আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

ডা. মিলনের মৃত্যু বার্ষিকীতে ড্যাবের আলোচনা সভায় – চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ডা. মিলনের রক্তদান ছিল আন্দোলনের এক টার্নিং পয়েন্ট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এবং ড্যাব চট্টগ্রামের প্রধান উপদেষ্টা ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের উত্তাল সময়ে ডা. শামসুল আলম খান মিলন শহীদ হন। এরশাদের পতনের আগে ডা. মিলনের রক্তদান ছিল আন্দোলনের এক টার্নিং পয়েন্ট। তাকে হত্যার মধ্য দিয়ে আন্দোলনের তীব্রতায় এরশাদ সরকারের পতন ত্বরান্বিত হয়। প্রবল গণরোষের মুখে স্বৈরশাসক এরশাদ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনের নির্ভীক শহীদ ডা. মিলনের আত্মদানে হারানো গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত হয়। তার আত্মদানের মধ্যদিয়ে এরশাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চূড়ান্ত বিজয়ের দিকে ধাবিত হয়। ডা. মিলন গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে সবার মাঝে বেচেঁ আছেন। শহীদ ডা. মিলনের আত্মত্যাগ সবসময় আমাদের প্রেরণা জোগাবে।

তিনি বুধবার (২৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর জিইসি মোড়স্থ বিএমএ ভবন মিলনায়তনে ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলনের ৩৪ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে ড্যাব চট্টগ্রাম শাখার আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ডা. মিলন স্বপ্ন দেখেছিলেন শোষণমুক্ত বাংলাদেশের, নিয়োজিত রেখেছিলেন নিজেকে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের প্রতিটি পর্যায়ে।স্বৈরাচারকে উৎখাত করে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ছিল তার দৃঢ় অঙ্গীকার। বুকের রক্তের বিনিময়ে তিনি গণতন্ত্রকে বিজয়ী করেছিলেন। একজন আদর্শবান চিকিৎসক আত্মাহুতি দিয়ে প্রমাণ করলেন সব স্বৈরাচার কোনো না কোনো দিন রক্তের স্রোতে জনতার সম্মিলিত আন্দোলনে ভেসে যেতে বাধ্য হয়।

ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ মানিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালীর পরিচালনায় প্রধান বক্তা ছিলেন ড্যাব চমেক শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. জসিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএমএ চট্টগ্রামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, ড্যাব মহানগর শাখার সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. আব্বাস উদ্দিন, সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের আহবায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি। বক্তব্য রাখেন ড্যাব মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ইফতেখারুল ইসলাম, ডা. মো রকিব উল্লাহ, ডা. এস মুজিবুর রহমান, ডা. একেএম আশরাফুল করিম, ডা. ঈসা চৌধুরী, ডা. ইমরোজ উদ্দিন, ডা. ময়নাল হোসেন, ডা. রিফাত কামাল রনি, ডা. ইমরান হোসেন, ডা. মিনহাজুল আলম, ডা. তানভীর হাবিব তান্না, ডা. সাইফুদ্দিন সোহাগ, ডা. মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন, ডা. ওমর ফারুক পারভেজ, ডা. জুনায়েদ রায়হান, ডা. রিয়াসাত শাহাবুদ্দিন, ডা. মাহমুদুল হাসান, ডা. আহমদুল্লাহ প্লেজার, ডা. সাদ্দাম হোসেন, ডা. আসিফ উদ্দৌলা, ডা. সামিউল করিম, ডা. মামুনুল হক, ডা. মেহেদী হাসান ইমাম, ডা. জাহেদ ইমন, ডা. তারেকুল ইসলাম জনি, ডা. রাকিবুল হাসান তান্না, ডা. সালাউদ্দিন স্বপন প্রমূখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি (ডিপ্রকৌস)’র সাধারণ সভা ও আহ্বায়ক কমিটি গঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি (ডিপ্রকৌস) এর সাধারণ সভার মধ্যে দিয়ে সর্বসম্মতিক্রমে প্রকৌশলী মোঃ সোহরাব হোসেন আহ্বায়ক ও প্রকৌশলী মোঃ নাজমুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি আজ ৫ মে, মঙ্গলবার বিকাল ৩.০০ টা থেকে সন্ধ্যা ৭ টা পর্যন্ত আগ্রাবাদস্থ বিদ্যুৎ ভবন চট্টগ্রাম কার্যালয়ে গঠিত হয়। উক্ত সাধারণ সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন প্রকৌশলী মোঃ সিহাব উদ্দীন, প্রকৌশলী মোঃ সোরহাব হোসেন, প্রকৌশলী মোঃ সাজিদ, প্রকৌশলী মোঃ রায়হানুর রহমান রুহেল, প্রকৌশলী মোঃ সজীব উদ্দীন, প্রকৌশলী মোঃ ওলিউল ইসলাম, প্রকৌশলী মোঃ নূর ইসলাম, প্রকৌশলী আলাউদ্দীন সোহাগ, প্রকৌশলী মোঃ আনিছুর রহমান সহ অসংখ্য ডিপ্লোমা প্রকৌশলীনেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন- ফ্যাসিস্ট হাসিনা আমলে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতিকে আওয়ামী লীগের লেজুড়বৃত্তি সংগঠনে পরিণত করেছিল ডিপ্লোমা প্রকৌশলী নামধারী কিছু চিহ্নিত সুবিধাভোগী।

১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ সুষ্ঠ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসনের সকল সেক্টরকে ফ্যাসিস্টমুক্ত-স্বতন্ত্র পেশাজীবী এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ও সমাজ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবার আগে বাংলাদেশ গঠনে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীনেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধ। সাধারণ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দাবি দাওয়া আদায়ে স্বতন্ত্র সংগঠন হিসেবে নতুন কমিটির নেতৃবৃন্দ সাধারণ প্রকৌশলীদের পাশে থাকতে সর্বদা বদ্ধপরিকর। নতুন কমিটি গঠনের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি (ডিপ্রকৌস) ফ্যাসিস্ট মুক্ত হইল।

নিষিদ্ধ আ.লীগ ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের উত্তেজনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।সোমবার বিকেল ৩টার দিকে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের আইনজীবী সমিতি ভবনের বার লাইব্রেরির প্রবেশমুখে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে।
আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীদের অভিযোগ, বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা তাদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেন। তবে বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, দেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় দল-সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৩টার দিকে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুর রশিদের নেতৃত্বে একদল আইনজীবী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে বার লাইব্রেরিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে প্রবেশমুখে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন কমিশনের সদস্যরা বার লাইব্রেরির দরজা বন্ধ করে দেন।পরে আওয়ামী লীগ-সমর্থক বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের নেতাকর্মীরা বার লাইব্রেরির সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।

সভাপতি প্রার্থী আবদুর রশিদ অভিযোগ করে বলেন, তারা সাধারণ আইনজীবী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। ফলে তারা ফরম সংগ্রহ করতে পারেননি।
অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম চট্টগ্রামের সদস্যসচিব কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, মনোনয়নপত্র সংগ্রহকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার রওশন আরা জানান, বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত রয়েছে এবং যেকোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। বাধার বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, তপশীল অনুযায়ী, ৫ মে মনোনয়নপত্র বাছাই, ৬ মে আপত্তি শুনানি, ৮ মে মনোনয়ন প্রত্যাহার এবং ৯ মে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। আর ২১ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ