আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

পূর্ব রেলের সরঞ্জাম দপ্তর নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন কাল্পনিক ও ভুয়া

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম জুয়েলের প্রতিবাদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম: পূর্ব রেলওয়ের পাহাড়তলীস্থ সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক (সিসিএস) দপ্তরের সহকারী কর্মকর্তা (এএও) পদে কর্মরত আমিনুল ইসলাম জুয়েল সম্প্রতি প্রকাশিত “সরঞ্জাম ক্রয়ে জোচ্চুরি” শিরোনামের সংবাদকে সম্পূর্ণ ভুয়া, ভিত্তিহীন ও মনগড়া দাবি করেছেন। তিনি বলেন, সংবাদটি শুধু তার ব্যক্তিগত সম্মানহানি নয়, সরকারি দপ্তরের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচেষ্টা।

জুয়েল জানিয়েছেন, তার কর্মস্থল জেনারেল শাখা, যেখানে কোনো বড় ধরনের সরঞ্জাম ক্রয়, টেন্ডার বা মালামাল সরবরাহ হয় না। তিনি বলেন— “আমার দপ্তর থেকে কোনো বড়সর ক্রয় হয় না। মাসিক ইনপ্রেস বরাদ্দ দিয়ে শুধু নিত্যপ্রয়োজনীয় অফিস সামগ্রী কেনা হয়—কলম, পেন্সিল, কলিং বেল, পত্রিকার বিল, ব্যাটারি, সাবান, সিলের স্ট্যাপলার পিন, বিভিন্ন ফুল–ছলা ঝাড়ু ইত্যাদি। এর বাইরে কোনো সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রশ্নই আসে না।”

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুয়েলের বিরুদ্ধে “এক বছরের অনিয়ম” রয়েছে। কিন্তু তিনি যোগদান করেছেন মাত্র ৬ মাস আগে। জুয়েল প্রশ্ন তুলেছেন—“আমি তখন দপ্তরে ছিলামই না। এই সময়ের অনিয়ম আমাকে কীভাবে চাপানো হলো? এটি স্পষ্টভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য।”

জুয়েল আরও জানান, যাচাই–বাছাই ছাড়া এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব লঙ্ঘন। তিনি বলেন—“সাংবাদিকরা জাতির বিবেক। তারা চাইলে কাউকে সম্মানিত করতে পারেন, আবার ভুল তথ্য দিয়ে অসন্মানও করতে পারেন। ব্যক্তিগত স্বার্থে মনগড়া তথ্য ছড়ানো গণমাধ্যমের জন্য হুমকিস্বরূপ। এটি শুধু ব্যক্তিকে নয়, পুরো সরকারি দপ্তরকে অস্থির করে তোলে। প্রয়োজনে আমি আইনি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।”

প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, প্রধান সহকারী জগদীশ চাকমা নাকি সাংবাদিকের সামনে ঘুষের টাকা জুয়েলের কাছে বুঝিয়ে দেন। জুয়েল কিছুই না জানার ভান করেন এবং পরে টাকা টেবিলে রেখে জগদীশ চলে যান।

এই বিষয়ে জগদীশ চাকমা সাংবাদিকদের বলেন— “আমি ২০ নভেম্বর চট্টগ্রাম সিআরবি সোনালী ব্যাংক থেকে ৪,৫৩৭ টাকা উত্তোলন করে নিয়ম অনুযায়ী সহকারী কর্মকর্তা জুয়েলের কাছে হস্তান্তর করেছি। এটিকে ঘুষ হিসেবে প্রচার করা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও দু:খজনক। এগুলো অফিসের টাকা, ইনপ্রেস বিলের নিয়মিত বরাদ্দের অংশ।”

তিনি আরও বলেন, সংবাদে ঘটনাটি যেমন দেখানো হয়েছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সরকারি দপ্তরের সুনাম ক্ষুণ্ণ করার প্রচেষ্টা।যাচাই–বাছাইয়ে দেখা গেছে, যেসব স্টক–রেকর্ড ও রিক্যুইজিশন ফাইলের উল্লেখ রয়েছে, তা বড় ক্রয় নয়, বরং নিত্যপ্রয়োজনীয় ইনপ্রেস সামগ্রীর হিসাব। যেহেতু জুয়েল এই পদে মাত্র ছয় মাস কর্মরত, তাই এক বছরের অনিয়মের অভিযোগ তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

পূর্ব রেলের সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জুয়েল জোর দিয়ে বলেছেন— আমি নির্দোষ। সত্য যাচাই করলেই প্রমাণিত হবে—সংবাদটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন।উভয় কর্মকর্তা—জুয়েল ও জগদীশ চাকমা—সংবাদটিকে মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উল্লেখ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীলভাবে সত্য যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানাচ্ছেন।

এদিকে, সূত্রে জানা গেছে, এর আগে পাহাড়তলীতে অবস্থিত রেলওয়ের বিভাগীয় ভুসম্পত্তি দপ্তরে এএও হিসেবে কর্মরত অবস্থায় জুয়েল লীজের নামে রেলের জায়গা বেচে খাওয়ার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর দৈনিক ঈশান-এর অনলাইন ও প্রিন্ট ভার্সনে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই ঘটনার তদন্ত শেষে রেলওয়ে ভুসম্পত্তি দপ্তর থেকে তাকে ওএসডি করা হয়। পরে তাকে পাহাড়তলীতে অবস্থিত সিসিএস দপ্তরের জেনারেল সেকশনে এএও পদে পদায়ন করা হয়।

জুয়েল বলেন, সংবাদে তাকে পুনরায় ওএসডি বা অতীতে ঘটানো অন্য কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দেখানো সম্পূর্ণ মনগড়া এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই ধরনের কোনো ঘটনা আমার চাকরি জীবনে ঘটেনি। তিনি জানিয়েছেন, এটি সরকারি দপ্তরের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যপূর্ণ প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছু নয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ