চট্টগ্রাম-৮ আসন জামায়াত-এনসিপির সমঝোতা হয়নি, খালি মাঠে গোল দেবেন বিএনপি প্রার্থী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আসনগুলোর মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ আসনে একমাত্র ‘জুলাই আন্দোলনকারী’ তরুণদের দল এনসিপির প্রার্থী আছে। কিন্তু ওই আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. আবু নাছের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেননি। কিন্তু প্রত্যাহারের শেষদিনে চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামী সংবাদ সম্মেলন করে তাদের প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে ঘোষণা দেয়। ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য’র সমঝোতা অনুযায়ী চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর একাংশ) আসনটি পেয়েছিল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

এর পর গত ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে নির্বাচনি জনসভায় জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফের হাতে শাপলাকলি প্রতীক তুলে দিয়ে তাকে ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করে দেন। কিন্তু ভোটের আগমুহূর্তে হঠাৎ করেই জামায়াত নেতা আবু নাছের গত তিনদিন ধরে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে গেছেন। নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন, গণসংযোগ, পথসভা, কবর জিয়ারতসহ আরও নানাভাবে শুরু করেছেন প্রচার।এতে নতুন দল এনসিপির প্রার্থী জোবাইরুল হাসান আরিফ কার্যত নির্বাচনের মাঠে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন।

এ অবস্থায় দলটির হতাশ ও ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জামায়াতের প্রার্থীর সমালোচনায় সরব হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি প্রার্থীর এই ‘রশি টানাটানিতে’ বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। স্থানীয় ভোটারদের মতে, শুরুতে প্রচারের মধ্য দিয়ে জোরালো অবস্থান তৈরি হলেও মাঝপথে এসে প্রার্থী হওয়া নিয়ে দোলাচলে পিছিয়ে গেছেন আবু নাছের। এতে এরশাদ উল্লাহ অনেকটা খালি মাঠে গোল দেবেন বলে ধারণা ভোটারদের।

মহানগরীর উপকণ্ঠে বোয়ালখালী উপজেলা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাঁচটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৮ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৭২৯ জন। বিএনপি-জামায়াত ও এনসিপি ছাড়াও এখানে তিনজন প্রার্থী আছেন। এরা হলেন- ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ এমদাদুল হক (আপেল), ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম (হাতপাখা) ও ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান (মোমবাতি)।
ভোটারদের মতে, যথারীতি বিএনপির ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। তবে ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতিও চমক দেখাতে পারে।

চট্টগ্রাম-৮ আসন বরাবরই বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান এ আসন থেকেই নির্বাচিত ছিলেন। ২০০৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবশ্য এরশাদ উল্লাহকে এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) নৌকার জোয়ারে তিনি টিকতে পারেননি। সেখানে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তির ধারে-কাছেও এতদিন জামায়াতে ইসলামী দৃশ্যমান ছিল না। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ আগেভাগেই মাঠে নেমে যান ডা. আবু নাছের। গত দেড় বছর ধরে ধারাবাহিক সাংগঠনিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে তিনি মোটামুটি জামায়াতকে আলোচনায় আনতে সক্ষম হন।

স্থানীয় ভোটারদের মতে, প্রার্থীদের মধ্যে এরশাদ উল্লাহ, আবু নাছের ও সৈয়দ মুহাম্মদ হাসান পরিচিত মুখ। চিকিৎসক হিসেবে আবু নাছেরের আলাদা পরিচিতি ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আছে। পক্ষান্তরে এনসিপির জোবাইরুল হাসান আরিফ ভোটের মাঠে নতুন, ভোটারদের কাছে তেমন পরিচিত নন। সৈয়দ মুহাম্মদ হাসানের রাজনৈতিক দল ইসলামী ফ্রন্টের এ আসনে সাংগঠনিক ভিত্তি আছে।

এরশাদ উল্লাহ চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও বনেদি পরিবারের সন্তান। নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রমের শুরুতে গতবছরের গত ৩ নভেম্বর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার চালিতাতলী এলাকায় এরশাদ উল্লাহর নির্বাচনি প্রচারে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন বাবলা। এ ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে এরশাদ উল্লাহর প্রতি সহানুভূতি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিমত।

তবে এরশাদ উল্লাহ নির্বাচনের মাঠ একেবারে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন দেখছেন না। তিনি বলেন, আমি কাউকে দুর্বল প্রার্থী হিসেবে দেখছি না। ভোট করতে যখন নেমেছি, সব প্রার্থীই আমার কাছে সমান। আর ভোট মানেই চ্যালেঞ্জ। ভোটাররাও এখন অনেক সচেতন। আমি আমার বক্তব্য তুলে ধরছি। অন্য প্রার্থীরা উনাদের বক্তব্য তুলে ধরছেন। ভোটাররা সবকিছু নির্ধারণ করবেন।
নির্বাচনি প্রচারে এরশাদ উল্লাহকে মূলত ‘বোয়ালখালীর দুঃখ’ হিসেবে খ্যাত কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন, বোয়ালখালীকে একটি উপশহর হিসেবে গড়ে তোলা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, বায়েজিদ বোস্তামি এলাকা থেকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, ভূমি দখল, মাদক নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিতে দেখা যাচ্ছে।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর ভোটের মাঠে ফেরা নিয়ে জানতে চাইলে দলটির বোয়ালখালী উপজেলার আমির মোরশেদুল আলম বলেন, এনসিপির জোবাইরুল আমাদের ১১ দলের প্রার্থী। আমরা জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সাংগঠনিকভাবে অবশ্যই তার পাশে আছি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, জোবাইরুলকে এলাকায় কেউ চেনে না। তার সঙ্গে ১০০-২০০ লোক থাকলেও হতো। কিন্তু নাছেরের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বেশি। তার ব্যক্তিগত ভিত্তি জামায়াতের সাংগঠনিক ভিত্তির চেয়েও বেশি। দলমত, ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে এলাকার মানুষ তাকে ভালোবাসে।

আমরা তাকে নির্বাচনের মাঠে আসতে নিষেধ করেছিলাম। এজন্য উনি আটদিন বাসা থেকে বের হননি। আমিরে জামায়াতের জনসভায়ও যাননি। তখন এলাকার লোকজন গিয়ে তাকে বাসা থেকে বের করে আনে। এই লোকগুলো জামায়াত করে না, তাদের আমরা নিয়ন্ত্রণ করব কীভাবে! সাধারণ লোকজন নাছেরকে আবার নির্বাচনের মাঠে টেনে এনেছে।আর জোবাইরুল হাসান আরিফের আশা, জামায়াতে ইসলামীসহ শরিক দলগুলো যদি শক্তভাবে এনসিপির পাশে দাঁড়ায়, তাহলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন।

অন্যদিকে ডা. আবু নাছের সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি নির্মূল, কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়ন, নদীভাঙন রোধসহ আরও নানা প্রতিশ্রুতি এতদিন যা দিয়ে এসেছিলেন, সেগুলো অব্যাহত রেখেছেন। এনসিপির জোবাইরুল তার মূল প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরছেন কালুরঘাট সেতু বাস্তবায়নকে।

বোয়ালখালী উপজেলার দক্ষিণ সারোয়াতলী গ্রামের বাসিন্দা ব্যাংকার ইসমাইল হোসেন বলেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এখানে বিএনপির সাপোর্টার বেশি। তবে নাছেরও একেবারে ফেলে দেওয়ার মতো প্রার্থী নন। আওয়ামী লীগ যেহেতু নির্বাচন করতে পারছে না, তাদের সমর্থকরা যদি ভোটকেন্দ্রে যান, তাহলে ভোট ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লার মধ্যে ভাগ হবে। কিছু ভোট মোমবাতির দিকেও যেতে পারে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাওয়া যাচ্ছে না ব্যবহৃত দুটি মোবাইল চট্টগ্রামে নিজ বাসা থেকে আ’লীগ নেত্রীর উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে নিজ বাসা থেকে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নুর নাহার নামে ওই নারী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেত্রী বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশের ভাষ্য, তার শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন কিংবা অস্বাভাবিক কিছুই পাওয়া যায়নি। তবে তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল পাওয়া যাচ্ছে না। এতে নুর নাহারের মৃত্যু অস্বাভাবিক বলে সন্দেহ পুলিশের। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে নগরীর সদরঘাট থানার পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডের মাঝিরঘাট এলাকার নিজ বাসা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয়রা বলছিলেন, নুর নাহারের বয়স প্রায় ৭৫ বছর। দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছেন। স্বামী আগেই মারা গেছেন। ৪৫ দিন আগে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে বড় ছেলে মারা যান। ছোট ছেলেকে নিয়ে তিনি ওই বাসায় থাকতেন। ছেলের স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় বাবার বাড়িতে ছিলেন। তিনি পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক মহিলা বিষয়ক সম্পাদক।

সদরঘাট থানার ওসি একরাম উল্লাহ বললেন, মহিলার বাড়ির সামনে-পেছনে দুই গেট। পেছনের গেটের সঙ্গে লাগোয়া তিনটি ভাড়া ঘর আছে। সেগুলোতে এক সিএনজি অটোরিকশাচালক ও কয়েকজন পোশাককর্মী ভাড়া থাকেন। উনার ছোট ছেলে কেএসআরএম গ্রুপে চাকরি করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় তিনি অফিসে চলে যান। সন্ধ্যার পরও পেছনের গেট খোলা দেখে ভাড়াটিয়া কয়েকজন বাসায় প্রবেশ করেন।

তারা মহিলার বেডরুমের দরজাও খোলা পান। ভেতরে গিয়ে দেখেন মহিলা বিছানার ওপর মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে বলে জানালেন ওসি একরাম। বললেন, শরীরে আমরা কোনো ধরনের অস্বাভাবিক কিছুই পাইনি। আমাদের কাছে নরমাল ডেথ বলে মনে হয়েছে। তবে উনার দুইটা মোবাইল মিসিং। এজন্য আমাদের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ হচ্ছে। পুলিশ নুর নাহারের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ছেলে থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন বলে ওসি জানালেন।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮ বছরের পথচলা: ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম উৎপাদনমুখী রাজনীতি, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের মাধ্যমে সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজব্যবস্থা, মানবকল্যাণমুখী অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জনে প্রত্যেক স্তরে সৎ মেধাবী ও নিঃস্বার্থ যুবকদের সমন্বয়ে আর্দশ নেতৃত্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করে ১৯৭৮ সালের ২৭শে অক্টোবর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়ার হাতে গড়া যুবদল আজ ঐতিহ্য, সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮ বছরে পদার্পন করছে।


এদেশের যুবসমাজের প্রাণের সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদল। যুব, ঐক্য ও প্রগতির মূলমন্ত্রে যুবদল সগৌরবে এগিয়ে যাচ্ছে আপন মহিমায়।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর ১৯৭৮ সালে আবুল কাশেমকে আহ্বায়ক করে যুবদলের প্রথম কমিটি গঠন করা হয়। এর পর আবুল কাশেমকে সভাপতি ও সাইফুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়।

১৯৮৭ সালের ২৩ মার্চ যুবদলের কাউন্সিলে সভাপতি নির্বাচিত হন মির্জা আব্বাস ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ১৯৯৩ সালের ৮ অক্টোবর কাউন্সিলে আব্বাস-গয়েশ্বর আবারো নির্বাচিত হন। ২০০২ সালে যুবদলের কাউন্সিলে বরকত উল্লাহ বুলু সভাপতি ও সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১০ সালের ১ মার্চ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাইফুল আলম নীরব যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হন।

এরপর ২০২৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দেওয়া কমিটিতে সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৯ জুলাই আব্দুল মোনায়েম মুন্নাকে সভাপতি ও নুরুল ইসলাম নয়নকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে পদায়ন করা হয়। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন ভোলা-৪ আসন থেকে গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে নিজেদেরকে প্রমাণ করেছে, দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঠিক দিক নির্দেশনায় সারদেশে যুবদল আজ যুবসমাজের আস্হার প্লাটফর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। একটি সুতায় গাঁথা হয়ে উঠেছে, সকল ইউনিট একত্রিত হয়ে যুদ্ধ করে়ছে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে। এই সংগ্রামের পথে অনেকের জীবন গেছে, অনেকে আহত হয়েছে, আর কতজন পঙ্গুত্ব বরণ করেছে—এই দুঃখের চিত্র আমাদের হৃদয়ে গভীর আঁচড় কেটে গেছে। শুধু জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৭৯ জন নেতাকর্মী শহীদ হয়েছেন।

আহত হয়েছেন অসংখ্য যুবদল নেতা-কর্মী। দীর্ঘ ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে গুম খুনের শিকার হয়েছেন অসংখ্য জাতীয়তাবাদী যুবদলের জিয়ার সৈনিকেরা। গায়েবি মামলা আর জেলহাজতের ইতিহাস তো যুবদলের প্রতিটি নেতা-কর্মীর ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলের দুঃসহ স্মৃতি। অতীতের সকল আন্দোলন সংগ্রামে যুবদল সন্মুখ যোদ্ধা হিসেবেই রাজপথে ছিলো।

স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন সংগ্রামে যুবদলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে জীবন দিয়েছে। বর্তমান সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি’র নেতৃত্ব জাতীয়তাবাদী যুবদল সারাদেশের প্রত্যেক ইউনিটেই সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের ভালো উদ্যোগ জনগণের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। গুপ্ত রাজনৈতিক শক্তির প্রপাগাণ্ডার বিরুদ্ধেও যুবদলের নেতা-কর্মীরা সক্রিয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংবাদ নির্বাচনে যুবদলের নেতা-কর্মীরা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে দিন-রাত নিরলসভাবে পরিশ্রম করেছেন। নির্বচানে

দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ( বিএনপি )। দেশ পুনর্গঠনে কাজ করে যাচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে বিএনপি সরকার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে । আমাদের সহযোদ্ধারা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়েছে, কিন্তু তাদের সাহস ও আত্মত্যাগ আমাদেরকে আরও শক্তিশালী করেছে।

দেশগড়ার নতুন যুদ্ধে তাদের চেতনা ও আদর্শের বিজয় হবে, এবং তারা সেই জয় অর্জনের জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। গুপ্ত রাজনৈতিক শক্তি ও পলাতক ফ্যাসিস্ট লীগের বিরুদ্ধে যুবদলের সংগ্রাম চলবে। সবার আগে বাংলাদেশ হ্নদয় ধারণ করে দেশ পরিচালনা করছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে যুবদল নিরবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশবিরোধী যেকোন ষড়যন্ত্র রুখে দিতে যুবদলের নেতা-কর্মীরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

গতো বছর ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রাম, ফেনী, লক্ষীপুর, নোয়াখালী, সিলেটসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যুবদলের নেতাকর্মীরা সত্যিকার অর্থে জীবন বাজি রেখে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়েছেন। ত্রাণসামগ্রী নিয়ে তারা ছুটে গেছেন দূরবর্তী গ্রামে, যেখানে বিপদের মধ্যে নিপতিত মানুষগুলো সাহায্যের জন্য অসহায় হয়ে পড়েছিল। ঝড়, ঝঞ্ঝা, জলোচ্ছ্বাস—কিছুরই আমাদের সাহসকে দমাতে পারেনি। কারণ আমাদের সাহসের আঁধার, প্রধানমন্ত্রী
তারেক রহমান শিখিয়েছেন কিভাবে অকুতোভয় হয়ে এগিয়ে যেতে হয়। যুবদল সবসময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত, মানবতার সেবায় কখনো পেছনে ফিরে তাকায়নি।

বর্তমানে যুবদলের নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্য ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। একটি সুন্দর বাংলাদেশের স্বপ্ন, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিরাপদ, সুখী ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন কাটাতে পারে। যুবদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশ্বস্ত হাতিয়ার হয়ে, দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ যে, আমাদের সমাজের প্রতিটি মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি পরিবর্তন আনতে তারা কখনো পিছপা হবে না। তাদের এই যাত্রা শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং মানবতার, ভালোবাসার এবং সমতার একটি মহান অভিযাত্রা। জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর মাহেন্দ্রক্ষণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ১১টায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও দোয়া মোনাজাত কর্মসূচি পালন করবে কেন্দ্রীয় যুবদল। নয়াপল্টনস্হ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচতলায় রক্তদান কর্মসূচি এবং ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পও পরিচালনা করা হবে। নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সারা দেশেই প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত হবে পূর্বের ন্যায়।

যুব, ঐক্য ও প্রগতি’র মূলমন্ত্রে উদ্দীপ্ত হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল এগিয়ে যাক আপন মহিমায়, গৌরব ও সাফল্যের পথে।৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সকল নেতা-কর্মীদের জানাই রক্তিম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ