আজঃ মঙ্গলবার ২৪ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম-৮ আসন জামায়াত-এনসিপির সমঝোতা হয়নি, খালি মাঠে গোল দেবেন বিএনপি প্রার্থী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আসনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনে একমাত্র ‘জুলাই আন্দোলনকারী’ তরুণদের দল এনসিপির প্রার্থী আছে। কিন্তু ওই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। কিন্তু প্রত্যাহারের শেষদিনে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী সংবাদ সম্মেলন করে তাদের প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে ঘোষণা দেয়। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’র সমঝোতা অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ) আসনটি পেয়েছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

এর পর গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের হাতে শাপলাকলি প্রতীক তুলে দিয়ে তাকে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করে দেন। কিন্তু ভোটের আগমুহূর্তে হঠাৎ করেই জামায়াত নেতা আবু নাছের গত তিনদিন ধরে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে গেছেন। নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন, গণসংযোগ, পথসভা, কবর জিয়ারতসহ আরও নানাভাবে শুরু করেছেন প্রচার।এতে নতুন দল এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ কার্যত নির্বাচনের মাঠে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

এ অবস্থায় দলটির হতাশ ও ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতের প্রার্থীর সমালোচনায় সরব হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি প্রার্থীর এই ‘রশি টানাটানিতে’ বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। স্থানীয় ভোটারদের মতে, শুরুতে প্রচারের মধ্য দিয়ে জোরালো অবস্থান তৈরি হলেও মাঝপথে এসে প্রার্থী হওয়া নিয়ে দোলাচলে পিছিয়ে গেছেন আবু নাছের। এতে এরশাদ উল্লাহ অনেকটা খালি মাঠে গোল দেবেন বলে ধারণা ভোটারদের।

মহানগরীর উপকণ্ঠে বোয়ালখালী উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপি ছাড়াও এখানে তিনজন প্রার্থী আছেন। এরা হলেন- ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ এমদাদুল হক (আপেল), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম (হাতপাখা) ও ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান (মোমবাতি)।
ভোটারদের মতে, যথারীতি বিএনপির ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। তবে ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতিও চমক দেখাতে পারে।

চট্টগ্রাম-৮ আসন বরাবরই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান এ আসন থেকেই নির্বাচিত ছিলেন। ২০০৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবশ্য এরশাদ উল্লাহকে এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নৌকার জোয়ারে তিনি টিকতে পারেননি। সেখানে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তির ধারে-কাছেও এতদিন জামায়াতে ইসলামী দৃশ্যমান ছিল না। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ আগেভাগেই মাঠে নেমে যান ডা. আবু নাছের। গত দেড় বছর ধরে ধারাবাহিক সাংগঠনিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তিনি মোটামুটি জামায়াতকে আলোচনায় আনতে সক্ষম হন।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, প্রার্থীদের মধ্যে এরশাদ উল্লাহ, আবু নাছের ও সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান পরিচিত মুখ। চিকিৎসক হিসেবে আবু নাছেরের আলাদা পরিচিতি ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আছে। পক্ষান্তরে এনসিপির জোবাইরুল হাসান আরিফ ভোটের মাঠে নতুন, ভোটারদের কাছে তেমন পরিচিত নন। সৈয়দ মুহাম্মদ হাসানের রাজনৈতিক দল ইসলামী ফ্রন্টের এ আসনে সাংগঠনিক ভিত্তি আছে।

এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও বনেদি পরিবারের সন্তান। নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রমের শুরুতে গতবছরের গত ৩ নভেম্বর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার চালিতাতলী এলাকায় এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা। এ ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে এরশাদ উল্লাহর প্রতি সহানুভূতি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

তবে এরশাদ উল্লাহ নির্বাচনের মাঠ একেবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন দেখছেন না। তিনি বলেন, আমি কাউকে দুর্বল প্রার্থী হিসেবে দেখছি না। ভোট করতে যখন নেমেছি, সব প্রার্থীই আমার কাছে সমান। আর ভোট মানেই চ্যালেঞ্জ। ভোটাররাও এখন অনেক সচেতন। আমি আমার বক্তব্য তুলে ধরছি। অন্য প্রার্থীরা উনাদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। ভোটাররা সবকিছু নির্ধারণ করবেন।
নির্বাচনি প্রচারে এরশাদ উল্লাহকে মূলত ‘বোয়ালখালীর দুঃখ’ হিসেবে খ্যাত কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন, বোয়ালখালীকে একটি উপশহর হিসেবে গড়ে তোলা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামি এলাকা থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর ভোটের মাঠে ফেরা নিয়ে জানতে চাইলে দলটির বোয়ালখালী উপজেলার আমির মোরশেদুল আলম বলেন, এনসিপির জোবাইরুল আমাদের ১১ দলের প্রার্থী। আমরা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সাংগঠনিকভাবে অবশ্যই তার পাশে আছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, জোবাইরুলকে এলাকায় কেউ চেনে না। তার সঙ্গে ১০০-২০০ লোক থাকলেও হতো। কিন্তু নাছেরের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বেশি। তার ব্যক্তিগত ভিত্তি জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তির চেয়েও বেশি। দলমত, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে এলাকার মানুষ তাকে ভালোবাসে।

আমরা তাকে নির্বাচনের মাঠে আসতে নিষেধ করেছিলাম। এজন্য উনি আটদিন বাসা থেকে বের হননি। আমিরে জামায়াতের জনসভায়ও যাননি। তখন এলাকার লোকজন গিয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে আনে। এই লোকগুলো জামায়াত করে না, তাদের আমরা নিয়ন্ত্রণ করব কীভাবে! সাধারণ লোকজন নাছেরকে আবার নির্বাচনের মাঠে টেনে এনেছে।আর জোবাইরুল হাসান আরিফের আশা, জামায়াতে ইসলামীসহ শরিক দলগুলো যদি শক্তভাবে এনসিপির পাশে দাঁড়ায়, তাহলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

অন্যদিকে ডা. আবু নাছের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি নির্মূল, কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন, নদীভাঙন রোধসহ আরও নানা প্রতিশ্রুতি এতদিন যা দিয়ে এসেছিলেন, সেগুলো অব্যাহত রেখেছেন। এনসিপির জোবাইরুল তার মূল প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরছেন কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নকে।

বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামের বাসিন্দা ব্যাংকার ইসমাইল হোসেন বলেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এখানে বিএনপির সাপোর্টার বেশি। তবে নাছেরও একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো প্রার্থী নন। আওয়ামী লীগ যেহেতু নির্বাচন করতে পারছে না, তাদের সমর্থকরা যদি ভোটকেন্দ্রে যান, তাহলে ভোট ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে ভাগ হবে। কিছু ভোট মোমবাতির দিকেও যেতে পারে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বলেছেন-বিএনপি প্রতিশ্রুতি পূরণের রাজনীতি করে। বিএনপি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে কাজ করেছে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া যতবারই দেশ পরিচালনা করেছে ততবারই দেশের মানুষ কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের দেখা পেয়েছে। জিয়া পরিবারের সুুযোগ্য উত্তরসূরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই জনগণের প্রতিশ্রুতি পূরণে দিনরাত পরিশ্রম করছেন।

 

মানুষের যে মৌলিক চাহিদা অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিটি মৌলিক চাহিদা পূরণ করে; দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষ যাতে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে, সে লক্ষ্যেই তিনি কাজ করছেন। নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে তিনি যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছেন তা ধীরে ধীরে বাস্তবে রুপ নিচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, ই হেলথ কার্ড, কৃষক কার্ডের মত কল্যাণমুখী কর্মসূচী বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন ও নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডে মরহুম আব্দুর রাজ্জাক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত “ঈদবস্ত্র বিতরণ” অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ১৫০০ মানুষের মাঝে শাড়ি ও লুঙ্গি বিতরণ করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি জনগণের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি রাজনৈতিক দল। জনগণের জন্য কাজ করা, জনগণের সেবা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য। জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছে, জনগণের কাছে আমরা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চাই।

বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের এমপি-কাউন্সিলররা জনগণের পাশে ছিলনা। জনগণের ভাগ্যন্নোয়নের কথা বলে তারা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে। সে পাচারের টাকায় আওয়ামী লীগের এমপি-মন্ত্রী ও নেতাকর্মীরা এখন বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছে।

৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মো. আবু তালেব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ৩৪নং পাথরঘাটা ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আলহাজ্ব মো. ইসমাঈল বালি, বিশিষ্ট দানবীর ও সমাজ সেবক বাবু দিলীপ মজুমদার, পাথরঘাটা ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মো. শহিদুল হক, আশরাফুল ইসলাম মামুন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শফিকুল আলম, মোহাম্মদ হামিদ, জিয়া সাইবার ফোর্স বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী বাহাউদ্দিন ফারুক মুন্না, কোতোয়ালি থানা তাঁতি দলের যুগ্ম আহবায়ক মো. শেখ আলী মিঠু , প্রবাল কৃষ্ণ, মোহাম্মদ সেলিম, যুবদলের মো. সাইফুল ইসলাম, মো. নাদিম, রিয়াজ, ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক মোহাম্মদ তুহিন,  সদস্য সচিব মো. জসিম, কোতোয়ালী থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মারুফ,  কৃষক দলের সদস্য সচিব মো. হোসেন মোহাম্মদ নাসির প্রমুখ।

নারীদের শক্তিশালী জনসম্পদে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য : প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি বলেছেন, আমাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচীর মধ্যে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন অন্যতম। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। তাদেরকে স্বনির্ভর, আত্মপ্রত্যয় এবং শক্তিশালী জনসম্পদে পরিণত করা বর্তমান সরকারের লক্ষ্য। সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকাকালীন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করে মেয়েদের জন্য এইচ.এস.সি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। এছাড়া নারীদের সার্বিক কল্যাণে তিনি অনেকগুলো কর্মসূচী বাস্তবায়ন করেছিলেন। তাঁরই সুযোগ্য পুত্র বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্সমতায় আসার পর নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করছেন। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও বেগবান করতে প্রত্যেক নারীকে উদ্যেক্তা হিসেবে গড়ে উঠার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারা কাজও শুরু করেছেন।


সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের অদম্য নারী পুরস্কার-২০২৫ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় পর্যায়ে ৩ ক্যাটাগরিতে ৪ জন অদম্য নারীকে ফুল, ক্রেস্ট ও সনদপত্রসহ সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা হচ্ছেন-শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া গ্রামের মোহাম্মদ আবদুল হালিমের মেয়ে আসমা আকতার রুনা, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবন সংগ্রামে জয়ী নারী কুমিল্লা জেলার চান্দিনা উপজেলার নোয়াপাড়া গ্রামের শামসুল ইসলামের মেয়ে শমলা বেগম, সফল জননী নারী ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলার চরমজলিশপুর গ্রামের আমিন আহমদ ভূঁঞার স্ত্রী বেগম তাজকেরা চৌধুরী ও সফল জননী নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার চান্দনপুর পাখাচং গ্রামের আবদুল কাদেরের মেয়ে বিলকিছ বেগম। অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত সফল নারীরা তাদের জীবন-সংগ্রামের স্মৃতিচারণ করেন।

অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বৈরী পরিস্থিতিতে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের সাথে কথা বলে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা মেরামতের লক্ষ্যে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে বিএনপি ৩১ দফা ঘোষনা করেন এবং ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাতির সামনে প্রকাশ করা হয়েছিল। বিএনপি চেয়ারম্যান ও বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনী ইশতেহারে ৩১ দফার ৮টি বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে কাজ শুরু করেছে। তন্মধ্যে অন্যতম হচ্ছে-ফ্যামিলি কার্ড। এটি পাবেন পরিবারের প্রধান নারী। কোন রাজনৈতিক বিবেচনা বা জনপ্রতিনিদিদের মাধ্যমে নয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ তালিকার মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে, যাতে পরবর্তীতে কোন সরকার এটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪টি জেলার ১৪টি ওয়ার্ড/উপজেলার মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের পতেঙ্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর ও বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশের সবক’টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে।

পুরস্কারপ্রাপ্ত অদম্য নারীদের বক্তব্যের আলোকে তিনি বলেন, আজকের অদম্য নারীদের মধ্যে এ পুরস্কার সীমাবদ্ধ নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি গ্রামে-ইউনিয়নে-পৌরসভা-উপজেলা-থানা-নগর ও জেলা পর্যায়ে এটি ছড়িয়ে আছে। বাংলাদেশের প্রতিটি নারী সম্মানের হকদার। বাংলাদেশে যত নারী আছেন তারা কোন না কোন জায়গায় অদম্যতার পরিচয়ে ঠিকে আছেন। অদম্য নারীদের জীবন-যুদ্ধে হার না মানার কাহিনীর ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা দরকার এবং সমাজের অন্যান্য নারীদেরকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। আমরা বাংলাদেশের জন্য কাজ করতে চাই, চট্টগ্রামের জন্য অনেক কিছু করতে চাই, এজন্য সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল আরও বলেন, সংবিধানে সকলের সমান অধিকার। ১৯ কোটি মানুষের দেশে ৪ কোটি মানুষও যদি কর্মক্ষম বা অর্থনীতির বাইরে থাকে তাহলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা কাঙ্খিত উন্নয়ন কোনভাবে সম্ভব নয়। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা উদ্যেক্তা হয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসলে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখবে এবং উন্নত সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারবো।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশকে যদি সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়, সমতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, তাহলে আমাদের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারীদেরকে সাথে নিয়ে পথ চলতে হবে। উন্নত সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়তে নারী-পুরুষের সমতা আনায়ন অত্যন্ত জরুরী।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো.জিয়াউদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অদম্য নারী পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ নাজিমুল হক, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অদম্য নারী পুরস্কার কর্মসূচীর অতিরিক্ত পরিচালক ও কর্মসূচী পরিচাল মোঃ মনির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিচালক (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে নির্বাচিত অদম্য নারীগণ, সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ