আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ভিন্ন চাষে স্বপ্ন দেখেন, সফল এক কৃষক অভিজিত কুমার দে।

অনিরুদ্ধ অপু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা–কদমতলী ইউনিয়নের পূর্ব কদমতলী গ্রামের বাসিন্দা অভিজিত কুমার দে। সবার কাছে পরিচিত তিনি অনিরুদ্ধ অপু নামে। পেশায় একজন সফল সাংবাদিক। তার শখের পেশা ও গবেষণা হচ্ছে কৃষি বিপ্লব। কৃষিই তার প্রযুক্তি ও সফলতা ধরে রাখতে নিরলজ কাজ করা তাঁর নেশা।
দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে কৃষির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তিনি। প্রচলিত চাষের ধারার বদলে নতুন কিছু করার আগ্রহই তাকে আজ এই অঞ্চলের অন্যতম সফল চাষীতে পরিণত করেছে।

বিভিন্ন প্রকল্পে অংশ নিয়ে উচ্চমূল্যের ও মৌসুমি ফসলের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে রূপান্তরিত কৃষিকাজে ঝুকিতে।
তিনি আরো বলেন, ইতিপূর্বের ট্রেনিং গুলো তাকে অনুপ্রানীত করেছে। নতুন ভাবে তার চোখকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তিনি তার দেখা অনেক কিছু আবিস্কার করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু এই নতুন জাত সফলভাবে চাষাবাদ করে এবং এলাকায় সাধারন কৃষকদের মন জয় করে নতুন দিগন্তের সুচনা করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তার এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল জেলায়, উপজেলায়, গ্রামে গ্রামে, প্রত্যেক বা প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিটি গঞ্জে গঞ্জে পৌছাতে হবে। যাতে করে সকল কৃষক এই পদ্ধতিতে চাষ করে তার পদ্বতি অনুসরণ করে সফলতা পান এঠাই তার পথ নিদ্দর্শক।

গতানুগতিক চাষাবাদ বাদ দিয়েছি অনেক আগে। বর্তমানে তিনি ৫০ শতক জমিতে কৃষিকাজ করছেন। ৫০ শতাংশ জমি চাষ করর এবার তার উৎপাদন হয়েছে ৪৫ মণ ধান। যা প্রচলিত চাষের তুলনায় দ্বিগুন বা অসাধারন ফলন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি ধীরে ধীরে সবজি, উন্নত জাত এবং নতুন প্রযুক্তির চাষ শুরু করেন। ধাপে ধাপে আসতে থাকে তার সবজি চাষে অনেক সাফল্য, বাড়তে থাকে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস।

২০২৪ সালে মাত্র ৪ শতক জমিতে পরীক্ষা মূলকভাবে তিনি নতুন একটি ধানের জাত চাষ করেন। ফলন আশানুরূপ হওয়ায় ২০২৫ সালে তিনি আবার আমন মৌসুমেও রোপণ করেন সেই জাতটি। কিন্তু দেখা গেল এবারও তার ফলন আরও গত বারের চেয়ে আরও বেশি হয়।

সাংবাদিক ও কৃষক অভিজিত কুমার দে অপু আরো বলেন,“সঠিক ট্রেনিং, পরিশ্রম আর নিষ্ঠা থাকলে যে কোনো কৃষি কাজেই সফলতা আসবেই। যদি একবার সফল হও, পরবর্তীতে আর পেছনে তাকাতে হবেন।

বর্তমানে তার নতুন ধানের জাতের নমুনাটি উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে জাত নিণর্য়ের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে গবেষণার জন্য। তবে এই নতুন ধানটির নাম “লোকমান’ রাখার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক অভিজিত কুমার দে তথা অনিরুদ্ধ অপু।

চন্দ্রঘোনা কৃষি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুল হামিদ অভিজিত কুমার দে সম্পর্কে বলেন,“অভিজিত কুমার দে তথা সাংবাদিক অনিরুদ্ধ অপু, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি অনন্য উদাহরণ।
তিনি নিয়মিত কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ নেন। তিনি বিভিন্ন সময় নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করেন নিজ থেকে এবং নিজের জমিতে সাহসীভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান।
তার চাষাবাদ করা নতুন ধানের জাত যদি ব্রি অনুমোদন পায়, এটা হবে রাঙ্গুনিয়ার কৃষিতে বড় অর্জন।

সাংবাদিক অপু বা অভিজিত কুমার দে অপু আরো বলেন, অভিজিত কুমার দে এর মতো কৃষকরা অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছেন। তার কাজ দেখে অনেকেই নতুন জাত ও আধুনিক চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, অভিজিত কুমার দে তথা সাংবাদিক অনিরুদ্ধ অপুর নতুন জাতের ধান নিয়ে আরো বেশি গবেষণা, আরো বেশি ট্রায়াল করা দরকার আছে। তবে তার মধ্যে যেই আধুনিক চাষাবাদের নতুন নতুন চিন্তা গুলো কাজে লাগালে আগামীতে কৃষির সফলতা অবশ্যই আসবেই। এই প্রসঙ্গে অভিজিত কুমার দে অপু বলেন, একসময় নিজে নিজের স্বপ্ন দেখতাম। আর এখন অন্যদের স্বপ্ন দেখাতে ভালো লাগছে। আমার সাফল্য দেখে এখন অনেকে আমাকে অনুসরণ করছে এবং নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করেছেন, এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।

আধুনিক প্রযুক্তি, সাহসী পরীক্ষা–নিরীক্ষা এবং অক্লান্ত পরিশ্রম—এই তিন শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে একজন সাধারণ কৃষক আজ হয়ে উঠেছেন পুরো অঞ্চলের অনুপ্রেরণা।
আর এটাই প্রমান করে দিয়েছেন একমাত্র সাংবাদিক ও সফল কৃষক অভিজিত কুমার দে প্রকাশ অনিরুদ্ধ অপু। তিনি আরো বলেন, নতুন চিন্তা আর নিষ্ঠা থাকলে কৃষিই পারে এক জীবনের গল্প বদলে দিতে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ