আজঃ রবিবার ২৮ জুন, ২০২৬

বাতিলের ঘোষণা বিক্রি হওয়া ঘরের বরাদ্দ

পাবনা জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ভাঙ্গুড়ার আশ্রয়ণ প্রকল্প পরিদর্শনে এসিল্যান্ড;

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার,বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের বরাদ্দ সরকারি ঘর বিক্রি, দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত রাখা এবং পরিত্যক্ত ঘরে জুয়া, মাদক ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত তৎপর হয়েছে পাবনা জেলা প্রশাসন।পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম এর নির্দেশনায় আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) মিজানুর রহমান।

গত মঙ্গলবার উপজেলার চর-ভাঙ্গুড়া, পৌরসভাসহ বিভিন্ন আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি)। এ সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দা, উপকারভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং বিক্রি হয়ে যাওয়া ও দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা ঘর গুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, ২০২০-২১ থেকে ২০২২-২৩ অর্থ-বছরের মধ্যে ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নির্মিত ১০১টি আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘরের মধ্যে অন্তত ৩৫টি ঘর আশি(৮০) হাজার থেকে সাড়ে তিন (৩,৫০,০০০) লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২৫টি ঘর দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ,
এসব পরিত্যক্ত ঘরে নিয়মিত জুয়া, মাদক সেবন ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে, যা এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেন পাবনা জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম।
তাঁর নির্দেশনায় অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মাঠে নামেন
ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রশাসন। প্রশাসনের এই দ্রুত পদক্ষেপে স্থানীয়দের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে যে, দীর্ঘদিনের অভিযোগের একটি কার্যকর সমাধান মিলবে অবশ্যই।

স্থানীয়দের মতে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠিকানা নিশ্চিত করা। কিন্তু অনিয়ম ও দুর্বল তদারকির কারণে অনেক ক্ষেত্রে সেই লক্ষ্য ব্যাহত হয়েছে। তাই তারা প্রশাসনের চলমান উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সরকারি ঘর ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সচেতন মহলের অভিমত, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রশাসনের দ্রুত মাঠপর্যায়ের তৎপরতা সরকারি প্রকল্পে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। তদন্ত শেষে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মও অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

পরিদর্শন শেষে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান বলেন, “জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্তে যেসব উপকারভোগী সরকারি আশ্রয়ণ ঘর বিক্রি করেছেন অথবা বরাদ্দ পাওয়ার পরও সেখানে বসবাস করছেন না, তাদের বরাদ্দ সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বাতিল করা হবে। এরপর যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের নামে নতুন করে আবার ঘর বরাদ্দ দেওয়া হবে। সরকারের এই মানবিক প্রকল্পের কোনো ধরনের অপব্যবহার বা অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন সবাইকে শোকসাগরে ভাসিয়ে, চলে গেলেন পরপারে… ——–

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)’র উপদেষ্টা ও সাবেক ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন বার্ধক্যজনিত কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে অদ্য ২৭ জুন শনিবার বেলা ১২টা ৩০ মিনিটে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ————–রাজিউন)।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। তিনি দুই পুত্র সহযোগী অধ্যাপক ডা. রাজীব হোসেন ও রিয়াজ হোসেন, নাতি-নাতনি, আত্মীয় স্বজনসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। অদ্য ২৭ জুন বাদে এশা জমিয়তুল ফালাহ ময়দানে মরহুমের প্রথম নামাযে জানাযা, ২৮ জুন রোববার সকাল ৯ টায় চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল প্রাঙ্গনে দ্বিতীয় জানাযা ও একই দিন বাদ যোহর নিজ গ্রাম মিরসরাই কাঠাছড়ায় ৩য় নামাযের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক,কর্মকর্তা, কর্মচারীরা।
অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন তাঁর কল্যাণমূলক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু সম্মানে ভূষিত হন। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানীর প্রেসিডেন্ট কর্তৃক প্রদত্ত “দি অর্ডার অব মেরিট”, ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সী ফর প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেস কর্তৃক “দি লাইফ লং সার্ভিসেস এওয়ার্ড”, ইন্টারন্যাশনাল কংগ্রেস অব অফথালমোলজী কর্তৃক “কংগ্রেস অব অফথালমোলজী এওয়ার্ড”, এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমী অব অফথালমোলজী কর্তৃক “দি ডিষ্টিংগুইসড্ সার্ভিসেস এওয়ার্ড” এবং স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন এওয়ার্ড, “চট্টগ্রাম লায়ন্স ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক”, “বাংলাদেশ কমিউনিটি অফথালমোলজী স্বর্ণপদক”, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃক প্রদত্ত “অনরারি ডক্টরেট”, “দা ডেইলি স্টার এওয়ার্ড”। এছাড়া তিনি পেনিলপ বিলসন চেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক।
মিরসরাইয়ের সমাজ সেবক ডা. আহমেদুর রহমান ও ওয়াহিদুন্নেসার একমাত্র পুত্র অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে চক্ষু চিকিৎসা সেবা পৌঁছাতে চক্ষু রোগ নিবারণ ও নিরাময়ের জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধকল্যাণ সমিতি গঠন পূর্বক দেশব্যাপী ভ্রাম্যমান চক্ষু শিবিরের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখেরও বেশী রোগীর অপারেশন, ১৯৭৫ সালে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের দৃষ্টি শক্তির সমস্যা নিরূপন, অদ্যাবধি প্রায় ৮ লক্ষ স্কুল ছাত্র-ছাত্রীর চোখ পরীক্ষা করা হয়। ১৯৮৩ সালে পাহাড়তলীতে ১৩০ শয্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেন। বর্তমানে এই হাসপাতাল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি আধুনিক চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্র রূপে পরিচিতি লাভ করেছে।চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইনষ্টিটিউট অব কমিউনিটি অফথালমোলজী প্রতিষ্ঠায় মূখ্য ভূমিকা পালন করেন। এ ইনস্টিটিউট হতে এই পর্যন্ত ২৬৬ জন ডাক্তার স্নাতকোত্তর প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। এছাড়াও চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্যোগে চার বছর মেয়াদী ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ইন অপটোমেট্রি কোর্স চালু আছে। তিনি এশিয়া প্যাসিফিক একাডেমী অফথালমোলজীতে ২০ বছরেরও অধিক সময় জাতীয় কাউন্সিলর এবং আঞ্চলিক সচিব হিসেবে, ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সী ফর প্রিভেনশন অফ ব্লাইন্ডনেস-এ চেয়ারম্যান হিসেবে ৮ বছর নেতৃত্ব দেন, এছাড়া তিনি বিশ্বমানের একটি “ইম্পেরিয়াল হসপিটাল” নামক ৩৫০ বেডের জেনারেল হাসপাতাল এবং “নার্সিং ট্রেনিং সেন্টার” গড়ে তুলেছেন।

রূপগঞ্জে হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতা ও গোলাকান্দাইল এলাকায় হাইওয়ে পুলিশের কতিপয় সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মহাসড়কের ভুলতা হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের সামনে ও সকালবেলা এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের গোলকান্দাইল স্টিল ব্রীজের সামনে চলাচলকারী বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র যাচাইয়ের নামে চালকদের কাছ থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবহন চালক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

ভুক্তভোগী কয়েকজন চালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যানবাহন থামিয়ে কাগজপত্র ত্রুটির অজুহাতে অর্থ দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে টাকা না দিলে মামলা বা গাড়ি আটকানোর ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ের সড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। এ সুযোগে রেকারের দায়িত্ব থাকা কনস্টেবল প্রশান্ত, কনস্টেবল পলাশ ও এসআই কাজল সহ কিছু অসাধু হাইওয়ে পুলিশ সদস্য চালকদের হয়রানি করে অর্থ আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে মহাসড়কের চলাচলকারী অটো চালকদের কাছ থেকে জানা যায় যে রেকারের দায়িত্ব থাকা প্রশান্ত নিষিদ্ধ থ্রি হুইলার একসাথে ১৫ ২০ টা করে আটকের পর ৮-১০ জন অটো চালকদের কাছ থেকে ৫০০/১০০০/১২০০ করে টাকা নেয়ার পরে একটা রেকার বিলে তাদের সবার স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেন। সর্বশেষ যাকে এই রিসিটটা দেওয়া হয় তাকে বলে দেওয়া হয় এক মাসের মধ্যে আর তার গাড়ি ধরা হবে না।

এভাবেই অটোচালকদের কাছ থেকে সু-কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে এই প্রশান্তর বিরুদ্ধে। তবে এর সহযোগী হিসেবে পলাশের নাম উল্লেখযোগ্য। পলাশ এর সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও চার চাকার বড় গাড়িগুলো কাগজপত্র চেক করার নাম করে এবং মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এসআই কাজলের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন আমরা এই কাজের সাথে জড়িত না। নিষিদ্ধ গাড়ি আটক করা এবং কাগজপত্র যাচাই বাছাই করা আমাদের দায়িত্ব আমরা সেই দায়িত্বই পালন করছি।

ভুলতা হাইওয়ে ক্যাম্পের ইনচার্জ ওসি জসিম উদ্দিন বলেন মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন
নাগরিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, অভিযোগ সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, আর অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে প্রকৃত তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ