আজঃ বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

লালমনিরহাটে তামাক নামক বিষপাতা চাষ বেড়েছে দ্বীগুন

সাহিদ বাদশা বাবু , লালমনিরহাট ::

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তামাক নামক বিষপাতা চাষের জেলা হিসেবে শীর্ষস্থানে রয়েছে লালমনিরহাট জেলা। গতবছরের তুলনায় এ বছর এই বিষপাতার চাষ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ সেই সাথে কমছে জমির উর্বরতা এবং বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

জানা গেছে, তামাকজাত কোম্পানির প্রলোভনে ও অধিক মুনাফার আশায় তামাক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এঅঞ্চলের কৃষকেরা। তামাক উৎপাদনের আগেই কোম্পানিগুলোর বিক্রির নিশ্চয়তা, দর নির্ধারণে চাষীদের অতি লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে তামাক চাষ, আর কাজে আসছে না কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ।

সরেজমিনে দেখা যায়,কয়েক বছর আগেও লালমনিরহাটের যেসব এলাকায় আবাদি জমিতে ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা ও আলুসহ বিভিন্ন আগাম জাতের সবজী চাষ করা হতো, সে সব জমিতে এখন তামাক চাষ হচ্ছে। লালমনিরহাট জেলার ৫ উপজেলাসহ তিস্তা নদীর প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের জমিগুলোতে দিন দিন তামাক চাষ বেড়েই চলেছে । এসব তামাকের জমিতে বড়দের পাশাপাশি শিশুদের দিয়ে চলছে পরিচর্যার কাজ।

আদিতমারী উপজেলার সাপটিবাড়ি ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে আদিতমারী উপজেলা তামাকের চাষ বেশি হয়। আর এর কারণ, অন্যান্য ফসল চাষকরে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এবং শ্রমিকের অধিক মূল্য হওয়ায় তারা প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে অধিক মুনাফার আশায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি জেনেও তারা তামাক চাষে আগ্রহী হচ্ছে। তারা আরো বলেন, সিগারেট কোম্পানির মাধ্যমে তামাক চাষীদের জন্য একর প্রতি জমিতে বিজ ও নগদ টাকা । সেই সঙ্গে ইসুবি সারের জন্য টাকা, সার আগাম দেওয়া হয়।

লালমনিরহাট সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু রায় বলেন, তামাক চাষ ও সেবনে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তামাক পাতার বিড়ি, সিগারেট, গুল, খইনি ও জর্দাসহ নানান ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করায় বাড়ছে শ্বাসকষ্ট,স্টক, চর্ম , যৌন, ক্যানসারসহ নানা রোগ। তামাক চাষের কারণে কৃষকদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন শিশুসহ, সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ সাইফুল আরিফিন বলেন,এবছর লালমনিরহাট জেলার ৫ টি উপজেলা মোট ১৫ হাজার ৫৭ হেক্টর জমিতে তামাক চাষ কারা হয়েছে। যা গতবছরের তুলনায় ৯ হাজার ৮ শত ৬৫ হেক্টরের বেশি জমিতে তামাক চাষ হয়েছে । তিনি বলেন, কৃষি জমি এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য তামাক চাষ মারাত্মক ক্ষতিকর।

আমাদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সভা সেমিনার ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের তামাক চাষের প্রতি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কৃষকদের বিনামূল্যে তামাকের বীজ, সারসহ, বিনা সুদে ঋণ দেওয়া ও অধিক লাভজনক হওয়ায় কোন পরামর্শই কাজে আসছে না । যে কারণে তামাক চাষে আগ্রহী বেশি হচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষকরা

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯ কেজি গাঁজাসহ শীর্ষ মাদক ডিলার দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে অভিযান চালিয়ে ৯ কেজি ১৩৫ গ্রাম গাঁজাসহ শীর্ষ মাদক সম্রাট মো. রাকিব আলী (৪৮) ও তার নারী সহযোগী মোসা. জমিলা বেগম (৪০) কে গ্রেপ্তার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে সদর মডেল থানার এসআই এস.এম. রাসেল কবিরের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম এলাকায় ওয়ারেন্ট তামিল ও মাদক উদ্ধারের সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের চকঝগড়ু, ড্রেনপাড়া গ্রামের মোসা. জমিলা বেগমের বসতবাড়িতে বিক্রয়ের জন্য বিপুল পরিমাণ গাঁজা মজুত করা আছে বিষয়ট জানতে পেরে পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস এর দিক নির্দেশনায় ও  সদর মডেল থানার ওসি মো. একরামুল হোসাইন পিপিএম এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ধূতরা পালানোর চেষ্টাকালে দুইজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় মোড়ানো ৯টি প্যাকেটে মোট ৯ কেজি ১৩৫ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা।গ্রেপ্তারকৃত রাকিব আলী শিবগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর এলাকার মৃত টানু বিশ্বাসের ছেলে এবং জমিলা বেগম সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের চকঝগড়ু ড্রেনপাড়া গ্রামের মো: রাকিব আলী স্ত্রী।  

উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা (মামলা নং-৩৭, তারিখ ২৫/০৪/২০২৬) দায়ের করা হয়েছে। 
সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. একরামুল হোসাইন পিপিএম জানান, মাদকের শেকড় উপড়ে ফেলতে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটককৃতরা এলাকায় পাইকারি মাদক ডিলার হিসেবে পরিচিত। যুব সমাজকে রক্ষায় এই ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কুলের খাবার খেয়ে ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পৌর এলাকার শংকরবাটি ১ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরের আগেই এ ঘটনা ঘটে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পাউরুটি ও ডিম খাওয়ার পরপরই অসুস্থতা অনুভব করে। তাদের মধ্যে বমিভাব, পেটব্যথা ও চোখে জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আবার বিদ্যালয়ে ফিরলেও অধিকাংশকে তাদের অভিভাবকরা বাড়িতে অথবা চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান।


অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে নিম্নমানের ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার সরবরাহ করা হচ্ছিল। বিষয়টি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গ্রাম উন্নয়ন সংস্থা ‘গাক’-কে একাধিকবার জানানো হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার বলেন, অভিযোগ জানানোর পরও নিম্নমানের খাবার সরবরাহ বন্ধ হয়নি। খাবার খাওয়ার পরপরই প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গাক’-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


উল্লেখ্য, জেলার চারটি উপজেলায় প্রায় ২১৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিমসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করা হয়। তবে বেশিরভাগ বিদ্যালয়েই নিম্নমানের খাবার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ