আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

পানি সরবরাহে চউক চেয়ারম্যানের হাতে ৬২ লক্ষ টাকার পে অর্ডার দিলো ৪০ জন প্লট মালিক।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক) কর্ণফুলী হাউজিং সোসাইটির দীর্ঘদিন ধরে চলমান পানিসংকট নিরসনে বৃহস্পতিবার বিকেলে চউক চেয়ারম্যান কার্যালয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ৪০ জন প্লট মালিক ৬২ লক্ষ টাকা সার্ভিস চার্জ পে অর্ডার মূলে জমা দেন । চ¦উক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী নুরুল করিমের হাতে প্লট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ এসব পে অর্ডার আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন ।

অনতিবিলম্বে বাকী প্লট মালিকগণও তাদের প্লট প্রতি ৪০ হাজার টাকার সার্ভিস চার্জ জমা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন । চউক কর্ণফুলী মালিক কল্যাণ সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট জিয়া হাবীব আহ্সান সমিতির পক্ষ থেকে চউক চেয়ারম্যানকে মৃত প্রায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ায় আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। এ সময় চউক চেয়ারম্যান বলেন , দৃষ্টিনন্দন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সিডিএ সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে । তিনি আরো বলেন, ভান্ডারজুড়ি প্রকল্পের পানি পেতে ৫১৯ টি প্লট মালিকরা হকদার ।

উক্ত প্রকল্পে ওয়াসা ৫০ লাখ লিটার পানি সরবরাহ করবে চট্টগ্রাম ওয়াসা, অর্থ প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে পানি সরবারহের কার্যক্রম শুরু করবে ওয়াসা । সভায় সিডিএ কর্মকর্তা চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং প্লট মালিক কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন । কর্ণফুলী আবাসিকে সুপেয় পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম ওয়াসার সহযোগিতায় পাইপলাইন সম্প্রসারণ ও সংযোগ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয় ।চউকের মাধ্যমে রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ও অন্যান্য নাগরিক সেবার মানোন্নয়নের ব্যাপারেও সিডিএ চেয়ারম্যান ঘোষণা দেন ।

চেয়ারম্যান নুরুল করিম আরো বলেন, “আপনি সরবরাহের এই চুক্তি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বাস্তবায়নের মাধ্যমে যেন প্লট মালিকরা সরাসরি উপকৃত হন, সে লক্ষ্যেই আমাদের অঙ্গীকার ।আমরা এই উদ্যোগের সঙ্গে আছি।” চট্টগ্রামের জনগণ যাতে আবসাসন নির্মাণে ও বসবাসে পানির মত মৌলিক সেবায় বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।” সিডিএ কর্ণফুলী আবাসিক প্লট মালিক কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকেও উক্ত উদ্যোগের প্রশংসা করা হয় এবং এই চুক্তিকে একটি “টাইমলাইনভিত্তিক অ্যাকশন প্ল্যান”-এর সূচনা হিসেবে বর্ণনা করা হয় ।

প্লট মালিক সমিতির যে সকল সদস্য এখনও ওয়াসার পানি সংযোগ প্রদানের জন্য কাটা প্রতি ৪০ হাজার টাকা জমা প্রদান করতে পারেন নি তদেরকে অতি সত্বর উক্ত অর্থ জমা প্রদানের জন্য সমিতির সভাপতি অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক আহ্সান জানান । এফ ডি আর হস্তান্তরকালে উপস্থিত ছিলেন – সিডিএ কর্ণফুলী আবাসিক প্লট মালিক কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা প্রফেসর ডাঃ ইমরান বিন ইউনুস ও এডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী, সিনিয়র সহ সভাপতি এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, সহ সভাপতি গোলাম ওয়ারেস, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: ইয়াসিন (

সাবেক চেয়ারম্যান), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হুদা, অর্থ সম্পাদক এড সেলিম চৌধুরী, এডভোকেট কফিল উদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট আশীষ কিরণ দাশ, মোঃ ফজলুল করিম, মোঃ শাহবুদ্দিন চৌধুরী, লেঃ কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ বিন এন (অবঃ), অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুদ্দিন, সামদান কাশেম চৌধুরী, আব্দুস সবুর, মৃণাল কান্তি নাথ রফিক আহমেদ, রোকেয়া আক্তার, সৈয়দ মাহমুদ, মোয়াজ্জেম হোসেন, গিয়াস উদ্দিন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ – এর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিডিএ তত্ত্বাবধারক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর হাসান, ষ্টেট অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর খান, সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ওসমান শিকদার, নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইলিয়াস প্রমুখ ।

এই চুক্তির মাধ্যমে কর্ণফুলী আবাসিক এলাকার শত শত প্লট মালিকের দীর্ঘ ৩৩ বছরের নাগরিক দুর্ভোগ লাঘবের আশাব্যঞ্জক দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।উল্লেখ প্লট মালিকদের কাটা প্রতি ৪০ হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ প্রদান (অর্থায়নে) ওয়াসার উক্ত সংযোগ প্রদান করা হচ্ছে ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম কারাগারে ঈদের হাসি ফোটাতে নানা উদ্যেগ, বন্দীরা আপ্যায়িত হবে বিশেষ খাবারে ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদে কারাবন্দীদের মুখে হাসি ফোটাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ। প্রায় ছয় হাজার বন্দীদের মাঝে কারাগার কর্তৃপক্ষ ছড়িয়ে দিতে চায় ঈদের আনন্দ। ঈদের দিন কারাগারে স্বজনদের কাছে ছুটলেও চার দেয়ালের বাইরে যাবার সুযোগ নেই কারাবন্দীদের। সরকারি নিয়মীতির মধ্যে থেকেই দেখা করতে হয়। এবার ঈদে কারাগারে বন্দীদের পায়েস, মুড়ি, গরুর ও ছাগলের মাংসের ব্যবস্থা থাকবে। তবে ঈদের পরদিন স্বজনরা বাসায় রান্না করা খাবার দিতে পারবেন বন্দীদের। বাহিরের কোন বাবুচি নয়, কারাবন্দী কয়েদীরা এই রান্না করবেন বলে জানা গেছে। এবার কারাবন্দী মায়ের সাথে ৪৫ শিশুও ঈদ করবে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ জানান, বিধি অনুযায়ী আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি ঈদে যেন বন্দীদের মন খারাপ না থাকে। ঈদ উপলক্ষে বিশেষ রান্নার আয়োজন করা হবে কারাগারে। কারাগারের ভেতরে অনুষ্ঠিত হবে ঈদের জামাত। সকাল সাড়ে সাতটায় কারাগারে কর্মরত অফিসার ও কর্মচারীরা নামাজ পড়বেন।

সাড়ে আটটায় অনুষ্ঠিত হবে বন্দীদের ঈদের নামাজ। সকালে বন্দীদের সরবরাহ করা হবে পায়েস, মুড়ি। দুপুরে মুসলিম বন্দীদের জন্য গরুর মাংস। অন্য ধর্মালম্বীদের জন ছাগলের মাংসের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া সবার জন্য থাকবে মুরগির মাংস ও মিষ্টি। রাতে পোলাও এবং পান সুপারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের পরদিন স্বজনরা বাসায় রান্না করা খাবার দিতে পারবেন বন্দীদের।
কারগারসূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম কে›ন্দ্রীয় কারাগারে সাজা, মত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও হাজতি মিলে বন্দীর সংখ্যা ছিলো প্রায় ছয় হাজার। সেই হিসেবে প্রায় ছয় হাজার বন্দী এবার চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ঈদ উদযাপন করবেন।

বিপুল সংখ্যাক বন্দীর জন্য কারাগারে উন্নত খাবারের রান্নার আয়োজন করা হয়েছে। করা হয়েছে বাহারি আলোকসজ্জা। ইচ্ছে করলেও কারাবন্দীরা সারাবছর ঘরে রান্নার স্বাদ নিতে পারেন না। তবে ঈদের পরদিন স্বজনরা চাইলে বাড়ির রান্না করা খাবার দিতে পারবেন বন্দীদের।
জানা গেছে, ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম কারাগার ১৯৯৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় কারাগারে উন্নীত হয়। কারাগারের পাঁচ তলা বিশিষ্ট পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা ভবনের প্রতিটিতে ৩০০ জন ও কর্ণফুলী, সাংগু ও হালদা ভবনের প্রতিটিতে ২৪০ জন বন্দী ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। পাঁচ কক্ষ বিশিষ্ট দুটি ফাঁসির সেল ভবন, ৩২ কক্ষ বিশিষ্ট একটি সেল ভবন রয়েছে।

এবার পেশাদার কোন বাবুর্চি নয়, কারাবন্দী কয়েদীরা ২৮ চুলায় এসব রান্না তৈরি করবেন। বন্দীদের রান্নার জন্য দুটি রান্না ঘরে ২৮টি চুলা (চৌকা) রয়েছে। এছাড়া চারতলা বিশিষ্ট একটি মহিলা কয়েদি ও দুই তলা বিশিষ্ট মহিলা হাজতি ব্যারাক রয়েছে দুটি। কাগজে কলমে দুই হাজার ২’শ ৪৮ জন বন্দীর ধারণক্ষমতা সম্পন্ন চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ছিল প্রায় ছয় হাজার। এদিকে কোন অপরাধ না করেও কারাগারে বন্দী রয়েছে ৪৫ শিশু। নানা অপরাধে জড়িত কারাবন্দী মায়ের সাথে শিশুরাও বন্দী জীবনযাপন করছে। জেলার সৈয়দ শাহ শরীফ জানান, বন্দী মায়ের সাথে শিশুদের ছয় বছর বয়স পর্যন্ত কারাগারে রাখা হয়। কারাগারে থাকা শিশুদের জন্য খেলাধূলা ও পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। ছয় বছর বয়স পার হলেও তাদেরকে সমাজ সেবার আওতাধীন বিভিন্ন শিশু সদনে পাঠানো হয়।

চট্টগ্রামে ফুটপাতে উদ্ধার নবজাতকের চিকিৎসা শেষে জিম্মায় দিল পুলিশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকায় পরিত্যক্ত এক নবজাতককে উদ্ধার করে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ করে আইনি প্রক্রিয়ায় নিরাপদ জিম্মায় দিয়েছে পুলিশ।

কোতোয়ালী থানা পুলিশ জানায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কোতোয়ালী থানাধীন ব্রিজঘাট সংলগ্ন এস আলম বাস কাউন্টারের বিপরীত পাশের ফুটপাতে পরিত্যক্ত অবস্থায় একদিন বয়সী একটি ছেলে নবজাতক উদ্ধার করা হয়। এ সময় শিশুটিকে গামছা ও তোয়ালে জড়ানো অবস্থায় পাওয়া যায়। উদ্ধারের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থা দুর্বল থাকায় কোতোয়ালী থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

কোতোয়ালী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নূরে আল মাহমুদ জানান, প্রায় ২০ দিনের চিকিৎসা শেষে শিশুটি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শিশুটিকে হাটহাজারী উপজেলার চিকনণ্ডী ইউনিয়নের বাদামতল এলাকার বাসিন্দা জেসমিন আক্তারের জিম্মায় দেওয়া হয়। শিশুটির সার্বিক খোঁজখবর নিয়মিত রাখা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ