আজঃ সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরে ৫ হাজার ৫৭৫ জন নারীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেয়া হয়েছে : অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যে এই নির্বাচনী ওয়াদা বাস্তবায়ন করে প্রমাণ করেছে যে, নেতৃত্ব ঠিক থাকলে সব সম্ভব। ফ্যামিলি কার্ড একটি স্মার্ট কার্ড। ভবিষ্যতে জাতীয় সব সুযোগ-সুবিধা এই কার্ডের মাধ্যমে দেওয়া হবে।

এছাড়া কৃষকদের কল্যাণে ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফ এবং বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষি কার্ডের মতো আরও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।মঙ্গলবার চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রথম পর্যায়ে চট্টগ্রাম নগরের ৫ হাজার ৫৭৫ জন নারীর হাতে এই কার্ড তুলে দেয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত ছিলেন।

আমির খসরু বলেন, আমাদের সীমিত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আমরা এই ঝুঁকি নিয়েছি। এই কার্ড বিতরণে কোনো দলীয়করণের সুযোগ রাখা হয়নি। সরকারি কর্মকর্তারা নির্দ্বিধায় ও স্বাধীনভাবে কাজ করে হতদরিদ্রদের খুঁজে বের করেছেন।

তিনি বলেন, পরিবারের নারী প্রধানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী না করলে আগামীর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। বাংলাদেশের মহিলারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের সব দায়িত্ব পালন করলেও তাদের এই সেবার যথাযথ মূল্যায়ন আগে কখনো হয়নি। তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান ঘোষিত এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলোকে মূল্যায়নের জন্য গৃহকর্তীদের বেছে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ২ হাজার ৫০০ টাকা পৌঁছে যাচ্ছে, যা তাদের হাতে একটি অর্থনৈতিক শক্তি তৈরি করবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

চট্টগ্রামে জব্বারের বলীখেলায় ৩০০ খুঁটির মঞ্চে ১০৮ বলীর লড়াই চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের লালদীঘি ময়দানে ঐতিহ্যবাহী ১১৭তম আবদুল জব্বারের বলীখেলার আসরে অংশ নিয়েছে ১০৮ জন বলী। শনিবার বিকেল তিনটার দিকে ৩০০টিরও বেশি খুঁটি দিয়ে নির্মিত বিশেষ মঞ্চে আনুষ্ঠানিকভাবে খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী আসরের উদ্বোধন করেন। তবে এই আসরেন চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ। ফাইনালে তিনি রাশেদ বলীকে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছেন তিনি।এ নিয়ে টানা চতুর্থবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন শরীফ। ফাইনালে দুই বলীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলেন দুই জন। ২৪ মিনিট ২৬ সেকেন্ডের খেলায় রাশেদকে পরাজিত করে জয়ী হন বাঘা শরীফ।


এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় মিঠু ও রাশেদ।এ খেলায় মিঠুকে হারিয়ে রাশেদ ফাইনালে যান। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় বাঘা শরীফ ও শাহ জালাল। যদি সমঝোতার ভিত্তিতে বাঘা শরীফকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ফলে ফাইনালে মুখোমুখী হন গতবারের দুই ফাইনালিস্ট বাঘা শরীফ ও রাশেদ। এ নিয়ে টানা তিন আসরে ফাইনালে মুখোমুখী হয়েছেন তারা।

এদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জিতেছেন মিঠু।রাশেদ বলী কুমিল্লা সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের নসরাইল গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে বাঘা শরীফ কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার ঘারমোড়া ইউনিয়নের মণিপুর গ্রামের বাসিন্দা।খেলা শেষে জয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

এদিকে খেলা শুরুর আগেই মাঠ ও আশপাশ এলাকায় জড়ো হন হাজারো দর্শক। প্রতিটি লড়াই ঘিরে তৈরি হয় তুমুল উত্তেজনা, করতালি ও উচ্ছ্বাস। পুরো এলাকা জুড়ে বিরাজ করে উৎসবমুখর পরিবেশ।এদিকে, বলীখেলাকে ঘিরে লালদীঘি মাঠে বসেছে তিন দিনের বৈশাখি মেলা। মেলায় রয়েছে মাটির সামগ্রী, বাঁশ ও কাঠের হস্তশিল্প, খেলনা, লোকজ অলংকার এবং দেশীয় খাবারের নানা দোকান। শিশুদের জন্য রাখা হয়েছে নাগরদোলা ও অন্যান্য বিনোদনের ব্যবস্থা।নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার।পুলিশ সদস্যরা ইউনিফর্ম ও সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করছেন।

জানা গেছে, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আবদুল জব্বার সওদাগরের হাত ধরে এই বলীখেলার সূচনা হয়। সময়ের সঙ্গে এটি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। শত বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও লালদীঘির এই বলীখেলা এখনও সমানভাবে টানে দর্শকদের। শক্তি, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মেলবন্ধন হয়ে উঠেছে এই আয়োজন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ