোহাম্মদ নুরুন্নবীকে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় খালাস দেওয়া হয়েছে। রোববার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এবি ব্যাংক লিমিটেড জুবিলী রোড শাখার এই টাকা আত্মসাৎ এর মামলায় এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি গিয়াস উদ্দিন পলাতক ছিলেন। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আদালত ষূত্রে জানা গেছে, ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় গিয়াস উদ্দিনকে পাঁচ বছর এবং ৪২০ ধারায় এক বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় আরও পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসাইন জানান, আসামিকে ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড উপজেলার ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন এবি ব্যাংক লিমিটেডের জুবিলী রোড শাখা থেকে বৈদেশিক ও স্থানীয় এলসির মাধ্যমে প্রায় ৪৭ কোটি ৪৯ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮৫ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এলসির বিপরীতে আনা পণ্য ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে না রেখে বিক্রি বা অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয় এবং ঋণের অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৩ মার্চ এবি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ ধারায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ