আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

ভিন্ন চাষে স্বপ্ন দেখেন, সফল এক কৃষক অভিজিত কুমার দে।

অনিরুদ্ধ অপু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা–কদমতলী ইউনিয়নের পূর্ব কদমতলী গ্রামের বাসিন্দা অভিজিত কুমার দে। সবার কাছে পরিচিত তিনি অনিরুদ্ধ অপু নামে। পেশায় একজন সফল সাংবাদিক। তার শখের পেশা ও গবেষণা হচ্ছে কৃষি বিপ্লব। কৃষিই তার প্রযুক্তি ও সফলতা ধরে রাখতে নিরলজ কাজ করা তাঁর নেশা।
দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে কৃষির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তিনি। প্রচলিত চাষের ধারার বদলে নতুন কিছু করার আগ্রহই তাকে আজ এই অঞ্চলের অন্যতম সফল চাষীতে পরিণত করেছে।

বিভিন্ন প্রকল্পে অংশ নিয়ে উচ্চমূল্যের ও মৌসুমি ফসলের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে অনুপ্রাণিত করেছে রূপান্তরিত কৃষিকাজে ঝুকিতে।
তিনি আরো বলেন, ইতিপূর্বের ট্রেনিং গুলো তাকে অনুপ্রানীত করেছে। নতুন ভাবে তার চোখকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তিনি তার দেখা অনেক কিছু আবিস্কার করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু এই নতুন জাত সফলভাবে চাষাবাদ করে এবং এলাকায় সাধারন কৃষকদের মন জয় করে নতুন দিগন্তের সুচনা করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তার এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের সকল জেলায়, উপজেলায়, গ্রামে গ্রামে, প্রত্যেক বা প্রতিটি অঞ্চলের প্রতিটি গঞ্জে গঞ্জে পৌছাতে হবে। যাতে করে সকল কৃষক এই পদ্ধতিতে চাষ করে তার পদ্বতি অনুসরণ করে সফলতা পান এঠাই তার পথ নিদ্দর্শক।

গতানুগতিক চাষাবাদ বাদ দিয়েছি অনেক আগে। বর্তমানে তিনি ৫০ শতক জমিতে কৃষিকাজ করছেন। ৫০ শতাংশ জমি চাষ করর এবার তার উৎপাদন হয়েছে ৪৫ মণ ধান। যা প্রচলিত চাষের তুলনায় দ্বিগুন বা অসাধারন ফলন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে তিনি ধীরে ধীরে সবজি, উন্নত জাত এবং নতুন প্রযুক্তির চাষ শুরু করেন। ধাপে ধাপে আসতে থাকে তার সবজি চাষে অনেক সাফল্য, বাড়তে থাকে নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস।

২০২৪ সালে মাত্র ৪ শতক জমিতে পরীক্ষা মূলকভাবে তিনি নতুন একটি ধানের জাত চাষ করেন। ফলন আশানুরূপ হওয়ায় ২০২৫ সালে তিনি আবার আমন মৌসুমেও রোপণ করেন সেই জাতটি। কিন্তু দেখা গেল এবারও তার ফলন আরও গত বারের চেয়ে আরও বেশি হয়।

সাংবাদিক ও কৃষক অভিজিত কুমার দে অপু আরো বলেন,“সঠিক ট্রেনিং, পরিশ্রম আর নিষ্ঠা থাকলে যে কোনো কৃষি কাজেই সফলতা আসবেই। যদি একবার সফল হও, পরবর্তীতে আর পেছনে তাকাতে হবেন।

বর্তমানে তার নতুন ধানের জাতের নমুনাটি উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে জাত নিণর্য়ের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে গবেষণার জন্য। তবে এই নতুন ধানটির নাম “লোকমান’ রাখার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক অভিজিত কুমার দে তথা অনিরুদ্ধ অপু।

চন্দ্রঘোনা কৃষি ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নুরুল হামিদ অভিজিত কুমার দে সম্পর্কে বলেন,“অভিজিত কুমার দে তথা সাংবাদিক অনিরুদ্ধ অপু, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি অনন্য উদাহরণ।
তিনি নিয়মিত কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত পরামর্শ নেন। তিনি বিভিন্ন সময় নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করেন নিজ থেকে এবং নিজের জমিতে সাহসীভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালান।
তার চাষাবাদ করা নতুন ধানের জাত যদি ব্রি অনুমোদন পায়, এটা হবে রাঙ্গুনিয়ার কৃষিতে বড় অর্জন।

সাংবাদিক অপু বা অভিজিত কুমার দে অপু আরো বলেন, অভিজিত কুমার দে এর মতো কৃষকরা অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছেন। তার কাজ দেখে অনেকেই নতুন জাত ও আধুনিক চাষাবাদে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, অভিজিত কুমার দে তথা সাংবাদিক অনিরুদ্ধ অপুর নতুন জাতের ধান নিয়ে আরো বেশি গবেষণা, আরো বেশি ট্রায়াল করা দরকার আছে। তবে তার মধ্যে যেই আধুনিক চাষাবাদের নতুন নতুন চিন্তা গুলো কাজে লাগালে আগামীতে কৃষির সফলতা অবশ্যই আসবেই। এই প্রসঙ্গে অভিজিত কুমার দে অপু বলেন, একসময় নিজে নিজের স্বপ্ন দেখতাম। আর এখন অন্যদের স্বপ্ন দেখাতে ভালো লাগছে। আমার সাফল্য দেখে এখন অনেকে আমাকে অনুসরণ করছে এবং নতুনভাবে চাষাবাদ শুরু করেছেন, এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।

আধুনিক প্রযুক্তি, সাহসী পরীক্ষা–নিরীক্ষা এবং অক্লান্ত পরিশ্রম—এই তিন শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে একজন সাধারণ কৃষক আজ হয়ে উঠেছেন পুরো অঞ্চলের অনুপ্রেরণা।
আর এটাই প্রমান করে দিয়েছেন একমাত্র সাংবাদিক ও সফল কৃষক অভিজিত কুমার দে প্রকাশ অনিরুদ্ধ অপু। তিনি আরো বলেন, নতুন চিন্তা আর নিষ্ঠা থাকলে কৃষিই পারে এক জীবনের গল্প বদলে দিতে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় জরিমানা গুনল ৪ বাস কাউন্টার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ঠেকাতে এ অভিযান চালানো হয়। সোমবার মহানগরীর গরিবুল্লাশাহ মাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন তীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ। অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, মাহমুদা আক্তার ও রানা দেবনাথ।

মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, গরীবুল্লাহশাহ মাজার এলাকায় বাস কাউন্টারগুলোতে অভিযান চালিয়েছি। এসময় ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন না করায় সেন্টমার্টিন পরিবহনেকে ৫ হাজার টাকা, রিলাক্স পরিবহনকে ৩ হাজার, দেশ ট্রাভেলস ৩ হাজার ও রয়েল মত্রি সার্ভিসকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঈদে যাতে কেউ অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে না পারে সে লক্ষ্যে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

সিএমপির নতুন কমিশনার মো. শওকত আলী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিআইজি হাসান মো. শওকত আলী।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়।প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) হাসান মো. শওকত আলীকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজকে অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়েছে।বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী কমিশনার (সদর), অতিরিক্ত দায়িত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ।

এছাড়া বিশেষ শাখা (এসবি) ঢাকার ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হিসেবে বদলি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশকে সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি দিয়ে মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজিপি) হিসেবে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নে (র‌্যাব) পদায়ন করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ