আজঃ বুধবার ১৩ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামকে ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি: চসিক মেয়র।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করার কথা জানালেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনের গত ১৬ মাসে নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘাত ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে।

শুক্রবার রাতে নগরের আন্দরকিল্লাস্থ জেএমসেন হলে বাসন্তী পূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম জেলা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের বসন্ত উৎসবে উদ্যোগে বসন্ত উৎসব ও মিলন মেলা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবে সম্প্রীতির শহর।এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বসবাস করছে। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আমরা চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, মানবিক ও নিরাপদ ‘সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, চট্টগ্রামকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলবেন। গত ১৬ মাসে আমরা অন্তত একটি বিষয় নিশ্চিত করতে পেরেছি, নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেনি।সব ধর্মের মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে বসবাস করতে পারছেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম শুধু দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীই নয়, এটি বহুজাতিক ও বহু ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানে ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ নিশ্চিত করা আমাদের অঙ্গীকার। তিনি আরও বলেন, আমরা এমন একটি চট্টগ্রাম গড়তে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিক তার সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে নিরাপদে বসবাস করতে পারে।

এজন্য সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।সনাতনী সম্প্রদায়ের সুবিধার্থে শ্মশান উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মেয়র। তিনি বলেন, নগরীর কয়েকটি শ্মশানঘাটে আধুনিক সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও নতুন শ্মশান নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কেউ যদি কোনো ধরনের উসকানি বা সমস্যা সৃষ্টি করে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। নাগরিকদের যেকোনো অভিযোগ জানাতে সংশ্লিষ্ট থানায় যোগাযোগ করার আহ্বান জানাচ্ছি।আমার দরজাও সব সময় সবার জন্য খোলা। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে মেয়র বলেন, এই শহর শুধু আমার নয়, আমাদের সবার। তাই শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা আমাদের দায়িত্ব। যত্রতত্র ময়লা, প্লাস্টিক ও পলিথিন ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।তিনি আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং ডেঙ্গু চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে নালা খাল পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

চট্টগ্রামের জেএমসেন হলে শ্রীশ্রী বাসন্তী পূজার নবমী ও মিলনমেলায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিবাস দাশ সাগর। প্রধান বক্তা ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি দিলীপ কুমার মজুমদার, অধ্যাপক নারায়ণ কান্তি চৌধুরী, শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুগ্রীব মজুমদার দোলন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের ১৬ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত নেই ‘অ্যান্টিভেনম’, মৃত্যু বাড়ছে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনসংখ্যার আধিক্যের কারণে প্রকৃতিতে বনাঞ্চল ও কৃষিজমি কমে আসায় সাপের আশ্রয়স্থলগুলো ধ্বংস হচ্ছে দিনকে দিন। মানুষ ও সাপের মধ্যে বাড়ছে সংঘাত। সেই সংঘাতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মারা পড়ছে সাপ; কিছু ক্ষেত্রে সাপের ছোবলের শিকার হচ্ছে মানুষ। ধীরে ধীরে বিষধর সাপের সংখ্যা কমে এলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনো ছয় প্রজাতির বিষধর সাপের বসবাস আমাদের চারপাশে। এই বাস্তবতা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ১৬ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকে না সাপের কামড়ের প্রধান ওষুধ ‘অ্যান্টিভেনম’।

বাধ্য হয়ে সাপে কাটা রোগী নিয়ে স্বজনদের ছুটতে হয় জেলা সদর বা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে। এতে পথেই মৃত্যু হয় অনেক রোগীর। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায়ও এমন পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। এসব এলাকায় সাপে কাটা রোগীদের মৃত্যু দিন দিন বাড়ছে। কেবল গত বছর সাপের কামড়ে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
সর্বশেষ গত সোমবরা চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আবারও সাপের কামড়ে মো. আয়াত নামে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সাপে কামড়ানোর পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলেও প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত পথেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৈয়্যবিয়াপাড়ায় ওই দিন সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়াত ওই এলাকার মো. রবিউল হোসেনের ছেলে।
নিহত শিশুর চাচা মুহাম্মদ শওকত বলেন, সাপে কামড় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা মোটরসাইকেলে করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কিন্তু সেখানে রক্ত পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা সময় নষ্ট করা হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এটি চিকিৎসকদের চরম অবহেলা। সময়মতো অ্যান্টিভেনম না দেওয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।সাপের কামড়ে শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল আলম বলেন, ঘটনার তদন্তে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে চিকিৎসকদের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রত্যন্ত গ্রামীণ জনপদ ও পাহাড়ি এলাকায় বিষধর সবুজ বোড়া বা গ্রিন পিট ভাইপার এবং বসতবাড়ির আশেপাশে ও ঝোপঝাড়ে পদ্মগোখরা ও রাজগোখরার উৎপাত রয়েছে। বিষধর ও শান্ত স্বভাবের শঙ্খিনী এবং গ্রামীণ এলাকায় ঘাতক হিসেবে পরিচিত কালাচ সাপও দেখা গেছে। এসব বিষধর সাপের কামড়ে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা, বোয়ালখালী, বাঁশখালী, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশসহ বিভিন্ন উপজেলায় মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে।

একসময় সাপে কাটলে গ্রামের কবিরাজ, বৈদ্য কিংবা ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে সচেতন হচ্ছে মানুষ। এখন সাপে কাটা বেশিরভাগ রোগীকে নিয়ে যাওয়া হয় নিকটতম সরকারি হাসপাতালে। কিন্তু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে মিলছে না যথাযথ চিকিৎসা। ফলে আহত রোগীকে নিয়ে ছুটতে হয় চট্টগ্রাম শহরে। যেখানে পৌঁছাতেই লাগে ২ থেকে ৪ ঘণ্টা। এই দীর্ঘ সময়ে পথেই প্রাণ হারাচ্ছেন অনেকে।
চিকিৎসকরা মনে করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য

কমপ্লেক্সগুলোতে দ্রুত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এতে সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীরা প্রাথমিক পর্যায়েই চিকিৎসা পেয়ে জীবন রক্ষা করতে পারবেন।
ভুক্তভোগীদের স্বজনেরা জানান, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত কাছের হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায় না। পরে চট্টগ্রাম শহরে নেওয়ার পথে রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়, অনেক সময় মৃত্যু ঘটে।

এদিকে বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারা জানান, অ্যান্টিভেনম সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বেশ কয়েকবার জানানো হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মাহতাবউদ্দিন উদ্দিন বলেন, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়। উপজেলা পর্যায়ে এ গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ পর্যাপ্ত না থাকায় আমরা বিড়ম্বনায় পড়ি। গত এক বছরে আনোয়ারায় সাপের কামড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান।
চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার আরো বলেন, চাহিদা অনুযায়ী ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সবসময় চাহিদা পূরণ হয় না। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি উপজেলায় এক থেকে দুই ডোজ করে সরবরাহ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।
চন্দনাইশ উপজেলার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রশ্মি চাকমা বলেন, আমাদের কাছে বর্তমানে দুই ডোজ অ্যান্টিভেনম রয়েছে। যা দিয়ে দুইজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের উপজেলাগুলোতে গত বছর সাপে কাটায় অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ৫ আগস্ট বোয়ালখালী উপজেলায় সাপের কামড়ে মারা যান আরমান তালুকদার (২১) নামে এক যুবক। তিনি উপজেলার দক্ষিণ কড়লডেঙ্গা গ্রামের তালুকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। ভুক্তভোগী ওই রাতে ঘরে শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিলেন। এ সময় জানালার পাশে রাখা পায়ে কামড় দেয় সাপ। মোবাইলে ব্যস্ত থাকায় তিনি তা টের পাননি। পরে অসুস্থ বোধ করলে বিষয়টি বুঝতে পারেন। তাকে দ্রুত পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই বছরের ৩১ আগস্ট চন্দনাইশ উপজেলার বরকল ইউনিয়নে সাপের কামড়ে যোহরা আক্তার (১৩) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর সেখানে অ্যান্টিভেনম না থাকায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমকে) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পরপরই তার মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে বাঁশখালী উপজেলায় গত বছরের ১১ অক্টোবর সাপের কামড়ে মোতাহেরা বেগম (৩৫) নামে এক স্কুলশিক্ষিকার মৃত্যু হয়। তিনি বাহারছড়া আইডিয়াল প্রি-ক্যাডেট স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। সাপে কাটার পর স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানেও অ্যান্টিভেনম পাওয়া যায়নি। পরে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, সাপে কাটার রোগীদের অনেকেই দেরিতে হাসপাতালে আসেন। আবার উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক সময় রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে যায়। দ্রুত অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করা গেলে অনেক প্রাণ রক্ষা সম্ভব।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, খুব শিগগিরই ঢাকা থেকে সরবরাহ আসবে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তবে এই ভ্যাকসিন অত্যন্ত দামি হওয়ায় চাহিদা মতো জোগান নিশ্চিত করা একটি বড় সীমাবদ্ধতা। এক ডোজ ভ্যাকসিনের দাম প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে এটি কিনতেও পাওয়া যায় না। বর্তমানে ইনসেপটা কোম্পানিই এটি তৈরি ও বিপণন করছে। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে না পারায় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।

এ ছাড়া উচ্চ মূল্যের কারণে ১ থেকে ২ ডোজের বেশি মজুত রাখার সক্ষমতাও অনেক হাসপাতালে নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উপজেলা পরিষদের কাছেও চাহিদা পাঠানো হয়েছে। এরপরও সংকটকালীন সময়ে হাতে অ্যান্টিভেনম না থাকায় রোগীর মৃত্যু সত্যিই দুঃখজনক।

কলেজ ফাঁকি দিয়ে নরসিংদীতে ঘুরতে এসে মেঘনায় নিখোঁজ বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা থেকে কলেজ ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নরসিংদীতে ঘুরতে এসে মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছেন বি.এফ. শাহীন কলেজের এক শিক্ষার্থী। নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম মাহির শাহরিয়ার।

জানা যায়, কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে ট্রেনে করে নরসিংদীতে আসে মাহির। পরে তারা মেঘনা নদীর একটি এলাকায় ঘুরতে গিয়ে গোসল করতে নদীতে নামে। একপর্যায়ে মাহির পানিতে তলিয়ে গেলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন ও সংশ্লিষ্টরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ইদানীং প্রতিদিন ঢাকার বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শত শত শিক্ষার্থী ক্লাস ফাঁকি দিয়ে ট্রেনে করে নরসিংদী, ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরতে যাচ্ছে। অনেক সময় তারা ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদেও ভ্রমণ করছে।

এ বিষয়ে অধিকাংশ অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ অবগত নন বলে জানা গেছে। সচেতন মহল বলছে, নজরদারির অভাবে শিক্ষার্থীরা দুর্ঘটনা, হয়রানি কিংবা বিভিন্ন অপরাধ চক্রের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ