বোয়ালখালীবাসীকে স্বস্তি দিতে বাস সার্ভিস চালুর দাবি

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালী উপজেলার আহলা মুকুন্দরামের হাট থেকে আহলা দরবার শরীফ সার্ভিস যা দাশের দিঘী- বেঙ্গুরা-শাকপুরা-ফুলতল- কালুরঘাট হয়ে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল পর্যন্ত এবং দাশের দিঘী-কালাইয়ারহাট- কানুনগোপাড়া- সিও অফিস-ফুলতল- কালুরঘাট-বহদ্দার হাট বাস টার্মিনাল এই দুই সড়কে নিয়মিত লোকাল মিনি বাস সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছে যাত্রী ও স্থানীয়রা। গ্যাস সংকটের সুযোগে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনের যাতায়াতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন স্বল্প ও মধ্যম আয়ের হাজারো মানুষ।

মুকুন্দরামের হাট থেকে আরকান সড়কের বিভিন্ন এলাকা হয়ে বহদ্দারহাট পর্যন্ত প্রতিদিন কর্মজীবী, শিক্ষার্থী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু গণপরিবহনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই তাদের সিএনজি অটোরিকশার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় কোথাও দ্বিগুণ, কোথাও তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া বেশি গুনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির বোয়ালখালী শাখার সভাপতি অধির বড়ুয়া বলেন, “ আহল্লা দরবার শরীর মুকুন্দরামের হাট ও কানুনগোপাড়া এই দুটি রোড়ে দুটি বাস সার্ভিস ছিল কালের পরিক্রমায় তা বন্ধ হয়ে গেছে বর্তমানে ছোট গাড়ি প্রচুর বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এর থেকে উত্তলন জন্য পুনরায় বাস চালুর দাবি করছেন বোয়ালখালী স্থানীয় জনসাধারণ সড়কে দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত গণপরিবহনের সংকট রয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আর ও বহুগুণ বেড়েছে।

বহদ্দারহাট – কানুনগোপাড়া ও বহদ্দারহাট আহল্লা দরবার শরীর বেংগুরা রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক লোকাল মিনি বাস চালু করা হলে যাত্রীদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে আসবে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতির প্রতি দ্রুত এই রুটে বাস সার্ভিস চালুর আহ্বান জানাছে।

নিয়মিত যাত্রী আশুতোষ চৌধুরী টিকলু বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে কর্মস্থল ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে হয়। বাস না থাকায় সিএনজি অটোরিকশাই একমাত্র ভরসা। কিন্তু ভাড়া অনেক বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। একটি লোকাল মিনি বাস সার্ভিস চালু হলে আমাদের মতো নিয়মিত যাত্রীদের জন্য অনেক সুবিধা হবে।

যাত্রীদের দাবি, কানুনগোপাড়া–বহদ্দারহাট ও বহদ্দারহাট আহল্লা দরবার শরীর বেংগুরা এই দুটি রুটে পর্যাপ্ত সংখ্যক লোকাল মিনি বাস চালুর পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ স্টপেজগুলো নির্ধারণ করে সেখানে বাস থামানোর ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে গণপরিবহনে নির্ধারিত ভাড়া কার্যকর এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয়দের মতে, একটি সড়ক শুধু যানবাহন চলাচলের মাধ্যম নয়—এটি মানুষের কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই কানুনগোপাড়া ও বেংগুরা সড়কে নিরাপদ, নিয়মিত ও সাশ্রয়ী গণপরিবহন নিশ্চিত করতে দ্রুত লোকাল মিনি বাস সার্ভিস চালু করা এখন সময়ের দাবি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম মহানগরের ৮ ওয়ার্ড ডেঙ্গু ঝুঁকিতে, মাঠে থাকবে ১০ ম্যাজিস্ট্রেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) মাসব্যাপী মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে। বিশ্ব মশা দিবসে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মহানগরের সেন্ট প্লাসিডস স্কুলের সামনে থেকে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিহ্নিত নগরের আটটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস, লার্ভা নিধন এবং প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ম্যাজিস্ট্রেট ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, গোলাম বাকী মাসুদসহ রেড ক্রিসেন্টের ভলান্টিয়ার এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এমএসএফের কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টিতে লিফলেট ও বিভিন্ন প্রচারণামূলক কনটেন্ট বিতরণ করা হবে। বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

চসিক সূত্র জানায়, বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে শুরু হওয়া বিশেষ কর্মসূচি পুরো এক মাসব্যাপী চলবে। পাশাপাশি নগরের অন্যান্য এলাকায় নিয়মিত মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে। ক্রাশ প্রোগ্রাম শেষে পাথরঘাটা সিটি করপোরেশন বালক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রোগ্রামের আয়োজন করা হয়।

চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশক নিধনের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে নালা-নর্দমা, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা ও বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।
তিনি বলেন, নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা কিংবা নির্মাণসামগ্রীতে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে শুরু হওয়া বিশেষ কর্মসূচির আওতায় আগামী এক মাস ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালিত হবে। পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন বিভাগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগও সমন্বিতভাবে এ কার্যক্রমে অংশ নেবে।

গত দুই-তিন মাস ধরে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন পুরো কার্যক্রম ব্যক্তিগতভাবে মনিটর করছেন এবং নিয়মিত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে চসিক বিটিআই ব্যবহার করছে। এর ফলে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।গত বছর এ সময়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৮০০-এর বেশি থাকলেও চলতি বছরে তা প্রায় ৫৫০-৫৮০ জনে রয়েছে। একই সময়ে গত বছর ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু হলেও চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, আমরা আটটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করেছি। এগুলো হলো ২,৩,১৭,১৮,১৯,৩২,৩৪,৩৯ নম্বর ওয়ার্ড। এসব এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। মশক নিধন কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে শতাধিক কর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত জনবল দিয়ে কাজ করার পাশাপাশি অন্যান্য এলাকায় নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

আশরাফুল আমিন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ওষুধ প্রয়োগ নয়, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা, জমে থাকা পানি এবং বিভিন্ন স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করে তা ধ্বংস করা হবে।এ লক্ষ্যে চসিকের ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। আগামী এক মাস তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবেন। যেখানে ডেঙ্গুর লার্ভা পাওয়া যাবে, সেখানে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে জরিমানা ও কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

শিশু খাদ্যে বিষ ও ভেজাল : চাই কঠোর আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানুষ জীবন বাঁচাতে নানা খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করে। শিশুরাও নানা খাবার খায়। জন্মের পর একটি শিশু প্রথম ৫/৬ মাস কেবল মায়ের বুকের দুধ পান করে। ৬ মাস পেরুলে শিশুরা অল্প অল্প করে মাতৃদুগ্ধের পাশাপাশি হাল্কা খাবারে অভ্যস্ত হয়। কয়েক দিন আগে ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় লিড নিউজের শিরোনাম ছিল : ৪৫ ভাগ শিশু ঠিকমতো মায়ের দুধ পায় না। অভিভাবকরা শিশুদেরকে অপ্রয়োজনীয় ফুড সাপ্লিমেন্ট খাওয়াতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।

শিশু খাদ্যে বিষ ও ভেজালের ছড়াছড়ি নিয়ে প্রায়ই গণমাধ্যমে নানা খবর প্রকাশিত হয়ে আসছে। শিশুদেরকে মায়ের দুধের বিকল্প হিসেবে বাজারের টিনের দুধে অভ্যস্ত করা অবশ্যই বর্জনীয়। তা জেনেও এক শ্রেণির ডাক্তার প্রেসক্রিপশনে বেবি ফুড লিখে দিচ্ছে। অথচ মায়ের দুধে যে পুষ্টিগুণ রয়েছে, তা এই বেবি ফুডে নেই। অন্যদিকে বাজার থেকে অভিভাবকরা শিশুদের জন্য যে খাবার কেনে তাও যেন বিষ ও ভেজালে ভরা। শিশু খাদ্যে ভেজাল রুখতে অভিভাবকদের মধ্যে যে ধরনের সচেতনতা ও সতর্কতা দরকার, তা আমাদের দেশে এখনো গড়ে উঠেনি। ফলে শিশুদের স্বাস্থ্যহানি রোধ করা যাচ্ছে না।

বাজারে শিশুদের জন্য উপাদেয় চিপস, কেক, চকলেট, আচার, বিস্কুট, ঝালমুড়ি, চানাচুরসহ যা মুখরোচক খাবারের ছড়াছড়ি আমরা দেখে আসছি তা অনেকটাই ভেজালে ঠাসা। অলিগলিতে ছোট-বড় দোকানগুলোতে চকলেট, মিমি চকলেট, ওয়েফার বিস্কুট, জেলি আচার বিষাক্ত রঙ মিশানো হাতে বানানো আইসক্রিম, জেলি লিচু নামক অখাদ্য নানান সামগ্রী প্রতিনিয়ত শিশুরা খাচ্ছে। তা খেয়ে শিশুরা নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ভেজাল খাদ্য খাওয়ার ফলে বদহজম, গ্যাস্ট্রিক, আলসার, পেট ফাঁপাসহ নানা জটিল রোগ-ব্যাধি শিশুদের মাঝে বাসা বাঁধছে। অনেকের লিভার ও কিডনি নষ্ট হচ্ছে ভেজাল খাদ্য গ্রহণের কারণে।

শহর নগরে এমনকি গ্রামের স্কুল, কিন্ডার গার্টেন, মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলের বাইরে থাকা আচার, ঝালমুড়ির ভাসমান দোকানগুলো থেকে এসব ভেজাল খাবার কিনে খাচ্ছে। ফলে এসব খেয়ে তারা নানা অসুখে ভুগছে। মেয়াদোত্তীর্ণ আচার কিংবা ঝালমুড়ি যে কতটা বিষাক্ত ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর সে ব্যাপারে অনেক শিক্ষক অভিভাবক সচেতন নন। এসব মুখরোচক ভেজাল খাবার থেকে শিশুদের ফিরিয়ে আনতে স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা গড়ে তোলা জরুরি।

স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন চাইলে এসব ভেজাল খাবার বিকিকিনি বন্ধ করতে পারে। কিন্তু এ ধরনের কোনো উদ্যোগই দেখা যায় না। সবচেয়ে uh হলো, চিপস, বিস্কুট, চানাচুরসহ নানা শিশু খাদ্যে উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদোত্তীর্ণের যে তারিখ দেয়া হয় তা অবাস্তব ও ত্রুটিপূর্ণ। একটি ১০/২০ টাকার বিস্কুট কিংবা ১০/২০ টাকা দামের চিপসের মেয়াদোত্তীর্ণের সময়সীমা থাকে এক দেড় বা দুই বছর। কোনো উন্নত দেশে এই নিয়ম নেই। কেবল ব্যতিক্রম আমাদের এই স্বদেশ।

এদেশে শিশু খাদ্যসহ নানা খাদ্যপণ্যের মেয়াদ উত্তীর্ণের সময়সীমা এত দীর্ঘ থাকে যে, এর আগেই খাদ্যপণ্যগুলোর গুণগত মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। একটি খাদ্যপণ্যের মেয়াদ এক দেড় বা দুই বছর লেখা থাকে খাদ্যপণ্যের মোড়ক বা প্যাকেটে। অবাস্তব এই দীর্ঘ মেয়াদের কারণে খাদ্যপণ্যগুলো এর আগেই পচে যায়, নষ্ট হয়ে যায়। এ ধরনের বাসি মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার খেয়ে শিশুসহ সব বয়সী মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

খাদ্যপণ্য দেখভালের জন্য নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বা বিএসটিআই নামে সরকারের একটি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আছে। খোদ এই সংস্থার বিরুদ্ধে বড় দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ আছে। উৎকোচ ও ঘুষের বিনিময়ে এই বিএসটিআই খাদ্যপণ্যের হালাল সনদ দেয়। মেয়াদোত্তীর্ণের সনদও দেয় এই সংস্থাটি। কিন্তু অনেক সময় এই সনদের কার্যকারিতা থাকে না। ঘুষের বিনিময়ে খাদ্যপণ্যের মেয়াদ লিখে দিয়েই দায় সারে বিএসটিআই। বাজার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য তুলে নেয়া বা পণ্যের গুণমান কতটা রক্ষা করা হচ্ছে তা মোটেই তদারকি করা হয় না। ফলে এসব মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য খেয়ে জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে।

অবাক ব্যাপার যে, ৩০ টাকা দামের এক কাপ আইসক্রিমের মেয়াদ লেখা থাকে এক দেড় বছর। ১৫০ টাকা দামের ৫০০ গ্রাম আইসক্রিম কিংবা ৩০০ টাকা দামের ১ লিটার আইসক্রিমের মেয়াদ লেখা থাকে এক-দেড় বছর। ফ্রিজে রাখা হলেও এই আইসক্রিম এক দেড় বছর পর্যন্ত অক্ষত, নিরাপদ ও খাওয়ার উপযোগী থাকবে তা কখনো কল্পনাই করা যায় না। এই আইসক্রিমের মুদ্রিত মেয়াদের সময়সীমা পেরুনোর আগেই তা খাবার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। অথচ তা আমরা নির্দ্বিধায় খেতে বাধ্য হচ্ছি। বিএসটিআই তা দেখেও না দেখার ভান করে। বাজারে তাদের তদারকি মোটেও লক্ষ্য করা যায় না। ফলে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্যই যেন ভোক্তাদের একমাত্র ভরসা। বিএসটিআই যদি তাদের ওপর অর্পিত বাজার তদারকির দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করতো তবে পরিস্থিতি এতটা অসহনীয় হয়ে উঠতো না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিএসটিআই পুরোপুরি ব্যর্থ। মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য বাজার থেকে তুলে নিতে তারা মোটেই উদ্যোগী নয়। এ বিষয়ে পত্রিকায় অভিযোগ তুললে বিএসটিআইয়ের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের জনবলের অভাবকে দায়ী করে দায়মুক্ত হবার চেষ্টা করে। ভোক্তাদের জীবন-বাঁচার প্রশ্ন এই ভেজাল খাদ্যপণ্য। এটি অন্য দশটি সাধারণ সমস্যার মতো নয়। ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য যখন মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় তখন তো নীরবতা পালনের কোনো সুযোগ নেই। এখানে বাঁচা-মরার প্রশ্ন জড়িত। বিএসটিআই কেন ভেজাল ও বিষে ভরা পণ্য বাজার থেকে তুলে নেবে না? কেন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে এই সংস্থার নিস্পৃহ ভূমিকা আমাদের চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে?

একটি পাউরুটির মেয়াদ রাখা হয় সাধারণত ৪/৫/৬ দিন। এই পাউরুটির মেয়াদ দুদিনের বেশি রাখা ঠিক নয় জেনেও পাউরুটি যারা তৈরি করে তারা অযৌক্তিক বাড়তি সময় গায়ে লিখে দেয়। এক প্যাকেট তরল দুধ ফ্রিজে রাখলেও দুই-তিনদিনের বেশি তরতাজা থাকার কথা নয়। তবুও দুধের মোড়কে ৫/৬/৭ দিন মেয়াদ লেখা থাকে। এমনকি মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও এই দুধ বা পাউরুটি ভোক্তাদের খাওয়ানো হচ্ছে নানা কৌশলে। পাউরুটির মেয়াদের লেবেল পাল্টে ফেলা যায়। বাসি পাউরুটি স্টিকার পাল্টে দিয়ে অবলীলায় ভোক্তাদের খাওয়ানো হচ্ছে। কে দেখবে এসকল অনিয়ম-অপরাধ!

শিশু খাদ্য হিসেবে টিনের যে দুধ পাউডার বাজারে সরবরাহ করা হয় তাও শতভাগ শিশুদের খাওয়ার উপযোগী নয়। নিম্ন মানের ভেজাল শিশু খাদ্য শিশুদের খেতে হচ্ছে। ফলে শিশুরা নানা জটিল কঠিন রোগের শিকার হচ্ছে। শুধু শিশুখাদ্য দুধ নয় বাজারে থাকা প্রায় সকল খাদ্যপণ্যে ভেজাল ধরা পড়ে সরকারি নানা অভিযানে। হলুদ মরিচ গরম মসলার গুঁড়ো, কলাসহ মৌসুমী ফল ছাড়াও বিভিন্ন ফলসহ ক্ষতিকারক উপাদান ব্যবহার করে। এমনকি মাছ মুরগী খাদ্যেও ভেজাল হচ্ছে। অনেক সময় দোকানদারদের সামান্য জরিমানা করে ছেড়ে দেয়া হয়। মাঝে মাঝে ভেজাল বিরোধী অভিযান সত্ত্বেও ভেজাল বিষে ভরা খাদ্যপণ্য থেকে আমাদের তবুও নিষ্কৃতি মেলে না। বাজারে যে নামকাওয়াস্তে অভিযান চালানো হয় তা যথেষ্ট নয়, বরং কালেভদ্রে এ অভিযানের কোনো সুফলই পায় না ভোক্তারা। আমাদের সমাজের কম-বেশি অনেকের নৈতিক মান অনেক নিচে নেমে এসেছে। অনেকেই ধর্মের রীতি-নীতি মেনে চলেন না। নীতি-নৈতিকতার ধার ধারে না অনেকেই। ফলে ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে অবক্ষয় প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। খাদ্যে ভেজাল মেশানো নৈতিকতারই ঘাটতির জানান দেয়। অতএব, বাজার থেকে ভেজাল খাদ্যপণ্য তুলে নিতে বিএসটিআইসহ সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য কঠোর আইন প্রণয়ন ও যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিএসটিআইয়ের জনবল বাড়িয়ে সংস্থাটিকে কার্যকর প্রতিষ্ঠানে রূপ দিয়ে ভেজাল খাদ্যপণ্য বিকিকিনি প্রবণতা রুখতে হবে। না হয় ভেজাল খেয়ে আধমরা-অর্ধমৃত মানুষ হিসেবে জীর্ণশীর্ণ হয়ে বেঁচে থাকা ছাড়া আমাদের কোনো উপায় থাকবে না।

লেখক : ফটো জার্নালিস্ট, প্রাবন্ধিক

আলোচিত খবর

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবন ছেড়েছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বঙ্গভবন ছেড়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে একটি ভিডিওতে তার গাড়িবহর বের হয়ে যেতে দেখা যায়। এর আগে বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাকে বিদায় জানান।

বিদায়ের আগে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল হাফিজ উদ্দিন আহমদকে গার্ড অব অনার দেয়। তিনি গার্ড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে বিদায়ী শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।বিদায় অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রপতির সামরিক ও বেসামরিক সচিব এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গভবন ছাড়ার সময় হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করেন। একই সঙ্গে সরকারের সাফল্য কামনা করে বঙ্গভবন এলাকা ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য এর আগে গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ