আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

বোয়ালখালী শাকপুরায় ট্রাক-কাভার্ড ভ্যানের দাপট, অতিষ্ঠ জনজীবন।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা এলাকায় দিনরাত চলাচল করা ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানের কারণে এলাকাটি এখন যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে। শাকপুরার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান, গুদাম ও কোম্পানির মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য বড় বড় যানবাহন যেকোনো সময় রাস্তায় নামায়, যার ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সকাল-বিকাল তো বটেই, গভীর রাতেও এসব ভারী যানবাহন চলাচল করায় ঘুম হারাম হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকায় নিত্যদিন শতাধিক ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান যাতায়াত করে। সরু রাস্তা, ফুটপাত দখল ও ট্রাক দাঁড় করিয়ে মালামাল উঠানামার কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয় স্কুলগামী শিশু, অফিসগামী মানুষ ও জরুরি রোগীবাহী গাড়িকে। এতে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।অভিযোগ রয়েছে, কিছু কোম্পানি ও ট্রাক চালক প্রশাসনের নজরদারি উপেক্ষা করে অনিয়মিত সময়েও মালামাল পরিবহন করে। রাস্তার পাশে অবৈধ পার্কিং ও ট্রাক টার্মিনালের অভাবও যানজটের অন্যতম কারণ।

এ অবস্থায় এলাকাবাসীর দাবি—শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহনের নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ, ট্রাকের রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে চলাচল সীমিত রাখা, এবং বিকল্প রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া। নইলে শাকপুরার জনজীবন আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।এই বিষয় নিয়ে বোয়ালখালী সচেতন নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক এম. আবুল ফয়েজ মামুন-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, শাকপুরা এলাকার দীর্ঘদিনের যানজট এখন জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বিশেষ করে এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন শিল্প-কারখানা ও কোম্পানির ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও ভারী যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচলের কারণে সকাল-বিকেল তো বটেই, রাতের বেলাতেও রাস্তায় নাকাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগী সবাইকে প্রতিদিন এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এটি কেবল প্রশাসনিক অবহেলা নয়, এটি নাগরিক জীবনের প্রতি উদাসীনতার প্রতিফলন। এমন একটি এলাকায় যেখানে হাজারো মানুষ কর্মস্থল ও বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে, সেখানে প্রশাসনের পরিকল্পনাহীনতা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা মেনে নেওয়া যায় না।ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও সড়ক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ের অভাবের কারণে শাকপুরার এই যানজট আজ একটি স্থায়ী সমস্যায় রূপ নিয়েছে। কিছু কোম্পানির স্বার্থে পুরো এলাকার মানুষকে কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে এটি কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। জনগণের ভোগান্তি লাঘবের স্বার্থে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে গণআন্দোলনের মুখোমুখি হতে হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, রেল ষ্টেশন-টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদের সাতদিনের ছুটিকে কেন্দ্র পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ বাগাভাগি করতে বন্দরনগরী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। মহানগরের বাস টার্মিনালগুলো ও রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বুধবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। এছাড়া ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে চট্টগ্রাম অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নগরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। যানজটহীন স্বস্তিতে গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়েও আমরা তদারকি করছি।

বুধবার মহানগরের কদমতলী, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ জিইসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা পর সকালে ছেড়ে যাওয়া ফিরতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কেউ কেউ। যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে গাড়ির সংকট দেখা গেছে। তবে কাউন্টার বসে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীরা বলছেন, কোনও ভোগান্তি নেই। তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। অন্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তাই স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ