ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা মা-মেয়ের পৌঁছানো হলো না গন্তব্যে, পথেই সব শেষ

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি মাইক্রোবাসের দুর্ঘটনায় একসঙ্গে প্রাণ হারালেন মা ও মেয়ে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে ওই মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন মাইক্রোবাসের আরও চার যাত্রী। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যের বেশ কাছাকাছি চলে এসেছিলেন তারা। আর কিছুক্ষণ পরই হয়তো পৌঁছাতেন কাঙ্ক্ষিত স্থানে। কিন্তু পথেই সব শেষ।

নিহত দুজন রোজী আক্তার (৬০) ও তার মেয়ে নাজমা খাতুন (৪২)। রোজীর বাড়ি জয়পুরহাট পৌরসভার বাদশা গ্রামে। তার স্বামী মৃত নজিবুর রহমান। আর মেয়ে নাজমার শ্বশুরবাড়ি একই জেলার জামালগঞ্জ গ্রামে। মেয়েটির স্বামীর নাম আসলাম হোসেন। জয়পুরহাট থেকে একসঙ্গে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন নিহত দুজন।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে চালক হঠাৎ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তেই গাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গুরুতর আহত হন ভেতরে থাকা যাত্রীরা। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার করেন তাদের। আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোজী ও নাজমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় আহত বাকি চার জনের মধ্যে মো. আলতাফ হোসেন (৫২) নামের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি বাকি তিনজনের নাম-পরিচয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন তারা।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার এসআই জামান জানান, চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই মাইক্রোবাসটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ মণ্ডপসজ্জায় ফুটে উঠেছে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের খলিফাপট্টি সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের এবারের থিম ‘রক্তাঞ্জলি’। নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদী রূপই এবার ফুটে উঠেছে তাদের মণ্ডপসজ্জায়। মণ্ডপের প্রবেশপথে পা রাখতেই চোখে পড়ে সাদা কাপড়ে ছোপ ছোপ লাল রং। দেয়ালে সাঁটানো খবরের কাগজের কাটিং, যেখানে নারী ও শিশু নির্যাতনের নানা খবর। একপাশে কানে হাত দিয়ে বসে আছে এক শিশু। দুর্গার পায়ে ফুলের বদলে দেওয়া হচ্ছে রক্ত।

কেবল খলিফাপট্টি নয়, চট্টগ্রামের মণ্ডপগুলো এবার যেন হয়ে উঠেছে একেকটি জীবন্ত ক্যানভাস। খবরের কাগজের রূঢ় বাস্তবতা আর কাব্যের স্নিগ্ধ ভাষা মিলেমিশে একাকার হয়েছে পূজার নানা ভাবনায়। কোথাও জীবনের দায়বদ্ধতা, কোথাও সৃষ্টির আদি উপাদান জলের আখ্যান উঠে এসেছে প্রতিমা ও আলোকসজ্জায়।
এছাড়া গোসাইলডাঙ্গা সার্বজনীন শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির প্রাঙ্গণে একতা গোষ্ঠীর আয়োজনে ফুটে উঠেছে ‘ভার’ বা দায়বদ্ধতার গল্প। বাবার কাঁধে সন্তানের ভার, প্রকৃতির প্রতি মানুষের দায় কিংবা নিজের আত্মার প্রতি নিজের দায়িত্ব-এসব বিষয়কে পাহাড়ের মতো ভারী অথচ দেবীর আশীর্বাদের মতো পবিত্র রূপে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে উত্তর কাট্টলী জ্বালাকুমারী বাড়ির বৈশাখী সংঘের মণ্ডপে গেলে মনে হবে জলের এক মায়াবী দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছেন দর্শনার্থীরা। ‘জল দুয়ার’ থিমে জলের প্রতিটি বিন্দু থেকে সৃষ্ট প্রাণ, বিবর্তন ও আরাধনার গল্প মাটি ও আলোর খেলায় মূর্ত করে তুলেছেন শিল্পীরা।
মণ্ডপগুলোর এই সৃজনশীলতা ও নান্দনিক আয়োজনের স্বীকৃতি দিতে এবার উদ্যোগ নিয়েছে ‘শারদ সম্মাননা পর্ষদ’। চট্টগ্রাম নগরীর ৪৬টি নিবন্ধিত পূজামণ্ডপের মধ্যে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সেরা পাঁচটি মণ্ডপের নাম ঘোষণা করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

নগর ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, উৎসবের সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যকে ধারণ করে একটি সম্প্রীতিময় নগরী গড়ে তুলতে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি।পূজামণ্ডপের ব্যতিক্রমী আয়োজনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে আয়োজকদের উৎসাহিত করার কথাও জানান তিনি। চিত্রশিল্পী, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত জুরি প্যানেল সরেজমিনে মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করে এই মূল্যায়ন করেন। সেরা পাঁচের তালিকায় খলিফাপট্টি, গোসাইলডাঙ্গা ও উত্তর কাট্টলীর পাশাপাশি স্থান পেয়েছে পতেঙ্গা শ্যামা সংঘ (থিম: যুগান্তরের বার্তাবহন) এবং দক্ষিণ নালাপাড়া পূজা উদযাপন পরিষদ (থিম: আত্মকথন)।

চিত্রশিল্পী আহমেদ নেওয়াজ বলেছেন, প্রতিটি মণ্ডপের থিম, নান্দনিকতা ও শিল্পভাবনা ছিল প্রশংসনীয়। সরেজমিনে পরিদর্শনপূর্বক বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নে সেরা নির্বাচন করা ছিল আমাদের জন্য বেশ দায়িত্বপূর্ণ।’ আরেক বিচারক চিত্রশিল্পী দীপক দত্ত বলেছেন, ‘নান্দনিক রূপায়ন, ঐতিহ্য রক্ষা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের সার্বিক সূচক বিবেচনায় নিয়ে আমরা নিরপেক্ষ মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছি।

এবারের সম্মাননায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন চিত্রশিল্পী আহমেদ নেওয়াজ, চিত্রশিল্পী দীপক দত্ত, আলোকচিত্র শিল্পী শোয়েব ফারুকী, নাট্যজন ও বাচিকশল্পী বাপ্পা চৌধুরী ও কংকন দাশ, সিনিয়র সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হায়দার, ফারুক তাহের ও অনুপম পার্থ, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য প্রশিক্ষক প্রিয়াংকা বড়ুয়া। বিচারকরা নিবন্ধিত মণ্ডপগুলোর শিল্পমান, থিমের গভীরতা, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করেছেন।

বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে রেলের অংশ সীমিত, সড়কে বাড়ছে চাপ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রেলের অংশ সীমিত থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে সড়কের ওপর চাপ বাড়ছে। অথচ রেলপথে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে দীর্ঘ দূরত্বে ট্রাকের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয়ও কমানো সম্ভব হতো। বিশেষ করে বন্দরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বাড়লেও পণ্য পরিবহনে রেলের প্রয়োজনীয় ইঞ্জিনের সংকট, কনটেইনারবাহী ট্রেনের স্বল্পতা এবং অনিয়মিত পরিচালনার কারণে আমদানি- রপ্তানি পণ্য সরবরাহে বাড়ছে বিলম্ব ও ব্যয়। তবে সম্প্রতি রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রেলে পণ্য পরিবহনের অংশ ১৬ থেকে ১৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। বর্তমানে বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে রেলের অংশ প্রায় ১ দশমিক ৩৩ থেকে ৪ শতাংশ।

জানা গেছে, বন্দর ও রেলওয়ের সক্ষমতাগত সীমাবদ্ধতার প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়ীদের ওপর। রেলপথে পর্যাপ্ত পরিবহনসেবা না থাকায় আমদনিকারকদের পণ্য পরিবহনে ট্রাক ও ট্রেইলারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি, যানজট, চালক ও শ্রমিকের মজুরি এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয়ের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। পণ্য পৌঁছাতে বিলম্ব হলে গুদামভাড়া বাড়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, যানজটের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পণ্য পরিবহনের ব্যয় সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়ে শিল্পের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ব্যয় এবং রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপর।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার কমলাপুর আইসিডিতে ২০ ফুটের একটি কনটেইনার রেলপথে পরিবহনের সরকারি ভাড়া ৯ হাজার ৭০০ থেকে ১৬ হাজার ১০০ টাকা। অন্যদিকে, সাধারণ সময়ে সড়কপথে কাভার্ড ভ্যানে কনটেইনার পরিবহনের স্বাভাবিক ভাড়া থাকে ১৭ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা। তবে তীব্র জ্বালানি সংকট বা বিশেষ পরিস্থিতিতে এই ভাড়া বেড়ে ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অর্থবছরে বন্দরে ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৭ টিইইউ। এক বছরে কনটেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে ৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ । অন্যদিকে, বাংলাদেশ পূর্বাঞ্চলে কনটেইনার ট্রেনের ট্রিপ ২০২২-২৩ অর্থবছরের ২ হাজার ৮৭৮টি থেকে কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৪৬৭টিতে নেমেছে। একই সময়ে কনটেইনার।পরিবহন থেকে আয় ২৯৬ কোটি ৪৭ লাখ টাকা থেকে কমে ১৬৩ কোটি ৩১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন ১১৯টি ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও প্রাপ্যতা রয়েছে ৬৫টি। ইঞ্জিনের এই ঘাটতির কারণে যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রেনের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কনটেইনার ট্রেনের নিয়মিত চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রেলের পরিবহন সক্ষমতা ও আয়-দুই ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে পণ্য পরিবহনের জন্য প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি ইঞ্জিন প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে গড়ে চার থেকে পাঁচটি ইঞ্জিন পাওয়া যায়। কোনো কোনো দিন ইঞ্জিনের প্রাপ্যতা কমে এক বা দুটিতে নেমে আসে। এতে চাহিদা অনুযায়ী কনটেইনার পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না এবং পণ্য পরিবহনে বিলম্ব হচ্ছে । ইঞ্জিনের সংখ্যা বাড়াতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরে মোট ৮ লাখ ৬৩ হাজার ২৭৮ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। এ সময়ে রেলপথে কনটেইনার পরিবহনের পরিমাণ বন্দরের মোট হ্যান্ডলিংয়ের মাত্র ১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও কনটেইনারবাহী ট্রেনের অভাবে রেলপথে পণ্য পরিবহনের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
বন্দর সচিবের মতে, ইঞ্জিনের প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং নিয়মিত কনটেইনার ট্রেন পরিচালনা নিশ্চিত করা গেলে বন্দর থেকে পণ্য পরিবহনে রেলের অংশ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে সড়কের ওপর চাপ কমার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের জন্য তুলনামূলক সাশ্রয়ী পরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, রেলওয়ের দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জনবলসংকট ও রোলিংস্টকের অভাবে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়ছে। রেলপথে পর্যাপ্ত ইঞ্জিন ও কনটেইনারবাহী ট্রেন না থাকায় ব্যবসায়ীদের সড়কপথের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে জ্বালানি খরচ ও যানজটের কারণে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যে।তিনি আরও বলেন, রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ইঞ্জিন ও ওয়াগনের সংকট নিরসন, প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি। এতে পণ্য পরিবহনের ব্যয় কমানোর পাশাপাশি সড়কের ওপর চাপও কমানো সম্ভব হবে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ