আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের

জুলাই যোদ্ধা ওমর ফারুক সাগর: আন্দোলন, গুলি, ও নেতৃত্বের গল্প।

জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাহসী নেতা ও সংগঠক ওমর ফারুক সাগর এখন শুধু একটি নাম নয়—একটি প্রতীক। রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়েও আন্দোলনের ধারাকে শক্তিশালী রেখে এগিয়ে চলা এক ছাত্রনেতার নাম ওমর ফারুক সাগর। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলনে তিনি পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। সেদিনের সেই রক্তাক্ত অভিজ্ঞতা এখন দেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। ফলে তিনি এখন পরিচিত “জুলাই যোদ্ধা” নামে।

ছাত্রদলের রাজনীতিতে উত্থান
………………….
ওমর ফারুক সাগর বহুদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম কলেজ ইউনিটের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি সংগঠনের একজন দক্ষ সংগঠক ও মাঠের কর্মী হিসেবেই বেশি পরিচিত। কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাঁর প্রভাব, মিছিল-মিটিংয়ে উপস্থিতি এবং বক্তৃতার ভঙ্গি তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এক পর্যায়ে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক আদর্শিক দৃঢ়তা এবং নেতৃত্বগুণ তাকে কলেজ ইউনিটে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা
………………
২০২৪ সালের জুলাই আগষ্ট ছাত্রজনতার নেতৃত্বে আয়োজিত “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন”-এর ১৬ ই জুলাই কর্মসূচিতে অংশ নিতে মুরাদপুর এলাকায় উপস্থিত হন সাগর। হঠাৎ করেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের হামলা শুরু হয়। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ পুলিশ গুলি চালায়। সে সময় সাগরের বুকের ডান পাশ করে গুলি লাগে।

গুরুতর অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, গুলিটি গুরুত্বপূর্ণ নার্ভ ছুঁয়ে গিয়েছিল, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তার চিকিৎসা চলে। ওই সময় চট্টগ্রামসহ সারা দেশের ছাত্রদলকর্মীরা তার পাশে দাঁড়ায়।

জুলাই যোদ্ধা খেতাব
..,,…..,..,…
এই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা তাকে শুধু আহত করেনি, বরং করে তুলেছে একটি আন্দোলনের প্রতীক। রাজপথে ছাত্রদের অধিকার রক্ষায় গুলির মুখে থেকেও নিজের অবস্থান ধরে রাখার কারণে তাকে “জুলাই যোদ্ধা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন তার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গোল চত্বরে ৩৬ জুলাইয়ের পরের দিন ৬ আগষ্ট ছাত্রশিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দেন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারাও তার সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং তাঁকে আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনের কর্মী হিসেবে সমীহ করতে শুরু করেন।

পরিবারকে কেন্দ্র করে টার্গেট
………………….
ওমর ফারুক সাগরের ওপর হামলা থেমে থাকেনি। অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তাকে কোণঠাসা করতে মামলা, পুলিশি হয়রানি ও হামলার মাধ্যমে তাকে নিস্ক্রিয় করতে চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

তবুও তিনি এসব ভয়ভীতিকে পাশ কাটিয়ে আজও চট্টগ্রাম কলেজ ও নগরজুড়ে ছাত্রদলের সংগঠক হিসেবে সক্রিয়।

ওমর ফারুক সাগর গণমাধ্যমকে জানান:
……,…,.,……..,……
আমি ছাত্রদলের একজন আদর্শকর্মী। গুলি আমাকে থামাতে পারেনি। ছাত্রদের অধিকার আদায়ে যত দিন বাঁচবো, তত দিন রাজপথে থাকবো। যেভাবে অন্যায়ভাবে আমাকে গুলি করা হয়েছে, আমি চাই না কোনো শিক্ষার্থী আর এমন নির্যাতনের শিকার হোক।
তিনি আরও বলেন, “এ লড়াই শুধু আমার না, এটি হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের জন্য লড়াই।” গণতন্ত্রের জন্য লড়াই।

আন্দোলনে নেতৃত্ব
…….,…….
সাগর বর্তমানে শুধু কলেজ পর্যায়ে নয়, বরং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

ওমর ফারুক সাগর এখন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্ররাজনীতির একজন স্মরণীয় নাম। তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা, তার নির্ভীক ভূমিকা, নেতৃত্বগুণ ও সংগঠনের প্রতি একাগ্রতা ছাত্র রাজনীতির জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
“জুলাই যোদ্ধা” নামটি কেবল একটি উপাধি নয়—এটি হয়ে উঠেছে ছাত্র অধিকারের লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ