আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের

জুলাই যোদ্ধা ওমর ফারুক সাগর: আন্দোলন, গুলি, ও নেতৃত্বের গল্প।

জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সাহসী নেতা ও সংগঠক ওমর ফারুক সাগর এখন শুধু একটি নাম নয়—একটি প্রতীক। রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়েও আন্দোলনের ধারাকে শক্তিশালী রেখে এগিয়ে চলা এক ছাত্রনেতার নাম ওমর ফারুক সাগর। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলনে তিনি পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। সেদিনের সেই রক্তাক্ত অভিজ্ঞতা এখন দেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে। ফলে তিনি এখন পরিচিত “জুলাই যোদ্ধা” নামে।

ছাত্রদলের রাজনীতিতে উত্থান
………………….
ওমর ফারুক সাগর বহুদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম কলেজ ইউনিটের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তিনি সংগঠনের একজন দক্ষ সংগঠক ও মাঠের কর্মী হিসেবেই বেশি পরিচিত। কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তাঁর প্রভাব, মিছিল-মিটিংয়ে উপস্থিতি এবং বক্তৃতার ভঙ্গি তাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এক পর্যায়ে তিনি চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রদলের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার রাজনৈতিক আদর্শিক দৃঢ়তা এবং নেতৃত্বগুণ তাকে কলেজ ইউনিটে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে আসে।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা
………………
২০২৪ সালের জুলাই আগষ্ট ছাত্রজনতার নেতৃত্বে আয়োজিত “বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন”-এর ১৬ ই জুলাই কর্মসূচিতে অংশ নিতে মুরাদপুর এলাকায় উপস্থিত হন সাগর। হঠাৎ করেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ ও সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের হামলা শুরু হয়। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে ছাত্রলীগ, যুবলীগ পুলিশ গুলি চালায়। সে সময় সাগরের বুকের ডান পাশ করে গুলি লাগে।

গুরুতর অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, গুলিটি গুরুত্বপূর্ণ নার্ভ ছুঁয়ে গিয়েছিল, ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তার চিকিৎসা চলে। ওই সময় চট্টগ্রামসহ সারা দেশের ছাত্রদলকর্মীরা তার পাশে দাঁড়ায়।

জুলাই যোদ্ধা খেতাব
..,,…..,..,…
এই গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা তাকে শুধু আহত করেনি, বরং করে তুলেছে একটি আন্দোলনের প্রতীক। রাজপথে ছাত্রদের অধিকার রক্ষায় গুলির মুখে থেকেও নিজের অবস্থান ধরে রাখার কারণে তাকে “জুলাই যোদ্ধা” হিসেবে আখ্যায়িত করেন তার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় গোল চত্বরে ৩৬ জুলাইয়ের পরের দিন ৬ আগষ্ট ছাত্রশিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দেন।

ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতারাও তার সাহসিকতার প্রশংসা করেন এবং তাঁকে আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনের কর্মী হিসেবে সমীহ করতে শুরু করেন।

পরিবারকে কেন্দ্র করে টার্গেট
………………….
ওমর ফারুক সাগরের ওপর হামলা থেমে থাকেনি। অনেক সময় পরিবারের সদস্যদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে তাকে কোণঠাসা করতে মামলা, পুলিশি হয়রানি ও হামলার মাধ্যমে তাকে নিস্ক্রিয় করতে চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে।

তবুও তিনি এসব ভয়ভীতিকে পাশ কাটিয়ে আজও চট্টগ্রাম কলেজ ও নগরজুড়ে ছাত্রদলের সংগঠক হিসেবে সক্রিয়।

ওমর ফারুক সাগর গণমাধ্যমকে জানান:
……,…,.,……..,……
আমি ছাত্রদলের একজন আদর্শকর্মী। গুলি আমাকে থামাতে পারেনি। ছাত্রদের অধিকার আদায়ে যত দিন বাঁচবো, তত দিন রাজপথে থাকবো। যেভাবে অন্যায়ভাবে আমাকে গুলি করা হয়েছে, আমি চাই না কোনো শিক্ষার্থী আর এমন নির্যাতনের শিকার হোক।
তিনি আরও বলেন, “এ লড়াই শুধু আমার না, এটি হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যতের জন্য লড়াই।” গণতন্ত্রের জন্য লড়াই।

আন্দোলনে নেতৃত্ব
…….,…….
সাগর বর্তমানে শুধু কলেজ পর্যায়ে নয়, বরং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদলের কর্মসূচিতে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন।

ওমর ফারুক সাগর এখন চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্ররাজনীতির একজন স্মরণীয় নাম। তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা, তার নির্ভীক ভূমিকা, নেতৃত্বগুণ ও সংগঠনের প্রতি একাগ্রতা ছাত্র রাজনীতির জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
“জুলাই যোদ্ধা” নামটি কেবল একটি উপাধি নয়—এটি হয়ে উঠেছে ছাত্র অধিকারের লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ