আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে থমকে আছে ১২শ কোটি টাকার টইটং সড়ক প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দক্ষিণ চট্টগ্রামে দূরত্ব কমানোর লক্ষ্যে হাতে নেয়া সেই পিএবি টইটং সড়ক দীর্গ এক বছর ধরে ফাইলবন্দী হয়ে পড়েছে। কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়কের আনোয়ারা কালাবিবি দীঘির মোড় থেকে চকরিয়া পর্যন্ত ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ের ৫৬ কিলোমিটার সড়ক তৈরির প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের বিকল্প সড়ক হিসেবে যাত্রী সুবিধা ও চট্টগ্রাম কক্সবাজারের দূরত্ব একেবারে কমে যাবে এমনটি বলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া এই মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আনোয়ারার কালা বিবির দীঘি হতে চকরিয়া পর্যন্ত ৫৬ কি.মি.সড়ক ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুটে উন্নীত হবার পাশাপাশি টানেল হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলের যে সম্ভাবনা তা আরো বেগবান হবে।

অন্যদিকে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা বাঁশখালী চকরিয়াসহ কক্সবাজারের সাথে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা। সেই সাথে দক্ষিণ চট্টগ্রামের লক্ষ লক্ষ মানুষ যাতায়াত ব্যবস্থায় সুফল ভোগ করবে। টানেলের ব্যবহার বাড়বে এবং টোল আদায়ের মাধ্যমে লোকসান কমিয়ে আনতেও সক্ষম হবে কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, টানেলে যানবাহন চলাচল বাড়ানো, দক্ষিণ চট্টগ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্য সমপ্রসারণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কক্সবাজার পর্যন্ত অর্থনৈতিক নেটওয়ার্ক গড়ার পরিকল্পনা হিসাবে টানেল সড়ক থেকে কক্সবাজার মূল সড়ক পর্যন্ত ৫৬ কিলোমিটার টইটং সড়ক প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। গত এক বছর ধরে প্রকল্পটি যথা সময়ে অনুমোদিত না হওয়ায় টানেলে গাড়ি চলাচল বাড়ানোসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের সড়ক ব্যবস্থা এখনো পিছিয়ে রয়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, টানেলকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণসহ সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্কে বৈপ্লবিক উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে পটিয়া-আনোয়ার-বাঁশখালী টইটং সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী টইটং সড়কের আনোয়ারার কালাবিবির দীঘির মোড়ের পর থেকে চকরিয়া পর্যন্ত ৫৬ কি.মি. সড়ক ১৮ ফুট থেকে ৩৪ ফুটে উন্নীতকরণ করা হবে। এটি বাস্তবায়ন হলে এ সড়কে যানজট-দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। লক্ষ লক্ষ মানুষ যোগাযোগ সুবিধা লাভ করবে। কক্সবাজারের সাথে চট্টগ্রামের বিকল্প সড়ক হিসেবে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এটি মাইলফলক হয়ে কাজ করবে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী টইটং সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য গত এক বছর আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়। সব কিছু ঠিক থাকলে ২০২৫ সালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিগত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর বিগত সরকারের আমলে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে লুটপাট, অর্থপাচার, মুদ্রাস্ফীতিসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় অধিকাংশ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজে প্রভাব পড়েছে। সেই সাথে বিগত সরকারের আমলে গৃহীত প্রকল্পগুলোর নানা দিকও পর্যালোচনা করছে বর্তমান সরকার। যার কারণে প্রকল্পটি এখনো মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে ।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগ সূত্রে আরো জানা যায়, টানেলকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রামে সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা বাড়ানোর লক্ষ্য ১২শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে পটিয়া-আনোয়ারা-বাঁশখালী টইটং সড়ক উন্নয়ন মেগা প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও অনুমোদনের জন্য চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। বিগত অর্থ বছরে প্রকল্পটি অনুমোদনের পর টেন্ডার প্রক্রিয়া হওয়ার কথা থাকলেও দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে সেটি এখনো অনুমোদন হয়নি।
বর্তমানে পিএবি-টইটং সড়কটির আনোয়ারা কালা বিবি দীঘির মোড়ের পর হতে বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের চাঁনপুর বাজার পর্যন্ত ১০০ ফুট ভূমি অধিগ্রহণ রয়েছে। চাঁনপুর বাজার থেকে চকরিয়া পর্যন্ত সড়কটি মাত্র ১৮ ফুট প্রশস্ত রয়েছে। যার কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মানুষকে যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সড়কটি যানবাহন চলাচলে প্রয়োজনের তুলনায় প্রশস্থ না হওয়ায় যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা এখানে লেগেই থাকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হলেন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ১১৮ কর্মকর্তা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হলেন প্রশাসনের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ১১৮ কর্মকর্তা। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের সবাই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই পদোন্নতির তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতির আদেশে উল্লিখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর বা কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে তাকে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে। জনপ্রশাসন সচিবের কাছে সরাসরি বা ইমেইলে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে।

পদোন্নতি পাওয়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কোনো বিরূপ বা ভিন্নরূপ তথ্য পেলে তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন বা বাতিল করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে বড় পরিবর্তনবর্তমানে ২৮৫ জন অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন। নতুন ১১৮ জনকে নিয়ে অতিরিক্ত সচিবরে সংখ্যা হয়েছে ৪০৩ জন। অতিরিক্ত সচিবের স্থায়ী পদের সংখ্যা ২১২ জন হওয়ায় পদোন্নতি পাওয়া বেশির ভাগ কর্মকর্তাকে আগের পদেই (ইনসিটু) কাজ করতে হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের এই পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনেক যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা আবারও বাদ পড়েছেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ এই তালিকায় জায়গা পাননি বলে জানা গেছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ