আজঃ শুক্রবার ৫ জুন, ২০২৬

হাম-রুবেলার টিকা নিয়ে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ালে ব্যবস্থা : চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেছেন, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধকল্পে বর্তমান সরকার জরুরী ভিত্তিতে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হলে হাম ছড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না। তবে ঝুঁকির্পর্ণ ও দুর্গম এলাকাসহ সব জায়গায় এ বয়সের কোন শিশু যাতে হাম-রুবেলার টিকা থেকে বাদ যা পড়ে সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। হাম নিমূলে সর্বত্র সচেতনতা সৃষ্টির বিকল্প নেই। হাম-রুবেলার টিকা নিয়ে কেউ গুজব ও অপপ্রচার ছড়ালে ব্যবস্থা নেয়া হবে, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। হাম-রুবেলার জরুরী টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উপলক্ষে আজ রোববার সকাল ১১টায় বিভাগীয় কমিশনার কর্যালয়ের কনফারেন্স হলে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় আয়োজিত বিভাগীয় পর্যায়ের অ্যাডভোকেসী সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রাম বিভাগেও আগামীকাল ২০ এপ্রিল সোমবার থেকে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হয়ে চলবে ১০ মে পর্যন্ত। সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ ক্যাম্পেইন চলবে। আগামীকাল ২০ এপ্রিল সোমবার সকাল ৯টায় সীতাকুন্ডের জঙ্গল-সলিমপুরে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয় ও চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করা হবে।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে সর্বত্র মাইকিং করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪২ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুর ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে হাম-রুবেলার টিকা নেয়া যাবে।এ ক্যা¤েপইনের প্রচার-প্রচারণার তদারকি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউনিয়ন ও পৌরসভা পর্যায়ে দফাদার-চৌকিদারদের (গ্রাম পুলিশ) দায়িত্ব পালনে চিঠি ইস্যু করা হবে। অন্যান্য বারের মতো টিকাদান ক্যাম্পেইনে আমরা এবারও দেশের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করবো, চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মাধ্যমে আমরা গৌরব অর্জন করবো-এ লক্ষ্যে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করবো।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন সম্পর্কিত বিষয়বস্তু আলোকপাত করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারী ডা. ইমং প্রু চৌধুরী।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) মনোয়ারা বেগম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুসরাত সুলতানা, অতিরিক্ত ডিআইজি সঞ্জয় সরকার, পরিবার পরিকল্পনা চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক আবু সালেহ মোঃ ফোরকান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুছা মিয়া, মাউশি’র চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোঃ ফজলুল কাদের, ইউনিসেফ’র স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেন, প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক মোঃ নূরুল ইসলাম, খাগড়াছড়ি জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাবের, কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আলী নুর মোঃ বশীর আহমদ, চাঁদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ নুর আলমদীন, লক্ষীপুর জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন, নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেন, রাঙ্গামাটি জেলা সিভিল সার্জন ডা, নূয়েন খীসা, পরিবার পরিকল্পনা লক্ষীপুর জেলার উপপরিচালক নাজমুল হাসান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার উপ-পরিচালক মোঃ মোস্তফা কামাল, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় পরিচালক মোস্তফা মনসুর আলম খান, পিআইডি’র উপ-প্রধান তথ্য অফিসার মোঃ সাঈদ হাসান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তপন কুমার চক্রবর্তী প্রমূখ। সভায় বিভিন্ন জেলা পরিবার পরিকল্পনা, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, স্টেক হোল্ডারগণ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।
অ্যাডভোকেসী সভায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ৫ এপ্রিল থেকেই দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলা ও ১৩টি পৌরসভায় জরুরি ভিত্তিতে প্রথম দফায় বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। এ সময়ে চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার রামু, মহেশখালী, চাঁদপুর জেলা সদর ও হাইমচর উপজেলাও কর্মসূচী শুরু হয়।

গত ১২ এপ্রিল ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বরিশাল ও ময়মনসিংহে দ্বিতীয় দফায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে এই হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়ে ১০ মে পর্যন্ত চলবে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪২ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুর ১৭ ডিজিটের জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে হাম-রুবেলার টিকা নেয়া যাবে। চট্টগ্রাম বিভাগের মোট ১৬৪টি স্থায়ী কেন্দ্র, ২৪ হাজার ৬৪০টি ভ্যাকসিনেশন সেন্টারে সরকারী ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ টিকা দেয়া হবে। ক্যাম্পেইন চলাকালীন সময়ে ১ হাজার ১৫টি মপ-আপ টিম ও সান্ধ্যকালীন ১৬টি টিম এ টিকা প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। যে কোন মূল্যে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন সম্পন্ন করা হবে।

সভায় আইসিডিডিআর,বি’র বরাত দিয়ে তিনি বলেন, হাম-রুবেলার জন্য সবাই হাসপাতালে আসবে না, তাদেরকে তৃণমূলে সেবা দিতে হবে। হাম বা মিজেলস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত জ্বর শুরুর ৭-১০ দিনের মধ্যে নিজে থেকেই ভালো হয়ে যায়। হাম থেকে রক্ষায় শিশুকে বেশি করে তরল খাবারের পাশাপাশি অল্প অল্প করে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। জ্বর হলে কুসুম গরম পানিতে শরীর মুছতে হবে।

প্রয়োজনে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দিতে হবে এবং চোখ পরিস্কার রাখার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ’এ’ খেতে হবে। শিশুর শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হলে বা বুকের খাঁচা দেবে গেলে, তরল খাবার বা বুকের দুধ খেতে না পারলে, বারবার বমি হলে, খিঁচুনি, নিস্তেজ, তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ডাকে সাড়া না দিলে, মুখে ঘা, চোখে সমস্যা বা চোখ খুলতে না পারলে এবং তীব্র পানি শূন্যতা বা অপুষ্টি-এগুলোর যে কোন একটি লক্ষণ দেখা দিলে দেরী না করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিতে হবে। এ লক্ষ্যে সর্বত্র প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, হাম একদিকে যেমন দ্রুত ছড়ায়, অন্যদিকে সঠিক সময়ে টিকার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করাও বেশ সহজ। এটি মূলত ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মতো কাজ করে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে যদি টিকার আওতায় এনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা যায়, তবে ওই এলাকার সব শিশু সুরক্ষিত থাকবে। অধিকাংশ শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হলে হাম ছড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সিএন্ডএফ এজেন্টদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়নে চসিকের অস্থায়ী বুথ স্থাপনের নির্দেশ সিটি মেয়রের

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সিএন্ডএফ এজেন্টদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন কার্যক্রমকে আরও সহজ, দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করতে আগ্রাবাদস্থ সিএন্ডএফ কার্যালয়ে একটি অস্থায়ী সেবা বুথ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস্ এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সাথে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এই অনুরোধ জানান। ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি লাঘবে মেয়রের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বুথ স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাক্ষাতকালে সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ মেয়রের নিকট তুলে ধরেন যে, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক সিএন্ডএফ এজেন্টের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে গিয়ে নানাবিধ প্রাতিষ্ঠানিক আনুষ্ঠানিকতায় সময়ক্ষেপণ হয়। যদি আগ্রাবাদস্থ সিএন্ডএফ ভবনেই চসিকের একটি অস্থায়ী বুথ স্থাপন করা যায়, তবে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল পরিবেশে দ্রুততম সময়ে এই সেবা দেওয়া সম্ভব হবে।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের এই যৌক্তিক ও জনবান্ধব অনুরোধে তাৎক্ষণিক সাড়া দেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি উপস্থিত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

সাক্ষাতকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে সিএন্ডএফ এজেন্টদের অবদানের কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার, আর এই প্রবেশদ্বারকে সচল ও প্রাণবন্ত রাখার পেছনে মূল কারিগর হলেন সিএন্ডএফ এজেন্টরা। তাঁরা দিনরাত পরিশ্রম করে রাজস্ব আহরণ ও আমদানি রপ্তানি বাণিজ্যকে গতিশীল রাখছেন। দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি এই ব্যবসায়ী সমাজকে কোনো ধরনের প্রশাসনিক আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না।

মেয়র আরও বলেন, স্মার্ট ও ব্যবসাবান্ধব চট্টগ্রাম বিনির্মাণে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন সবসময় ব্যবসায়ীদের পাশে থাকবে। আমরা ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মতো সেবা নিশ্চিত করতে চাই, যাতে ব্যবসায়ীদের মূল্যবান সময় নষ্ট না হয় এবং তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন। সিএন্ডএফ কার্যালয়ে এই অস্থায়ী বুথ স্থাপন আমাদের সেই আধুনিক ও ওয়ান স্টপ সেবারই একটি অংশ। ভবিষ্যতেও চসিকের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের জন্য সব ধরনের নাগরিক সুবিধা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মেয়রের এই দ্রুত সিদ্ধান্ত ও ব্যবসাবান্ধব সদিচ্ছার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা সারোয়ার কামাল, রাজস্ব কর্মকর্তা সাব্বির রহমান সানি, চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস্ এসোসিয়েশনের বন্দর বিষয়ক সম্পাদক রোকন উদ্দিন মাহমুদ, প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও আইন বিষয়ক সম্পাদক এস এম ফরিদুল আলম, সহকারি কাস্টম বিষয়ক সম্পাদক মোরশেদুল আলম, নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, মাহবুবুর রহমান সাগর প্রমুখ।

চট্টগ্রামে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির এমআরআই মেশিন উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ১ম বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ১৮০ চ্যানেলের থ্রি তেসলা এমআরআই মেশিন নিয়ে এসেছে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড চট্টগ্রাম শাখা। চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসাসেবায় বায়োমেট্রিক্স প্রযুক্তির আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স সমৃদ্ধ ম্যাগনেটম লুমিনা প্রো এডিশন থ্রি তেসলা এমআরআই মেশিনের কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বুধবার (৩ মে) সকালে অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে এমআরআই মেশিনের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পপুলার গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান সিআইপি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্তমানে মানুষের জীবনধারণে পরিবর্তনের কারণে রোগ-ব্যাধিও বাড়ছে। সঠিক রোগ নির্ণয়ে বিজ্ঞানের আবিষ্কার আধুনিক যন্ত্রপাতি। রোগ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসাও সহজ হয়। এক্ষেত্রে থ্রি তেসলা এমআরআই মেশিন রোগীদের উপকারে আসবে। চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসা সেবায় অত্যাধুনিক এমআরআই মেশিন সংযোজন করার জন্য পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ডা. মোস্তাফিজুর রহমান সিআইপি বলেন, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার হতে আন্তর্জাতিকমানের সেবা গ্রহণ করার জন্য চট্টগ্রামের চিকিৎসকসমাজ ও চট্টগ্রামবাসীর প্রতি ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি নতুন এই এমআরআই মেশিন সম্পর্কে বলেন, রোগীরা এখন ৩/৪ মিনিটের মধ্যে ব্রেইন এবং স্পাইনের সকল এমআরআই করতে পারবেন। এছাড়াও শরীরের প্রত্যেকটা অঙ্গের এমআরআই আগের চেয়ে অর্ধেক সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারবেন। চট্টগ্রামবাসীর সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে আসা আরো নতুন ও অত্যাধুনিক মেশিন চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসা সেবার মান বৃদ্ধিতে সংযোজন করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে পপুলার গ্রুপে প্রায় ২৬ হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করার জন্য নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড চট্টগ্রাম শাখার সিনিয়র ব্যবস্থাপক ওয়ালী আশরাফ খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক নিউরোসার্জন ডা. মঈনউদ্দিন মো. ইলিয়াছ, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড শান্তিনগর শাখার ডিজিএম মো. শাহী মাহমুদ, চট্টগ্রাম শাখার সহকারি ব্যবস্থাপক সুজন কান্তি দে, সহকারি ব্যবস্থাপক উজ্জ্বল বড়ুয়া, সহকারি ব্যবস্থাপক (মার্কেটিং) মো. বেলাল হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে পপুলারের সর্বস্তরের কনসালটেন্ট, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘের সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।

তিনি আগামী এক বছর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন।
৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদের নির্বাচনে সর্বমোট ১৯০টি দেশ অংশ নেয়। এরমধ্যে খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি দেশের ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস এস কাকৌরিস পেয়েছেন ৯১টি দেশের সমর্থন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ