আজঃ বুধবার ১ জুলাই, ২০২৬

রূপগঞ্জে চাঁদা দাবির অভিযোগে ইউএনও’র সংবাদ সম্মেলন অপ-সাংবাদিকতা প্রতিকারের দাবি

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা-কক্সবাজার বিমানের তিনটি টিকিট ও তিন রাতের হোটেলের কক্ষ বুকিং অথবা ৫০হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল ৩০জুন মঙ্গলবার রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে অনলাইন পোর্টাল অপরাধ বিচিত্রার সাংবাদিক শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে তিনি এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হয়েও তিনি কথিত এক সাংবাদিকের চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, অনলাইন পোর্টাল অপরাধ বিচিত্রা’র পরিচয়ে শাহিন মিয়া নামের এক ব্যক্তি প্রথমে সাংবাদিক পরিচয়ে কক্সবাজার ভ্রমণের জন্য বিমানের তিনটি টিকিট এবং পাঁচতারকা হোটেলে তিন রাত থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য দাবি করেন। তাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম রাজী না হলে পরে ৫০হাজার টাকা দাবি করেন শাহিন মিয়া। একপর্যায়ে দাবিকৃত টাকা না দিলে সংবাদ প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে হেয় করার হুমকি দেয় শাহিন মিয়া। পরে মোবাইল ফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও একই ধরণের হুমকি দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় শাহিন মিয়া রূপগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী আকতার হোসেনের যোগসাজশে তাকে জড়িয়ে জমি নিবন্ধনের এক শতাংশ তহবিলের কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে অনলাইন পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, জমি নিবন্ধন থেকে আদায়কৃত এক শতাংশ তহবিল থেকে বরাদ্দকৃত টাকা ব্যয় করার ক্ষমতা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেই।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের এস্টিমেটে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বরাদ্দকৃত অর্থ অনুমোদিত প্রকল্পে ব্যয় করেন। পরবর্তীতে সরকারের নির্ধারিত প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের হিসাব-নিকাশ, লেনদেন এবং সামগ্রিক কার্যক্রম নিয়মানুগ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের জন্য নিরীক্ষা করেন। কাজেই কোন প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি ও আত্মসাতের সুযোগ ইউএনও, উপজেলা প্রকৌশলী কিংবা উপজেলা পরিষদের নেই।

সংবাদ সম্মেলনে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: সাইফুল ইসলাম অপ-সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে দেশের গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন।

উল্লেখ্য জমি নিবন্ধন থেকে আদায়কৃত এক শতাংশ তহবিল সরকারি বিধি অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হচ্ছে। যা প্রকল্পের তথ্য নিয়মিতভাবে রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন ও নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপুর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণ, ১১ বছর পর আসামির যাবজ্জীবন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ১১ বছর আগে এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় মো. আব্দুল মমিন নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ে অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর এই রায় ঘোষণা করেন।দণ্ডিত আব্দুল মমিন পীরগঞ্জ উপজেলার ভাংবাড়ী (বগুড়াপাড়া) গ্রামের মৃত জালাল বৈরাগীর ছেলে। মামলার অপর আসামি মো. এরশাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগী ১৪ বছর বয়সি বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে বাড়িতে একা পেয়ে প্রতিবেশী আব্দুল মমিন ধর্ষণ করে। এ সময় কিশোরীর মা বাড়ি ফিরে ঘটনা দেখে বাধা দিলে মমিন তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বিচার চেয়ে ব্যর্থ হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার রাণীশংকৈল থানায় মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও চিকিৎসা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় মমিনকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন।

রায়ের নির্দেশনায় বলা হয়, আদায়কৃত অর্থদণ্ডের পুরো টাকা ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী, প্রয়োজনে দণ্ডিতের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে এই অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক বলেন, দীর্ঘ ১১ বছর পর এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারটি অবশেষে ন্যায়বিচার পেল। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ আদায়ের যে কঠোর নির্দেশনা আদালত দিয়েছেন, তা নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ঠাকুরগাঁওয়ে চার স্কুলছাত্রী নিখোঁজ, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় পরিবার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের চার ছাত্রী প্রাইভেটে পড়তে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যরা বালিয়াডাঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। একসঙ্গে একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

নিখোঁজ ছাত্রীরা হলেন উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের সাবাজপুর গ্রামের মানিক চন্দ্রের মেয়ে খুশি (দশম শ্রেণি), বাঙ্কু দেবনাথের মেয়ে মল্লিকা (দশম শ্রেণি), রমেশ দেবনাথের মেয়ে ঋতু দেবনাথ (দশম শ্রেণি) এবং আকালু দেবনাথের মেয়ে সুজুতি রানী দেবনাথ (অষ্টম শ্রেণি)। তারা সবাই সাবাজপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে চার ছাত্রী একসঙ্গে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকে তারা আর বাড়ি ফেরেনি। সম্ভাব্য আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে বালিয়াডাঙ্গী থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়।একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থী একসঙ্গে নিখোঁজ হওয়ায় পরিবারগুলোর মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে নিখোঁজ চার ছাত্রীর সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের উদ্ধারে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে।নিখোঁজ চার ছাত্রীর অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে দ্রুত বালিয়াডাঙ্গী থানা অথবা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন স্বজনরা।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ