আজঃ শুক্রবার ২২ মে, ২০২৬

আনাগোনা কম ক্রেতাদের

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পশুবোঝাই ট্রাক আসছে স্থায়ী-অস্থায়ী হাটে

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের স্থায়ী ও অস্থায়ী হাটগুলোতে কোরবানির পশু আসতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শত শত পশুবোঝাই ট্রাক এসেছে, সে তুলনায় ক্রেতাদের আনাগোনা অনেকটাই কম। বাজারে পশুর ঘাটতিকে পুঁজি করে অতিরিক্ত দাম হাঁকাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন হাটে আসা ক্রেতারা। আবার অনেকেই এসেছেন দরদাম যাচাই করে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিয়ে পশু ক্রয় করতে। গোখাদ্য, পরিবহন ও লালন-পালনে খরচ বৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে মাঝারি ও ছোট আকারের গরুর দামও নাগালের বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।

ক্রেতারা জানান, কোরবানি পশুর আকাশচুম্বী দামে এখন দেখতে আসা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রয়েছেন এবং পশু দেখতে এসেই সন্তুষ্ট হচ্ছেন তারা। তাদের দাবি, বিক্রেতারা এখনো পশু বিক্রিতে আগ্রহী নন। এ কারণে তারা অতিরিক্ত দাম হাঁকছেন। পশুর হাটের হাসিল নিয়েও ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।

খামার-সংশ্লিষ্টরা জানান, উৎপাদন কমে যাওয়ায় কোরবানি ঈদে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে থাকতে পারে পশুর দাম। বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ, বগুড়া ও সিরাজগঞ্জ থেকে প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক পশু চট্টগ্রামের বাজারে আসছে। নগরের সাগরিকা, মইজ্জ্যারটেক ও পাহাড়তলীসহ এগ্রোগুলোতে জমতে শুরু করেছে বেচাকেনার জোরেশোরে প্রস্তুতি। খামারিরা বলছেন, গোখাদ্য ও পরিচর্যার খরচ বেড়ে যাওয়ায় এবার পশুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে তারা কিছুটা শঙ্কার মধ্যে আছেন। তবে এবারের ঈদে বাজারে ভালো দামের পশুর চাহিদা থাকবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩৫ হাজার পশুর ঘাটতি আছে। যা গেল বছরের তুলনায় বড় ফারাক। ২০২৪ সালে উৎপাদন ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি এবং ২০২৩ সালে ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৫টি। সেই ধারাবাহিকতা অনুযায়ী, উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী ধারা ভেঙে ৭ লাখ ৮৩ হাজারে নেমে আসাকে ডেইরি খাতের বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়ভাবে গৃহপালিত পশুর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৯টি ষাঁড়, ৯০ হাজার ৪৮৮টি বলদ, ৩৩ হাজার ৭৯২টি গাভি, ৪৭ হাজার ৮৩৪টি মহিষ, ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি ছাগল ও ৪১ হাজার ৪২৩টি ভেড়া এবং ৯৬টি অন্যান্য পশু।

প্রাণিসম্পদ অফিস তথ্যসূত্রে আরও দেখা যায়, চট্টগ্রামের গ্রামাঞ্চল ও উপজেলাগুলোতে পশুর উদ্বৃত্ত থাকলেও নগর এলাকায় ঘাটতি বেশি। উপজেলাগুলোর মধ্যে মিরসরাইয়ে ৬ হাজার ৫১০টি, সন্দ্বীপে ১১ হাজার ৬০৪টি, সীতাকুণ্ডে ৩ হাজার ২৩০টি, ফটিকছড়িতে ৭ হাজার ৮১৮টি এবং লোহাগাড়ায় ৬ হাজার ৯৭৬টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। এ ছাড়া বোয়ালখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা, পটিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্য পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ-সংশ্লিষ্টরা জানান, সুস্থ ও প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকৃত পশু বাজারে আনতে খামারিদের নিয়মিত পরামর্শ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এতে ক্রেতাদের আস্থা বাড়বে এবং খামারিরাও লাভবান হবেন।
সরেজমিনে পশুর হাটে গিয়ে বিভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। বিক্রেতারা বলছেন, ক্রেতাদের একটি অংশ বিভিন্ন এগ্রো ও ফার্মের ওপর নির্ভর করায় এখনো হাটে আশা অনুযায়ী ক্রেতার দেখা মিলছে না। মানুষ আগের মতো পশুর হাটের ঝামেলা-জঞ্জালের মধ্যে আসতে চায় না। এগ্রো ও ফার্মে তারা পশু লালন-পালন করে মোটাতাজা করে আকর্ষণীয় করে তোলেন, ফলে ক্রেতাদের এখন নজর ওদিকেই বেশি।

আহমদ জমির নামের এক পশু বিক্রেতা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ফার্ম হয়ে গেছে, তাই বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি যেমন কমেছে তেমনি কমেছে আগত পশুর সংখ্যা। মানুষ এখন এগ্রো বা ফার্ম থেকে আগেভাগেই পশু কিনে রাখছেন। ফলে বাজারে ক্রেতার চাপ কমে যাচ্ছে। আমরা খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়ছি। পশু বিক্রেতা জলিল আহমদ বলেন, প্রতিনিয়ত খাদ্য, পরিবহন ও শ্রমিক খরচ– সবকিছুই বাড়ছে। তাই পশুর দামও বেড়ে যাচ্ছে। আমরা ন্যায্য দাম চাইছি, লোকসান দিয়ে তো বিক্রি করতে পারব না।

সাগরিকা পশুর হাটের ইজারাদার ফজলে আলীম চৌধুরী বলেন, এক সপ্তাহ আগে আমি সিটি করপোরেশন থেকে বাজারটি ইজারা নিয়েছি। পশুর হাট এখনো জমেনি। হাটে ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন, দাম জিজ্ঞেস করে ফিরে যাচ্ছেন। অল্প অল্প করে এখানে অসংখ্য পশু আনা হয়েছে। আশা করছি, বাজার আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বেচাকেনায় চাঙ্গা হয়ে উঠবে। হাসিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইজারা অনুযায়ী হাসিল নির্ধারণ করা হয়েছে।
পশু দেখতে আসা নগরের অক্সিজেন এলাকার আবু হেনা বলেন, কেনার উদ্দেশ্যে আসিনি। এসেছি কোরবানির পশু দেখতে এবং দাম যাচাই করতে। দাম, বাজার পরিস্থিতি ও পশুর সরবরাহ বিবেচনা করে কিছুদিন পরই পশু কিনতে আসব।

হাটে আসা শামীম হোসেন আখন্দ নামের ক্রেতা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দাম অনেক বেশি, মহিষের দামও নাগালের বাইরে। তাই বিভিন্ন হাট ঘুরছি, দেখছি, তারপর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিনব। কোরবানির জন্য ভালো পশু দরকার কিন্তু বাজেটও দেখতে হচ্ছে।
শামসুল আলম নামের অন্য এক ক্রেতা বলেন, লাখে যদি ৩ শতাংশ হাসিল দিতে হয় তাহলে গরু না কিনে রশি কিনেই বাড়ি ফিরতে হবে। এমনিতে হাটগুলোতে গরু-মহিষের দাম হাতের নাগালের বাইরে। ভাবছি, গ্রামের খামারিদের কাছ থেকে কম দামে কিনতে পারি কি না।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর বলেন, চট্টগ্রাম নগরে যে সামান্য ঘাটতি রয়েছে, তা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পশু দিয়ে পূরণ হবে। বিশেষ করে বগুড়া, দিনাজপুর, কুষ্টিয়াসহ আশপাশের জেলার বেপারিরা প্রতিবছরের মতো এবারও পশু নিয়ে আসবেন। এ ছাড়াও তিন পার্বত্য জেলাতেও চাহিদার তুলনায় পশু উদ্বৃত্ত আছে। এ ধরনের বিষয় নিয়ে খামারিদের সহায়তার জন্য উপজেলা অফিসে যেতে হবে। বড় খামারিরা অনেকেই ঋণের জন্য ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীলতার কারণে সহায়তা চান না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভূমি সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে জনগনকে সচেতন হতে হবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভূমি সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে জনগণ সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এমন আহবান করেন।

তিনি বলেছেন, আমরা অবাস্তব পন্থায় বা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ করতে চাই না। আমরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভেটে নির্বাচিত হয়েছি। আগামীবারও যেন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে পারি এবং জনগণের সামনে মাথা উঁচু করে দাড়াঁতে পারি, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভোট চাইতে পারি সেই প্রচেষ্টা আমাদের অব্যাহত ছিল, আছে এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে সচেতন হতে হবে। জনগণ সচেতন হলে তারা জানবে ভূমি সংক্রান্ত সবাই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নয়।জনগণের কাছে আমাদের অনুরোধ, জনগণ যেন আমাদের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরেন। যেন আমরা সংশোধন হয়ে আরও ভালো কিছু করতে পারি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রমুখ।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে একটি আবেদন করেছেন, সেটি হলো- বাংলাদেশের প্রকৃত মালিক এ দেশের জনগণ। এ মালিকরা যখন আমাদের কাছে সেবা গ্রহণ করতে আসে তখন তারা যেন আমাদের সেবা গ্রহণ কার্যক্রম অনুভব করতে পারেন। ভালো সেবাটা যেন তারা পায়। আমরা যারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েছি এবং খণ্ডকালীন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি, কাজ করেন, সেবা প্রদান করেন এবং আপনারা যারা সরকারের একটি বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এখানে আছেন; আপনারা নিজ যোগ্যতায় এখানে এসেছেন। আমাদের সবার লক্ষ্য হলো- মানুষের সেবা প্রদান করা অর্থাৎ এদেশের মালিক জনগণকে সঠিক সেবাটা সম্মানের সাথে আন্তরিকতার সাথে, সততা এবং নিষ্ঠার সাথে প্রদান করা।

তিনি বলেন, আমরা সকল কার্যক্রম যেন প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানকে মাথায় রেখে পরিচালনা করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সর্বোচ্চ চেষ্টা হচ্ছে- সমাজের প্রথম সুবিধা বঞ্চিতদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা সেই প্রচেষ্টায় আছি। আমরা চেষ্টা করছি একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে আমাদের দায়িত্বে যেগুলো আছে, বিশেষ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেসকল দপ্তর আছে সেখানে দুর্নীতিকে আস্তে আস্তে কিভাবে কমিয়ে আনা যায়। জনসেবা, দ্রুতসেবা এবং জমি সংক্রান্ত সকল সেবা কিভাবে নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।

দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অপটোমেট্রিস্ট নেই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্সের ১৭ তম ব্যাচের নবীন বরণ অদ্য ২১ মে,২০২৬ ইং বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)’র ইমরান সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (চমেবি)’র অধীনে চক্ষু হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলোজি (আইসিও)’র উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল আলীম রিফাতের কোরআন তেলাওয়াত ও ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী রিপান্বিতা দেবীর শ্রীমদ্ভগবদ গীতা পাঠের মাধ্যমে সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সিইআইটিসি’র উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের সমন্বয় থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও অভিভাবকবৃন্দের তদারকিতে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবনের আলো জ্বালাতে পারে।

সারাদেশে চক্ষু সেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে দক্ষ অপটোমেট্রিস্ট ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, বিশ্বে অপটোমেট্রি বহুল প্রচলিত নাম হলেও আমাদের দেশে এটি একেবারে নতুন। একজন চিকিৎসকের সাথে চারজন অপটোমেট্রিস্ট থাকার কথা থাকলেও দেশে তার সংখ্যা একেবারে সীমিত। তাই বছরে ৫০০ অপটোমেট্রিস্ট তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পড়ালেখায় মনোযোগী হয়ে নিজেকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ অপটোমেট্রিস্ট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

সিইআইটিসি’র ম্যানেজিং ট্রাষ্টি ডা.কিউ.এম.অহিদুল আলম বলেন, মনোযোগী, মেধা শ্রম থাকলে সব কিছুতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এদেশে যে পরিমাণ চক্ষু চিকিৎসক রয়েছে সেই তুলনায় অপটোমেট্রিস্ট নেই বললেই চলে। তিনি এখান থেকে উন্নত শিক্ষার মাধ্যমে অপটোমেট্রিস্টরা যাতে সারাদেশে এমনকী বহিবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অপটোমেট্রি কোর্স শেষ করে তোমরা দেশের বাহিরে গিয়ে মাষ্টার্সও শেষ করতে পারবে এটাই আমার বিশ্বাস। তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনার পাশাপাশি উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

আইসিও’র পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা.মো.মনিরুজ্জামান ওসমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, আইসিও’র সহকারী অধ্যাপক ও কোর্স কোডিনেটর (অপ্টোমেট্রি) জুয়েল দাশ গুপ্ত। অনুষ্ঠানে ৫ জন শিক্ষার্থী সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের তরুণ-তরুণী শিরোনামে কবিতাটি আবৃতি করেন ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জহুরা ও ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাহিন হাসান।

দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের ট্রেজারার রেজওয়ান শহিদী, মেডিকেল ডিরেক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব হোসেন, চীফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, আইসিও’র অধ্যাপক ডা. জেসমিন আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোমা রানী রায়। বক্তব্য রাখেন, অভিভাবক আবদুল হাকিম রানা, নবীণ শিক্ষার্থী আসমা উল হুসনা তানিসা।

আইসিও’র অপটোমেট্রিস্ট ফ্যাকাল্টি মেম্বার মোশরাফাতুল জান্নাত আঁখি ও জান্নাতুল ফেরদৌসের যৌথ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্সের নবীন ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে বরণের পাশাপাশি ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ বর্ষের চুড়ান্ত পরিক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখা ১৪ জন শিক্ষার্থীকে নগদ টাকা বৃত্তি ও শিক্ষা সনদ প্রদান করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী বলেন, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন স্যারের প্রচেষ্টায় এখানে অপটোমেট্রি গ্রেজুয়েশন কোর্স অনেক বছর আগে শুরু হয়েছে। একমাত্র এই চক্ষু হাসপাতালে দেশের প্রথম এই কোর্সটি চালুর পর থেকে ক্রমান্বয়ে এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের মত তিনি উন্নয়নশীল দেশে চক্ষু চিকিৎসা সেবায় অপটোমেট্রিস্টদের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

উপস্থিত ছিলেন, সহকারী অধ্যাপক শেখ তামিমা হাসান, প্রভাষক জান্নাতুন নূর, প্রভাষক শ্রী প্রণয় রায়, প্রভাষক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস খান, টিচিং এসিসট্যান্ট নিশিতা আফরিন, অপটোমেট্রিস্ট ফ্যাকাল্টি মেম্বার মো. মাঈন উদ্দিন খান ও সনি দাস, সিনিয়র রিসার্স অফিসার তানজিলা সুলতানা, আইসিও’র সহকারী ব্যবস্থাপক (ফিনান্স) মো. জসিম উদ্দিন, সিনিয়র এডমিন অফিসার মো. সাইফুর রহমানসহ আইসিও’র সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

আলোচিত খবর

পবিত্র ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, ২৩ মে।শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি থাকছে। তবে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে আগামীকাল শনিবারের ২৩ মে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের ছুটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর আগে ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও পরদিন ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ