আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

মত্যু বেশী নারীর, আক্রান্ত বেশী পুরুষ চট্টগ্রামে বদলে যাচ্ছে ডেঙ্গু’র ধরণ, প্রতিরোধ ক্ষমতা কম

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত জনের মৃত্যু হয়েছে শুধুমাত্র চট্টগ্রামেই। যারমধ্যে প্রায় সাড়ে ৫৪ শতাংশই হচ্ছেন নারী। অথচ আক্রান্তদের তালিকায় নারীর হার মাত্র সাড়ে ২৭ শতাংশ। এদিকে, কম আক্রান্ত হলেও বেশি মৃত্যুর জন্য নারীর জীবন ধারণ প্রক্রিয়াকে দায় দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যা নারীকে ডেঙ্গু বদলে যাওয়া ধরনের ফাঁদে ফেলছে। তাদের পর্যবেক্ষণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার পাশাপাশি উদাসীনতা নারীর মৃত্যু বাড়িয়ে দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ক্রমেই অবনতির দিতে যাচ্ছে ডেঙ্গুর চিত্র। বাড়ছে মৃত্যুর ঘটনাও। শুধুমাত্র গেল দুই সপ্তাহেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। যা গেল অক্টোবর মাসের চেয়েও ১১ শতাংশ বেশি। আক্রান্তের সংখ্যাও কমতি নেই।
চলতি বছরের এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৫৩৭ জন। এরমধ্যে ১ হাজার ৯০০ জন হচ্ছে পুরুষ। যা মোট রোগীর ৫৩ দশমিক ৭১ শতাংশ। আর নারীর সংখ্যা ছিল ৯৮৬ জন। যা মোট রোগীর ২৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বাকি ৬৫১ জন হচ্ছে শিশু। যা মোট ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ।
অন্যদিকে, এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চলতি বছর চট্টগ্রামে ৩৫ জনের মৃত্যুর খবর প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। এরমধ্যে ১৯ জনই হচ্ছেন নারী। যা মোট মৃত্যুর ৫৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর পুরুষের সংখ্যা ১২ জন। যা মোট মৃত্যুর ৩৪ দশমিক ২৮ শতাংশ। আর ডেঙ্গুতে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। যা মোট মৃত্যুর ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ।
এদিকে শরীরে হালকা জ্বর ছিল নগরীর হালিশহরের বাসিন্দা নাসিমা আক্তারের। দু’দিন পর চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা নিরীক্ষা করলে জানতে পারেন তিনি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। এরপর বাসাতেই অবস্থান করেন ৪৭ বছর বয়সী এ গৃহিনী। কিন্তু শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় গত ৯ নভেম্বর ভর্তি হন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ছয়দিন ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়ে হেরে যান এ নারী।
নাসিমা আক্তারের মতো চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে শুধুমাত্র চট্টগ্রামেই। অন্যদিকে, এখনও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম যদি জোরদার করা না হয়, তাহলে বাকি দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হতে হবে বলেও আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকসহ কীটতত্ত্ববিদরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ফুটপাতে উদ্ধার নবজাতকের চিকিৎসা শেষে জিম্মায় দিল পুলিশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় পরিত্যক্ত এক নবজাতককে উদ্ধার করে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে আইনি প্রক্রিয়ায় নিরাপদ জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ।

কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালী থানাধীন ব্রিজঘাট সংলগ্ন এস আলম বাস কাউন্টারের বিপরীত পাশের ফুটপাতে পরিত্যক্ত অবস্থায় একদিন বয়সী একটি ছেলে নবজাতক উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটিকে গামছা ও তোয়ালে জড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দুর্বল থাকায় কোতোয়ালী থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নূরে আল মাহমুদ জানান, প্রায় ২০ দিনের চিকিৎসা শেষে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে হাটহাজারী উপজেলার চিকনণ্ডী ইউনিয়নের বাদামতল এলাকার বাসিন্দা জেসমিন আক্তারের জিম্মায় দেওয়া হয়। শিশুটির সার্বিক খোঁজখবর নিয়মিত রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

পথশিশুদের আইন দিয়ে নয় আদর দিয়ে মূলধারায় ফিরিয়ে আনুন – আমীরুল ইসলাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পথশিশুদের প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসা প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের ডিসি আমীরুল ইসলাম। তিনি বলেন, পথশিশুরা আমাদেরই সন্তান। অযত্ন ও অবহেলায় বেড়ে উঠলেও এদের মধ্যেও রয়েছে অসীম মেধা ও সম্ভাবনা। সঠিক পরিচর্যা ও দিকনির্দেশনা পেলে তারাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

মঙ্গলবার বিকেলে “আমরা চাটগাঁবাসী” সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত পথশিশু ও কিশোরদের জন্য ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের মাধ্যমে নয়, বরং ভালোবাসা ও মানবিক আচরণের মাধ্যমে পথশিশুদের কাছে টানতে হবে। তাদের পাশে দাঁড়াতে পারলে সমাজে অপরাধ প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল এবিএম ইমরানের সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি গোলাম মওলা মুরাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমী, পাঁচলাইশ থানার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম এবং প্রোগ্রামের স্পন্সর ওয়াহিদ ইলেক্ট্রিশিয়ান্স ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার অধ্যক্ষ মো. আব্দুল বাতেন।

আমরা চাটগাঁবাসীর যুগ্ম সম্পাদক জানে আলম চৌধুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাঁচলাইশ থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল আবসার, স্বর্ণলতা স্কুলের উদ্যোক্তা মোহাম্মদ রবিউল হোসেন, আরটিআর তারেক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংগঠক তাহসান হাবিব, অধরা মেঘ কলি ও মোঃ আলীসহ অনেকে।অনুষ্ঠানে পথশিশুদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয় এবং তাদের কল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।অনুষ্ঠান শেষে ডিসি মহোদয় বাছাইকৃত শিশু-কিশোরদের নিজ কার্যালয়ে তুলে এনে ঈদের জামা উপহার দেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ