আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

দেশবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন মোঃ হুমায়ুন কবির খান

কালিয়াকৈর সংবাদদাতা:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদ-উল আযহার পুণ্যময় মুহূর্তে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রমবিষয়ক সহ-সম্পাদক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং গাজীপুর-১ আসনের জননন্দিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মোঃ হুমায়ুন কবির খান। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই ঈদ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে এবং প্রতি বছরই এটি ভ্রাতৃত্ব, সহমর্মিতা ও আত্মত্যাগের এক অনন্য বার্তা নিয়ে আসে। ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি – পবিত্র ঈদ-উল আযহা সবার জীবনে বয়ে আনুক অনাবিল সুখ ও শান্তির বার্তা।

ত্যাগের মহিমা ও আত্মশুদ্ধির অঙ্গীকার
এক বিস্তারিত শুভেচ্ছা বার্তায় মোঃ হুমায়ুন কবির খান বলেন, “পবিত্র ঈদুল আযহা শুধুমাত্র পশু কোরবানির উৎসব নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও ত্যাগের মহৎ আদর্শের প্রতীক। এই দিনে আমরা মুসলিমরা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় পশু কোরবানির মাধ্যমে নিজেদের ভেতরের পশুত্ব, কুপ্রবৃত্তি ও সকল কালিমা দূর করার অঙ্গীকার করি। ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের দৃষ্টান্ত আমাদেরকে শিক্ষা দেয়, যেকোনো ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার প্রতি আনুগত্য ও মানবজাতির কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করাই প্রকৃত ঈদ।”

পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও মানবিকতার গুরুত্ব
তিনি আরও বলেন, “ঈদুল আযহা আমাদেরকে শেখায় পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি এবং ভালোবাসার গুরুত্ব। সমাজের দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের মুখে হাসি ফোটানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই দিনে আমরা যেন সমাজের সুবিধা বঞ্চিতদের কথা ভুলে না যাই, যারা ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত। তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি ও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া উচিত, যাতে তারাও এই আনন্দময় উৎসবে শামিল হতে পারে।”

গাজীপুর-১ আসনের জনগণের প্রতি বিশেষ বার্তা
গাজীপুর-১ আসনের জনগণের উদ্দেশে মোঃ হুমায়ুন কবির খান বলেন, “আমার নির্বাচনী এলাকার প্রিয় জনগণসহ দেশের সকল নাগরিককে আমি পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারা সবাই যেন এই আনন্দের দিনে নিজেদের পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে ঈদের খুশি উপভোগ করতে পারেন। আমাদের সমাজে শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় সকলের সহযোগিতা অপরিহার্য। আমি বিশ্বাস করি, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা একটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গঠন করতে পারব।”

চলমান পরিস্থিতি ও আশার বার্তা
তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও পরোক্ষভাবে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশের সাধারণ মানুষ বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ঈদের আনন্দ যেন তাদের মনে নতুন করে আশা ও উদ্দীপনা যোগায়, সেই কামনাই করছি। আসুন, আমরা সকলে মিলেমিশে ভেদাভেদ ভুলে দেশের শান্তি ও অগ্রগতির জন্য কাজ করি।”

পরিবহন শ্রমিকদের প্রতি বিশেষ প্রার্থনা
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি পরিবহন শ্রমিকদের প্রতিও বিশেষ বার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমাদের পরিবহন শ্রমিক ভাইয়েরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ঈদের সময় তাদের ওপর বাড়তি চাপ থাকে। আমি তাদের নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করি এবং ঈদের আনন্দ যেন তাদের কর্মব্যস্ত জীবনেও শান্তি বয়ে আনে, সেই প্রার্থনা করি।”
পরিশেষে ঈদ বার্তা

মোঃ হুমায়ুন কবির খান আশা প্রকাশ করেন, এই পবিত্র ঈদ সকলের জীবনে বয়ে আনবে অনাবিল আনন্দ, সুখ, সমৃদ্ধি এবং আত্মিক প্রশান্তি। তিনি সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করার এবং পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার অনুরোধ জানান। পরিশেষে, তিনি দেশ ও জাতির অব্যাহত শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে তার শুভেচ্ছা বার্তা শেষ করেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাবার বন্ধুদের কাছে পেয়ে সম্মান জানাতে ভুললেন না প্রতিমন্ত্রী পুতুল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারি সফরে পাবনা এসে বাবার বাল্যবন্ধুদের সান্নিধ্যে আবেগতাড়িত হলেন প্রয়াত সমাজকল্যান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিএনপি নেতা ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে বর্তমান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।

সোমবার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় এসে বাবার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক রবিউল ইসলাম রবি, প্রফেসর শিবজিত নাগ, বীর মুক্তিযোদ্ধা বেবী ইসলাম ও অধ্যক্ষ মাহাতাব বিশ্বাসকে দেখে ছুটে কাছে যান এবং পরম শ্রদ্ধায় দোয়া চান প্রতিমন্ত্রী পুতুল। এ সময় মাথায় হাত দিয়ে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন বাবার বন্ধুরা। এরপর পাবনার সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেন তিনি।

পাবনা প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলাম বলেন, প্রয়াত প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের কৈশোর তারুণ্য কেটেছে পাবনায়। তিনি পাবনার সাবেক এমপি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ এডভোকেট আমিনউদ্দিনের ভাতুষ্পুত্র। শহীদ আমিনউদ্দিনের মধ্য শহরের পুষ্পালয় নামক বাড়িতেই ফজলুর রহমান পটল থাকতেন ও ছাত্র রাজনীতি, মুুক্তিযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। সে সময়ের তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের কয়েকজন জীবিত আছেন। পাবনা প্রেসক্লাব প্রতিমন্ত্রী পুতুলের অনুরোধে তার পিতার বন্ধুদের প্রেসক্লাবে আমন্ত্রন জানান। পিতার বন্ধুদের কাছে পেয়ে প্রতিমন্ত্রী যে বিনয় ও সম্মান দেখিয়েছেন তা সত্যিই অনুকরণীয়।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক জীবনের কর্মক্ষেত্রে যেখানেই যাই, শুনতে পাই- ও আচ্ছা তুমি পটলের মেয়ে, পটল ভাইয়ের মেয়ে? আমার এগিয়ে যাবার প্রধান নিয়ামক আমার বাবা। আমার বাবা যাদের হাতে হাত মিলিয়ে আড্ডা দিয়েছেন, সুখ দুঃখ ভাগাভাগি করেছেন। আজ তাদের হাতের স্নেহের পরশ পেয়েছি। সন্তান হিসেবে এটি আমার জন্য ভীষণ সৌভাগ্যের।

পাবনা প্রেসক্লাবের ঐহিত্য ও প্রয়াত সংবাদকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী পুতুল বলেন, বিগত সময়ে আপনারা অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশকে এগিয়ে নিতে আপনাদের সহযোগিতা ভীষণ প্রয়োজন। আপনারা আমাদের পথ দেখান, ভুলগুলোর গঠনমূলক সমালোচনা করবেন বলে আশা রাখি।

পাবনার প্রতি স্মৃতিচারণ করে প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, পাবনা ও নাটোর লালপুরের মাটির গন্ধ একই। কারণ এই পাবনায় আমার শেকড় পোতা। সুতরাং নাটোর লালপুরের মত উন্নয়নের ছোঁয়া পাবনাতেও লাগবে। পাইলটিং পদ্ধতিতে দ্বিতীয় ধাপে পাবনার হতদরিদ্র মানুষ ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। অন্যান্য সকল উন্নয়নে তিনি পাবনাবাসীর সাথে থাকবেন বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

পাবনা প্রেসক্লাবের সাহিত্য সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, সদর আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, পাবনা ২ আসনের এমপি একেএম সেলিম রেজা হাবিব, প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল মতীন খান,প্রেসক্লাব সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা প্রমুখ।

 

 

দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বিএনপি – প্রতিমন্ত্রী পুতুল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, সরকার গঠনের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দেশের মানুষ কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বিএনপি।সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে পাবনার পদ্মকোল খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, অত্যন্ত ক্রান্তিলগ্নে আমরা দেশের দায়িত্ব পেয়েছি। সরকার গঠনের একমাসও পূর্ণ হয়নি। তবুও এরই মধ্যে বিএনপি সরকার দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, মসজিদ মন্দিরের ইমাম পুরোহিতদের সম্মানী ভাতা ও কৃষি ঋণ মওকুফের মতো উদ্যোগ আমরা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু করেছি।

তিনি আরও বলেন, কৃষি ও কৃষক আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি। সেই কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সহ জীবনমান উন্নয়নের জন্য শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এক সময় খাল থেকে সেচ ব্যবস্থার প্রবর্তন করেছিলেন। তার সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমান এবার খননের মাধ্যমে খাল কে পুনরুজ্জীবন দিয়ে সেচ ব্যবস্থা কে আরো উন্নত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগের আওতায় সারা দেশে ৫৪টি খাল খনন কর্মসূচির আজ উদ্বোধন হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মরে যাওয়া খালগুলো পানিপ্রবাহ ফিরে পেলে যেমন কৃষি উৎপাদন বাড়বে, তেমনই গ্রামীণ জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এর ফলে ভূ-উপরিস্থ পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমবে, যা খরা, বন্যা ও জলাবদ্ধতা কমাতে সহায়ক হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় শ্রমিক দলের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও স্বাভাবিক জীবন যাপনের জন্য মরে যাওয়া খালগুলো খনন করে জীবন ফিরিয়ে দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই সারা দেশের মতো পাবনায় এ খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্টরা খেয়াল রাখবেন, শতভাগ স্বচ্ছতার সঙ্গে যেন খাল খনন সম্পন্ন হয়৷

পাবনার জেলা প্রশাসক ড. শাহেদ মোস্তফার সভাপতিত্বে খাল খনন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম রেজা হাবিব, পুলিশ সুপার আনোয়ার জাহিদ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুধাংশু কুমার সরকার, পাবনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার ও সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম সহ অনেকেই।

প্রসঙ্গত, পাবনার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর থেকে মন্ডলমোড় পর্যন্ত ৪ কিলোমিটার এই খালটি পাবনা শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতী নদীতে গিয়ে মিশেছে। ৬ ফুট গভীর ও গড় ৪০ ফুট প্রশস্ত করে খালটি খনন কাজ শুরু হচ্ছে।

এই খালটি পূর্ণ খনন হলে পদ্মা থেকে ইছামতিতে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে। খালের পার্শ্ববর্তী হেমায়েতপুর ইউনিয়নের জমিগুলো সহজেই সেচ সুবিধা পাবে। এই কর্মসূচির আওতায় এটি ছাড়াও পাবনায় ১০৬ টি খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানায় পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

 

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ