আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামের পেয়ারা কদর সারা বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ ও পটিয়া উপজেলার সুস্বাদু পেয়ারা উৎপাদনের জন্য সারা দেশে বিখ্যাত। এখানকার উৎপাদিত কাঞ্চন পেয়ারা স্বাদ, গুণগতমান ও আকারের জন্য সুখ্যাতি কুড়িয়েছে বহুকাল থেকে। ফলে এই পেয়ারা এখন একটি বিশেষ কৃষিপণ্য হিসেবে সারা দেশে পরিচিতি লাভ করেছে। চন্দনাইশ উপজেলার হাসিমপুর, সৈয়দাবাদ, ও কাঞ্চননগর পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, রতনপুর এলাকায় এ জাতের পেয়ারা উৎপাদন শুরু এবং বেশি উৎপাদন হয় বলে নামকরণ করা হয়েছে কাঞ্চন পেয়ারা।


  1. চন্দনাইশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দশক ধরে বাণিজ্যিকভাবে পেয়ারা চাষ করে আসছেন দুই সহস্রাধিক কৃষক। এ অঞ্চলের মাটি ও জলবায়ু পেয়ারা উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এখানকার পেয়ারাগুলো আকারে বড়, সুস্বাদু, রসালো ও সহজে নষ্ট হয় না। জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পেয়ারার ব্যাপক ফলন হয়।
  2. তবে পেয়ারা চাষিদের অভিযোগ, সরাসরি বাগান থেকে হাটে পেয়ারা পরিবহনের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত সমস্যা, হিমাগারের অভাব ও পেয়ারার ন্যায্যদাম না পাওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যায় পড়তে হয় তাদের। এ ছাড়া বাজার ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতার ঘাটতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ অনেক সময় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, চাষিদের আধুনিক পদ্ধতিতে পেয়ারা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে প্রশিক্ষণ, রোগবালাই দমনে সহায়তা, প্রণোদনা প্রদান, উপকরণ বিতরণ ও বাগান পর্যবেক্ষণের
  3. মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির চেষ্টা চলমান।

চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়েছে। তার মধ্যে ৭৩০ হেক্টর জমিতে কাঞ্চন পেয়ারা ও বাকি ২০ হেক্টর জমিতে অন্যান্য জাতের পেয়ারা চাষ করেছেন চাষিরা। প্রতি হেক্টর জমিতে ১৫ মেট্রিক টন পেয়ারা উৎপন্ন হয়। পেয়ারার মৌসুমে এখানকার উৎপাদিত পেয়ারার ছোট বড় হাট গুলো বসে উপজেলার রৌশনহাট বাজার, খাঁনহাট বাজার, বাগিছাহাট বাজার, কাঞ্চননগর বাদামতল বাজার, জামিজুরি, হাশিমপুর, বাদামতল দোহাজারী, পটিয়া থানা হাট,কমলমুন্সির হাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় পেয়ারার হাট বসে।

সেখানে সকাল থেকে চাষিরা পেয়ারা নিয়ে ভিড় জমান। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে পেয়ারা কেনাবেচা। এ হাটগুলো চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী হওয়ায় চট্টগ্রাম নগরী, কক্সবাজার, বান্দরবান, সহ সারা দেশের পর্যটকদের আসা যোগাযোগ পথ সহজ হওয়ার পাইকারি ব্যবসায়ীরা সহজেই পেয়ারা তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে পরিবহন করতে পারেন।

পেয়ারা চাষীরা বলেন সাধারণত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাঞ্চন পেয়ারার মৌসুম হিসেবে পরিচিত। চলতি মৌসুমের শুরু থেকে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ও কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হওয়ার ফলে এ বছর উৎপাদন ভালো হয়েছে। কিন্তু হিমাগারের অভাবে পেয়ারা বেশি দিন সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। এ উপজেলার হাশিমপুর ও কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়নে পেয়ারা বাগানের প্রধান কেন্দ্রস্থল। বর্তমানে বাগানজুড়ে কয়েক হাজার শ্রমিক কাজ করছেন। সরকার যদি আরও আধুনিক কৃষি সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও মধ্যস্বত্বভোগী ব্যতীত সরাসরি পেয়ারা বাজারজাতকরণে সহায়তা করলে একদিকে যেমন চাষিরা উপকৃত হবে অন্যদিকে এ অঞ্চলের পেয়ারা আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিচিতি লাভ করবে। কাঞ্চন পেয়ারা আকারে বড়, সুস্বাদু ও সহজে নষ্ট হয় না। অন্যান্য জাতের পেয়ারার চেয়ে কাঞ্চন পেয়ারার চাহিদা বেশি। আমরা প্রতি মৌসুমে এখান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করে বিভিন্ন জেলার ফলের আড়তে পাঠাই। মাসখানেক আগে থেকে কাঞ্চন পেয়ারা বাজার আসতে শুরু করেছে তাই এখন দাম একটু বেশি। তবে কিছুদিন পার হলে দাম কিছুটা কমে আসবে।

চন্দনাইশের বিভিন্ন সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলে দেড় সহস্রাধিক বাগানে পেয়ারা চাষ হয়। এখানকার উৎপাদিত কাঞ্চন পেয়ারার সুখ্যাতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের জীবিকা ও অর্থনীতির জন্য কাঞ্চন পেয়ারা আশীর্বাদস্বরূপ। সঠিক পরিকল্পনা, আধুনিক কৃষিব্যবস্থাপনা ও সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে পেয়ারা বাংলাদেশের একটি অন্যতম কৃষিপণ্যে পরিণত হতে পারে।

চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আজাদ হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে উপজেলাজুড়ে কাঞ্চন পেয়ারার ফলন ভালো হয়েছে। পেয়ারা বাগানে রোগবালাই দমন ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে চাষিদের সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ