চট্টগ্রামে বৈশাখী মেলা শুরু, জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর শনিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষে বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে শুক্রবার। বলীখেলা হবে শনিবার (২৫ এপ্রিল)। লালদীঘি মাঠকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই বর্গকিলোমিটার এলাকায় মেলা বসেছে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ,নরসিংদী, খুলনা, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসেছেন তাদের পণ্য নিয়ে।তবে চলমান এসএসসি পরীক্ষার কারণে ২৬ এপ্রিল ভোরে মেলা শেষ করতে হবে। মেলা উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জব্বারের বলীখেলার ১১৭তম আসর উপলক্ষে। দেশের বিভিন্ন এলাকার ১২০ জন বলী নামবেন প্রতিযোগিতায়।


আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আবদুল জব্বার সওদাগরের নাতি শওকত আনোয়ার বাদল জানান, বলীখেলা উদ্বোধন করবেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। পুরস্কার বিতরণ করবেন সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান উপস্থিত থাকবেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাটির তৈজসপত্র, ঝাড়ু, হাতপাখা, শীতলপাটি, দা-খুন্তি, প্লাস্টিকের সামগ্রী-ফুল, মণ্ডা-মিঠাই, গৃহসজ্জার সামগ্রী, গাছের চারা, তামা-কাঁসা-পিতলের সামগ্রী, কাঠের আসবাবপত্র, বেতের আসবাব, বাদ্যযন্ত্র, দোলনা, মাছ ধরার জাল, মোড়া, পিঁড়ি, জলচৌকিসহ কি নেই এই মেলায়। নগরের অধিবাসীরা সারাবছর অপেক্ষা করে থাকেন মেলার জন্য। কারণ এখানেই মিলে গৃহস্থালীর সব জিনিসপত্র।
ঢাকা থেকে মেলায় মাটির তৈজসপত্র নিয়ে এসেছেন ঢাকার ব্যবসায়ী মো. দীপু। তিনি বলেন, দুইদিন আগেই মেলায় জিনিসপত্র নিয়ে এসেছি। ট্রাক ভাড়া বেশি দিতে হয়েছে। মেলায় মানুষ বাড়লে বিক্রি হবে বলে আশা করছি।

নারায়ণগঞ্জ থেকে মণ্ডা-মিঠাই নিয়ে জব্বারের বলীখেলার মেলায় এসেছেন কনক দাস। তিনি বলেন, আমাদের পরিবারের সবাই এই ব্যবসায় জড়িত। প্রতিবছর এখানে চলে আসি। বাপ-দাদারাও এসেছেন। একটা জায়গা পেয়েছি। পসরা সাজালাম।

ঝাড়ু নিয়ে খাগড়াছড়ি থেকে এসেছেন সাদেকুল। তিন শ জোড়া ঝাড়ু এনেছেন তিনি। মেলায় ঝাড়ু বেশি বিক্রি হয়। এছাড়া আছে হাতপাখার কদর। চন্দনাইশ থেকে বেত ও তালপাতার পাখা এনেছেন জহির মিয়া। গরমের এই সময়ে হাতপাখা কিনে কেউ ঠকবে না বলে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীদের চোখে এখন ভালো বেচাকেনার স্বপ্ন।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় বদরপাতি এলাকার আবদুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এ অঞ্চলের যুবকদের সংগঠিত করতে লালদীঘি মাঠে কুস্তিখেলার প্রচলন করেছিলেন। সে কুস্তি কালক্রমে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘বলীখেলা’ নামে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি : পুলিশ সুপার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গঠনে সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে সিভিক সেন্টারে আয়োজিত মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, উন্নত কর্মপরিবেশ, শারীরিক সক্ষমতা ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

পুলিশ সুপার পুলিশ লাইন্সের অব্যবহৃত ও পরিত্যক্ত স্থান সংস্কার করে ব্যবহার উপযোগী করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি এসব জায়গায় শাকসবজি ও ফলমূল চাষের উদ্যোগ নিতে পুলিশ সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করেন।এতে অব্যবহৃত জমির সঠিক ব্যবহার, পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও স্বনির্ভরতা বাড়বে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পুলিশ সদস্যদের শারীরিক সক্ষমতা, মনোবল ও কর্মস্পৃহা বাড়াতে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজনের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।
এ ছাড়া প্রতিটি থানায় প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সরঞ্জাম ও উপকরণ সরবরাহের বিষয়েও নির্দেশনা দেন।

সভায় পেশাগত দক্ষতা ও বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের পুরস্কার, সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট দেওয়া হয়। ওয়ারেন্ট তামিল, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদ্ঘাটন এবং অপরাধী ও পলাতক আসামি গ্রেপ্তারে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় তাঁদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

এ সময় পুলিশ সদস্যদের উত্থাপিত বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন পুলিশ সুপার। সেগুলো সমাধানে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণ এবং পেশাগত শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশনা দেন।

সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সার্কেল অফিসার, কোর্ট ইন্সপেক্টর, টিআই (অ্যাডমিন), ডিআইও-১, আরআই, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), বিভিন্ন ইউনিটের ইনচার্জসহ বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দোকান ঘর-সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা, থানায় অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে এক ব্যবসায়ীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টায় দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে মো. সফি উল্যাহ চৌধুরী (৭০) নামে এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী নূর নবী (৬০)। এ ঘটনায় তিনি কোম্পানীগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নূর নবী ও তার ভাই-বোনেরা পৈত্রিক সূত্রে ১৩ নম্বর চরপার্বতী মৌজার সিএস ৯৯১ নম্বর খতিয়ানের ১২০৮ নম্বর দাগে নকশা অনুযায়ী ৩৮ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির মধ্যে পাঁচ শতাংশের মালিক ও দখলদার। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমি ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে বসুরহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের করালিয়া এলাকায় ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে সফি উল্যাহ চৌধুরী অজ্ঞাতনামা দুই-তিনজনকে নিয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা জমিতে থাকা দোকান ঘর ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করে আনুমানিক ১০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেন। পরে সেখানে মাটি ভরাট করে চলাচলের রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

এতে নূর নবী ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিলে অভিযুক্তরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং মারধরের জন্য তেড়ে আসেন। একই সঙ্গে রাস্তা নির্মাণের কাজে বাধা দিলে মারধরের হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় সংঘর্ষ ও শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা করছেন অভিযোগকারী।

নূর নবী বলেন, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে বসতবাড়ি ও সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন ও আত্মীয়স্বজনকে জানানোর পর তাদের পরামর্শে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।তবে অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করে সফি উল্যাহ চৌধুরী বলেন, ‘সেটি প্রমাণের জন্য আমি আমার প্রতিনিধির মাধ্যমে ওসির কাছে উপস্থাপন করব।’
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবীবুর রহমান বলেন, প্রতিদিন অনেক অভিযোগ জমা পড়ে। লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ