আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

আগামী নির্বাচন ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের মত গ্রহণযোগ্য হবে-প্রধান নির্বাচন কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিগত ১৫ বা ১৬ বছর ধরে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা জেল জুলুম ও অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। তারা প্রত্যেকেই ভোটের অধিকারের কথা বলেছেন। এছাড়া আমাদের নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশা সকলের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা। সুতরাং এ প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই আমাদের এগোতে হবে। এক্ষেত্রে আমাদের উপর কোন চাপ নেই। আশা করছি সকলের সহযোগিতায় আগামীতে একানব্বই, ছিয়ানব্বই ও ২০০১ এর মত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারবো।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নগরির সার্কিট হাউসে সোমবার চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ, এম, এম নাসির উদ্দিন এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভা চট্টগ্রাম থেকে শুরু করলাম। নির্বাচনী প্র¯‘তির মাঠ পর্যায়ের সার্বিক কার্যক্রমও এখান থেকে শুরু হবে। খসড়া ভোটার তালিকা জানুয়ারির ২ তারিখ প্রকাশ হবে এবং মার্চে এটা ফাইনাল হবে। এটাকে আরো গ্রহণযোগ্য করতে আমাদের নির্বাচন কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতার কথা শুনবো। তাদের কাছে পরামর্শ চাইবো কিভাবে সাধারণ মানুষের অসন্তুষ্টি দূর করা যায় এবং নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর আস্থা ফিরিয়ে আনা যায়।

ভোটার তালিকা হালনাগাদ কখন শেষ হবে- এ প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোটার রেজিস্ট্রেশন আইনে বলা আছে প্রত্যেক বছরের জানুয়ারির ১ তারিখে যাদের বয়স ১৮ বছর হবে তাদের ভোটার করে ২ তারিখে একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। মার্চের ২ তারিখে এটা ফাইনাল হয়ে যাবে এটা আইনের বিধান।

 

আর সেটা পালন করতে আমরা বদ্ধপরিকর। তবে নির্বাচনী সিডিউল ঘোষণা করার আগ পর্যন্ত এ তালিকা সংশোধন করা যায়। তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনগুলোতে মৃত মানুষ ভোট দিয়েছে এমন অনেক আভিযোগ ছিল। কাজেই তালিকা হতে মৃত ভোটার বাদ দেওয়া এবং মহিলাদের ভোটার করতে ও নির্বাচনী ব্যব¯’ার উপর আ¯’া ফিরিয়ে আনতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদকরণের কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আশা করছি এ কার্যক্রম দ্রুত শুরু হবে এবং আগামী ৬ মাসের মধ্যে শেষ করতে পারবো।

আগামী নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা না নেওয়া বিষয়ক সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, এটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। আবার কোন রাজনৈতিক দল যাতে নির্বাচনে আসতে না পারে সেজন্য কেউ যদি কোর্টে মামলা করে সেক্ষেত্রে কোর্ট কি সিদ্ধান্ত দেয় তার উপর নির্ভর করবে কারা নির্বাচনে আসবে, কারা আসবে না। কিংবা সরকার যদি কোন দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা না করে আমাদের পক্ষে কোন দলকে বাতিল বা নিষিদ্ধ করা সম্ভব নয়। সুতরাং কারা নির্বাচনে আসবে – সেটি রাজনৈতিক এবং কোর্টের সিদ্ধান্ত অথবা সরকার কোন দলকে নিষিদ্ধ করছে কিনা সে সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। এক্ষেত্রে আমাদের কোন মতামত নেই।

অনেক বিশেষজ্ঞ এবং ২০২৪ এর অভ্যুত্থানকারীদের দাবি ১৭ বছর বয়সে ভোটার করা – এ প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, কত বছর বয়সে ভোটার করা যাবে সেটি সংবিধানে লেখা আছে। সংবিধান সংস্কার কমিশন এটি নিয়ে কাজ করছে। তারা যদি ১৭ বছরে ভোটার করার বিধান সংবিধানে সংযোজন করে তবেই নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ১৭ বছর বয়সীদের ভোটার করা সম্ভব হবে।
বিগত তিনটা নির্বাচনে যারা দিনের ভোট রাতে

করেছে তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করছি না। এটি নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বা সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো: ইউনুচ আলীর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) মো: নোমান হোসেন, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বশির আহমেদ, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীসহ চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হলেন যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ১১৮ কর্মকর্তা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হলেন প্রশাসনের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ১১৮ কর্মকর্তা। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের সবাই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের।মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই পদোন্নতির তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতির আদেশে উল্লিখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর বা কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে তাকে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে। জনপ্রশাসন সচিবের কাছে সরাসরি বা ইমেইলে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে।

পদোন্নতি পাওয়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কোনো বিরূপ বা ভিন্নরূপ তথ্য পেলে তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন বা বাতিল করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগে বড় পরিবর্তনবর্তমানে ২৮৫ জন অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন। নতুন ১১৮ জনকে নিয়ে অতিরিক্ত সচিবরে সংখ্যা হয়েছে ৪০৩ জন। অতিরিক্ত সচিবের স্থায়ী পদের সংখ্যা ২১২ জন হওয়ায় পদোন্নতি পাওয়া বেশির ভাগ কর্মকর্তাকে আগের পদেই (ইনসিটু) কাজ করতে হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের এই পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনেক যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা আবারও বাদ পড়েছেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ এই তালিকায় জায়গা পাননি বলে জানা গেছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ