আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে বৈশাখী মেলায় ধাপে ধাপে চাঁদাবাজি

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঐতিহ্যবাহী আবদুল জব্বারের বলীখেলা উপলক্ষে বৈশাখী মেলা শুরু হয়েছে গত শুক্রবার থেকে। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ,নরসিংদী, খুলনা, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসেছেন তাদের পণ্য নিয়ে। বেচা-কেনাও জমে উঠেছে।

এদিকে মেলা উপলক্ষে পুলিশের পক্ষ থেকে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপনসহ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই বৈশাখী মেলাকে ঘিরে এবারও উঠেছে চাঁদাবাজির অভিযোগ। এদিকে বৈশাখী মেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে চারজনকে ধরে থানা হাজতে নিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ। শুক্রবার রাতে তাদের মেলা থেকে ধরে থানায় নিয়ে আসা হয় বলে জানা গেছে।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, পণ্য নিয়ে আসা প্রতিটি গাড়ির জন্য পুলিশকে দিতে হচ্ছে ২ হাজার টাকা। পাশাপাশি অস্থায়ী দোকান বসানোর জন্য ভাড়ার নামে আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের চাঁদা। এর বাইরে দলবেঁধে এসে আরও চাঁদা নিচ্ছে স্থানীয় চাঁদাবাজ চক্র। কোতোয়ালী মোড়, সিনেমা প্যালেস, লালদীঘি, আন্দরকিল্লাসহ আশপাশের এলাকায় বসা ব্যবসায়ীরা এসব কথা জানান।

কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, মেলায় অংশ নিতে হলে কয়েক ধাপে অর্থ গুনতে হয়। প্রথমে মালামাল আনার গাড়িপ্রতি ২ হাজার টাকা, এরপর দোকান বসানোর জন্য ‘ভাড়া’ বাবদ দোকানভেদে ৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। সবশেষে দোকান সাজানোর পর রাতে ৫ থেকে ৭ জনের দল এসে আরও ২ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়ে যায়।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগের বছরের তুলনায় এবার চাঁদার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম আর্থিক চাপে পড়েছেন।
লালদীঘি ময়দান ঘিরে বসা এই মেলায় রাস্তার ধারে, মূল সড়কে এবং দোকানের আশপাশে গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকানগুলোকে কেন্দ্র করে একাধিক পক্ষের দৌরাত্ম্য চলছে বলে অভিযোগ।স্থানীয় কিছু ব্যক্তি, দোকানদার ও বিভিন্ন গোষ্ঠী এ চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।

চাঁদাবাজির বিষয়ে মেলার আয়োজক কমিটির সহ সভাপতি ইসমাইল বালী বলেন, আমাদের লোকজন মাইকিং করে চাঁদা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করছে। যে চাঁদা নিতে আসবে তার ভিডিও ধারণ করার জন্য আমরা বলেছি। আমাদের জানাতে বলেছি। আমাদের জানালে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কেউ আমাদের কাছে এসে অভিযোগ দিচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, একশো দুইশো টাকা কিংবা রং মেরে জায়গা দখল করে ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি কিছুটা সত্য, যেখানে পাঁচশো থেকে এক হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে পাঁচ-দশ হাজার বা ত্রিশ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ সত্য না, একদম মিথ্যা কথা। প্রশাসন এখানে আছে- পুলিশ, এসবি, ডিবি; তারা চাঁদাবাজদের ধরছে না কেন?

মেলার আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শওকত আনোয়ার বাদল বলেন, কমিটির পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাঁদা বা টোল তোলা হয় না। কেউ জোরপূর্বক অর্থ আদায় করলে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, আমাদের ১১ জনের একটা কমিটি আছে। চাঁদা কারা নিচ্ছে, কে করছে-এসব আমরা সবাই কমবেশি জানি। এটা আমি আর নতুন করে বলতে চাচ্ছি না। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, কিন্তু তারা তবুও নিচ্ছে। এটা দেখার দায়িত্ব পুলিশ প্রশাসনের। আমাদের আহ্বান—চাঁদাবাজি যে বা যারাই করুক, ধরিয়ে দিন। কারা চাঁদা নিচ্ছে সেটা সবাই জানে। চাঁদাবাজদের ব্যাপারে চট্টগ্রামবাসী নিশ্চয়ই সজাগ আছে।

এদিকে মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, গাড়িপ্রতি পুলিশের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ তার জানা নেই। এটা তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। আপনি তথ্য ও ডকুমেন্টস পেলে দিবেন, কর্তৃপক্ষকে জানাবো।এদিকে বৈশাখী মেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে চারজনকে শুক্রবার রাতে ধরে থানা হাজতে নিয়েছে কোতোয়ালী থানা পুলিশ।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আটকরা চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির এক যুগ্ম আহ্বায়কের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। আটকের পর তাদের ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য উচ্চ মহল থেকে তদবিরের কারণে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আফতাব উদ্দিন বলেন, যাদের ধরে আনা হয়েছে তারা মাইনর, স্কুলের শিক্ষার্থী। ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে ঝামেলা হয়েছে। তাদের ধরে আনা হয়েছে। তাদের কাগজপত্র নিয়ে আসা হয়েছে, যাচাই-বাছাই করে পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

যশোরের চাড়াভিটায় কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


যশোরে বাঘারপাড়ার চাড়াভিটা ও তার পার্শ্বতি এলাকায়  হঠাৎ নেমে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আকস্মিক ঝড় ও বজ্রপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেলা ২টার দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ডেকে   মেঘা আচ্ছন্ন হয়ে ঝড় বাতাসের সাথে বজ্র বূষ্টি শুরু হয়ে

টানা আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় চলে এই ঝড়।চাড়াভিটা বাজারে পাশেই বজ্রপাতের ঘটনা ঘটলে ও কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি উপ জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ঝড়ের কারণে দুপুরের পর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।, গত কয়েক দিন ধরে যশোর অঞ্চলে  তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে ছিল। বিশেষ করে খেটেখাওয়া মানুষ গরমে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। দুপুরের পর আকাশ কালো মেঘে গুমোট আকার ধারণ করে শুরু হয় প্রচণ্ড ঝড়। সেই সঙ্গে বজ্রপাত।

বাঘারপাড়া  উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের চাড়াভিটা বাজার সহ কয়েকটি  এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে তীব্র আঘাত হানে। বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে পড়ে এবং অনেকের ঘরের চালের টিন উড়িয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন গাছ ভেঙ্গে আঁচড়ে পড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির উপরে।যে কারণে  বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় কয়েকটি এলাকায় ভূতুড়ে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে পড়েছে। আম ও কাঁঠালেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।এলাকাবাসী জানান, এ ধরনের ঝড় অনেক দিন দেখা যায়নি।। একই সঙ্গে এলাকার কৃষকদের আম ও কাঁঠালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ