আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে, সতর্ক থাকার আহ্বান -ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুল।

রেজাউল ইসলাম মাসুদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে, এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানবকল্যাণ পরিষদে আয়োজিত আলেম-ওলামাদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন খুবি গুরুত্বপূর্ণ, এই নির্বাচনকে ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে এবং বানচাল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটা যেন করতে না পারে সেদিকেও আপনাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ এখন একটা ক্রান্তিকালের মধ্যে পার হচ্ছে, বিভিন্ন রকম কথাবার্তা উঠছে-বিভ্রান্ত সৃষ্টি হচ্ছে- আন্দোলন হচ্ছে; কেন জানিনা মনে হচ্ছে- দেশকে অস্থির করে তোলার জন্য কিছু মানুষ পেছন থেকে কাজ করছে। আমাদের এই সময়টাতে খুব সাবধান থাকতে হবে। আমরা যেন আবার কোন অন্ধকারের দিকে চলে না যাই।

আপনাদের সাবধান থাকতে হবে- ভুল করে নিজেদের মধ্যে বিভেদ-অনৈক্য সৃষ্টি করে সে সমন্ত চক্রান্তকারীদের হাতে না পারি, যেখানে আমাদের দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে- আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো।

তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্কে অনেকে অনেক কথা বলে, ভুল বোঝানোর চেষ্টা করে; কিন্তু আমরা একটা কথা পরিস্কার করে বলতে চাই- আমরা এই দেশের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ আমরা মুসলমান, আমাদের ধর্ম বোদ, আমাদের কৃষি ও সংস্কৃতিকে রক্ষা করার জন্য এখানে আমরাই সবথেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির অঙ্গিকার কুরআন-সুন্নাহর বাইরে কোন আইন আমরা করতে দিবো না। কিন্তু কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে, আমরা নাকি কুরআন সুন্নার আলোকে থাকতে চাই না। কিন্তু আমরা সবসময় কোরআন-সুন্নাহর পক্ষে ছিলাম ও আছি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে বিভিন্ন আইন পাশ করেছিল, মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। আলেম-ওলামাদের জঙ্গি বলে ভয়ভীতি দেখানো হতো, ধরে নিয়ে যাওয়া হতো। সেই সময় আমরা পেরিয়ে এসেছি। এখন সময় এসেছে নতুন করে দেশ গড়ার।

এটাই শেষ নির্বাচন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এই নির্বাচনটাই আমার শেষ নির্বাচন, বয়স হয়ে গেছে, এরপরে আর নির্বাচন করা সম্ভব হবে কিনা তা জানিনা। আমি আপনাদের কাছে এইটুকু অনুরোধ করতে চাই- আপনারা যদি মনে করেন অতীতে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি, এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করতে পেরেছি তাহলে আপনারা দয়াকরে আমাদের সাহায্য ও সহযোগিতা করবেন। এর পাশাপাশি আমার জন্য দোয়া করবেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন। এছাড়াও সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা এবং আগামী দিনের করণীয় বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়।

সভায় ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলার বিভিন্ন আলেম-ওলামা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ