আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের দাবি।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

‘মানসম্মত হেলমেট ও নিরাপদ গতি, কমবে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি’প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার ৯ম বারের মতো জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উযদাপিত হয়ে আসেছে। দিবসটি পালন উপলক্ষে চট্টগ্রামে বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন স্টেপস টুয়ার্ডস ডেভেলপমেন্ট, পলিসি ইনফ্লুয়েন্স গ্রুপ-চট্টগ্রাম ও ক্যাব চট্টগ্রামের উ্দ্েযাগে নগরীর জামাল খান প্রেস ক্লাব চত্ত্বরে মানববন্ধন ও গণজমায়েতের আয়োজন করা হয়। পলিসি ইনফ্লুয়েন্স গ্রুপ চট্টগ্রামের সভাপতি ও বিশিষ্ট কলামিস্ট মুহাম্মদ মুসা খানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ও দৈনিক পূর্বদেশের বার্তা প্রধান আবু মোশারফ রাসেলের সঞ্চালনায় সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, বিশিষ্ট নারী নেত্রী ও ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও ক্যাব চট্টগ্রামের সহ-সভাপতি এম নাসিরুল হক, ক্যাব বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, রাজনীতিবিদ মিটুল দাস গুপ্ত, বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী রোটারিয়ান এস এম আজিজ, অপকার নির্বাহেী পরিচালক মোঃ আলমগীর,

জাতীয়তাবাদী মহিলা দল চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সাধারন সম্পাদক লায়লা ইয়াসমিন, অপরাজেয় বাংলাদেশ এর বিভাগীয় সমন্বয়কারী জিনাত আরা বেগম, পার্কের নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম মান্না, বোয়ালখালী উপজেলা চেয়ারম্যান সমিতির সাবেক সভাপতি নুর মোহাম্মদ চেয়ারম্যান, সাংবাদিক কমল চক্রবর্তী, ক্যাব সীতাকুন্ডের সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন অনিক, এডাব চট্টগ্রামের বিভাগীয় সমন্বয়কারী মোঃ ফোরকান, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্মদ জানে আলম, ক্যাব সদরঘাটের সভাপতি মোহাম্মদ শাহীন চৌধুরী, ক্যাব পাচলাইশের মাজেদ ভাষানী, যুব ক্যাব কর্নফুলী উপজেলা সভাপতি আরফিন সুমন, যুব ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ন সম্পাদক আমজাদুল হক আয়াজ, সদস্য মোঃ সালমান রশীদ, সমাজকর্মী, মুজিব উল্লাহ তুষার, অধিকার চট্টগ্রামের সমন্বয়ক সাংবাদিক ওসমান জাহাঙ্গীর প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তরা বলেন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হলে সড়কের সাথে জড়িত সকল স্টেকহোল্ডারকে সম্মিলিতভাবে কাজ কতে হবে। সড়কে দুর্ঘটনার জন্য চালক ও হেলপার একা দায়ী নয়। এর সাথে যাত্রী, সড়কের অবকাঠামো, ফুটপাত দখল ও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা দরকার। আইন প্রয়োগে ক্ষমতাসীন দল ও বড়লোকদের প্রতি আইনের আওতায় আনতে অনীহা ও বিমাতাসুলভ আচরন আইন মানতে সর্বসাধারণের অনাগ্রহী দায়ী।

বক্তরা আরও বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র একা সড়কে দখল ও ফুটপাত উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করছেন। কিন্তু সিটিকরপোরেশনের প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সিডিএ ও বিআরটিএসহ অন্যরা সেখানেই নাই। সেকারণে সকালে হকার উচ্ছেদ হলেও বিকালে আবার বসে যাচ্ছেন। ফলে যে লাউ সেউ কদু। পুরো চট্টগ্রাম নগরী যানজটের নগরীরতে পরিনত হলেও বিআরটিএ ও সিএমপি’র কোন মাথা ব্যাথা নাই। সড়কে প্রতিদিন শুধু চট্টগ্রামে বিপুল প্রাণহাণি ঘটলেও কারো কোন উদ্বেগ আছে, সেরকম দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। নগরীর নতুন ব্রীজ, কর্নেলহাট, বহদ্দারহাট, বিমানবন্দর সড়ক, হালিশহর, দেওয়ানহাটসহ অনেক এলাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে লেগে আছে। ট্রাফিক বিভাগ এখানে পুরোপুরি নিস্কৃয়। শ্রমিক সংগঠনগুলো আগের মতো নতুন মোড়কে চাঁদা আদায়ে ব্যস্ত। সরকার পরিবর্তন হলেও ব্যবস্থা সেই আগের মতো।

বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সিস্টেম পরিবর্তন না হলে বাংলাদেশ ঠিক আগের অবস্থানেই থেকে যাবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আমুল পরিবর্তন করতে হবে। যাত্রীদেরকে ট্রাফিক আইন কানুণ জানাতে হবে। একই সাথে ট্রাফিক আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় না নিয়ে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। মোটরসাইকেলের চালকদের হেলমেট পরা নিশ্চিত ও আইনের কঠোর প্রতিপালনের বিষয়ে আরও কঠোর হবার বিকল্প নাই। প্রয়োজনে এসমস্ত চালকদের সাথে সচেতনতামুলক কার্যক্রম গ্রহন করতে হবে। একটি দুর্ঘটনা শুধু সাধারণ ঘটনা নয়, সারা জীবনের কান্না। তাই যে কোন দুর্ঘটনাকে সামান্য বলে চালিয়ে না দিয়ে দূর্ঘটনা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, রোড ক্র্যাশ বা সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হচ্ছে বেপরোয়া বা অনিয়ন্ত্রিত গতিতে গাড়ি চালানো এবং মোটরসাইকেল চালানোর সময় হেলমেট ব্যবহার না করা। তাই ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ পরিহার করলে রোড ক্র্যাশের সম্ভাবনাও কমে যাবে। নিরাপদ বা নিয়ন্ত্রিত গতিই পারে সড়কে চলাচলরত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। সেইসঙ্গে সঠিক ও মানসম্মত হেলমেট-এর ব্যবহার মোটর সাইকেল চালক ও আরোহীর পথচলাকেও নিরাপদ করে তুলতে পারে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ