আজঃ বৃহস্পতিবার ৯ জুলাই, ২০২৬

আনাগোনা কম ক্রেতাদের

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পশুবোঝাই ট্রাক আসছে স্থায়ী-অস্থায়ী হাটে

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটগুলোতে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পশুবোঝাই ট্রাক এসেছে, সে তুলনায় ক্রেতাদের আনাগোনা অনেকটাই কম। বাজারে পশুর ঘাটতিকে পুঁজি করে অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন হাটে আসা ক্রেতারা। আবার অনেকেই এসেছেন দরদাম যাচাই করে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে পশু ক্রয় করতে। গোখাদ্য, পরিবহন ও লালন-পালনে খরচ বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর দামও নাগালের বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

ক্রেতারা জানান, কোরবানি পশুর আকাশচুম্বী দামে এখন দেখতে আসা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়েছেন এবং পশু দেখতে এসেই সন্তুষ্ট হচ্ছেন তারা। তাদের দাবি, বিক্রেতারা এখনো পশু বিক্রিতে আগ্রহী নন। এ কারণে তারা অতিরিক্ত দাম হাঁকছেন। পশুর হাটের হাসিল নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।

খামার-সংশ্লিষ্টরা জানান, উৎপাদন কমে যাওয়ায় কোরবানি ঈদে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে থাকতে পারে পশুর দাম। বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক পশু চট্টগ্রামের বাজারে আসছে। নগরের সাগরিকা, মইজ্জ্যারটেক ও পাহাড়তলীসহ এগ্রোগুলোতে জমতে শুরু করেছে বেচাকেনার জোরেশোরে প্রস্তুতি। খামারিরা বলছেন, গোখাদ্য ও পরিচর্যার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তারা কিছুটা শঙ্কার মধ্যে আছেন। তবে এবারের ঈদে বাজারে ভালো দামের পশুর চাহিদা থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৫ হাজার পশুর ঘাটতি আছে। যা গেল বছরের তুলনায় বড় ফারাক। ২০২৪ সালে উৎপাদন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি এবং ২০২৩ সালে ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৫টি। সেই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী ধারা ভেঙে ৭ লাখ ৮৩ হাজারে নেমে আসাকে ডেইরি খাতের বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়ভাবে গৃহপালিত পশুর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৯টি ষাঁড়, ৯০ হাজার ৪৮৮টি বলদ, ৩৩ হাজার ৭৯২টি গাভি, ৪৭ হাজার ৮৩৪টি মহিষ, ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি ছাগল ও ৪১ হাজার ৪২৩টি ভেড়া এবং ৯৬টি অন্যান্য পশু।

প্রাণিসম্পদ অফিস তথ্যসূত্রে আরও দেখা যায়, চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চল ও উপজেলাগুলোতে পশুর উদ্বৃত্ত থাকলেও নগর এলাকায় ঘাটতি বেশি। উপজেলাগুলোর মধ্যে মিরসরাইয়ে ৬ হাজার ৫১০টি, সন্দ্বীপে ১১ হাজার ৬০৪টি, সীতাকুণ্ডে ৩ হাজার ২৩০টি, ফটিকছড়িতে ৭ হাজার ৮১৮টি এবং লোহাগাড়ায় ৬ হাজার ৯৭৬টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এ ছাড়া বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ-সংশ্লিষ্টরা জানান, সুস্থ ও প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকৃত পশু বাজারে আনতে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে এবং খামারিরাও লাভবান হবেন।
সরেজমিনে পশুর হাটে গিয়ে বিভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতাদের একটি অংশ বিভিন্ন এগ্রো ও ফার্মের ওপর নির্ভর করায় এখনো হাটে আশা অনুযায়ী ক্রেতার দেখা মিলছে না। মানুষ আগের মতো পশুর হাটের ঝামেলা-জঞ্জালের মধ্যে আসতে চায় না। এগ্রো ও ফার্মে তারা পশু লালন-পালন করে মোটাতাজা করে আকর্ষণীয় করে তোলেন, ফলে ক্রেতাদের এখন নজর ওদিকেই বেশি।

আহমদ জমির নামের এক পশু বিক্রেতা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ফার্ম হয়ে গেছে, তাই বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি যেমন কমেছে তেমনি কমেছে আগত পশুর সংখ্যা। মানুষ এখন এগ্রো বা ফার্ম থেকে আগেভাগেই পশু কিনে রাখছেন। ফলে বাজারে ক্রেতার চাপ কমে যাচ্ছে। আমরা খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়ছি। পশু বিক্রেতা জলিল আহমদ বলেন, প্রতিনিয়ত খাদ্য, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ– সবকিছুই বাড়ছে। তাই পশুর দামও বেড়ে যাচ্ছে। আমরা ন্যায্য দাম চাইছি, লোকসান দিয়ে তো বিক্রি করতে পারব না।

সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার ফজলে আলীম চৌধুরী বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমি সিটি করপোরেশন থেকে বাজারটি ইজারা নিয়েছি। পশুর হাট এখনো জমেনি। হাটে ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন, দাম জিজ্ঞেস করে ফিরে যাচ্ছেন। অল্প অল্প করে এখানে অসংখ্য পশু আনা হয়েছে। আশা করছি, বাজার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বেচাকেনায় চাঙ্গা হয়ে উঠবে। হাসিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইজারা অনুযায়ী হাসিল নির্ধারণ করা হয়েছে।
পশু দেখতে আসা নগরের অক্সিজেন এলাকার আবু হেনা বলেন, কেনার উদ্দেশ্যে আসিনি। এসেছি কোরবানির পশু দেখতে এবং দাম যাচাই করতে। দাম, বাজার পরিস্থিতি ও পশুর সরবরাহ বিবেচনা করে কিছুদিন পরই পশু কিনতে আসব।

হাটে আসা শামীম হোসেন আখন্দ নামের ক্রেতা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম অনেক বেশি, মহিষের দামও নাগালের বাইরে। তাই বিভিন্ন হাট ঘুরছি, দেখছি, তারপর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিনব। কোরবানির জন্য ভালো পশু দরকার কিন্তু বাজেটও দেখতে হচ্ছে।
শামসুল আলম নামের অন্য এক ক্রেতা বলেন, লাখে যদি ৩ শতাংশ হাসিল দিতে হয় তাহলে গরু না কিনে রশি কিনেই বাড়ি ফিরতে হবে। এমনিতে হাটগুলোতে গরু-মহিষের দাম হাতের নাগালের বাইরে। ভাবছি, গ্রামের খামারিদের কাছ থেকে কম দামে কিনতে পারি কি না।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, চট্টগ্রাম নগরে যে সামান্য ঘাটতি রয়েছে, তা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পশু দিয়ে পূরণ হবে। বিশেষ করে বগুড়া, দিনাজপুর, কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলার বেপারিরা প্রতিবছরের মতো এবারও পশু নিয়ে আসবেন। এ ছাড়াও তিন পার্বত্য জেলাতেও চাহিদার তুলনায় পশু উদ্বৃত্ত আছে। এ ধরনের বিষয় নিয়ে খামারিদের সহায়তার জন্য উপজেলা অফিসে যেতে হবে। বড় খামারিরা অনেকেই ঋণের জন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে সহায়তা চান না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মাটিচাপায় দুই শিশুর মৃত্যু টানা ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা চার দিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জনজীবন। মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা। বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বুধবার স্থগিত করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষাও। নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি উঠেছে। নিচু এলাকার অনেক বাসায় পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও টয়লেট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচতলার বাসিন্দারা।গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর।


এদিকে বুধবার আলাদা পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে নগরের ষোলশহর মুক্তিযোদ্ধা পাহাড় ও সীতাকুণ্ড থানাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকায়। জঙ্গল সলিমপুরের খেজুরতলা সংলগ্ন বাগানবাড়ি এলাকায় সকালে পাহাড়ধসে মারা গেছে ১০ মাস বয়সী শিশু আশরাফুল ইসলাম তানভীর। এ ঘটনায় শিশুটির মা আহত হয়েছেন। তানভীর ওই এলাকার মহিন উদ্দীনের ছেলে। ষোলশহর মেয়রগলি মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ের পাশে ভূমিধসে মারা গেছে সুমাইয়া আকতার (১১) নামে অপর এক শিশু। দুপুর ১টার দিকে এই পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে।পাঁচলাইশ থানার ওসি জাহেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বৃষ্টির মধ্যে পাহাড়ধসে ঘরের ওপর পড়ে। এতে শিশুটি আহত হয়। পরে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে বুধবার সকাল ১০টার দিকে জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে মাহিন উদ্দিনের ঘরের ওপর পড়ে। এ সময় ঘরের ভেতরে থাকা মাহিনের ছেলে তানভীর মাটিচাপা পড়ে গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। একই ঘটনায় শিশুটির মা আহত হন।

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মোহাম্মদ মহিনুল ইসলাম জানান, সকালে পাহাড়ধসে জঙ্গল সলিমপুরে এক শিশু মারা গেছে। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।
উল্লেখ্য, জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে লক্ষাধিক লোকের বসতি। পাহাড় কেটে গড়ে তোলা এসব বসতির অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবছর বৃষ্টিতে সেখানে পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দেয়। এর আগে মঙ্গলবার নগরের ষোলশহর ও রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ও দেয়ালধসে দুজন মারা যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কে জমেছে কোমর সমান পানি, একই অবস্থা কাতালগঞ্জেও। পানির তোড়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন নিরাপদ স্থানে।
পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার একটি ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, বারবার লোডশেডিং হচ্ছে, অথচ জেনারেটরের তেলও শেষ। বাধ্য হয়ে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে তেল আনতে ফিলিং স্টেশনে যেতে হয়েছে তাকে। অনেক কষ্টে একটি রিকশা ঠিক করলেও তার সিট পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে বলে জানান তিনি।
চকবাজারের উর্দু গলি দিয়ে পানি নেমেছে স্রোতের মতো। হাসমত উল্লাহ মুন্সেফ লেইন, তেলিপট্টি, চক সুপার মার্কেট ও কাপাসগোলায় জমে আছে কোমরসমান পানি।

এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বললেন, নিজের বাসায় পানি না উঠলেও আশপাশের পুরো এলাকা কোমরসমান পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও স্রোত এতটাই ভয়াবহ যে রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেছে, বন্ধ হয়ে গেছে গাড়ি চলাচলও। এদিকে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। যান চলাচল বন্ধ হয়ে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।
এছাড়া নগরের ইপিজেড এলাকার সড়কে জমেছে হাঁটুসমান পানি। আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় পানি কোমর পর্যন্ত। এই পানি মাড়িয়েই কর্মস্থলে যেতে হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল আমিনকে।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকাও পুরোপুরি তলিয়ে গেছে পানিতে। এই এলাকার পাঁচ নম্বর সড়ক থেকে প্রধান সড়কে উঠতে মাত্র এক কিলোমিটারেরও কম পথ পাড়ি দিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবু আজাদের সময় লেগেছে পুরো এক ঘণ্টা। এলাকার অনেক বাড়ির নিচতলা ডুবে গেছে পানিতে। আশপাশের ফরিদারপাড়া ও শমসেরপাড়া এলাকাও পুরোপুরি পানির নিচে। শুলকবহরের আব্দুল লতিফ সড়ক ও আশপাশের এলাকা কোমরপানিতে ডুবে আছে।

টানা বর্ষণে বুধবার নতুন করে পানি উঠেছে আরও বেশ কিছু এলাকায়। সিডিএ ১ নম্বর, সিটি গেট, জামালখানের হেমসেন লেন, নাসিরাবাদ ওমেন কলেজ এলাকা, জিইসি মোড়, ফয়’স লেক, গরিব উল্লাহ শাহ মাজার এলাকা ও ইস্পাহানি রেল গেট এলাকা তলিয়ে গেছে পানিতে।জলাবদ্ধতার কারণে অনেকের বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে।

এদিকে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড মিলে ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবু ভারী বৃষ্টি হলেই আগের মতোই তলিয়ে যাচ্ছে নগর, আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি বা কাদা ছোড়াছুড়ি না করার আহ্বান জানিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এটি একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। একদিনে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে যেকোনো শহরে বন্যা হয়ে যায়, কিন্তু আল্লাহর রহমতে চট্টগ্রামে এখনো সেই পরিস্থিতি হয়নি। কোনো সংস্থাকে দোষারোপ না করে চসিক, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর একযোগে মাঠে থেকে কাজ করছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের দাবি, সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ হয়েছে এবং স্লুইস গেট ও রেগুলেটরগুলো পানি নামাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে। তবে এত অল্প সময়ে ৪১২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত সামাল দেওয়া যেকোনো আধুনিক শহরের জন্যই কঠিন পরীক্ষা।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও দুইদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ

এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে হচ্ছে এই বৃষ্টিপাত। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সম্ভাবনা রয়েছে আরও ভারী বৃষ্টির।আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি জারি করা হয়েছে পাহাড়ধসের সতর্কবার্তাও। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রামে ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে নিন্মাঞ্চল, বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা চার দিনের বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জনজীবন। মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের বিভিন্ন নিচু এলাকা। বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে বুধবার স্থগিত করা হয়েছে চট্টগ্রাম জেলায় অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষাও। নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি উঠেছে।


নিচু এলাকার অনেক বাসায় পানি ঢুকে পড়ায় রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে। কোথাও কোথাও টয়লেট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচতলার বাসিন্দারা।গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর।


এদিকে নগরের পাঁচলাইশ থানাধীন চশমা পাহাড় এলাকার পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে সুমাইয়া (১২) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে তার লাশ উদ্ধার করেন।সুমাইয়া ওই এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের মেয়ে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জোন-৪ এর উপসহকারী পরিচালক শাহ ইমরান বলেন, দুপুর ১২টা ৪৮ মিনিটে পাহাড়ধসের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দুর্ঘটনার সময় ঘরে থাকা সুমাইয়ার মা-বাবা বের হয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে পাশের কক্ষে থাকা সুমাইয়া বের হতে পারেনি।পরে পাহাড়ধসে মাটিচাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার এক নম্বর সড়কে জমেছে কোমর সমান পানি, একই অবস্থা কাতালগঞ্জেও। পানির তোড়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ঘরবাড়ি ছেড়ে অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন নিরাপদ স্থানে।
পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার একটি ভবনের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সেলিম বলেছেন, বারবার লোডশেডিং হচ্ছে, অথচ জেনারেটরের তেলও শেষ। বাধ্য হয়ে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে তেল আনতে ফিলিং স্টেশনে যেতে হয়েছে তাকে। অনেক কষ্টে একটি রিকশা ঠিক করলেও তার সিট পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে বলে জানান তিনি।

চকবাজারের উর্দু গলি দিয়ে পানি নেমেছে স্রোতের মতো। হাসমত উল্লাহ মুন্সেফ লেইন, তেলিপট্টি, চক সুপার মার্কেট ও কাপাসগোলায় জমে আছে কোমরসমান পানি। এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বললেন, নিজের বাসায় পানি না উঠলেও আশপাশের পুরো এলাকা কোমরসমান পানিতে ডুবে আছে। কোথাও কোথাও স্রোত এতটাই ভয়াবহ যে রাস্তায় মানুষের চলাচল কমে গেছে, বন্ধ হয়ে গেছে গাড়ি চলাচলও।

এদিকে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। যান চলাচল বন্ধ হয়ে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।এছাড়া নগরের ইপিজেড এলাকার সড়কে জমেছে হাঁটুসমান পানি। আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় পানি কোমর পর্যন্ত। এই পানি মাড়িয়েই কর্মস্থলে যেতে হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল আমিনকে।

চান্দগাঁও আবাসিক এলাকাও পুরোপুরি তলিয়ে গেছে পানিতে। এই এলাকার পাঁচ নম্বর সড়ক থেকে প্রধান সড়কে উঠতে মাত্র এক কিলোমিটারেরও কম পথ পাড়ি দিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আবু আজাদের সময় লেগেছে পুরো এক ঘণ্টা। এলাকার অনেক বাড়ির নিচতলা ডুবে গেছে পানিতে। আশপাশের ফরিদারপাড়া ও শমসেরপাড়া এলাকাও পুরোপুরি পানির নিচে। শুলকবহরের আব্দুল লতিফ সড়ক ও আশপাশের এলাকা কোমরপানিতে ডুবে আছে।

টানা বর্ষণে বুধবার নতুন করে পানি উঠেছে আরও বেশ কিছু এলাকায়। সিডিএ ১ নম্বর, সিটি গেট, জামালখানের হেমসেন লেন, নাসিরাবাদ ওমেন কলেজ এলাকা, জিইসি মোড়, ফয়’স লেক, গরিব উল্লাহ শাহ মাজার এলাকা ও ইস্পাহানি রেল গেট এলাকা তলিয়ে গেছে পানিতে।জলাবদ্ধতার কারণে অনেকের বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে নষ্ট হয়ে গেছে ঘরের আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। কেউ কেউ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন অপেক্ষাকৃত নিরাপদ স্থানে।

এদিকে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পানি উন্নয়ন বোর্ড মিলে ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয়ে চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। তবু ভারী বৃষ্টি হলেই আগের মতোই তলিয়ে যাচ্ছে নগর, আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

জলাবদ্ধতা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে কোনো ধরনের রাজনীতি বা কাদা ছোড়াছুড়ি না করার আহ্বান জানিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এটি একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ। একদিনে ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি হলে যেকোনো শহরে বন্যা হয়ে যায়, কিন্তু আল্লাহর রহমতে চট্টগ্রামে এখনো সেই পরিস্থিতি হয়নি। কোনো সংস্থাকে দোষারোপ না করে চসিক, সিডিএ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোর একযোগে মাঠে থেকে কাজ করছে।

সিডিএ চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের দাবি, সিডিএ’র জলাবদ্ধতা নিরসন মেগা প্রকল্পের সিংহভাগ কাজ শেষ হয়েছে এবং স্লুইস গেট ও রেগুলেটরগুলো পানি নামাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে। তবে এত অল্প সময়ে ৪১২ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত সামাল দেওয়া যেকোনো আধুনিক শহরের জন্যই কঠিন পরীক্ষা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী জানান, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও দুইদিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি থাকায় প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে হচ্ছে এই বৃষ্টিপাত। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সম্ভাবনা রয়েছে আরও ভারী বৃষ্টির।

আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি জারি করা হয়েছে পাহাড়ধসের সতর্কবার্তাও। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ