হালকা-মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিতে ফের ডুবল চট্টগ্রাম নগরী

চট্টগ্রাম নগরীর যানবাহন সংকটে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে বাড়িতি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিতে ফের বন্দর নগরী চট্টগ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা পাঁচ দিনের এই বৃষ্টিতে বৃহস্পতিবারও নগরের কয়েকটি নিচু এলাকা পানিতে ডুবে ছিল। এতে জনভোগান্তি বেড়েছে।

এছাড়া অবিরাম বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টিপাতে আবারও ভূমিধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলোতে বসবাসকারী হাজারো পরিবার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।গত দুই দিন আগে ভারী বৃষ্টিতে কক্সবাজারে ভূমিধসে অন্তত নয়জন নিহত হওয়ার পর এ আশঙ্কা আরও তীব্র হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৬ ঘণ্টায় ৬৩ দশমিক ৮ মিলিমিটার এবং ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ১৯২ দশমিক ৬ মিলিমিটার। বৃহস্পতিবার হালকা থেকে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টি হয়। আগের দিনের টানা বর্ষণ এবং তার সঙ্গে নতুন করে বৃষ্টির ফলে এখনো পুরোপুরি কাটেনি নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বৃষ্টিতে নগরের চকবাজার, কাপাসগোলা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, নয়াহাট, ওয়াজেদিয়া, পুরাতন চাঁদগাও, সিএনবি, বাস সিগন্যাল, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, বড়দীঘির পাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় সকালে পানি জমে থাকতে দেখা যায়। অনেক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
এদিকে জলাবদ্ধতার কারণে নগরীতে পরিবহন সংকটের তীব্রতা বেড়েছে। প্রয়োজনে ঘর থেকে বের হওয়া মানুষকে দীর্ঘ সময় যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে কিছু অটোরিকশা, রিকশা, বাস ও টেম্পোচালকরা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ভাড়া আদায় করছেন। এ সুযোগে চট্টগ্রামের প্রায় প্রতিটি রুটে যাত্রীদের থেকে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। ১০ টার ভাড়া ২০ টাকা নিচ্ছে চালকেরা।

এ যেন ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। যারা কাজে বাড়ির বাইরে বের হন তারা পড়েছেন বিপাকে। যেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভাড়া ২০০ সেখানে চাওয়া হচ্ছে ৩০০, রিকশা ভাড়া ২০ টাকার বদলে নিচ্ছে ৫০-৭০ টাকা।যাত্রীগন বলেন, পানি কমে যাওয়ার পরেও ভাড়তি ভাড়া দাবি করছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। গাড়ি ছাড়ার আগে বাড়তি ভাড়ার কথা বলবে না। গাড়ি যখন অর্ধেক গন্তব্যে চলে আসে তখন তারা বাড়তি ভাড়া কথা বলে।

তবে, সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা জানান, গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকলেই বন্ধ হয়ে যায়। ইঞ্চিন বিকল হয়ে পড়ে। সারতে অনেক টাকা লাগে। রিস্ক নিয়ে পানি পাড়ি দিতে হলে বাড়তি ভাড়া দাবি করি। যে মন চায় সে যাবে, যার মন চায় না সে যাবে না।
আবহাওয়াবিদ মাহমুদুল আলম বলেছেন, এখনো ভারী বৃষ্টি ও পাহাড় ধসের সতর্কবার্তা রয়েছে। এ ছাড়া সুস্পষ্ট নিম্নচাপজনিত কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাঙামাটি-খাগড়াছড়ির সঙ্গে বন্ধ যান চলাচল,সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক উজোবাজারে (গঙ্গারাম বাজার) আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী ও অবরোধকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে রাঙামাটিতে চলছে আধাবেলা অবরোধ। ছাত্র-জনতার সংগ্রাম পরিষদ নামের একটি সংগঠনের ডাকে সকাল থেকে এ অবরোধ শুরু হয়, যা দুপুর ১২টা পর্যন্ত চলে।শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের কুতুকছড়ি এলাকায় গিয়ে যায়, সাপছড়ি খামারপাড়া ও কুতুকছড়ি ধর্মঘর এলাকায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে ও আগুন জ্বালিয়ে অবরোধকারীরা পিকেটিং করছে। এছাড়া কুতুকছড়ি হাফবাজার থেকে ধর্মঘর পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

নাটোরে বড়াইগ্রামে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে উপজেলার থানার মোড় এলাকায় বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহেদুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ