চট্টগ্রামে থমকে আছে ১২শ কোটি টাকার টইটং সড়ক প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দক্ষিণ চট্টগ্রামে দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যে হাতে নেয়া সেই পিএবি টইটং সড়ক দীর্গ এক বছর ধরে ফাইলবন্দী হয়ে পড়েছে। কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়কের আনোয়ারা কালাবিবি দীঘির মোড় থেকে চকরিয়া পর্যন্ত ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ের ৫৬ কিলোমিটার সড়ক তৈরির প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিকল্প সড়ক হিসেবে যাত্রী সুবিধা ও চট্টগ্রাম কক্সবাজারের দূরত্ব একেবারে কমে যাবে এমনটি বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আনোয়ারার কালা বিবির দীঘি হতে চকরিয়া পর্যন্ত ৫৬ কি.মি.সড়ক ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুটে উন্নীত হবার পাশাপাশি টানেল হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের যে সম্ভাবনা তা আরো বেগবান হবে।

অন্যদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা বাঁশখালী চকরিয়াসহ কক্সবাজারের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। সেই সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের লক্ষ লক্ষ মানুষ যাতায়াত ব্যবস্থায় সুফল ভোগ করবে। টানেলের ব্যবহার বাড়বে এবং টোল আদায়ের মাধ্যমে লোকসান কমিয়ে আনতেও সক্ষম হবে কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, টানেলে যানবাহন চলাচল বাড়ানো, দক্ষিণ চট্টগ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্য সমপ্রসারণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কক্সবাজার পর্যন্ত অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনা হিসাবে টানেল সড়ক থেকে কক্সবাজার মূল সড়ক পর্যন্ত ৫৬ কিলোমিটার টইটং সড়ক প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। গত এক বছর ধরে প্রকল্পটি যথা সময়ে অনুমোদিত না হওয়ায় টানেলে গাড়ি চলাচল বাড়ানোসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সড়ক ব্যবস্থা এখনো পিছিয়ে রয়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, টানেলকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণসহ সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে বৈপ্লবিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে পটিয়া-আনোয়ার-বাঁশখালী টইটং সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী টইটং সড়কের আনোয়ারার কালাবিবির দীঘির মোড়ের পর থেকে চকরিয়া পর্যন্ত ৫৬ কি.মি. সড়ক ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুটে উন্নীতকরণ করা হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে এ সড়কে যানজট-দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। লক্ষ লক্ষ মানুষ যোগাযোগ সুবিধা লাভ করবে। কক্সবাজারের সাথে চট্টগ্রামের বিকল্প সড়ক হিসেবে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এটি মাইলফলক হয়ে কাজ করবে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী টইটং সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য গত এক বছর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৫ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিগত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিগত সরকারের আমলে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে লুটপাট, অর্থপাচার, মুদ্রাস্ফীতিসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় অধিকাংশ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে প্রভাব পড়েছে। সেই সাথে বিগত সরকারের আমলে গৃহীত প্রকল্পগুলোর নানা দিকও পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। যার কারণে প্রকল্পটি এখনো মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্রে আরো জানা যায়, টানেলকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামে সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা বাড়ানোর লক্ষ্য ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী টইটং সড়ক উন্নয়ন মেগা প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও অনুমোদনের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। বিগত অর্থ বছরে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর টেন্ডার প্রক্রিয়া হওয়ার কথা থাকলেও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে সেটি এখনো অনুমোদন হয়নি।
বর্তমানে পিএবি-টইটং সড়কটির আনোয়ারা কালা বিবি দীঘির মোড়ের পর হতে বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের চাঁনপুর বাজার পর্যন্ত ১০০ ফুট ভূমি অধিগ্রহণ রয়েছে। চাঁনপুর বাজার থেকে চকরিয়া পর্যন্ত সড়কটি মাত্র ১৮ ফুট প্রশস্ত রয়েছে। যার কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মানুষকে যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সড়কটি যানবাহন চলাচলে প্রয়োজনের তুলনায় প্রশস্থ না হওয়ায় যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা এখানে লেগেই থাকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকটে কারখানায় উৎপাদন অর্ধেকে, জ্বলছেনা চুলা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তীব্র গ্যাস-সংকটে বিপাকে পড়ছেন চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ। অনেকের বাড়িতে রান্নার গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এমনকি শিল্প উৎপাদন ও সিএনজি পাম্পগুলোতেও এর প্রভাব পড়ছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন লাগার পর থেকেই সংকট শুরু হয়। ওই ঘটনার পর গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে গ্যাস সংকটে নগরের বহু এলাকায় বাসাবাড়ির চুলা আর জ্বলছে না। রান্না করতে না পেরে পরিবারগুলো বৈদ্যুতিক চুলা ও এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে কাট্টলী, ইপিজেড, পতেঙ্গা, বন্দর ও সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলের অনেক কারখানায় গ্যাস সংকটে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে।

রেনাববার নগরের আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও ও পাহাড়তলী এলাকায় সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ বাসাবাড়িতে রান্না বন্ধ রয়েছে। কোথাও ভোরে আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা গ্যাস এলেও সকাল গড়াতেই চাপ একেবারে কমে যায়। কিন্তু সকাল থেকে জ্বলছে না কারো চুলো। ফলে নগরবাসীর বড় একটি অংশ ঝুঁকছেন বিকল্প জ্বালানীতে। কেউ কেউ দীর্ঘ অপেক্ষার পর রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে এনেছেন।

হালিশহরের বাসিন্দা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, সকালে একটু গ্যাস পাই, তখন সব রান্না একসঙ্গে করার চেষ্টা করি। না হলে ইন্ডাকশন চুলায় রান্না করতে হয়। এতে বিদ্যুৎ বিলও বেড়ে যাচ্ছে। বাকলিয়া এলাকার বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন দিন ধরে দুপুর ও রাতে গ্যাস পাইনি। বাইরে থেকে খাবার আনতে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এটা বড় কষ্ট।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অনেক পরিবার এখন ছোট সিলিন্ডার ব্যবহার শুরু করেছে। কিন্তু এলপিজির অতিরিক্ত খরচ বহন করা সবার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।এদিকে নগরের অলংকার মোড়, জিইসি, আগ্রাবাদ ও বন্দর এলাকার কয়েকটি ছোট হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গ্যাসের চাপ কম থাকায় রান্নার সময়সূচি বদলাতে হচ্ছে। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করছে।

আগ্রাবাদের এক হোটেল মালিক আবদুল কাদের বলেন, গ্যাসের চাপ না থাকলে চুলা জ্বলে না। এলপিজিতে রান্না করলে খরচ অনেক বেড়ে যায়। দাম বাড়ালে ক্রেতা কমে যায়, না বাড়ালে লোকসান।অন্যদিকে গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে চট্টগ্রামের শিল্প খাতে। পতেঙ্গা, ইপিজেড, কালুরঘাট, অক্সিজেন ও সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলের একাধিক কারখানায় প্রয়োজনীয় গ্যাসচাপ না থাকায় বয়লার ও জেনারেটর পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

ইপিজেড এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য যে পরিমাণ গ্যাস দরকার, তার অর্ধেকও পাচ্ছি না। কিছু মেশিন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অর্ডার সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
এইচএম স্টিলের পরিচালক সরোয়ার আলম বলেন, গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া এবং সরবরাহ না থাকায় আমরা অনেক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। সম্প্রতি গ্যাসের এ সংকটের জন্য আমাদের উৎপাদন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। অথচ আমাদের ইউটিলিটি বিল ও ওভারহেড কস্ট (মাথাপিছু ব্যায়) হিসেব করলে কোটি টাকা দৈনিক ক্ষতি হচ্ছে। উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়লে বিক্রয়মূল্যও বেড়ে যেতে পারে।

সূত্র জানায়, কক্সবাজারের মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে মার্কিন প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালটি গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই দেশে এলএনজি সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এর উপমহাব্যবস্থাপক (এলএনজি) প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, টার্মিনালটিতে দুটি বয়লার রয়েছে। এর একটিতে অগ্নিকাণ্ডজনিত কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় পুরো টার্মিনাল বন্ধ রাখতে হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমরা আশা করছি আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে একটি বয়লার চালু করা সম্ভব হবে। তখন দৈনিক প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করা যেতে পারে।

জানা গেছে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় চট্টগ্রামেও লোডশেডিং বেড়েছে। বন্দর এলাকার ব্যবসায়ী মো. ইলিয়াস বলেন, গ্যাস নেই, আবার বিদ্যুতও বারবার চলে যাচ্ছে। দোকানের ফ্রিজ ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি চালাতে সমস্যা হচ্ছে।বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় কয়েকটি গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। অন্যদিকে মানুষ বৈদ্যুতিক চুলা বেশি ব্যবহার করায় চাহিদা আরও বেড়ে যাচ্ছে।

গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানী লিমিটেডের (জিটিসিএল) অপারেশন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দৈনিক চাহিদার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট সংকট তৈরি হচ্ছে। আমাদের দৈনিক চাহিদা রয়েছে ২৬-২৭’শ মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে আমাদের সবক্ষেত্রে সমান ডিস্ট্রিবিউশন ঠিক রাখতে কিছু সময় অফ (বন্ধ) রাখতে হচ্ছে। অথবা চাপ কমাতে হচ্ছে। তাই স্বীকার করতেই হচ্ছে, চট্টগ্রামসহ সারাদেশে গ্যাসের ভোগান্তিতে মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠছে।

একটি মহল ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে-মীর্জা ফখরুল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ সৃষ্টি করে কেউ যেন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করতে না পারে৷ সরকার সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
মির্জা
শুক্রবার ৩১ জুলাই রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের আয়োজনে ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছে। তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। আমি কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না। আপনারা এ দেশের সন্তান, এ দেশের নাগরিক।

তিনি বলেন- মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম। সেই চেতনা ধারণ করেই একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় নয়, নাগরিক পরিচয়ই হবে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।

একটি মহল ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। আমরা একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। আরও উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ প্রমুখ।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ