আজঃ মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর ওপর রেলসহ সড়ক সেতুর নির্মাণকাজ আগামী মাসে শুরু।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কালুরঘাটে বহুল প্রত্যাশিত কর্ণফুলী নদীর ওপর রেলসহ সড়ক সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হতে পারে আগামী মে মাসে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারেন। তবে পুরোপুরি নির্মাণকাজ শুরুর জন্য অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে আরও অন্তত দেড় বছর।

ছয় মাস আগে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে। কিন্তু পরামর্শক নিয়োগেই পার হয়ে যাচ্ছে এক বছরেরও বেশিসময়। এর পর আনুষাঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করে নির্মাণকাজ শুরু করতে ২০২৬ সালের শেষ কিংবা ২০২৭ সালের শুরু নাগাদ লাগবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

অন্তবর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক জানিয়েছেন, আগামী ১৪ মে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা চট্টগ্রামে আসবেন। একইদিন কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত আছে। বুধবার (২ এপ্রিল) চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ ওমর ফারুকের কবর জিয়ারতের পর সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।

অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তাদের দ্বিতীয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর রেল-কাম-রোড সেতু নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১১ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, যা বাস্তবায়ন করবে রেল কর্তৃপক্ষ।

একনেকে অনুমোদনের পর প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছিলেন, এক বছরের মধ্যে পরামর্শক নিয়োগসহ আনুষাঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ সেই সেতু দিয়ে যানবাহন চলাচল করবে। কিন্তু পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও একবছর বেশি সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন তারা।

এর মধ্যে কালুরঘাট সেতু নির্মাণে একজন পূর্ণকালীন প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতদিন রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মো. গোলাম মোস্তফা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিচ্ছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকৌশলী আবুল কালাম চৌধুরীকে প্রকল্প পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের অতিরিক্ত প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

সূত্রমতে, ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের পর পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইওআই (এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট) আহ্বান করা হয়েছে। ১৭ মার্চ ছিল আগ্রহীদের কাছ থেকে প্রস্তাব গ্রহণের শেষ সময়। ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর দেওয়া প্রস্তাব যাচাইবাছাই শুরু হবে।

কালুরঘাট সেতুর প্রকল্প পরিচালক রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশলী আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, কোরিয়ান প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রস্তাব চেয়ে ইওআই কল করা হয়েছে। যারা প্রস্তাব দেবেন, তাদের কোয়ালিটি যাচাইবাছাই করতে হবে। ঈদের ছুটির পর এটা আমরা শুরু করব। এটা একেবারে প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় আছে। চূড়ান্তভাবে কনসালট্যান্ট নিয়োগ দিতে আমাদের চলতি বছর পর্যন্ত সময় লাগবে। এরপর ডিটেইল ডিজাইন হবে। এরপর আমরা টেন্ডার কল করব। এটা করতে আরও এক বছরের মতো লাগবে। কন্ট্রাক্টর নিয়োগ হওয়ার পর কাজ শুরু হবে।

তিনি বলেন, আশা করছি ২০২৬ সালের শেষদিকে অথবা বড়জোড় ২০২৭ সালের শুরুর দিকে আমরা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করতে পারব। প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের শেষদিকে সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করে রেল ও সড়কযান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া সম্ভব হবে।

সূত্রমতে, সেতু নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে সহজ শর্তে ৮১ কোটি ৪৯ লাখ ১০ হাজার ডলার ঋণ পাচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৯ হাজার ৫৩৪ কোটি ৪৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা (প্রতি ডলার ১১৭ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) থেকে ৭২ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন ফ্যাসিলিটি (ইডিপিএফ) তহবিল থেকে ৯ কোটি ১ লাখ ৮০ হাজার ডলার ঋণ দেওয়া হচ্ছে।

ইডিসিএফ’র আওতায় ঋণচুক্তির সুদের হার ০.০১ শতাংশ এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ সাড়ে ১৫ বছর, তবে গ্রেস পিরিয়ডসহ সাড়ে ৪০ বছর। ইডিপিএফ তহবিলের আওতায় ঋণচুক্তির সুদের হার ১ শতাংশ ও ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ৭ বছর, গ্রেস পিরিয়ডসহ মেয়াদ ৩০ বছর। সুদের হার ও শর্তাবলী উভয় ঋণের ক্ষেত্রেই নমনীয়। দক্ষিণ কোরিয়ার ঋণের পর বাকি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেবে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

গত বছরের ২৭ জুন দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই হয়েছিল। তখন রেল কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, জুলাইয়ে প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন হবে। কিন্তু ছাত্র-জনতার প্রবল গণআন্দোলনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হলে প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নিয়ে নানামুখী আলোচনা তৈরি হয়। তবে শেষপর্যন্ত অন্তবর্তী সরকার প্রকল্পটি দ্রুততার সঙ্গে একনেকে অনুমোদন দেয়।

সূত্রমতে, পরামর্শক নিয়োগ, ডিটেইল ডিজাইন ও দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়ার মধ্যেই ভূমি অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে রেখেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। সেতুর জন্য মোট ১৪০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে। এর মধ্যে ষাট শতাংশ রেলওয়ের মালিকানাধীন ও সরকারি খাসজমি। বাকি চল্লিশ শতাংশের মতো ব্যক্তিমালিকানাধীন ভূমি।
কালুরঘাট সেতুর প্রস্তাবিত নকশা অনুযায়ী, কর্ণফুলী নদীর ওপর বিদ্যমান রেলসেতুর ৭০ মিটার উজানে নতুন সেতু নির্মিত হবে। সেতুর দুই পাশে দুই লেন করে চার লেনের সেতু তৈরি করা হবে। এক পাশে চলবে ট্রেন, অন্যপাশে বাস-ট্রাকসহ সাধারণ যানবাহন। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য ৭০০ মিটার। পানি থেকে সেতুর উচ্চতা ১২ দশমিক ২ মিটার। ভায়াডাক্টসহ সেতুর দৈর্ঘ্য হবে প্রায় ৬ কিলোমিটার।

সমীক্ষা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন সেতু দিয়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে প্রতিদিন ২০ জোড়া ট্রেন এবং দিনে প্রায় ১৫ হাজার যানবাহন চলাচল করবে। এর মাধ্যমে আনুমানিক ১০ মিলিয়ন মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। সাড়ে তিন দশকেরও বেশিসময় ধরে দক্ষিণ চট্টগ্রামের কোটি মানুষ কালুরঘাট সেতুর অপেক্ষায় আছে। অন্তবর্তী সরকার দ্রুততার সঙ্গে একনেকে অনুমোদন দেয়ায় বোয়ালখালী ও পটিয়া উপজেলাসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়।
বোয়ালখালী-কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মুস্তফা নঈম বলেন, আমরা চাই সকল প্রক্রিয়া সুচারুরূপে সম্পন্ন করে দ্রুততার সঙ্গে কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হোক।

একনেকে দ্রুত অনুমোদন দিয়ে অন্তর্র্বতী সরকার চট্টগ্রামের প্রতি তাদের আন্তরিকতার প্রমাণ দিয়েছে। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেটার আরও অগ্রগতি হবে। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। আমরা চাই, সেতুটির নির্মাণকাজ প্রত্যাশিত সময়ে সুন্দরভাবে সম্পন্ন হোক। আমাদের অনুরোধ, আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা কিংবা কালক্ষেপণ যেন না হয়। সেজন্য সরকারের বিশেষ নজর প্রত্যাশা করছি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলার নবযাত্রা, জাহাজ বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের নতুন সংযোজন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)এর বহরে যুক্ত হয়েছে এমভি ‘বাংলার নবযাত্রা’। জাহাজটি পূর্বে এক্সসিএল লায়ন (XCL LION) নামে পরিচিত ছিল।বিএসসি সূত্রে জানা যায় , চীনের তৈরি
জাহাজটির ক্লোজিং প্রোগ্রাম বিক্রেতা পক্ষের আইন প্রতিষ্ঠান স্টিভেনসন হারউড এর কার্যালয়ে শুরু হয়।

বিএসসি জানায়, জাহাজটির ডেলিভারি গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চীনের জিংজিয়াং-এর নানইয়াং শিপইয়ার্ডে সম্পন্ন হয়েছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার মাধ্যমে বর্তমানে জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের মালিকানায় এসেছে।এ বিষয়ে বিএসসি ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন-আজ আমাদের জন্য একটি আনন্দের দিন। ‘বাংলার নবযাত্রা’ আমাদের বহরে যুক্ত হওয়ায় বিএসসির সক্ষমতা আরও বাড়বে।

আমূল পরিবর্তন চট্টগ্রাম বন্দরের ড্রেজিং কার্যক্রমে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও দূরদর্শী পরিকল্পনায় ড্রেজিং কার্যক্রমে এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সকলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সরাসরি হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী নদীর মোহনা হতে বন্দর সীমানার অন্তর্গত প্রধান জেটি এবং কালুরঘাট পর্যন্ত নেভিগেশনাল চ্যানেলে ও বন্দর সীমার অন্যান্য চ্যানেলে নাব্যতা রক্ষায় এখন এক সাশ্রয়ী ও কার্যকর মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে।


বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও চবক এর যৌথ হাইড্রোগ্রাফিক জরিপ কার্য পরিচালনা করতঃ সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কর্তৃপক্ষের এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে ড্রেজিং খাতের ব্যয় অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা সংস্থার আর্থিক সাশ্রয়ে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত এই ড্রেজিং কার্যক্রমে বর্তমানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ নিশ্চিত করে ড্রেজিংয়ের কাজগুলোকে ছোট ছোট পরিকল্পিত অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কাজের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ায় ঠিকাদাররা অনেক বেশি দায়বদ্ধতার সাথে কাজ সম্পন্ন করতে পারছে। বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণ এবং আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে অতীতে ড্রেজিং খাতে যে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রবণতা ছিল, তা কমানো সম্ভব হয়েছে।

মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক তদারকি এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। চবক-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়মিত তদারকির ফলে ড্রেজিংয়ের প্রকৃত পরিমাণ ও মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এই কৌশলী উদ্যোগের ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেলগুলোতে প্রয়োজনীয় নাব্যতা সার্বক্ষণিক বজায় থাকছে, যার ফলে বড় আকৃতির বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন অনেক বেশি নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে বন্দরে যাতায়াত করতে পারছে।

এর ফলে বন্দরের পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-রুটে চট্টগ্রাম বন্দরের বিশ্বস্থতা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।ড্রেজিং খাতে সাশ্রয় হওয়া এই বিপুল অর্থ এখন বন্দরের অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে।

যথাযথ তদারকির ফলে ঠিকাদার-নির্ভর ড্রেজিং কার্যক্রমে এই ধরনের আর্থিক শৃঙ্খলা ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শুধুমাত্র বন্দরের অভ্যন্তরীণ ভিত্তিকেই শক্তিশালী করেনি, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নের এই ধারা বজায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের এই প্রধান প্রবেশদ্বারকে বিশ্বমানের আধুনিক বন্দরে রূপান্তর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ