চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের

জুলাই যোদ্ধা ওমর ফারুক সাগর: আন্দোলন, গুলি, ও নেতৃত্বের গল্প।

জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাহসী নেতা ও সংগঠক ওমর ফারুক সাগর এখন শুধু একটি নাম নয়—একটি প্রতীক। রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়েও আন্দোলনের ধারাকে শক্তিশালী রেখে এগিয়ে চলা এক ছাত্রনেতার নাম ওমর ফারুক সাগর। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলনে তিনি পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। সেদিনের সেই রক্তাক্ত অভিজ্ঞতা এখন দেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। ফলে তিনি এখন পরিচিত “জুলাই যোদ্ধা” নামে।

ছাত্রদলের রাজনীতিতে উত্থান
………………….
ওমর ফারুক সাগর বহুদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম কলেজ ইউনিটের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি সংগঠনের একজন দক্ষ সংগঠক ও মাঠের কর্মী হিসেবেই বেশি পরিচিত। কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাঁর প্রভাব, মিছিল-মিটিংয়ে উপস্থিতি এবং বক্তৃতার ভঙ্গি তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এক পর্যায়ে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক আদর্শিক দৃঢ়তা এবং নেতৃত্বগুণ তাকে কলেজ ইউনিটে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা
………………
২০২৪ সালের জুলাই আগষ্ট ছাত্রজনতার নেতৃত্বে আয়োজিত “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন”-এর ১৬ ই জুলাই কর্মসূচিতে অংশ নিতে মুরাদপুর এলাকায় উপস্থিত হন সাগর। হঠাৎ করেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের হামলা শুরু হয়। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ পুলিশ গুলি চালায়। সে সময় সাগরের বুকের ডান পাশ করে গুলি লাগে।

গুরুতর অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, গুলিটি গুরুত্বপূর্ণ নার্ভ ছুঁয়ে গিয়েছিল, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তার চিকিৎসা চলে। ওই সময় চট্টগ্রামসহ সারা দেশের ছাত্রদলকর্মীরা তার পাশে দাঁড়ায়।

জুলাই যোদ্ধা খেতাব
..,,…..,..,…
এই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা তাকে শুধু আহত করেনি, বরং করে তুলেছে একটি আন্দোলনের প্রতীক। রাজপথে ছাত্রদের অধিকার রক্ষায় গুলির মুখে থেকেও নিজের অবস্থান ধরে রাখার কারণে তাকে “জুলাই যোদ্ধা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন তার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গোল চত্বরে ৩৬ জুলাইয়ের পরের দিন ৬ আগষ্ট ছাত্রশিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দেন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারাও তার সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং তাঁকে আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনের কর্মী হিসেবে সমীহ করতে শুরু করেন।

পরিবারকে কেন্দ্র করে টার্গেট
………………….
ওমর ফারুক সাগরের ওপর হামলা থেমে থাকেনি। অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তাকে কোণঠাসা করতে মামলা, পুলিশি হয়রানি ও হামলার মাধ্যমে তাকে নিস্ক্রিয় করতে চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

তবুও তিনি এসব ভয়ভীতিকে পাশ কাটিয়ে আজও চট্টগ্রাম কলেজ ও নগরজুড়ে ছাত্রদলের সংগঠক হিসেবে সক্রিয়।

ওমর ফারুক সাগর গণমাধ্যমকে জানান:
……,…,.,……..,……
আমি ছাত্রদলের একজন আদর্শকর্মী। গুলি আমাকে থামাতে পারেনি। ছাত্রদের অধিকার আদায়ে যত দিন বাঁচবো, তত দিন রাজপথে থাকবো। যেভাবে অন্যায়ভাবে আমাকে গুলি করা হয়েছে, আমি চাই না কোনো শিক্ষার্থী আর এমন নির্যাতনের শিকার হোক।
তিনি আরও বলেন, “এ লড়াই শুধু আমার না, এটি হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের জন্য লড়াই।” গণতন্ত্রের জন্য লড়াই।

আন্দোলনে নেতৃত্ব
…….,…….
সাগর বর্তমানে শুধু কলেজ পর্যায়ে নয়, বরং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

ওমর ফারুক সাগর এখন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্ররাজনীতির একজন স্মরণীয় নাম। তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা, তার নির্ভীক ভূমিকা, নেতৃত্বগুণ ও সংগঠনের প্রতি একাগ্রতা ছাত্র রাজনীতির জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
“জুলাই যোদ্ধা” নামটি কেবল একটি উপাধি নয়—এটি হয়ে উঠেছে ছাত্র অধিকারের লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নিধারিত ভাড়া না মানলে ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবস্থা: ইউএনও

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট না থাকলে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে উপজেলার সব সিএনজি অটোরিকশায় দৃশ্যমান স্থানে ভাড়ার চার্ট টাঙানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বোয়ালখালী উপজেলা অডিটোরিয়ামে সিএনজির ভাড়া, যাত্রীসেবা ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।

সভায় যাত্রীদের স্বার্থ, চালক ও মালিকদের ন্যায্যতা এবং সিএনজি পরিবহনে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে সিএনজিতে যাত্রী উঠানামার ভাড়া ৫ টাকা এবং ইউএনও কার্যালয় থেকে ফুলতল পর্যন্ত ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।এ ছাড়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে ইউনিফর্ম পরিহিত কিংবা বৈধ পরিচয়পত্রধারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্ধেক ভাড়া নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি সিএনজি অটোরিকশায় নির্ধারিত ভাড়ার চার্ট দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব গাড়িতে ভাড়ার চার্ট লাগানো নিশ্চিত করতে হবে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ভাড়ার চার্ট না থাকা গাড়ির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ছাড়া নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় না করা এবং যাত্রীদের সঙ্গে শালীন, ভদ্র ও দায়িত্বশীল আচরণ করতে চালকদের নির্দেশ দেওয়া হয়। যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় কিংবা সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, বোয়ালখালীর পাঁচটি স্টেশনে পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ার সঙ্গে ৫ টাকা করে বৃদ্ধি করা হবে। অন্য স্টেশনগুলোর ভাড়া আগের মতোই বহাল থাকবে।

সভায় বোয়ালখালী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল হক চেয়ারম্যান, পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ইসহাক চৌধুরী, বিএনপি নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতা মুজাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি অধীর বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন দুলালসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, এস এম মোদাচ্ছের, বোয়ালখালী সিএনজি অটোরিকশা টেম্পু শ্রমিক ও মালিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি মো. ইদ্রিস, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাবিবুর রহমান, শ্রমিকনেতা আবদুল সাত্তার এবং কালুরঘাট-ফুলতল, শাকপুরা, সিও অফিস, জোটপুকুর, কানুনগোপাড়া, দাশেরদীঘি, বেংগুরাসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি চালক ও সমিতির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পক্ষ পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে যাত্রীবান্ধব, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ সিএনজি পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

ইঞ্জিন দ্রুত মেরামতে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপকের নির্দেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ), লোকোসেড, সিজিপিওয়াই, কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) ও পদ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মামুনুল ইসলাম। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এসব স্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে রেলওয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী (সিই), চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট (সিওপিএস), চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম), চট্টগ্রামের বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) এবং পাহাড়তলীর ডিএসডব্লিউসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে রেলওয়ে ট্রেনিং একাডেমি (আরটিএ) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় তিনি একাডেমির একাডেমিক ভবন, প্রশিক্ষণার্থীদের প্রশিক্ষণ কক্ষ, ডরমেটরি ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।এরপর তিনি সিজিপিওয়াই, টার্ন টেবিল, ট্রায়াঙ্গেল লাইন, ইয়ার্ড লাইন ও লোকোসেড পরিদর্শন করেন। লোকোসেড পরিদর্শনকালে ইঞ্জিন দ্রুত মেরামত ও সচল রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা দেন।

পরে সিজিপিওয়াই এলাকায় কনটেইনার কোম্পানি অব বাংলাদেশ (সিসিবিএল) পরিদর্শন করেন মহাব্যবস্থাপক। এ সময় সিসিবিএলের সঙ্গে রেলওয়ের বিভিন্ন চুক্তি, নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং সীমানা নির্ধারণসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়া দ্মা অয়েল সাইডিং লাইন পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন তিনি।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ