আজঃ শুক্রবার ১৯ জুন, ২০২৬

বর্তমান সময়ে শিশু ও তরুণদের মধ্যে জাঙ্ক ফুডের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে: চট্টগ্রামের ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বর্তমান সময়ে শিশু ও তরুণদের মধ্যে জাঙ্ক ফুডের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী জেলা ফল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। দেশীয় ফলের স্বাভাবিক স্বাদ ও পুষ্টিগুণ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেছেন, ফলের চিরচেনা স্বাদ হারিয়ে গেলে মানুষের, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে ফল খাওয়ার আগ্রহ কমে যায়। তাই শুধু উৎপাদন বৃদ্ধি নয়, ফলের আসল স্বাদ ও গুণগত মান রক্ষায়ও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ছিল, ‘করব মোরা ফল চাষ, সংরক্ষণ করব বারো মাস’।

জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু ও তরুণদের মধ্যে জাঙ্ক ফুডের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে, অন্যদিকে ফল খাওয়ার প্রবণতা কমে যাচ্ছে। ফলে শরীরে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা শারীরিক ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।তিনি বলেন, সুস্থ শরীরে সুস্থ মনের বাস। একটি সুস্থ, সচেতন ও মেধাবী সমাজ গঠনে পুষ্টিকর ও প্রাকৃতিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসার বিকল্প নেই।দেশীয় ফলের গুরুত্ব তুলে ধরে ডিসি বলেন, বাংলাদেশের জলবায়ু ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দেশীয় ফল ও বৃক্ষ আমাদের মূল্যবান সম্পদ। কিন্তু বিভিন্ন কারণে অনেক ফলের স্বাভাবিক স্বাদ হারিয়ে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক।

ফল পাকাতে কার্বাইডসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কৃত্রিম উপায়ে ফল পাকানোর প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। সাময়িক লাভের জন্য মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ফেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নিরাপদ ফল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক জানান, সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় দেড় কোটি চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরেই প্রায় ১৮ লাখ বৃক্ষ রোপণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সাত লাখ বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চলতি বছরে আরও ৫৭ হাজার ফলদ ও অন্যান্য বৃক্ষ রোপণ করবে।

এর আগে জেলা প্রশাসক ফিতা কেটে তিন দিনব্যাপী ফল মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা কৃষকদের প্রদর্শনী স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় চট্টগ্রামে উৎপাদিত প্রায় ৬০ প্রজাতির প্রচলিত ও অপ্রচলিত ফল এবং সেগুলোর পুষ্টিগুণ প্রদর্শন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) কৃষিবিদ রঘুনাথ নাহা ফলের পুষ্টিগুণ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এবং বাণিজ্যিক ফল উৎপাদনের গুরুত্ব তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক কৃষিবিদ আপ্রু মারমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে কৃষিবিদ আপ্রু মারমা পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রত্যেক পরিবারকে নিজ বাড়ির আঙিনায় অন্তত একটি ফলদ গাছ রোপণের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান শেষে স্থানীয় কৃষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ফলদ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রূপগঞ্জে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মা সমাবেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার নারী শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র ঐতিহ্যবাহী সহিতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ১৮জুন বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহিতুন্নেছা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়য়ের প্রধান শিক্ষক পংকজ কুমার পাল।
সভায় বক্তব্য রাখেন বাঘবের আইডিয়াল স্কুলের প্রধান উপদেষ্টা, হাজী মো: ইদ্রিস আলী কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও রূপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম.এ মোমেন, রূপগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহসিন মিয়া, অভিভাবক শাখাওয়াত হোসেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ আল-আমীন মিয়া, হাবিবুল্লাহ বাহার প্রমুখ।

এসময় বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাধনা রাণী সরকার, আরিফা সুলতানা, হাজেরা আক্তার, মোহাম্মদ খলিল উল্লাহ, মাসুদ রানা, রমজান হোসেন, হাসিনা আক্তার, মাগফেরাত খাতুন ময়না, শাহজালাল গাজী, রাসেল মিয়া, রেজওয়ানা সিকদার সাথী, মনিরা সুলতানা, শাকিল খাঁন, আব্দুল্লাহ, আলী আকবর সরকার, শফিকুল ইসলাম, নুরনবী, স্বপন কুমার রাজবংশী, তমা সাহা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বক্তারা বলেন, যুগোপযোগী কারিকুলাম প্রণয়ন শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ বাস্তবমুখী মুল্যায়ন পদ্ধতির বাস্তবায়ন। গুণগত শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। নকল পরিহার করে নিজের যোগ্যতায় ভাল ফলাফল অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ, নৈতিকতা সম্পন্ন ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের সুপ্ত শক্তিকে জাগ্রত করতে হবে। শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বয় করে ভাল ফলাফল অর্জন করতে হবে। তবেই স্বার্থকতা আসবে।

টেকসই উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সহযোগিতা কামনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। বৃহস্পতিবার বিকেলে সিডিএ ভবনের সম্মেলন কক্ষে পরিষদের আহবায়ক লায়ন তাহের আহম্মদের নেতৃত্বে পরিষদের নেতৃবৃন্দ সিডিএ চেয়ারম্যানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তাঁর নতুন দায়িত্ব পালনে সর্বাত্মক সাফল্য কামনা করেন।

এ সময় মহানগরীর উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি, পরিকল্পিত নগরায়নসহ জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ন আহবায়ক আবুল কাশেম আজাদ (ভিপি শামীম), যুগ্ন আহবায়ক মোহাম্মদ হোসেন,নাছির উদ্দিন বিপ্লব,সদস্য মিরাজ উদ্দিন,হাসান চৌধুরী,মো.মুছা, সিরাজুল ইসলাম লিটন,মো.সেলিম,মো.সাখাওয়াত হোসেন রাব্বি প্রমূখ।

পরিষদের নেতৃবৃন্দ বলেন, চট্টগ্রামের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে সিডিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে সংস্থাটি আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।সিডিএ চেয়ারম্যান চট্টগ্রামের টেকসই উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ