আজঃ বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬

ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্সের ১৭ তম ব্যাচের নবীন বরণ

দেশে প্রয়োজনের তুলনায় অপটোমেট্রিস্ট নেই

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্সের ১৭ তম ব্যাচের নবীন বরণ অদ্য ২১ মে,২০২৬ ইং বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)’র ইমরান সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (চমেবি)’র অধীনে চক্ষু হাসপাতালের ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলোজি (আইসিও)’র উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল আলীম রিফাতের কোরআন তেলাওয়াত ও ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী রিপান্বিতা দেবীর শ্রীমদ্ভগবদ গীতা পাঠের মাধ্যমে সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সিইআইটিসি’র উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকের সমন্বয় থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, শিক্ষকদের আন্তরিকতা ও অভিভাবকবৃন্দের তদারকিতে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবনের আলো জ্বালাতে পারে।

সারাদেশে চক্ষু সেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যে দক্ষ অপটোমেট্রিস্ট ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বলেন, বিশ্বে অপটোমেট্রি বহুল প্রচলিত নাম হলেও আমাদের দেশে এটি একেবারে নতুন। একজন চিকিৎসকের সাথে চারজন অপটোমেট্রিস্ট থাকার কথা থাকলেও দেশে তার সংখ্যা একেবারে সীমিত। তাই বছরে ৫০০ অপটোমেট্রিস্ট তৈরি করতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পড়ালেখায় মনোযোগী হয়ে নিজেকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ অপটোমেট্রিস্ট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তাহলে দেশ ও জাতি উপকৃত হবে।

সিইআইটিসি’র ম্যানেজিং ট্রাষ্টি ডা.কিউ.এম.অহিদুল আলম বলেন, মনোযোগী, মেধা শ্রম থাকলে সব কিছুতে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। এদেশে যে পরিমাণ চক্ষু চিকিৎসক রয়েছে সেই তুলনায় অপটোমেট্রিস্ট নেই বললেই চলে। তিনি এখান থেকে উন্নত শিক্ষার মাধ্যমে অপটোমেট্রিস্টরা যাতে সারাদেশে এমনকী বহিবিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, অপটোমেট্রি কোর্স শেষ করে তোমরা দেশের বাহিরে গিয়ে মাষ্টার্সও শেষ করতে পারবে এটাই আমার বিশ্বাস। তিনি নবাগত শিক্ষার্থীদের পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনের জন্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনার পাশাপাশি উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

আইসিও’র পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা.মো.মনিরুজ্জামান ওসমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, আইসিও’র সহকারী অধ্যাপক ও কোর্স কোডিনেটর (অপ্টোমেট্রি) জুয়েল দাশ গুপ্ত। অনুষ্ঠানে ৫ জন শিক্ষার্থী সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের তরুণ-তরুণী শিরোনামে কবিতাটি আবৃতি করেন ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফাতেমা তুজ জহুরা ও ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. মাহিন হাসান।

দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের ট্রেজারার রেজওয়ান শহিদী, মেডিকেল ডিরেক্টর ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব হোসেন, চীফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, আইসিও’র অধ্যাপক ডা. জেসমিন আহমেদ, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোমা রানী রায়। বক্তব্য রাখেন, অভিভাবক আবদুল হাকিম রানা, নবীণ শিক্ষার্থী আসমা উল হুসনা তানিসা।

আইসিও’র অপটোমেট্রিস্ট ফ্যাকাল্টি মেম্বার মোশরাফাতুল জান্নাত আঁখি ও জান্নাতুল ফেরদৌসের যৌথ উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে ব্যাচেলর অব সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্সের নবীন ৩৫ জন শিক্ষার্থীকে বরণের পাশাপাশি ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ বর্ষের চুড়ান্ত পরিক্ষায় মেধার স্বাক্ষর রাখা ১৪ জন শিক্ষার্থীকে নগদ টাকা বৃত্তি ও শিক্ষা সনদ প্রদান করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী বলেন, অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন স্যারের প্রচেষ্টায় এখানে অপটোমেট্রি গ্রেজুয়েশন কোর্স অনেক বছর আগে শুরু হয়েছে। একমাত্র এই চক্ষু হাসপাতালে দেশের প্রথম এই কোর্সটি চালুর পর থেকে ক্রমান্বয়ে এর চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের মত তিনি উন্নয়নশীল দেশে চক্ষু চিকিৎসা সেবায় অপটোমেট্রিস্টদের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।

উপস্থিত ছিলেন, সহকারী অধ্যাপক শেখ তামিমা হাসান, প্রভাষক জান্নাতুন নূর, প্রভাষক শ্রী প্রণয় রায়, প্রভাষক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস খান, টিচিং এসিসট্যান্ট নিশিতা আফরিন, অপটোমেট্রিস্ট ফ্যাকাল্টি মেম্বার মো. মাঈন উদ্দিন খান ও সনি দাস, সিনিয়র রিসার্স অফিসার তানজিলা সুলতানা, আইসিও’র সহকারী ব্যবস্থাপক (ফিনান্স) মো. জসিম উদ্দিন, সিনিয়র এডমিন অফিসার মো. সাইফুর রহমানসহ আইসিও’র সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভূমি সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে জনগনকে সচেতন হতে হবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভূমি সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে জনগণ সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এমন আহবান করেন।

তিনি বলেছেন, আমরা অবাস্তব পন্থায় বা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ করতে চাই না। আমরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভেটে নির্বাচিত হয়েছি। আগামীবারও যেন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে পারি এবং জনগণের সামনে মাথা উঁচু করে দাড়াঁতে পারি, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভোট চাইতে পারি সেই প্রচেষ্টা আমাদের অব্যাহত ছিল, আছে এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে সচেতন হতে হবে। জনগণ সচেতন হলে তারা জানবে ভূমি সংক্রান্ত সবাই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নয়।জনগণের কাছে আমাদের অনুরোধ, জনগণ যেন আমাদের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরেন। যেন আমরা সংশোধন হয়ে আরও ভালো কিছু করতে পারি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রমুখ।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে একটি আবেদন করেছেন, সেটি হলো- বাংলাদেশের প্রকৃত মালিক এ দেশের জনগণ। এ মালিকরা যখন আমাদের কাছে সেবা গ্রহণ করতে আসে তখন তারা যেন আমাদের সেবা গ্রহণ কার্যক্রম অনুভব করতে পারেন। ভালো সেবাটা যেন তারা পায়। আমরা যারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েছি এবং খণ্ডকালীন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি, কাজ করেন, সেবা প্রদান করেন এবং আপনারা যারা সরকারের একটি বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এখানে আছেন; আপনারা নিজ যোগ্যতায় এখানে এসেছেন। আমাদের সবার লক্ষ্য হলো- মানুষের সেবা প্রদান করা অর্থাৎ এদেশের মালিক জনগণকে সঠিক সেবাটা সম্মানের সাথে আন্তরিকতার সাথে, সততা এবং নিষ্ঠার সাথে প্রদান করা।

তিনি বলেন, আমরা সকল কার্যক্রম যেন প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানকে মাথায় রেখে পরিচালনা করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সর্বোচ্চ চেষ্টা হচ্ছে- সমাজের প্রথম সুবিধা বঞ্চিতদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা সেই প্রচেষ্টায় আছি। আমরা চেষ্টা করছি একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে আমাদের দায়িত্বে যেগুলো আছে, বিশেষ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেসকল দপ্তর আছে সেখানে দুর্নীতিকে আস্তে আস্তে কিভাবে কমিয়ে আনা যায়। জনসেবা, দ্রুতসেবা এবং জমি সংক্রান্ত সকল সেবা কিভাবে নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।

চট্টগ্রাম বন্দর ভিত্তিক শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয়, পণ্য চুরি করে অনেকে কোটিপতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর থেকে কোটি টাকার কাপড় বোঝাই কনটেইনার পাচারের ঘটনায় দুই কর্মচারীকে গ্রেফতার করেছে বন্দর থানা পুলিশ।অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমান ও আবু সুফিয়ান নামের ওই দুই কর্মচারীকে আটক করা হয়। মিজানুর রহমান (৩৫) পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার উলুবাড়িয়া গ্রামের মৃত ওয়াহাব আকনের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে উচ্চমান বহিঃ সহকারী হিসেবে কর্মরত। অপরদিকে আবু সুফিয়ান (৪০) নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার শহীদ উল্ল্যাহ মাস্টার বাড়ির মৃত আবু তাহেরের ছেলে। তিনি বন্দরের কিপ ডাউন এসসি-১৮৮ পদে কর্মরত রয়েছেন।

জানা গেছে, বন্দর ভিত্তিক একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরি করে অনেকে আজ কোটিপতি বনে গেছে। দেড় বছর আগে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে চোরাই পণ্যসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে কারাভোগ করলেও জামিনে বের হয়ে ফের একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে দুইভাই। বন্দর থেকে খালাস করা চীন থেকে আমদানিকৃত ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির মূলহাতা যমজ দুই ভাইকেও পুলিশ সম্প্রতি মগ্রেফতার করেছ।

এদিকে কনটেইনার পাচারের ঘটনায় দুই কর্মচারীকে গ্রেফতারের বিষয়ে ‎পুলিশ জানায়, গত বছরের ৪ আগস্ট থেকে চলতি বছরের ২ এপ্রিলের মধ্যে চীন থেকে আমদানিকৃত গার্মেন্টসের কাপড় বোঝাই একটি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের ইয়ার্ড থেকে চুরি হয়। পরে এ ঘটনায় বন্দর থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পাচার হওয়া কনটেইনারটি গাজীপুরের মোয়াজউদ্দিন টেক্সটাইল লিমিটেড আমদানি করেছিল। টিসিএলইউ৮৫৫৭৩০৪ নম্বরের ৪০ ফুট কনটেইনারটিতে কয়েক কোটি টাকার কাপড় ছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, কনটেইনারটি বন্দরে পৌঁছানোর পর বার্থ অপারেটর বশির আহাম্মদের মাধ্যমে জাহাজ থেকে খালাস করা হয় এবং পরে বন্দরের জে আর ইয়ার্ডে রাখা হয়। পরবর্তীতে সিঅ্যান্ডএফ অ্যাজেন্ট এস জামান অ্যান্ড ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেড শুল্ককর পরিশোধ করে কনটেইনারটি ডেলিভারি নিতে গেলে ইয়ার্ডে সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে বিষয়টি নিয়ে বন্দর থানায় মামলা করা হয়।

‎বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুর রহিম জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে গিয়ে বন্দরের দুই কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপর বুধবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।তিনি বলেন, ‎ কনটেইনার পাচারের ঘটনায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর থেকে পণ্য বোঝাই কনটেইনার পাচারের জড়িত একাধিক চক্র সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে চক্রের কয়েকজন সদস্য গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছে। কিন্তু তারা কারাগারে থাকলেও তাদের সদস্যরা হরহামেশা কন্টেইনার বোঝাই পণ্য পাচার করে আসছে।

সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরি করা করাই নুরউদ্দিন-মঈনউদ্দিন নামে যমজ দুই ভাই ছিল দুধর্ষ। দেড় বছর আগে গোয়েন্দা পুলিশের কাছে চোরাই পণ্যসহ হাতেনাতে ধরা পড়ে কারাভোগ করলেও জামিনে বের হয়ে ফের একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে দুইভাই। বন্দর থেকে খালাস করা চীন থেকে আমদানিকৃত ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির মূলহাতাও যমজ দুই ভাই। নগর গোয়েন্দা পুলিশ মঈনউদ্দিনকে তার গ্রামের বাড়ি পটিয়ার বাকখাইন থেকে গ্রেফতার করে। এর আগে গ্রেফতার হয়েছে নুর উদ্দিনের কাভার্ডভ্যান চালক নীরব চৌধুরী সাকিব, সহযোগী সাখাওয়াত হোসেন ও আশিক রায়হান নামে আরো তিনজন। তবে নুরউদ্দিন পুলিশের হাত ফসকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। নগরীর কদমতলী ডিটি রোডে তাদের ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের অফিসও রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, অভাবের তাড়নায় ছয় বছর আগে পটিয়ার বাকখাইনের গ্রামের বাড়ি ছেড়ে নগরীতে আসে দুই ভাই। শুরুর দিকে গাড়ির হেলপারের চাকরি করতো। তবে খুব বেশি দিন নয়। পরিচয় হয় পণ্য চুরি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্য মনার সঙ্গে। জড়িয়ে পড়ে বন্দর থেকে বের হওয়া পণ্য চুরির সিন্ডিকেটে। ছয় বছরের মাথায় দুই ভাই পণ্য চুরির সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। এরমধ্যে তারা কিনেছেন বেশ কয়েকটি কাভার্ডভ্যান। ক্রোকারিজ পণ্য চুরিতে ব্যবহৃত যে কাভার্ডভ্যানটি গোয়েন্দা পুলিশ জব্দ করেছে সেটিও নুরউদ্দিনের। যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করেন অর্ধ লক্ষ টাকা দামের এসইউভি (স্পোর্টস ইউটিলিটি ভ্যাহিকেল) এইচআর কার। গাড়িটি নিয়েছেন কয়েক সপ্তাহ আগে। এরআগে নিশান এক্সট্রেইল জিপ ব্যবহার করতো। রয়েছে পাঁচ লাখ টাকা দামের ইয়ামাহা (আর ওয়ান-৫) মোটরসাইকেল। গ্রামে তৈরি করেছে সিসি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত কোটি টাকার ভবন। গাড়িগুলো পুলিশ জব্দ করেছে।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, বন্দর থেকে পণ্য চুরি করা নুরউদ্দিন-মঈনউদ্দিনের পেশা। তারা বিষয়টিকে ব্যবসা হিসাবে দেখেন। ক্রোকারিজ পণ্য চুরির ঘটনার মূলহোতাও দুই ভাই। তাদের মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি কাভার্ডভ্যান রয়েছে। বন্দর ভিত্তিক তাদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। চোরাই পণ্য খালাস করার জন্য নগরীতে তাদের নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে। কাভার্ডভ্যানের দরজার সিল নিখুঁতভাবে খোলা-বাধা করার জন্য তাদের নির্দিষ্ট লোক রয়েছে। একটি কাভার্ডভ্যানের দরজার সিল খোলা বাধা করতে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হয়। যে কাভার্ডভ্যান থেকে ক্রোকারিজ পণ্য চুরি হয়েছে সেটির মালিক নুরউদ্দিন।

মঈনউদ্দিনকে পটিয়ার বাকখাইনের গ্রামের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় নুরউদ্দিন পালিয়ে যায়। গ্রামের বাড়ির চারপাশে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা লাগানো। একতলা বাড়িটির ভেতরে লাগানো হয়েছে চোখ ধাঁধানো আসবাবপত্র। দুই ভাইয়ের ব্যবহৃত একটি অর্ধলক্ষ টাকা দামের কার, পাঁচ লাখ টাকা দামের একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। নুরউদ্দিন পলাতক রয়েছে।

ওই মামলার এজাহারে যা বলা হয়েছে, গত ১১ মে ৪০ লাখ টাকার ক্রোকারিজ পণ্য চুরির অভিযোগ এনে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন ব্যবসায়ী জামাল হোসেন। এজাহারে তিনি বলেন, তিনি একজন আমদানিকারক। মেসার্স সিয়াম ট্রেডার্স নামে ঢাকায় তাদের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি চীন থেকে ১২০০ কার্টন ক্রোকারিজ পণ্য আমদানি করেন। পণ্যগুলো বন্দর থেকে খালাস করার পর গত ৫ মে সকাল সাড় দশটায় তিনটি কাভার্ডভ্যানে পণ্যগুলো ঢাকায় পাঠায়। রাত ১১টা থেকে দেড়টার মধ্যে পণ্যবর্তী কাভার্ডভ্যান ঢাকায় পৌঁছায়। ৬ মে সকাল সাড়ে দশটার সময় পণ্যগুলো নামাতে গিয়ে দেখা যায় ঢাকামেট্রো-ট-১৩-০৩৯৫ নম্বর কাভার্ডভ্যানে ৯৪ কার্টন ক্রোকারিজ পণ্য কম পাওয়া যায়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৪০ লাখ টাকা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম জানান, মামলা দায়েরের পর টানা অভিযানে মঈনউদ্দিন ও কাভার্ডভ্যান চালকসহ দুই সহযোগী গ্রেফতার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৫০ কার্টন ক্রোকারিজ। এসব পণ্যগুলো টেরিবাজার এলাকায় গুদামে রাখা হয়েছিল।

এর আগে ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি বেলা সাড়ে তিনটার সময় নগরীর পাহাড়তলী পোর্ট কানেকটিং রোডের সরাইপাড়া বাস স্টপেজ এলাকা থেকে নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিনকে গ্রেফতার করে নগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছে ছয়টি কাপড়ের রোল পাওয়া যায়। যেগুলোর কোন কাগজপত্র তাদের কাছে ছিল না। এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ৩ জানুয়ারি পাহাড়তলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. হারুন অর রশিদ। ২০২৪ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দুই যমজভাইসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রবিউল ইসলাম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিন দুই ভাই। আরিফুর রহমান নামে এক ব্যক্তি পাহাড়তলীতে বসবাস করেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে চোরাই চক্রের সঙ্গে জড়িত। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কাপড় ও সুতার রোল ঢাকাগামী কাভার্ডভ্যান খুলে চুরি করে তারা। ট্রান্সপোর্ট ব্যবসার আড়ালে বন্দর থেকে বের বের হওয়া পণ্যবাহী কাভার্ডভ্যান থেকে পণ্য চুরি করে। এটাই তাদের একমাত্র পেশা। ঘটনাস্থল থেকে নুরউদ্দিন ও মঈনউদ্দিনকে ছয় রোল চোরাই কাপড়সহ গ্রেফতার করা হলেও সহযোগী আরিফুর রহমান পলাতক রয়েছে।

আলোচিত খবর

রক্তপাতহীন নির্বাচন’ আয়োজনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অতীতের শত শত প্রাণহানি ও সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এসব ভয়াবহ অভিজ্ঞতার প্রেক্ষাপটে এবার ‘রক্তপাতহীন নির্বাচন’ আয়োজনকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা আনফ্রেল বলেছে, ইসি আগের তুলনায় অধিক নিরপেক্ষতা দেখালেও নির্বাচনী অর্থের প্রভাব, পেশিশক্তি, জবাবদিহির ঘাটতি ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ সংকট এখনো বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা হয়ে রয়েছে। ফলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে চাপ ও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে কমিশন, এমনটাই আশংকা করা হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন এবং আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল)-এর প্রতিনিধিরা এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন-অতীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে ব্যাপক সংঘাত, সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ ও রক্তপাতহীন নির্বাচন আয়োজন করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য রাজনৈতিক দল, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ভোটারসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সিইসি জানান, দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং প্রায় ৩৩০টি পৌরসভার নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। এত বিপুল সংখ্যক নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ছবি সংগৃহীত –
[email protected]

আরও পড়ুন

সর্বশেষ