এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাউজানে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও একের পর এক হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী। তবে একই সঙ্গে তিনি সীমান্তের ওপার থেকে অবৈধ অস্ত্র প্রবাহ এবং প্রশাসনের ভেতরে ফ্যাসিবাদী মানসিকতার অনুসারীদের সক্রিয়তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।৯ (জানুয়ারি) শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের গণি বেকারি এলাকার গুডস হিলের বাসভবনে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, “রাউজানে সাম্প্রতিক সময়ে যে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগজনক। তবে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমরা আশাবাদী। নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আসন্ন নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হবে।”
তিনি বলেন, জনগণ দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এবার মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবে বলেই বিএনপি আশাবাদী।
বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, দেশের কিছু সীমান্ত এলাকা দিয়ে এখনও অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে, যা রাউজানসহ বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তার ভাষায়, “সীমান্তের ওপার থেকে অস্ত্র আসছে—এটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। এসব অস্ত্র দিয়ে পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে একটি মহল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।” তিনি অবিলম্বে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং অস্ত্র চোরাচালানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, আওয়ামী শাসনামলে সুবিধাভোগী একটি গোষ্ঠী এখনও প্রশাসনের ভেতরে সক্রিয় রয়েছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় অন্তরায়।
তিনি বলেন, “প্রশাসনের ভেতরে এখনও ফ্যাসিবাদের অনুসারীরা ঘাপটি মেরে আছে। তারা সুযোগ পেলেই অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করছে। এদের চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণ না করলে গণতন্ত্রের পথ মসৃণ হবে না।”
মতবিনিময়কালে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনকে শতভাগ নিরপেক্ষ ও পেশাদার ভূমিকা পালন করতে হবে।
তার মতে, “নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত হলেই জনগণ নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে।”
শেষে তিনি রাউজানবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সহিংসতা নয়—গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চার মধ্য দিয়েই সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি বলেন, “রাউজান শান্তিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”










