পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ উপদেষ্টার কঠোর বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে পাহাড় কাটা বন্ধে পরিবেশ ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান কঠোর বার্তা দিয়েছেন। রোববার সকালে নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউটে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে চসিক আয়োজিত পলিথিনবিরোধী এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন বার্তা দেন।

এ সময় পাহাড় কাটা বন্ধে ‘টম অ্যান্ড জেরি’ খেলা আর চলবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, আমি আসব-যাব, পাহাড় কাটা বন্ধ হবে। কাল আবারও পাহাড় কাটা হবে। ওরা রাতেও পাহাড় কাটে। রাতের বেলা পাহাড় পাহারা দিতে হবে। এটা সবার দায়িত্ব। এটা সরকারের আইন।

রিজওয়ানা বলেন, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা অফিস কোনো প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী করতে পারে না। তাকে সবসময় প্রজাতন্ত্রের সেবায় থাকতে হবে। আমরা একটা তালিকা নিয়েছি। তালিকায় মালিকদের নাম দেয়ার কথা বললেও তারা দেননাই। দুটা মালিককে গ্রেফতার করেন, পাহাড় কাটা বন্ধ হবে। আপনি গাছ কাটলে গাছ লাগাতে পারবেন, পাহাড় কেটে পাহাড় সৃষ্টি করার জাদু নেই।

যদি জাদু না থাকে তাহলে পাহাড় কাটতে দেওয়া যাবে না।এর আগে সভার শুরুতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু জায়ান্ট স্ক্রিনে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের ব্যবহার বন্ধ ও প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ’ শীর্ষক চিত্র উপস্থাপন করেন।

পলিথিনের ব্যবহার বন্ধের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, পলিথিন শপিংব্যাগের বিরোধিতা আমাদের সময়ে শুরু হয়নি। এটি ২০০২ সালে নিষিদ্ধ হয়েছে। আজ ২০২৫ সালে এসে এটি বাস্তবায়নের কথা আমরা বলছি। কতটা দুর্ভাগ্য আমাদের। জনগণের স্বার্থেই পলিথিন বন্ধ করা হয়েছিল। আমার মনে আছে, ২০০৪ থেক ২০০৬ সালে লাগাতার অভিযান করে পলিথিনের ব্যবহার প্রায় কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন কেউ বিকল্পের কথা তোলেনি।

বিকল্প আপনার-আমার সবারই আছে। এই ধোয়াগুলো তোলা হয় প্লাস্টিক-পলিথিন ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। আপনার দাদা পর্যন্ত যাব কেন? আপনার বাবা কি নিয়ে বাজারে যেতো? চটের ব্যাগ নিয়ে যেতো।

পলিথিনের অপকারিতা তুলে ধরে রিজওয়ানা হাসান বলেন, এখন বাজারে গেলে গাজরের জন্য, শসার জন্য, ফুলকপির জন্য, কাঁচা মরিচের জন্য একটা করে পলিথিন। আর মাছ-মাংসের জন্য পলিথিন তো আছেই। এটা আসলে সরকার আইন করেছে বলে আপনাকে মানতে হবে না। আপনাকে এজন্য মানতে হবে—আপনার ভবিষ্যৎ এবং সরকারের জন্য খারাপ। আমাদের দূষিত বাতাস ইনহেইল করেও আপনার বাচ্চা অসুস্থ হচ্ছে।

পলিথিন ব্যাগে খাবার রেখে খাওয়া চরম অনিরাপদ। প্লাস্টিকের গ্লাসে গরম চা-কফি দেওয়া হলে মাইক্রোপ্লাস্টিক লিকেজ হয়ে সিস্টেমে ঢুকে যাচ্ছে। এটা কেন আপনার সন্তানকে খাওয়াবেন? এটা আপনার মনে রাখতে হবে, এটা খারাপ জিনিস এবং এটির বিকল্প আছে।

পলিথিন সস্তা নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে সস্তার কথা বলেন। পলিথিন নাকি সস্তা। এটা কেমন করে সস্তা হলো? আপনি পলিথিনের জন্য আলাদা টাকা দিচ্ছেন না। পলিথিন যারা বানাচ্ছে তারা কি বিদ্যুৎ ছাড়া বানাচ্ছে? তারা কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করে আনছে। আমরা যখন পলিথিন বন্ধের কাজ শুরু করলাম তখন শ্রমিক পুনর্বাসনের ধোঁয়া তুললো। প্লাস্টিক যে তাপমাত্রায় পোড়ানোর কথা তার চেয়ে অনেক কম তাপমাত্রায় পুড়িয়ে তারা শপিংব্যাগ তৈরি করছে। এতে শ্রমিকদের ডায়োক্সিনের মুখোমুখি করছে, ফলে ক্যান্সার হচ্ছে। তখন প্লাস্টিক উৎপাদনকারীরা বলে না কেন আমার শ্রমিককে ক্যান্সার হতে দেব না?
কারখানা বন্ধ হলে মালিকরা ক্ষতিপূরণ দেবে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, গার্মেন্টস বন্ধ হলে মালিক শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ দেয়। তাহলে পলিথিন কারখানা বন্ধ হলে আমরা কেন ক্ষতিপূরণ দেব। ক্ষতিপূরণ মালিক দেবে। কারণ সে তার শ্রমিককে অনিরাপদ কর্মস্থলে কাজ করিয়েছে।‘যে পাটের দাম ছিল ২৮ টাকা; যেই বললাম পলিথিন বন্ধ পাট আসবে অমনি হয়ে গেল ৪০ টাকা।

এটাতো বাংলাদেশ। আমাদের দেশটাকে তো আমরা চিনি। জিনিসগুলো প্রশ্রয় দিলে কিন্তু পলিথিন ব্যবসায়ীরাই সামনে আসবে। তাই এগুলোকে আমরা প্রশ্রয় দেব না। পলিথিন ব্যাগ পুনর্ব্যবহার করা যায় না। একটা চটের ব্যাগ অনেকবার ব্যবহার করা হয়।

পলিথিন বন্ধে বাধা আসলে মুখোমুখি হতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি সকল বাহিনীর সাথে মিটিং করেছি। আমরা যখন পলিথিন কারখানা বন্ধ করতে যাব বাধা আসবে। সেই বাধা ফেইস করে আমরা বন্ধ করবো। গত সপ্তাহে আমরা কামরাঙ্গিরচরে বন্ধ করেছি। ক্রমান্বয়ে আমরা সব জায়গায় বন্ধ করবো। আপনারা কেউ পলিথিনের শপিং ব্যাগ নেবেন না।

শব্দদূষণ রোধে চট্টগ্রামে ক্যাম্পেইন করা হবে জানিয়ে রিজওয়ানা হাসান বলেন, হর্নের বিরুদ্ধে আমরা শিগগিরই একটা ক্যাম্পেইন শুরু করে দেব। আজ এখানে অন্তত ১২০ জন আছেন। প্রত্যেকেরই নিজ নিজ গাড়ি অথবা উবার আছে। যার গাড়িতে উঠবেন ড্রাইভারকে বলবেন হর্ন বাজাবেন না। ড্রাইভার তখন বলবে, হর্ন বাজানো ছাড়া গাড়ি এ দেশে চালানো সম্ভব না। গতিটা একটু কম রাখলে হর্নও বাজাতে হবে না, দুর্ঘটনাও কমবে। অনেক রাস্তা আছে যেখানে রিকশা চলে না, সেখানে হর্ন কেন বাজাতে হবে? আপনি হর্ন বাজানো বন্ধ করলে শব্দদূষণ বন্ধ হবে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জলাবদ্ধতা এবং পলিথিন-প্লাস্টিক—এগুলো একটার সাথে একটা সম্পৃক্ত। আমাদেরকে পলিথিন-প্লাস্টিকের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি এটাকে আইন করে বন্ধ করতে হবে। যেভাবে ২০০৫ সালে করা হয়েছিল। ঠিক একইভাবে প্রতিটি কারখানা এবং বিপণন স্থানগুলোতে আমরা আইন প্রয়োগ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে একটা সুফল আমরা পেতে পারি।

স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেয়র বলেন, প্লাস্টিকের বদলে চাল-মাছ দিচ্ছে তারা। এই কনসেপ্টে আমি তাদের প্লাস্টিকের সাথে পলিথিনও যুক্ত করতে বলেছি। আরও কিছু প্রতিষ্ঠান আছে এমন। তাদের জন্য চসিকের যে মাঠ আছে সেগুলোতে পণ্য রাখার সুযোগ করে দেব। মূল জায়গা হচ্ছে পরিকল্পনা।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, বলেন, চট্টগ্রাম নগরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য করপোরেশন সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা প্রতিপালন করছি। সাম্প্রতিক সময়ে নির্দেশনা অনুযায়ী, চসিকে বোতলজাত পানি পুরোপুরি বন্ধ করেছি। আমরা লিফলেট বিতরণসহ নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম করছি।

চট্টগ্রামে ইউনিলিভার, ইপসা এবং সিটি করপোরেশন—আমরা একটি সমঝোতা স্বাক্ষর করেছি। এর মাধ্যমে আমরা অফ প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করছি। পাশাপাশি মেয়র মহোদয়ের নির্দেশনায় চসিকের ৭৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীদের সচেতন করার জন্য আমরা প্রশিক্ষণেরও উদ্যোগ নিয়েছি।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখতে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করতে হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাহসী মানুষদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক, নারী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকারের বিরুদ্ধে এই ঐতিহাসিক আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তাই এই আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং শহীদ ও আহতদের সম্মান রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে নগরীর কাজীর দেউরী সেনা কল্যাণ কনভেনশন সেন্টারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ আয়োজিত শহীদ পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। সঞ্চালনা করেন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’ এর যুগ্ম সম্পাদক আহমদ আব্দুল্লাহ আল সাহেদ।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে ছাত্রদের সামনের সারিতে রেখে আমরা পেছন থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। শেখ হাসিনা যাতে আন্দোলনকে কোনো রাজনৈতিক দলের নামে আখ্যায়িত করতে না পারে, সে কারণেই এই কৌশল গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে আন্দোলনের প্রতিটি পর্যায়ে আমরা রাজপথে ছিলাম এবং আহতদের পাশে দাঁড়িয়েছি।তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গুলিবিদ্ধদের দেখতে এবং শহীদদের মরদেহের খোঁজ নিতে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গিয়েছি। সেই সময় চিকিৎসকরাও অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাদের অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

মেয়র বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার, আহত, পঙ্গু ও দৃষ্টিশক্তি হারানো যোদ্ধাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তাদের সম্মান, পুনর্বাসন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের বীরদের মতোই জাতির সম্মানিত আসনে অধিষ্ঠিত থাকুক।তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল করি বলে সব কৃতিত্ব আমাদের, এমন দাবি করি না। জুলাই আন্দোলন ছিল সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম। এই ঐক্যের শক্তিই স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে। এখন প্রয়োজন নতুন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করা।

নতুন প্রজন্মের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে মেয়র বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবাধ ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মিথ্যা ও অপপ্রচারের রাজনীতি নয়, বাস্তবভিত্তিক উন্নয়নই এখন সময়ের দাবি।চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন, সবুজ, স্বাস্থ্যকর ও জলাবদ্ধতামুক্ত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান একদিনে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ত্যাগ, নির্যাতন ও আত্মদানের ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়ে এই গণঅভ্যুত্থানের জন্ম হয়েছে।তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনের সাহসী অংশগ্রহণকারীদের স্মৃতি অম্লান রাখতেই এ আয়োজন। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

আবুল হাশেম বক্কর বলেন, স্বৈরাচারী শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীরা অসংখ্য মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তারা রাজপথ ছেড়ে যাননি। সেই দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ধারাবাহিকতাই শেষ পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে চূড়ান্ত রূপ লাভ করে।অনুষ্ঠানে ১২ জন শহিদ পরিবার এবং ১১০ জন আহত জুলাই যোদ্ধাকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন শহিদ ফয়সাল শান্তের বাবা, আমরা জুলাই যোদ্ধা চট্টগ্রামের সভাপতি ওমর ফারুক, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম আবির, স্মৃতিচারণ করেন আহত জুলাই যোদ্ধা গাজী রাসেল, ওসমান কাশেমী, মো. লিটন, সোলাইমান স্বপন। আয়োজক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেন শহিদুল ইসলাম সজীব।

বোয়ালখালী পৌরসভার আমান আলী ও নজু মিয়া ফকির সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বহদ্দারপাড়া এলাকার আমান আলী ও নজু মিয়া ফকির সড়কের উন্নয়ন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে বহদ্দারপাড়া এলাকার আমান আলী ও নজু মিয়া ফকির সড়কের উন্নয়ন কাজের

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো.শওকত আলম। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্নয়ন কাজের সূচনা করেন বোয়ালখালী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব ও পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজি আবু আকতার ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোয়ালখালী পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরী, বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম,পৌরসভা বিএনপি নেতা ও কাস্তুরী হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পরিচালক মো.লোকমান, বিএনপি নেতা বশির আহমদ, মো. সেলিম, যুবদল নেতা একরামুল হক জিকু, বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন, খোরশেদ আলমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিএনপি ও
অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ,দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মো. শওকত আলম, বোয়ালখালী পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতিমা এবং হাজি আবু আকতারের আন্তরিক সহযোগিতার কারণে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এই সড়ক গুলোর উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে।

এতে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।তারা আরও বলেন, সড়ক গুলোর উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হলে স্থানীয় জনগণের যাতায়াত সহজ ও নিরাপদ হবে এবং এলাকার সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ