আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ঈদুল আজহার উৎসবে চট্টগ্রামের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল।

বিনোদন রিপোর্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ঈদুল আজহার উৎসবের মধ্যে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে। নানা বয়সের, নানা শ্রেণিপেশার বিনোদন পিয়াসী মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন। শুধু চট্টগ্রাম নগরী কিংবা আশপাশের এলাকা নয়, ঢাকাসহ দূর-দূরান্ত থেকেও লোকজন ভিড় করছেন পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, ফয়’সলেক, চিড়িয়াখানা, সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী, মিরসরাইয়ের মহামায়াসহ আরও বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রে। গত তিন দিন ধরেই এমন চিত্র সাগর-পাহাড়ঘেরা বন্দরনগরীর নৈসর্গিক সৌন্দর্যমণ্ডিত স্থানগুলোর।

জানা গেছে, গত শনিবার (৭ জুন) কোরবানির দিনে ব্যস্ততার কারণে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে লোকজনের আনাগোণা স্বাভাবিকভাবেই কম ছিল। কিন্তু রোববার ও সোমবার দিনভর মানুষ ছুটেছে সেখানে, হাজার, হাজার মানুষ।মঙ্গলবারও ছিল মানুষের ঢল চোখে পড়ার মত।
নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সোমবার সকাল থেকেই মানুষের আনাগোণা শুরু হয়। প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটর সাইকেলে চড়ে তরুণ-যুবকেরা গেছেন। অনেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়েও বেড়াতে গেছেন। দুপুরের পর থেকে রীতিমতো সৈকতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।

সৈকতের বালুচরে শিশু-কিশোরদের ছুটোছুটি, সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গে মিতালী, ফুচকাওয়ালার হাঁকডাক, কাঁকড়া ভাজা, গরম পিঁয়াজুর স্বাদ- সব মিলিয়ে এ এক অনন্য বিকেল ! গোধূলিবেলায় তরুণীদের সেলফি, পাথরে বসে তরুণদের গিটার বাজিয়ে গান আনন্দ সম্মিলনকে যেন ভিন্নমাত্রা দিয়েছে।

নগরীর হাজারী লেইন থেকে স্ত্রী ও দুই কিশোরী মেয়েকে নিয়ে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যান পারফিউম ব্যবসায়ী তারেকুল হাবিব। তিনি বলেন, আমাদের গ্রামের বাড়ি রাউজানে। কোরবানিতে বাড়িতে ছিলাম সবাই। সোমবার (৯ জুন) সকালে এসে বিকেলে সবাইকে নিয়ে বের হয়েছি।

কলেজ শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন,পতেঙ্গা সৈকত, কক্সবাজার সৈকত আমাকে খুব টানে। প্রতিবার ঈদে পতেঙ্গায়, না হলে কক্সবাজারে যাবার চেষ্টা করি।চট্টগ্রামে ঈদুল ফিতর কিংবা ঈদুল আজহা- সবসময় সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা ও ফয়’সলেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কে। দুটি পাশাপাশি বিনোদন স্পট।

পাহাড় ও হ্রদবেস্টিত ৩৩৬ একরের ফয়’সলেক কনকর্ড অ্যামিউজমেন্ট পার্কে এবারও দর্শনার্থীর ভিড় লেগেই আছে।পাহাড়ের বুক চিড়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের আঁকাবাঁকা লেক, ওয়াটার পার্ক সী-ওয়ার্ল্ডের কৃত্রিম সমুদ্র, বেসক্যাম্প, অ্যামিউজমেন্ট পার্কের রাইড- সবখানেই মুখর। তবে সবচেয়ে বেশি সমাগম হয়েছে কৃত্রিম সমুদ্রে, যেখানে হাজারো নারী, পুরুষ, শিশু আনন্দে মেতেছিলেন। ডিজে গানের সঙ্গে তরুণ-তরুণীদের পানিতে দাপাদাপি, হইহুল্লোড়ে দিনভর অন্যরকম আবহ তৈরি হয়।

ওয়ান ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক ইসমাইল হোসেন বলেন, এবার টানা দশদিনের বন্ধ। এত লম্বা বন্ধ আগে পাইনি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কোরবানির দিন বাদে প্রত্যেকদিন ছেলেমেয়েদের নিয়ে ঘুরবো। গতকাল পতেঙ্গা গিয়েছিলাম। আজ ফয়’সলেক এসেছি। রাঙামাটি যাবার ইচ্ছে আছে।
অ্যামিউজমেন্ট পার্ক পরিচালনাকারী কনকর্ডের উপ-ব্যবস্থাপক (বিপণন) বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, ঈদের পরদিন থেকে লোকজন আসতে শুরু করেছেন। প্রথমদিন রোববার প্রায় সাড়ে তিন হাজার দর্শনার্থী এসেছেন।

সোমবার আট হাজারের মতো প্রবেশ করেছেন। ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর দর্শনার্থী আসছেন। আমাদের রেস্ট হাউজ পুরো বুকড। আশা করছি আগামী শনিবার সরকারি বন্ধের শেষদিন পর্যন্ত এমন সমাগম থাকবে।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় প্রতিদিন হাজার, হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটছে। বিরল সাদা বাঘ, সিংহ, জলহস্তী, নানা জাতের পাখি টানছে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সীদের।
চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, ঈদের দিন ২ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। পরদিন থেকে ১০ হাজার ১৩ হাজারের মতো দর্শনার্থী প্রবেশ করেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা আরজেএ’র ‘বান্দরবান ভ্রমণ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বার্ষিক পিকনিক আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবারও তিনদিন দুই রাতের বান্দরবান ভ্রমণ-সফলতার সাথেই সম্পন্ন করেছে রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (আরজেএ)। রোমাঞ্চকর পিকনিকের পরিকল্পনায় মুগ্ধ সাংবাদিকরা। মেঘ-পাহাড়ের লুকোচুরি, ঝর্ণার শীতলতা এবং আদিবাসী সংস্কৃতি উপভোগ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা নিয়েছে সংগঠনটির একঝাক গণমাধ্যমকর্মী। গত ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার প্রথম দিনের শুরুতেই চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে বাসে করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা। দুপুর সাড়ে ১২টায় বান্দরবান শহরের বাস স্টেশনে পৌছে হালকা নাস্তা করে সাংবাদিকদের বহর ছুটে যায় বালাঘাটা বাজারের দিকে। সেখানে আগে থেকেই আয়োজকদের ঠিক করে রাখেন তুলা উন্নয়ন বোর্ড রেস্ট হাউজের পুরো ভবন। ভবনে পৌছে যে যার পছন্দ মতো রুমে প্রবেশ করেন।


সেখানে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে সদস্যদের মধ্যে সৌহার্দ্য এবং সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। সবাই ফ্রেশ হতে হতে দৈনিক আইনবার্তার বান্দরবান প্রতিনিধি সাংবাদিক কাজী জুয়েল দুটি জিপ গাড়ি নিয়ে রেস্ট হাউজের সামনে এসে হাজির। বিশ্রামের আর সময় নেই, এবার শুধু ছুটে চলা। এরপর, রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার শেষ করে নিলাচল ও প্রান্তিক লেকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। প্রান্তিক লেকের শান্ত এবং নিরিবিলি পরিবেশে সাংবাদিকরা প্রকৃতির সাথে একাত্ম হওয়ার সুযোগ পান। আর অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য ও মনোরম পরিবেশের জন্য বিখ্যাত নিলাচল, ভ্রমণকারীদের মুগ্ধ করে। সেই সময়ের সৌন্দর্য, মেঘে ঢাকা পাহাড়, শান্ত জলাশয় এবং সবুজের মাঝে ঘুরে বেড়ানো এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।


এদিনের ভ্রমণ শেষে সন্ধ্যায় সদস্যরা রেষ্ট হাউজে ফিরে এসে দিনটি শেষ করেন। সেখানে রাতে একদিকে চলে ঘরোয়া পরিবেশে রান্নার আয়োজন। অন্যদিকে সবাই একত্রিত হয়ে আলোচনা ও মনোজ্ঞ সময় কাটান। এরইমধ্যে সাংবাদিকদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করে খোজ খবর নিয়েছেন ব্যারিস্টার কাজী ইসতিয়াক হোছাইন জিসান। এসময় সংক্ষিপ্ত আলোচনায় সাংবাদিক সংগঠন আরজেএ’র সভাপতি এস এম পিন্টু বলেন, “এ ধরনের প্রকৃতি ভ্রমণ আমাদের কাজের প্রতি ভালোবাসা এবং একে অপরের সাথে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করে।

বান্দরবানের অপূর্ব সৌন্দর্য আমাদের অনেক নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে।” পিকনিকের প্রথম দিনটি ছিল শুধুমাত্র একটি ভ্রমণ নয়, বরং প্রকৃতির মাঝে সময় কাটিয়ে একযোগভাবে সম্পর্ক গড়ার এক অমূল্য সুযোগ। প্রথম দিনটির সফলতার পর, দ্বিতীয় দিন সকাল শুরু হয় একটি সুস্বাদু নাস্তায়। এরপর, সংগঠনের সদস্যরা জিপ ভাড়া করে বান্দরবানের এক ঐতিহ্যবাহী পর্যটন স্থান নীলাগিরির উদ্দেশে রওনা দেন। দুপুরে সাড়ে ১২টার দিকে ২২০০ ফুট উচ্চতায় মেঘ ছোঁয়ার স্থান নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রে এসে থামেন গাড়ি।


এর পর দীর্ঘ প্রায় দুই ঘণ্টা সাংবাদিক সংগঠনটির সদস্যরা প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যান। সেখানকার অপরূপ সৌন্দর্য, পাহাড়ি অঞ্চল এবং সবুজের ছায়ায় ঘুরে বেড়ানো এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে। দুপুরে সেখানকার স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া শেষে, সদস্যরা আবার বান্দরবান শহরে ফিরে আসেন। আসার পথে তাদের বহনকারী জিপ গাড়িটি থামেন শৈলপ্রভাতের দর্শনীয় স্থানে। শৈলপ্রপাত ঝর্ণা-র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ ও শান্ত পরিবেশ সকলের মনকে আরও গভীর প্রশান্তি দিয়েছে।

তাছাড়া সেখানে পাহাড়ি আদিবাসিদের ছোট্ট মার্কেট ঘুরে যে যার পছন্দমতো বাজার করার সুযোগ পেয়েছে। একইদিন বান্দরবান শহরে যখন গাড়ি দাঁড়ায় তখন সন্ধ্যা ৭টা। বান্দরবানের অভিজাত রিসোর্ট মেঘদূত এ আবারও এক জাঁকজমকপূর্ণ ভোজনের আয়োজন করা হয়। এসময় আরজেএ নেতৃবৃন্দের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন বান্দরবান সেনা জোন এনসিও মঞ্জুরুল ইসলাম ও সোহান। এরই মধ্যে নেতৃবৃন্দের সাথে চা চক্রের অঅগ্রহ প্রকাশ করে গাড়ি পাঠিয়েছেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরুল হাসান খান ।

পরে তাঁর অফিস ও বাসায় ২ দফা চলে চা আড্ডা ও ফটো সেশন। রাত ৯টার মধ্যে আবারও রেষ্ট হাউজে ফেরা এবং আগের দিনের মতোই হরেক রকম পদের ঘরোয়া রান্নায় হাত ও জিপ চেটে খাওয়া দাওয়া। সবশেষে সদস্যরা নিজেদের মধ্যে আনন্দ-আড্ডায় মেতে ওঠে। পরদিন ভ্রমনের শেষ শনিবার সকালে নাস্তা করে দুপুর ১২টায় বাসে করে চট্টগ্রাম শহরের উদ্দ্যেশে যাত্রা। এভাবেই প্রকৃতির মাঝে কাটানো দুটো দিন এবং একে অপরের সাথে সময় কাটিয়ে সবাই সত্যিই নবোদ্যম ও

সজীব হয়ে ফিরে আসে। এ বিষয়ে আরজেএ’র সভাপতি এস এম পিন্টু বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত সংবাদ সংগ্রহের পেছনে ছুটতে ছুটতে অনেক সময়ই ক্লান্ত হয়ে পড়ি। কিন্তু এমন একটি ভ্রমণ আমাদের সকলকে একত্রিত করে, একে অপরের সাথে সম্পর্ক গড়ার সুযোগ দেয় এবং আমাদের মানসিক চাপ দূর করতে সাহায্য করে।” এভাবে, এই তিন দিনের ভ্রমণটি শুধু একটি প্রকৃতিভ্রমণ ছিল না, বরং এটি ছিল সাংবাদিকদের জন্য একটি পরিপূর্ণ রিফ্রেশমেন্ট, যেখানে প্রকৃতি, বন্ধুত্ব এবং আনন্দের সম্মিলন ঘটেছিল। সংগঠনের সভাপতি দৈনিক সকালের সময়ের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এস এম পিন্টুর নেতৃত্বে তিনদিনের বান্দরবান ভ্রমণে সংগঠনের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে ছিলেন,

সাংবাদিক নাছির উদ্দিন রকি, এম আর আমিন, সেলিম চৌধুরী, ফয়েজ রেজা, শেখ মোরশেদ আলম, রাজীব সেন প্রিন্স, আব্দুল মতিন চৌধুরী রিপন, মোস্তফা জাহেদ, মো. আলমগীর, জাহাঙ্গীর আলম, মো. এরশাদ, রাকিব উদ্দিন, হাসান সৈকত, পরিতোষ বড়ুয়া রানা, গাজী গোফরান, আনিসুর রহমান ও মো. তৈয়ব চৌধুরী। বান্দরবানের সাংবাদিক কাজী জুয়েল শুরু থেকে আমাদের সময় দিয়েছেন। আরজেএ তাঁর কাছে চির কৃতজ্ঞ।

চট্টগ্রামে শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে পিঠা উৎসবে ৯৮ রকম পিঠাপুলির সংযোগ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় পাওয়া সমাজের এক সময়কার সুবিধাবঞ্চিত-বিপন্ন-ঝুঁকিতে থাকা-পথ শিশুদের নিয়ে বাঙালীয়ানায় পিঠাপুলি উৎসব সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৫ জানুয়ারি রোববার উৎসবে শিশু বরণ, বেলুন ও পায়রা উড্ডয়ন, দেয়ালিকা উন্মোচন, বই বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, উশু প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরণ, ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, তাঁবু জলসা, আতশবাজি এবং বিশেষ নৈশ ভোজের আয়োজন করা হয়েছে। নিবাসী শিশু মোঃ আসিফ উদ্দিন নাঈমের পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। নতুন বছর উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের বিভাগীয় পরিচালক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।


কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতারের সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রের ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর গমন কান্তি দে এর সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়েল অতিরিক্ত পরিচালক হরিশ চন্দ্র বিশ্বাস, হাটহাজারী প্রেস ক্লাবের সভাপতি কেশব কুমার বড়ুয়া, দপ্তর সম্পাদক মো: আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ উশু ফেডারেশনের কার্য নির্বাহী সদস্য আব্দুল্লাহ্ আল ফয়সাল, আন্তর্জাতিক উশু বিচারক ফারজানা খানম, ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ শফিউল আলম, সমাজসেবক মো: আইয়ুব এবং ৬নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আলী আকবর।

বেলুন ও পায়রা উড্ডয়নের মাধ্যমে ফিতা কেটে উদ্বোধন শেষে অতিথিবৃন্দ সজ্জিত পিঠাশালা পরিদর্শন করেন। বাঙালীয়ানার পসরায় ঠাঁই পেয়েছে ডিসি পার্ক পিঠাশালা, হালদা নদী পিঠাশালা, চন্দ্রনাথ পাহাড় পিঠাশালা, ফয়েজ লেক পিঠাশালা, পতেঙ্গা সী-বীচ পিঠাশালা এবং উদালিয়া চা-বাগান পিঠাশালা শিরোনামে ছয়টি পিঠাশালা যাতে গ্রাম বাংলার ৯৮ রকম বাহারী স্বাদের পিঠাপুলির সংযোগ ঘটানো হয়। অত:পর প্রধান অতিথি শিশুদের তৈরিকৃত ‘আলোকবর্তিকা’ শিরোনামে দেয়ালিকার ১০ম সংখ্যা উন্মোচন করেন।


এরপরে শীতকালিন ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট প্রতিযোগিতার বালক শাখার সমাপনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় পর্বে কেন্দ্রের মাঠ প্রাঙ্গনে মহামায়া লেক মঞ্চে শিশু বরণ, বই বিতরণ, শীতবস্ত্র বিতরণ, উশু প্রশিক্ষণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন, আলোচনা সভা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথি বলেন- বাঙালীয়ানা ঐতিহ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে এধরণের উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন প্রশংসার দাবীদার। সবশেষে নিবাসী শিশুদের মাঝে বিশেষ নৈশভোজ পরিবেশনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে। কেন্দ্রের উপপ্রকল্প পরিচালক জেসমিন আকতার জানান- মূলত নতুন বছর উপলক্ষ্যে শীতের মৌসুমে কেন্দ্রের নিবাসী শিশুদের এক পশলা আনন্দের বৃষ্টি ঝরিয়ে তাদের মুখে হাসি ফোঁটানোর জন্য আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ