আজঃ বুধবার ১০ জুন, ২০২৬

নগরবাসীর দুর্ভোগ * ঝুঁকি নিয়ে চলছেন পথচারীরা * ফুটপাত সংস্কারের সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

একদিনে ২শ’ দোকান উচ্ছেদ, ফের দখল চট্টগ্রাম মহানগরে সড়ক-ফুটপাত ঘিরে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের ফুটপাতগুলো স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনীতিক, ছাত্রনেতা, স্থানীয় চাঁদাবাজরা এলাকাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ করে চাঁদা আদায় করে আসছে। নগরীর ব্যস্ততম সড়কগুলোর ফুটপাতে হকার বসিয়ে, সড়কে অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ড কিংবা ভ্যান গাড়ির ভাসমান বাজার বসিয়ে এমন কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি চলছে।

বিভিন্ন গ্রুপের নামে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে চলছে এই চাাঁদাবাজির মহোৎসব। প্রভাবশালী নেতাদের নাম ভাঙিয়ে ফুটপাত ও রাস্তা দখলের অপতৎপরতা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরবাসীর দুর্ভোগ বেড়েছে। হঠাৎ করেই দোকান, ভ্যান ও অস্থায়ী স্টলের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় পথচারীকে চলন্ত যানবাহনের মধ্য দিয়েই চলতে হয়। ফুটপাতে হাঁটতে না পেরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কেই চলছেন পথচারীরা। এতে করে সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে মূল সড়ক। নির্বিঘ্নে হাঁটাচলা করতে ফুটপাত রাখার যে বিধান রয়েছে তা একেবারেই উপেক্ষিত।

এদিকে গত শনিবার নগরের নিউ মার্কেট মোড় থেকে ওমর চাঁদ রোড হয়ে সদরঘাট রোড পর্যন্ত এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত থেকে প্রায় ২০০টি ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। তবে চসিক অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করে, হকার-ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ফের দখল করে। ফলে সুফল মিলছে না সম্প্রসারিত সড়কগুলোর।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্যস্ত এলাকায় ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে প্রভাবশালী চক্রের ব্যবসা চলছে। দখল করা ফুটপাত এবং রাস্তায় ভাসমান ভ্যান এবং হকারদের কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হয়। এই টাকা ভাগ হয় নানাভাবে।

চান্দগাঁও থানাধীন বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের সামনে থেকে আবাসিক এলাকার রাস্তা পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে বসানো হয়েছে দোকান। শাকসবজি, কাপড়চোপড়, খেলনা, জুতা, মোজা, বিভিন্ন ধরনের ফলসহ রকমারি পণ্যের এসব দোকান বসিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। একটি দোকান থেকে দৈনিক পাঁচশ টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয় বলে অনুসন্ধান করে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে স্থানীয় একেকটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে সড়ক ও ফুটপাত দখল করে হকারদের কাছে ভাড়া দিচ্ছে। প্রতিটি ভাসমান দোকানকে দৈনিক ভিত্তিতে টাকা দিয়ে ব্যবসা করতে হয়। দখলদারিত্বের কারণে কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা সম্প্রসারণের উদ্দেশ্য ভেস্তে গেছে। ফুটপাত সংস্কারের সুফলও পাচ্ছে না নগরবাসী।

অন্যদিকে নগরীর জিইসি মোড়ে সেন্ট্রাল প্লাজার পাশের ফুটপাত দখল হয়েছে অনেক আগে। রাস্তার উপরও স্থাপন করা হয়েছে ভাসমান হকারদের দোকান। এই মার্কেটের পাশের রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ সিমেন্টের ব্লক দিয়ে ও আর নিজাম রোড থেকে বামে যাওয়া গাড়িগুলোর জন্য সিঙ্গেল একটি লেন করেছে। একটি গাড়ি কোনোরকমে সরু লেনটি দিয়ে চলতে পারে। গত কদিন ধরে ওই সরু লেনের রাস্তা দখল করে কয়েকটি টেবিল বসানো হয়েছে। এছাড়া নগরীর ওয়াসা ও ইস্পাহানীর মোডেও ফুটপাত দখল করা হচ্ছে।
এদিকে জামালখানে রাস্তার উপর কয়েকশ ভ্যানে বেচাকেনা চলে। মোড়টিতে বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে ব্যবসা।

চকবাজারের চক সুপার মার্কেট থেকে ফুলতলা, কেয়ারি থেকে অলি খাঁ মসজিদ, তেলপট্টি থেকে চক সুপার মার্কেট পর্যন্ত সড়কের উপর প্রতিদিন অন্তত শ’তিনেক দোকান বসে।চট্টগ্রাম মেডিকেলের সামনের ফুটপাত, রাস্তা, চট্টেশ্বরী রোডের মোড়, জয়নগরের রাস্তার মোড়সহ পুরো এলাকায় ফুটপাত ও রাস্তায় বেচাকেনা চলছে। চকবাজার থেকে ডিসি রোড, দেওয়ান বাজার থেকে চন্দনপুরা হয়ে আন্দরকিল্লা মোড়, আন্দরকিল্লা মসজিদের সামনে থেকে লালদিঘি, নিউ মার্কেট, স্টেশন রোড, লালদিঘি থেকে কোতোয়ালী মোড়, জিপিও থেকে নিউ মার্কেট মোড়, সিরাজউদৌলা রোড, চকবাজারসহ যত্রতত্র ভ্যান এবং টেবিলে নানা পণ্যের ব্যবসা চলে।

নগরীর উইম্যান কলেজ মোড় থেকে গার্লস স্কুল পর্যন্ত রাস্তাটি ব্যস্ত একটি সড়ক। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাটির হাজার হাজার মানুষ ছাড়াও অসংখ্য ছাত্রী নিয়মিত এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। বহু আগে মোড়ে একটি সবজির বাজার তৈরি করা হয়। গত কয়েক মাস ধরে পুরো রাস্তাটিতে অসংখ্য ভ্যানগাড়ি দখল করে নিয়েছে।
নগরবাসী বলছেন, বর্তমান মেয়র রাজনৈতিকভাবে অভিজ্ঞ, তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ফুটপাত দখলমুক্ত করা কঠিন নয়। নগরবাসীকে চলাচলের জন্য ফুটপাত মুক্ত করতে তিনি কঠোর সিদ্ধান্ত নিলেই পাল্টে যাবে চট্টগ্রামের চেহারা।

তবে– চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) দাবি করেছে, তারা নিয়মিত হকার উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে, যাতে ফুটপাত পথচারীদের চলাচলের উপযোগী থাকে। কিন্তু বাস্তবে এসব অভিযানের স্থায়ী কোনো প্রভাব পড়ে না। অভিযান শেষ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হকাররা আবার জায়গা দখল করে নেয়।

নগরবাসীর মতে, ফুটপাতে শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই হবে না। পুনরুদ্ধার হওয়া ফুটপাত পুনর্দখল রোধে নিয়মিত মনিটরিং করতে হবে। প্রয়োজনে মিনি বাগান করে দিয়ে বা অন্য কোনো উপায়ে উচ্ছেদের মাধ্যমে পুনরুদ্ধার করা জায়গা সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় উচ্ছেদ করেও কাজ হবে না। কেউ কেউ ফুটপাতের পরিবর্তে বিকল্প স্থানে হকারদের বসার জায়গা

করে দেয়ার পরামর্শ দেন।
এদিকে গত শনিবার নগরের নিউ মার্কেট মোড় থেকে ওমর চাঁদ রোড হয়ে সদরঘাট রোড পর্যন্ত এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত থেকে প্রায় ২০০টি ভাসমান দোকান উচ্ছেদ করেছে চসিক। অভিযানে পাশের ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মো. সোয়েব উদ্দিন খান।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশনায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখার লক্ষ্যে আজকের এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অবৈধ স্থাপনা ও টং দোকানের কারণে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল এবং যানজটও বাড়ছিল। এসব সমস্যা নিরসনে আমরা ধারাবাহিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করছি।

তিনি বলেন, মেয়র মহোদয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা হচ্ছে, নগরের কোনো ফুটপাত বা সড়ক অবৈধভাবে দখল করে রাখা যাবে না। জনগণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত স্থান জনগণের কাছেই ফিরিয়ে দিতে হবে। সে লক্ষ্যে শুধু আজকের অভিযান নয়, ভবিষ্যতেও নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। যারা উচ্ছেদের পর পুনরায় ফুটপাত ও সড়ক দখলের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও চলাচল উপযোগী রাখতে প্রশাসনের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমরা এ কাজে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি। কোথাও ফুটপাত বা সড়ক অবৈধভাবে দখল করা হলে নাগরিকরা প্রতিবাদ জানাবেন এবং দ্রুত সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। জনসচেতনতা ও প্রশাসনিক তৎপরতার সমন্বয়েই একটি সুন্দর, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।
এদিকে উচ্ছেদ হওয়া হওয়া কয়েকজন হকার বলেন, হকার সমিতিতে টাকা দিয়ে তারা ব্যবসা করেন। এছাড়া নোটিশ দেওয়া ছাড়া অভিযান পরিচালনা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গ্রীন চট্টগ্রাম গড়তে লাগানো হচ্ছে ১০ লক্ষ গাছ: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে ব্যাপক সবুজায়নের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীতে ১০ লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।


রোববার টাইগারপাসস্থ বিন্নাঘাস প্রকল্প এলাকায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষ পরিচর্যা কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি দূরদর্শী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যায় এগিয়ে আসে, তাহলে একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

“এ লক্ষ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতায় পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে নগরীতে ১০ লক্ষ গাছ রোপণ করা হচ্ছে। নগরীর কালুরঘাট থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সব মিড-আইল্যান্ডকে ফুল ও সবুজে ভরিয়ে তোলা হবে। সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নগরীর বিভিন্ন খালি জায়গা, পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ করা হবে। ইতোমধ্যে দেওয়ানহাট থেকে বারিক বিল্ডিং মধ্যবর্তী সড়কদ্বীপে ২৬ প্রজাতির ৬৫০০ চারা লাগানো হচ্ছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য জারুল, সোনালু, রাধাচূড়া, কামিনী, কাঞ্চন, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, শিউলিসহ প্রায় ১০ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় জাতের গাছ। প্রতিদিন পানি দেওয়া, আগাছা পরিষ্কারসহ এইসব গাছ রক্ষণাবেক্ষণেরও যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা মহামারির সময় মানুষ অক্সিজেনের গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করেছে। গাছ আমাদের জীবন রক্ষাকারী অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশকে সুস্থ রাখে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।

“গাছ আমাদের পরম বন্ধু। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়, ফল দেয়, কাঠ দেয়, ওষুধ দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু আমরা গাছ থেকে শুধু নিতে জানি, গাছের পরিচর্যা করতে চাই না। বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি গাছের নিয়মিত পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।মেয়র বলেন, “চট্টগ্রাম প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ভরপুর একটি নগরী। এখানে সমুদ্র, পাহাড়, নদী, খাল, উপত্যকা ও জলাশয় রয়েছে। আল্লাহ আমাদের অনেক সম্পদ দিয়েছেন। কিন্তু এসব সম্পদের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করতে না পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

তিনি কর্ণফুলী ও হালদা নদীসহ নগরীর খাল ও জলাশয় রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যত্রতত্র প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বর্জ্য শেষ পর্যন্ত খাল-নদীতে গিয়ে জমা হয় এবং পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে।এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, মেয়রের জলাবদ্ধতা বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন আলী জয়, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা প্রমুখ।

নতুন এমডি দায়িত্ব নেয়ার তিন দিনেই সিদ্ধান্ত অবশেষে ৬৩ বছর পর পতেঙ্গায় যাবে ওয়াসার পানি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এই প্রথম পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা এলাকার তিনটি ওয়ার্ডে পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সংকট ও লবণাক্ত পানির যন্ত্রণায় ভোগার পর এই তিনটি ওয়ার্ডে অবশেষে পাইপলাইনের সুপেয় পানির আওতায় আসছেন। ১৯৬৩ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিষ্ঠার পর এই প্রথম ওয়াসার পানি ওই ওয়ার্ডগুলোতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, বর্তমানে পুরানো জরাজীর্ণ লাইন সংস্কার ও প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে পতেঙ্গার বিস্তৃত এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। সব জটিলতা কাটিয়ে মাত্র তিন দিনেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেখানে পানি পৌঁছাবে।দীর্ঘদিন ধরে পাইপলাইন জটিলতার কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ওয়াসার পানি পৌঁছায়নি। তবে পুরনো প্রকল্পের আওতাভুক্ত করে দ্রুতই এই সংকট সমাধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

চট্টগ্রাম ওয়াসার একটি নথিতে দেখা যায়, গত তিন দিন আগে (৩ জুন )স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব বরাবর একটি চিঠি পাঠিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম।তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন ১ জুন সোমবার। ওই চিঠিতে তিনি কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি চান। দায়িত্ব গ্রহণ করেই তিনি পতেঙ্গার তিনটি ওয়ার্ডে জনগণের দুর্ভোগ লাগবে উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং দ্রুত পানি সরবরাহের ব্যাবস্থা করেন ।

প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, পতেঙ্গা এলাকায় দৈনিক পানির চাহিদা ১০ কোটি লিটার। কিন্তু বর্তমানে ওয়াসা সেখানে মাত্র ৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করতে পারছে। অন্যদিকে, বোয়ালখালী উপজেলার ভাণ্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৬ কোটি লিটার। বর্তমানে আনোয়ারা, পটিয়া, কর্ণফুলী ও বোয়ালখালী এলাকায় এই প্রকল্পের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
ওয়াসার পরিকল্পনা অনুযায়ী, টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে ভাণ্ডালজুড়ি প্রকল্প থেকে প্রতিদিন অন্তত ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি পতেঙ্গা এলাকায় সরবরাহ করা হবে। এর ফলে দীর্ঘ ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ওই এলাকার মানুষের পানির অভাব অনেকাংশে দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম জানান, পাইপলাইনের সাত বছরের জটিলতা কাটিয়ে মাত্র তিন দিনেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ওইসব ওয়ার্ডের লোকজন ওয়াসার পানি পাবেন বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।জানা গেছে, সমুদ্র উপকুলীয় এলাকা হিসেবে পতেঙ্গাসহ পুরো এলাকার টিউবওয়েলের পানি লবণাক্ত। এ পানি খাওয়া যায় না। খেলেও উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতার খবর পাওয়া গেছে। টিউবওয়েলের পানি না পাওয়ায় এলাকার হাজার হাজার মানুষকে পানীয় জলের তীব্র সংকটে ভুগতে হতো।

ইপিজেড থেকে সিমেন্ট ক্রসিং পর্যন্ত এলাকায় অন্তত চল্লিশটির মতো দোকান থেকে ওয়াসার পানি বিক্রি করা হতো এক সময়। এসব দোকানের পেছনে বড় বড় রিজার্ভার করে ওয়াসার পানি ধরে রেখে পরবর্তীতে ড্রাম ভরে ভ্যানে করে এলাকায় বিক্রি করতো। ২৫ লিটারের প্রতি ড্রাম পানি ভবনের ফ্লোর ভেদে পঞ্চাশ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ চড়া দামে পানি কিনতো। এলাকায় হাজার হাজার মানুষ ওয়াসার পানীয় জলের নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ