আজঃ বুধবার ১ জুলাই, ২০২৬

কুষ্টিয়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণের দায়ে যুবকের যাবজ্জীবন

হৃদয় রায়হান কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় জহির রায়হান (৩২) নামে এক যুবকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাকে অর্থদণ্ডও করা হয়। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ (শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল)-এর বিচারক এএইচ এম শফিকুল ইসলাম আসামির অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত জহির রায়হান সদর উপজেলার হররা ডাক্তার পাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুর নবীর ছেলে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের একটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে স্কুলে যাতায়াতের পথে যুবক রায়হান নানাভাবে কুপ্রস্তাবসহ উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি ওই ছাত্রী পরিবারকে জানালে পরিবারের উদ্যোগে ওই যুবকের পরিবারের লোকজন এবং এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ শাসান।

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই যুবক প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেন। এর জের ধরে ২০১৮ সালের ৩ মার্চ রাত ৯টার দিকে ওই ছাত্রীকে বাসায় একা রেখে পিতা-মাতা পাশের বাড়িতে ওয়াজ মাহফিলে যান। এই সুযোগে ওই ছাত্রীর কক্ষে প্রবেশ করে ধর্ষণ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন রায়হান। কিন্তু ওই ছাত্রীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে আটক করেন। এ ঘটনায় ওই ছাত্রীর পিতা বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় ধর্ষণের অভিযোগ এনে যুবক জহির রায়হানের নাম উল্লেখসহ এজাহার দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্ত শেষে কুষ্টিয়া মডেল থানার উপসহকারী পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম যুবক জহির রায়হানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন আদালতে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাড. আব্দুল মজিদ জানান, ‘কুষ্টিয়া সদর থানার স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে আসামি জহির রায়হানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সাক্ষ্য শুনানি শেষে সন্দেহাতীত প্রমাণিত হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ৬ মাসের সাজা খাটার আদেশ দেন আদালত।

আসামি রায়হানকে ২০১৮ সালের মার্চে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। পরবর্তীতে আসামি রায়হান জামিনে কারামুক্ত হওয়ার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো প্রতিরোধে সবাইকে কাজ করতে হবে : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, রাষ্ট্র ও সমাজের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মিথ্যা তথ্যা, গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি গণমাধ্যমকর্মীসহ সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে। ফেসবুক বা অন্যান্য যোগাযোগ মাধ্যমে কোন তথ্য শেয়ার বা মন্তব্য করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা জরুরী। গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান কিংবা রাষ্ট্রের ক্ষতি হয় এমন কর্মকান্ড থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার রোধে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কর্তৃক সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় ও উদ্বুদ্ধকরণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি ্এসব কথা বলেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মোঃ সাইদুজ্জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত উদ্বুদ্ধকরণ সভায় চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইব্রাহীম, প্রেস ক্লাব সভাপতি মোঃ জাহিদুল করিম কচিসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ, গণমাধ্যমকর্মী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ মতামত ব্যক্ত করেন।
মানবিক ডিসি জাহিদ বলেন, নতুন প্রজন্ম বা শিক্ষার্থীদেও কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে না নিয়ে তাদেরকে মোবাইলের অপব্যবহার থেকে মুক্ত রাখতে পিতা-মাতাকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ভুয়া নামে পরিচালিত ফেসবুক আইডি বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশপাশি এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে জেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। সভায় বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও সচেতন ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি যে কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, সরকারের নিদের্শনা অনুযায়ী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত অপপ্রচার প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহারের ফলে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লেও অনেক সময় গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করে। তাই যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দায়িত্বশীল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার এবং সত্য ও নির্ভুল তথ্য প্রচারে সবাইকে একযোগে কাজ করার ওপর গুররুত্বারোপ করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, রাজনৈতিক দল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মতবিনিময় ও উদ্বুদ্ধকরণ সভায় সামাজিক সম্প্রীতি, আইন-শৃঙ্খলা ও জনস্বার্থ রক্ষায় সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

বোয়ালখালী পৌরসভায় ৪১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য ৪১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার ২১৭টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করেছেন পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে পৌরসভা মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মী, পৌর সহায়ক কমিটির সদস্য ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিতিতে এ বাজেট ঘোষণা করেন তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব হিসাবে আয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৫৬ লাখ ১৭ হাজার ২১৭ টাকা এবং উন্নয়ন হিসাবে ৩৩ কোটি ৫১ হাজার টাকা আয় ধরা হয়েছে।
মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ কোটি ৮৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। এতে উদ্বৃত্ত রাখা হয়েছে ৬৯ লাখ ৮৯ হাজার ১৪৯ টাকা,বাজেট ঘোষণার পর সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পৌর প্রশাসক কানিজ ফাতেমা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন – পৌর সহায়ক কমিটির সদস্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মামুনুল হক মামুন, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোজাফফর হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী রনী সাহা, সমাজসেবা অফিসার পিপলু চন্দ্র নাথ, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: হারুন উর রশিদ, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাং সামছুদ্দীন,উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক ইসহাক চৌধুরী, পৌরসভা বিএনপি সাবেক আহবায়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরী,বোয়ালখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি অধীর বড়ুয়া,পৌর সচিব মো: নজরুল ইসলাম, সহকারি প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি ধর, উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান, হিসাবরক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু সাইদসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ