দুস্থ মানুষের পাশে বিএনপি সবসময় থাকবে

উত্তর পাঠানটুলীতে চাল বিতরণকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর ২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ডে দুস্থ, অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে চাল বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের পক্ষ থেকে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়। স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়।

২৩ নম্বর উত্তর পাঠানটুলী ওয়ার্ড বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জনগণের সেবা করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। মানুষের দুঃসময় ও দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। অতীতের মতো বর্তমানেও অসহায়, দুস্থ ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে রয়েছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, যে পরিমাণ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তা যদি প্রয়োজনের তুলনায় কম হয়, তাহলে আরও চালের ব্যবস্থা করা হবে। কোনো অসহায় পরিবার যেন খাদ্য সংকটে না থাকে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সবসময় জনগণের দল। মানুষের সুখ দুঃখ, দুর্যোগ ও সংকটের সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে থেকে কাজ করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। জনগণের কল্যাণ ও মানবিক সেবার এ ধারা অব্যাহত থাকবে। সমাজের বিত্তবানদেরও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি ডা. শাহাদাত হোসেন সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সদস্যদের হাতে চাল তুলে দেন।
ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল হালিমের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব এম এ হাসনাতের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম সাইফুল আলম, নিয়াজ মোহাম্মদ খান এবং কেন্দ্রীয় মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক ফাতেমা বাদশা। উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি নেতা মুস্তাফিজুর রহমান বুলু, এম এ হাসেম, বিএনপি নেতা সুলতান মোহাম্মদ খান সুমন, আকবর কবির ডিউক, সিরাজুল ইসলাম, মো. আব্বাস, মো. তাহের, মো. আলীসহ স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের সেরা ৫ পূজামণ্ডপ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শারদ সম্মাননা পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত সেরা পাঁচ পূজামণ্ডপের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।সেরা পূজামণ্ডপ হলো— গোসাইলডাঙ্গা সর্বজনীন শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির (থিম: ভাড়), বৈশাখী সংঘ, উত্তর কাট্টলী জ্বালাকুমারী বাড়ি (থিম: জল দুয়ার), খলিফাপট্টি সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ (থিম: রক্তাঞ্জলি), পতেঙ্গা শ্যামা সংঘ, হিন্দুপাড়া শ্মশান শিব ও কালী মন্দির (থিম: যুগান্তরের বার্তাবহন) এবং দক্ষিণ নালাপাড়া পূজা উদযাপন পরিষদ (থিম: আত্মকথন)।সোমবার (১৯ অক্টোবর) নগরের টাইগারপাসের চসিক কার্যালয়ে সেরা পাঁচ পূজামণ্ডপের নাম ঘোষণা করেন মেয়র। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার ৪৬টি নিবন্ধিত পূজামণ্ডপের মধ্যে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সেরা পাঁচটি মণ্ডপ নির্বাচন করা হয়।

এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত দুটি বিশেষ জুরি প্যানেল সরেজমিনে মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করে নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে বিজয়ী চূড়ান্ত করেন।মেয়র বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।
চট্টগ্রাম সবসময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সহাবস্থান ও সম্প্রীতির নগরী। পূজামণ্ডপের সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা ও ব্যতিক্রমী আয়োজনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে আমরা আয়োজকদের আরও উৎসাহিত করতে চাই।

আমাদের লক্ষ্য, চট্টগ্রামকে এমন একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সম্প্রীতিময় নগরী হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারবেন।
এবারের সম্মাননায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন চিত্রশিল্পী আহমেদ নেওয়াজ, চিত্রশিল্পী দীপক দত্ত, খ্যাতিমান আলোকচিত্র শিল্পী শোয়েব ফারুকী, নাট্যজন ও বাচিকশল্পী বাপ্পা চোধুরী, নাট্যজন ও বাচিকশল্পী কংকন দাশ, সিনিয়র সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হায়দার, সাংবাদিক ফারুক তাহের, সিনিয়র সাংবাদিক অনুপম পার্থ, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য প্রশিক্ষক প্রিয়াংকা বড়ুয়া। বিচারকমণ্ডলী নিবন্ধিত মণ্ডপগুলোর শিল্পমান, থিমের গভীরতা, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করেন।

‘শারদ সম্মাননা ২০২৬’-এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর অনিমেশ কুমার চক্রবর্তী। সদস্য ছিলেন কবি ও সাহিত্যিক ডা. ভাগ্যধন বড়ুয়া, প্রফেসর ড. প্রকাশ দাশ গুপ্ত, কবি ও নজরুল গবেষক বাবলা চৌধুরী, মিডিয়াগ্রাফি অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী মিল্টন দাশ বিজয় এবং অভিজিৎ অভি। সমন্বয়ে ছিলেন শোভন রাজা, শ্রাবণ দাশ ও আদিত্য দাস।চিত্রশিল্পী আহমেদ নেওয়াজ বলেন, প্রতিটি মণ্ডপের থিম, নান্দনিকতা ও শিল্পভাবনা ছিল প্রশংসনীয়। সরেজমিনে পরিদর্শন করে বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নে সেরা নির্বাচন করা ছিল আমাদের জন্য বেশ দায়িত্বপূর্ণ।
চিত্রশিল্পী দীপক দত্ত বলেন, নান্দনিক রূপায়ন, ঐতিহ্য রক্ষা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের সার্বিক সূচক বিবেচনায় নিয়ে আমরা নিরপেক্ষ মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছি।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, এটা অসাধারণ উদ্যোগ। যেসব পূজামণ্ডপ তাদের নান্দনিকতা, চমৎকার প্রতিমা শিল্প ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তাঁদের সবাইকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আপনাদের এই সৃজনশীলতা ও চমৎকার মণ্ডপ সজ্জা উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে শুধু বিজয়ী মণ্ডপগুলোই নয়, চট্টগ্রামের প্রতিটি মণ্ডপের আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকরা যেভাবে সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আলো আর সুন্দরের এই ধারা আমাদের সামাজিক সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করুক।
বিচারকরা জানান, প্রতিটি মণ্ডপই তাদের নিজস্ব সৃজনশীলতায় অনন্য ছিল। নান্দনিকতা ও সামাজিক বার্তার মেলবন্ধন বিচার করেই সেরা ৫টি মণ্ডপ নির্বাচন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামে কুমারী পূজায় দর্শনার্থীদের ভিড়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কয়েকটি মণ্ডপে দুর্গাপূজার মহাষ্টমী তিথিতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে নগরের পাথরঘাটার শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরে তিন কিশোরীকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে পূজা করা হয়। এ উপলক্ষে মন্দিরে দর্শনার্থীদের ভিড় দেখা যায়। একই দিনে রাজাপুর লেনের রাধা গোবিন্দ মন্দিরেও কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শান্তনেশ্বরী মাতৃমন্দিরের অধ্যক্ষ মোহন্ত শ্রীল শ্যামানন্দ দাশ জানান, তন্ত্রশাস্ত্র মতে, ১৬ বছরের কম বয়সী মেয়েকে কুমারী হিসেবে পূজা করা হয়। বয়স ও বৈশিষ্ট্য অনুসারে কুমারীদের বিভিন্ন নামে পূজা করার রীতি রয়েছে। এবার মন্দিরে তিন কিশোরীকে কুমারী হিসেবে পূজা করা হয়েছে।তারা হলো সেন্ট স্কলাস্টিকা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের ছয় বছর বয়সী শিক্ষর্থী রাধেশ্রী দত্ত বৃন্দা, সেন্ট জনস গ্রামার স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ১১ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ঋত্বিকা দাশ এবং বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের কেজি শ্রেণির সাত বছর বয়সী শিক্ষার্থী অদিশ্রী কর।

শ্যামানন্দ দাশ আরও জানালেন, কুমারী পূজায় জাতি, ধর্ম ও বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই। দেবীজ্ঞানে যেকোনো বর্ণের কুমারী পূজনীয়। কুমারী পূজার দার্শনিক তাৎপর্য হলো পরমার্থ দর্শন ও পরমার্থ অর্জন। কুমারী প্রকৃতি ও নারীশক্তির প্রতীক। কুমারী পূজা ছাড়া দুর্গাপূজা সম্পূর্ণ হয় না বলে প্রচলিত।

এদিকে মহাষ্টমী উপলক্ষে সারা দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সকাল থেকে পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ চলছে। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে আরতি। উৎসবকে ঘিরে সকাল থেকেই বিভিন্ন মণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি দেখা গেছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ