আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে বাড়ছে পেঁয়াজের ঝাঁঝ, পাইকারি-খুচরায় দামের তফাত

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে পেঁয়াজ নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল নগরবাসী। এখন পেঁয়াজের বাজারের চিত্র পাল্টাতে শুরু করে। পাইকারীতে এক দাম, খুচরায় আরেক দাম। বিশেষ করে এক কেজি পেঁয়াজেই কিনা খুচরা ব্যবসায়ীরা লাভ করছেন ২০ টাকার বেশি। কদিন ধরেই চট্টগ্রামের ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজারখ্যাত খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি মানভেদে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু সেই পেঁয়াজ কিনা খুচরা বাজারগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০টাকায়। দামের এমন তফাতে ক্ষুব্ধ ক্রেতারা। তাঁরা খুচরা বাজারগুলোতে প্রশাসনের তদারকির অনুরোধ জানিয়েছেন।

খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের আড়তগুলোতে পেঁয়াজের সরবরাহ বেশ ভালো ছিল। দামে কোনো হেরফের হয়নি। আগের দামেই বিক্রি হচ্ছিল পণ্যটি। খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়ার বাজারের মেসার্স কাজী স্টোরের স্বত্বাাধিকারী মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কমলেও দাম বাড়েনি। আগের দামেই মানভেদে পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি আগামী কদিন এই দাম অব্যাহত থাকবে। তবে গত সোমবার থেকেই পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করে। পুরো সপ্তাহজুড়ে তাই খাতুনগঞ্জে ৪০-৪৫টাকাতেই বিক্রি হয়েছে পেঁয়াজ। কিন্তু সেই দাম কমার সুফল পাচ্ছেন না ভোক্তারা।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান বলেন, আমরা পেঁয়াজের খুচরা বাজারে শিগগির তদারকি কার্যক্রম চালাবো।
বহদ্দারহাট ও কর্ণফুলী মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে মানভেদে ৬০ থেকে ৭০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে পেঁয়াজ। তবে পাইকারির চেয়ে এত বেশি দামে বিক্রি করার তেমন কোনো কারণ দেখাতে পারেননি খুচরা বিক্রেতারা। বহদ্দারহাটের রাঙ্গুনিয়া স্টোরের দোকানি মোহাম্মদ সাহেদের কাছে দাম না কমার কারণ জানতে চাইলে বলেন, বেশি দামে কিনতে হয়েছে, তাই বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে।

একই কথা বলেন কর্ণফুলী মার্কেটের আরেক খুচরা পেঁয়াজ বিক্রেতা সাইদুল ইসলাম। তিনি দাবি করেন, আগের সপ্তাহে কেনা পেঁয়াজই বিক্রি করছেন। যেহেতু ৫০-৫৫ টাকায় কিনতে হয়েছে সেজন্য মানভেদে ৬০-৭০টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে ক্রেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা বলছেন পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য। এটি বেশিদিন সংরক্ষণ করে রেখে বিক্রির পণ্য না। পাইকারি বাজারের প্রভাব দিনে দিনে না হলেও এক দুদিনের মধ্যে খুচরা বাজারে পড়ার কথা। কিন্তু খুচরা ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে পুরনো দামেই পেঁয়াজ বিক্রি করছেন।

বহদ্দারহাটে পেঁয়াজ কিনতে এসে তাই ক্ষোভ ঝাড়লেন গৃহিনী হালিমা বেগম। তিনি বলেন, পত্রিকা-টিভিতে পেঁয়াজের দাম কমার খবর পড়ছি-শুনছি কদিন ধরে। কিন্তু বাজারে এসে দেখছি উল্টো চিত্র। আগের দামেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে প্রশাসনের তদারকি না থাকার সুযোগে ব্যবসায়ীরা জোট বেঁধে আমাদের ঠকাচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরাও মনে করেন পাইকারি বাজারের পাশাপাশি খুচরা বাজারেও নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, আমরাও শুনতে পাচ্ছি পাইকারি বাজারে দাম কমলেও খুচরা বাজারগুলোতে সেটির প্রভাব এখনো পড়েনি। আগের দামেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে। এটা অনেক সময়েই হয়ে থাকে। প্রশাসন খুচরা বাজারে তদারকি বাড়ালে আশা করি দাম কমবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যমুনা ইলেকট্রনিক্স এর এক্সক্লুসিভ শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


পাবনার ভাঙ্গুড়ায় যমুনা ইলেকট্রনিক্স এর এক্সক্লুসিভ শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন হয়েছে।
আজ ২৭ এপ্রিল সোমবার দুপুরে সঞ্চিতা ইলেকট্রনিক্স এর স্বত্বাধিকারী সংগীত কুমার পালের সভাপতিত্বে যমুনা ইলেকট্রনিকস এর হেড অব সেলস মাকসুদুর রহমান প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে এই শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ভাঙ্গুড়া বণিক সমিতির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুজ্জামান তরুন, ভাঙ্গুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র আজাদ খান প্রমূখ।
যমুনা ইলেকট্রনিকস এর প্রতিটি পন্য কোয়ালিটিতে ওয়ান নম্বার এবং বিশ্ব মানের বলে দিন দিন মার্কেটে ভোক্তাদের কাছে যমুনা ইলেকট্রনিকস এর সকল পন্য সামগ্রিই ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে।

এছাড়াও দেশব্যাপি যমুনা ইলেকট্রনিকস এর সকল পার্টনারসবৃন্দ যমুনার পন্য বিক্রি করে অনেক বেশি মুনাফা হচ্ছে বলে তারা অনেক খুশি। শো-রুম এর শুভ উদ্বোধন শেষে বর্ণাঢ্য র‌্যালী ভাঙ্গুড়া বাজারের বিভিন্ন প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শো-রুম এর অফিসে এসে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে এলাকার বিভিন্ন রকমের সাধারণ জনগণ,সাধারণ ব্যবসায়ী,রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও পাবনা জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা হচ্ছে ১ কোটি ৩০ লাখ লিটার পাম ওয়েল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ভর্তুকিমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্ডধারীদের জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম ওয়েল এবং মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এসব এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত পুনঃদরপত্র পদ্ধতিতে ১ কোটি ৩০ লাখ ৩২ হাজার লিটার পরিশোধিত পাম ওয়েল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পাওয়ার হাউস জেনারেল ট্রেডিং এলএলসি থেকে এই তেল কিনতে ব্যয় হবে ১৮১ কোটি ২৯ লাখ টাকা।

একই বৈঠকে জাতীয় উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে মসুর ডাল ক্রয়েরও প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। ৮ হাজার টন ডাল সংগ্রহ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রথম ধাপে ২ হাজার টন ডাল কেনা হবে, যার জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ঢাকার গুলশানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইজ সার্ভিসেস লিমিটেড এই ডাল সরবরাহ করবে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ