চসিক দুর্গাপূজায় ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দিল

ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মহানগরে এবারের দুর্গাপূজায় ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। মহানগর পূজা উদ্যাপন পরিষদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৬টি থানার ২৯৪টি পূজামণ্ডপকে জেনারেটরের জ্বালানি খরচ বাবদ প্রতিটি মণ্ডপে পাঁচ হাজার টাকা করে ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা অনুদান দিয়েছে চসিক।

এ ছাড়া জেএম সেন হল পূজামণ্ডপকে পাঁচ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পূজা উদ্যাপন পরিষদের জামালখানস্থ কুসুমকুমারী পূজামণ্ডপকে ১৫ লাখ টাকা এবং সিটি করপোরেশনের চারটি সেবক কলোনির হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য প্রতিটি কলোনিতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।সব মিলিয়ে ৩৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রামে (টিআইসি) মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের আর্থিক অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এসব তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ-চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, সহসভাপতি বিপ্লব কুমার চৌধুরী, অর্থ সম্পাদক সুকান্ত মহাজন টুটুল, প্রিয়তোষ ঘোষ রতন, অয়ন ধরসহ মহানগরীর বিভিন্ন থানার পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া লিটন কুমার শীল, দীপক দাশ, ডা. দেবাশীষ দাশ, শিমুল দে, রতন দাশ, সাজু মহাজন, সমীরণ দাশ ও লিংকন দেবনাথসহ মহানগরীর ২৯৪টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সব ধর্মের মানুষের জন্য নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন কাজ করছে বলে জানান মেয়র।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সবার শহর।ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। একটি সুন্দর নগর গড়ে তুলতে হলে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।নগরকে ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি কপোরেশনের উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণও জরুরি।

ধর্মীয় উৎসব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন দৃঢ় করে। চট্টগ্রাম একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নগর। এ নগরে সব ধর্মের মানুষ যেন নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উদ্যাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। ধর্মীয় পরিচয় যার যার, কিন্তু নগরী সবার। তাই নগরীর উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, একটি সেফ সিটি গড়ে তোলার অর্থ শুধু অপরাধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা নয়; বরং এমন একটি নগর তৈরি করা, যেখানে প্রত্যেক মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন, ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবেন এবং সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশে বসবাস করতে পারবেন। এ জন্য নগরে পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জনস্বাস্থ্য ও নাগরিক অবকাঠামোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেয়র বলেন, নগরের সব ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ের ন্যায্য দাবি ও প্রয়োজনের বিষয়ে সিটি করপোরেশন আন্তরিক। নাগরিকদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করা হবে। ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।

নগরের উন্নয়ন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক অর্জন নয়; এটি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নগরীর স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। নাগরিক দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তোলা সম্ভব।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ২৫০০ দুর্গাপূজা, নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২০ হাজার সদস্য

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলা মিলিয়ে আড়াই হাজারের বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আড়ম্বর শুরু হয়েছে। পূজার নিরাপত্তায় চট্টগ্রামে প্রায় আট হাজার পুলিশ সদস্য মাঠপর্যায়ে মোতায়েনের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ হিসেব করলে প্রায় ২০ হাজার সদস্য বন্দরনগরীতে দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার দায়িত্বে আছেন।

চট্টগ্রাম নগরীতে ২৭৮টি ও নগরীর বাইরে জেলার ১৫ উপজেলায় ২ হাজার ২৭৪টিসহ মোট ২ হাজার ৫৫২ মণ্ডপে এবার দুর্গাপূজা হচ্ছে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ও উসকানি প্রতিরোধকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানালেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (মিডিয়া) আমিনুর রশিদ বললেন, প্রতিটি মণ্ডপ বা কাছাকাছি মণ্ডপসমূহ ঘিরে তিনস্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা করা হয়েছে। অধিকাংশ মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। বড় মণ্ডপগুলোতে সর্বোচ্চ ৫ জন আনসার সদস্য থাকছে। সঙ্গে পুলিশ দুইজন বা তিনজন করে। এর বাইরে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য, মোবাইল পার্টি মণ্ডপের ভেতরে-বাইরে দায়িত্ব পালন করবে। র‌্যাব টহল দেবে। ডিউটি অলরেডি শুরু হয়েছে।

নগরীতে পুলিশের দুই হাজার পোশাকধারী সদস্য, গোয়েন্দাসহ বিভিন্ন ইউনিট মিলিয়ে আরও প্রায় এক হাজার এবং র‌্যাব ও আনসার মিলিয়ে ৬ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানালেন সহকারী কমিশনার আমিনুর রশিদ।

এবার দুর্গাপূজা একদিন বেশি। ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে পাঁচদিনের দুর্গোৎসব শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে। নগর পুলিশ পূজার আনুষ্ঠানিকতা থেকে প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত তাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দুর্গাপূজার উৎপত্তিস্থল হিসেবে পরিচিত বোয়ালখালী উপজেলার চণ্ডীতীর্থ মেধস মুনির আশ্রম পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানালেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলায় পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ ও সাড়ে ১২ হাজার আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। প্রতিটি বড় মণ্ডপে পুলিশ ও আনসার মিলিয়ে অন্তঃত ১০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাসুদ আলম বললেন, মণ্ডপকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুক্রবার থেকে চলবে। আমরা সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছি গুজব, অপপ্রচার ও নাশকতার চেষ্টা ঠেকানোর বিষয়ে। মণ্ডপ কর্তৃপক্ষকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি তারা সেটা পালন করবেন। সূর্যাস্তের আগে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

চট্টগ্রামে এবার ২ হাজার ২৭৪ মণ্ডপে দুর্গাপূজা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে এবার দুই হাজার ২৭৪টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানালেন বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বেলা ১১টায় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের চট্টগ্রাম জেলা কমিটি এসব তথ্য জানায়।
একই সাথে উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারটি মনিটরিং দল ও সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণ কক্ষ গঠন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ। এছাড়া দুর্গাপূজা উপলক্ষে চার দিন সাধারণ ছুটিসহ ৮ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সভাপতি নিতাই প্রসাদ ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক সুগ্রীব মজুমদার দোলন, সাবেক সভাপতি দীলিপ মজুমদার, অধ্যাপক নারায়ণ কুমার চৌধুরীসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাধারণ সম্পাদক জানান, জেলার ১৬ উপজেলা ও পৌরসভায় ১ হাজার ৬৫৫টি সার্বজনীন প্রতিমাপূজা এবং ৬১৯টি ঘটপূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত ১০ অক্টোবর মহালয়ার দিনে বোয়ালখালীর শ্রীশ্রী চণ্ডীতীর্থ মেধস আশ্রমে মহালয়া উদ্যাপনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।সংবাদ সম্মেলনের জানানো হয়, উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপনে জেলা প্রশাসন, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থা ও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে পরিষদ। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা যেন কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে উদ্যাপন করা যায়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।

সংবাদ সম্মেলনে ৮ দফা দাবি পেশ করা হয়। এর মধ্যে দুর্গাপূজায় চার দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা, দেশের প্রতিটি উপজেলায় সরকারি উদ্যোগে একটি করে মডেল মন্দির নির্মাণ, বোয়ালখালীর চণ্ডীতীর্থ মেধস আশ্রমের উন্নয়ন এবং দক্ষিণ কাট্টলীর রানি রাসমণি বারুণী স্নানঘাট বা ‘সমুদ্রতীর্থ’ সংস্কার ও উন্নয়ন অন্যতম।

আলোচিত খবর

২৯ অক্টোবর এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছে। আগামী ২৯ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে শিক্ষা বোর্ডগুলো। সংশ্লিষ্ট বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানান, ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি রয়েছে।
বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের সম্ভাবনাই বেশি। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গত ২ জুলাই শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়।

এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৯ সেপ্টেম্বর।
দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেয় ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ