আজঃ সোমবার ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে বৈশাখী মেলায় ধাপে ধাপে চাঁদাবাজি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষে বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে গত শুক্রবার থেকে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ,নরসিংদী, খুলনা, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসেছেন তাদের পণ্য নিয়ে। বেচা-কেনাও জমে উঠেছে।

এদিকে মেলা উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই বৈশাখী মেলাকে ঘিরে এবারও উঠেছে চাঁদাবাজির অভিযোগ। এদিকে বৈশাখী মেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে চারজনকে ধরে থানা হাজতে নিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। শুক্রবার রাতে তাদের মেলা থেকে ধরে থানায় নিয়ে আসা হয় বলে জানা গেছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, পণ্য নিয়ে আসা প্রতিটি গাড়ির জন্য পুলিশকে দিতে হচ্ছে ২ হাজার টাকা। পাশাপাশি অস্থায়ী দোকান বসানোর জন্য ভাড়ার নামে আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। এর বাইরে দলবেঁধে এসে আরও চাঁদা নিচ্ছে স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র। কোতোয়ালী মোড়, সিনেমা প্যালেস, লালদীঘি, আন্দরকিল্লাসহ আশপাশের এলাকায় বসা ব্যবসায়ীরা এসব কথা জানান।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মেলায় অংশ নিতে হলে কয়েক ধাপে অর্থ গুনতে হয়। প্রথমে মালামাল আনার গাড়িপ্রতি ২ হাজার টাকা, এরপর দোকান বসানোর জন্য ‘ভাড়া’ বাবদ দোকানভেদে ৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সবশেষে দোকান সাজানোর পর রাতে ৫ থেকে ৭ জনের দল এসে আরও ২ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের বছরের তুলনায় এবার চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন।
লালদীঘি ময়দান ঘিরে বসা এই মেলায় রাস্তার ধারে, মূল সড়কে এবং দোকানের আশপাশে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের দৌরাত্ম্য চলছে বলে অভিযোগ।স্থানীয় কিছু ব্যক্তি, দোকানদার ও বিভিন্ন গোষ্ঠী এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

চাঁদাবাজির বিষয়ে মেলার আয়োজক কমিটির সহ সভাপতি ইসমাইল বালী বলেন, আমাদের লোকজন মাইকিং করে চাঁদা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করছে। যে চাঁদা নিতে আসবে তার ভিডিও ধারণ করার জন্য আমরা বলেছি। আমাদের জানাতে বলেছি। আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কেউ আমাদের কাছে এসে অভিযোগ দিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, একশো দুইশো টাকা কিংবা রং মেরে জায়গা দখল করে ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি কিছুটা সত্য, যেখানে পাঁচশো থেকে এক হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে পাঁচ-দশ হাজার বা ত্রিশ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য না, একদম মিথ্যা কথা। প্রশাসন এখানে আছে- পুলিশ, এসবি, ডিবি; তারা চাঁদাবাজদের ধরছে না কেন?

মেলার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাঁদা বা টোল তোলা হয় না। কেউ জোরপূর্বক অর্থ আদায় করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আমাদের ১১ জনের একটা কমিটি আছে। চাঁদা কারা নিচ্ছে, কে করছে-এসব আমরা সবাই কমবেশি জানি। এটা আমি আর নতুন করে বলতে চাচ্ছি না। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, কিন্তু তারা তবুও নিচ্ছে। এটা দেখার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের। আমাদের আহ্বান—চাঁদাবাজি যে বা যারাই করুক, ধরিয়ে দিন। কারা চাঁদা নিচ্ছে সেটা সবাই জানে। চাঁদাবাজদের ব্যাপারে চট্টগ্রামবাসী নিশ্চয়ই সজাগ আছে।

এদিকে মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, গাড়িপ্রতি পুলিশের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ তার জানা নেই। এটা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। আপনি তথ্য ও ডকুমেন্টস পেলে দিবেন, কর্তৃপক্ষকে জানাবো।এদিকে বৈশাখী মেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে চারজনকে শুক্রবার রাতে ধরে থানা হাজতে নিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আটকরা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক যুগ্ম আহ্বায়কের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আটকের পর তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য উচ্চ মহল থেকে তদবিরের কারণে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, যাদের ধরে আনা হয়েছে তারা মাইনর, স্কুলের শিক্ষার্থী। ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। তাদের ধরে আনা হয়েছে। তাদের কাগজপত্র নিয়ে আসা হয়েছে, যাচাই-বাছাই করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সুন্দরগঞ্জে বজ্রপাতে চারজনের মৃত্যু ‎।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে এক শিশুসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একটি গরুও মারা গেছে।‎রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর বাড়ির আশপাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন,ফুয়াদ (১৪), সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সুজা চৌধুরীর ছেলে; ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫), নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০) এবং আব্দুল হাই মিয়ার ছেলে শামীম (১৮)। তারা সবাই একই গ্রামের বাসিন্দা।

‎প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীর বরাতে জানা যায়, বিকেলের দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায় এবং বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় তারা বাড়ির পাশে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তিনজন মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় শামীমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। একই সঙ্গে পাশে থাকা একটি গরুও মারা যায়।

‎একই গ্রামের চারজনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

বিএনপি নেতা সৈয়দ মোস্তফা আলম মাসুমের পিতা সৈয়দ মোঃ বদিউল আলমের জানাযা সম্পন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি নেতা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক-ক্রীড়া সংস্থা জাতীয় নির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ মোস্তফা আলম মাসুমের পিতা এবং হাটহাজারীর প্রখ্যাত আলেমেদ্বীপ প্রয়াত মাওলানা আব্দুল কাদের’র ৪র্থ পুত্র সৈয়দ মোঃ বদিউল আলম গতকাল ২৬ এপ্রিল সকাল ৯.১০ মিনিটে চট্টগ্রাম ক্যান্সার ইনস্টিটিউট এন্ড রিসোর্স সেন্টার (চট্টগ্রাম ও শিশু হাসপাতাল) এ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহে…রাজেউন)।

গতকাল বাদে মাগরিব হাটহাজারীর মির্জাপুর সৈয়দ মছিউল্লাহ শাহ্ দরবার শরীফ ময়দানে মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুর মোহাম্মদ, গাউসিয়া হক মঞ্জিলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব সৈয়দ ফরিদ উদ্দিন আহমদ, মতিউর রহমান শাহ্ দরবার শরীফের সাজ্জাদনশীন মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন, আঞ্জুমানের সাবেক মহাসচিব সৈয়দ আবু তালেব চেয়ারম্যান, হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ গিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান, হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ সেলিম চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুল হাসান চৌধুরী, সাবেক অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ জাফর হোসেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আমির হোসেন খান,

মির্জাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র পরিষদের সদস্য সচিব আলহাজ্ব সৈয়দ আব্বাস উদ্দিন, চট্টগ্রাম সেনা নিবাস উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, চট্টগ্রাম সরকারি মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক সৈয়দ মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র কর্মকর্তা মুহাম্মদ খায়রুননবী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক নেতা এস.এম. ফারুক হোসেন, মির্জাপুর খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সভাপতি ব্যাংকার মুহাম্মদ ইসহাক, কাটির হাট মহিলা কলেজের অধ্যাপক শেখ আহমদ, মির্জাপুর মিতালী সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মাসুদ, গোলতাজ মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যাপক অলি আহাদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শিমুল, সহ-সাংগঠনিক এম এ মুবিন, জেলা উলামা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা নুরুল আবসার আনসারী, উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাফায়েতুল ইসলাম সাবাল, মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ আব্দুল জব্বার, সদস্য সচিব মুহাম্মদ ইয়াকুব মেম্বার, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক মুহাম্মদ ইউনুস তালুকদার, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ যথাক্রমে মাওলানা রমজান আলী, মুহাম্মদ নুরুল আবসার, জেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক মুহাম্মদ শাহাদাত ওসমান চেয়ারম্যান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুহাম্মদ ফোরকান চৌধুরী, জেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের আহ্বায়ক আবু সৈয়দ, মির্জাপুর ইউনিয় যুবদলের আহ্বায়ক মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মির্জাপুর খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইফতেহার হোসেন চৌধুরী জনি, মির্জাপুর আইডিয়াল কিন্টারগার্টেনের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন, প্রবীন বিএনপি নেতা অবসর প্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ ওবাইদুল আকবর, মুহাম্মদ সুলতানুল আলম চৌধুরী, হাজী মুহাম্মদ আবুল বশর, মির্জাপুর আদর্শ সমাজ কল্যাণ পরিষদের কাজী নুরুন্নবী, সৈয়দ আব্দুল আজিজ, মুহাম্মদ আবুল মনসুর, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আন্তঃবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দ মুহাম্মদ করিম,

সিনিয়র শিক্ষক আবু রাহেল মুহাম্মদ ফয়সাল, সাবেক প্রধান শিক্ষক মোঃ শফিকুল আনোয়ার, সমাজ সেবক আলহাজ্ব মোঃ শফি চৌধুরী, বিএনপি নেতা সৈয়দ রমজুল ইসলাম বাবুল, মুহাম্মদ সেলিম চৌধুরী, সমাজ সেবক মোঃ ইলিয়াস, মুহাম্মদ মাসুদ করিম, মুহাম্মদ আলী, মোঃ মোর্শেদুল আলম প্রমুখ। জানাযার ইমামতি করেন সৈয়দ মছিউল্লাহ মির্জাপুরী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মদ আবু সাঈদ। জানাযায় বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন ছিপাতলি গাউছিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা শফিউল আলম নিজামী। উল্লেখ্য যে, মরহুম সৈয়দ বদিউল আলম মৃত্যুকালে তিন পুত্র, তিন কন্যাসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন রেখে যান।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ