আজকের দিনটি অনেক গর্বের ও আনন্দের দিন বলে উল্লেখ করলেন: প্রধানমন্ত্রী।

ঢাকা অফিস:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হস্তান্তরের দিনটি বাংলাদেশের জনগণের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের দিন বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় পারমাণবিক জ্বালানি গ্রহণের মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সফল পরিণতি লাভ করছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি শান্তি রক্ষায় ব্যবহার করবে।

বৃহস্পতিবার বিকালে রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে রুশ পরমাণু শক্তি করপোরেশন রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ পারমাণবিক জ্বালানির একটি নমুনা হস্তান্তর করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমানের হাতে।

ঐতিহ্যবাহী নিউক্লিয়ার ক্লাবের কার্যকর সদস্য হওয়ার দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা,

মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ বীর শহীদ এবং দুই লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে স্মরণ করে সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সালাম জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি কৃতজ্ঞতা জানান বন্ধুপ্রতিম রাশান ফেডারেশনের সরকার এবং জনগণের প্রতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “বঙ্গবন্ধু ১৯৫৬-৫৭ সালে প্রাদেশিক সরকারের শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতিরোধ এবং গ্রামীণ সহায়তা মন্ত্রী থাকাকালে এ অঞ্চলে উৎপাদনমুখী শিল্পায়নের উপর জোর দিয়ে নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছিলেন।

“১৯৬১ সালে পশ্চিম পাকিস্তানে একটি এবং পূর্ববাংলার রূপপুরে একটিসহ মোট দু’টি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। ৭০ সাল পর্যন্ত নামমাত্র জমি অধিগ্রহণ ছাড়া সেই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য তারা কিছুই করেনি।”

বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুতায়নের উদ্যোগ নিয়েছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সমুদ্র সম্পদ এমনকি খনিজ সম্পদ জাতীয়করণ করেছিলেন এবং বিদেশি ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলো থেকে আমাদের গ্যাস ফিল্ডগুলো কিনে নিয়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন এবং নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ দিয়েছিলেন।”

বঙ্গবন্ধু বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়াকে প্রস্তাবিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিচালকের দায়িত্ব দিয়েছিলেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সে অনুযায়ী কিছু কাজও হয়েছিল। দুর্ভাগ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট ঘাতকরা জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করার পর এই মেগা প্রকল্পটিসহ সকল জনবান্ধব ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেমে যায়।

১৯৯৬ সালে সরকার গঠন করে ‘সবার জন্য বিদ্যুৎ’ সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে ‘ভিশন স্টেটমেন্ট ও পলিসি স্টেটমেন্ট অন পাওয়ার সেক্টর রিফর্মস’ প্রণয়ন ও অনুমোদন করার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা জ্বালানি নীতিতে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করি। ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প’ বাস্তবায়নের কার্যক্রম শুরু করি। ‘বাংলাদেশ নিউক্লিয়ার পাওয়ার অ্যাকশন প্ল্যান-২০০০’ প্রণয়ন করি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা- আইএইএর সহযোগিতা চাই।

“বিষয়টি যেহেতু আমাদের কাছে একেবারেই নতুন ছিল, সে কারণে জটিল আইন-কানুন তৈরি করতেই আমাদের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। ২০০১ সালের পর বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় এসেই আমাদের নেওয়া সকল জনবান্ধব ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি-প্রকল্প বন্ধ করে দেয়। আবারও হিংসা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, বেপরোয়া লুটপাট এবং সেনা শাসনের পুরু আবরণে গণতন্ত্র ঢাকা পড়ে। তবে ২০০৮ সাল থেকে পরপর ৩ দফা সরকারে থাকার কারণেই আমরা আজ বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী নিউক্লিয়ার ক্লাবের সদস্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পেরেছি।”

‘রূপকল্প ২০২১’ এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ‘পাওয়ার সেক্টর মাস্টারপ্ল্যান-২০১০’ প্রণয়ন করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আবার রূপপুর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করি। বন্ধুরাষ্ট্র রাশিয়া এটি বাস্তবায়নে এগিয়ে আসে। তাছাড়া, আইএইএ শুরু থেকেই আমাদের নানাভাবে সহায়তা করে আসছে।”

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এখন পর্যন্ত আপনার সর্বাত্মক সহযোগিতায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।”

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে জ্বালানি সংযুক্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, “পরমাণু শক্তি আমরা শান্তি রক্ষায় ব্যবহার করব। আমরা বিশ্বব্যাপী পারমাণবিক অস্ত্রের সাধারণ ও সম্পূর্ণ নির্মূল এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তির বাস্তবায়নের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। আমরা ‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ আইন’ প্রণয়ন করেছি এবং একটি স্বাধীন পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠা করেছি।”

যেকোনো দুর্যোগে আমাদের এই পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকটা খেয়াল রেখে এই প্ল্যান্টের ডিজাইন প্রণয়ন এবং নির্মাণকাজ পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “ব্যবহৃত জ্বালানি ব্যবস্থাপনার জন্য আমরা রাশান ফেডারেশনের সঙ্গে চুক্তি সই করেছি। রাশান ফেডারেশন এসব স্পেন্ট ফুয়েল তাদের দেশে ফেরত নিয়ে যাবে।”

অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. আলী হোসেন ও আরএনপিপি নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক মো. শৌকত আকবর উপস্থিত ছিলেন।

রূপপুর বিদ্যুৎ প্রকল্পটি মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার। দুটি ইউনিটে বিভক্ত এ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কাজ এরই মধ্যে ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ ৭০ শতাংশ এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাশিয়া থেকে দেশে আসে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরদিনই তা প্রকল্প এলাকায় নেওয়া হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যাবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জন্য ১ লাখ টনের বেশি ক্রুড অয়েল নিয়ে একটি জাহাজ আসছে। ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের জাহাজটি শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে আসার কথা রয়েছে। অবশ্য জাহাজটি ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশে প্রথম ক্রুুড অয়েলের চালান নিয়ে এসেছিল। বিপিসির শতভাগ ক্রুড অয়েল পরিবহন করে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি)।

বিএসসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি সূত্রে জানা গেছে, মার্শাল আইল্যান্ডের পতাকাবাহী ২৪৯ দশমিক ৯৫ মিটার লম্বা, ৪৪ দশমিক ৪ মিটার প্রশস্ত, ১৪ দশমিক ৬ মিটার ড্রাফটের (জাহাজের পানির নিচের অংশ) এমটি নিনেমিয়া ১ লাখ ৪ হাজার ২৬ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে আসছে। গত ২৩ জুলাই এমটি নিনেমিয়া ইয়ানবু বন্দর থেকে ক্রুড অয়েল লোড করে যাত্রা শুরু করেছে। ২০২৪ সালে তৈরি জাহাজটি ১১ নটিক্যাল মাইল গতিতে জাহাজটি চলছে। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জলসীমার কাছাকাছি পৌঁছেছে জাহাজটি। বরবারের মতো এমটি নিনেমিয়া বহির্নোঙরে আসলে ছোট ছোট ট্যাংকারে ক্রুড অয়েল লাইটারিংয়ের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন করতে ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ বার্থিং, লাইটারিং, চলাচল ও খালাস কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে বিএসসি আফ্রিকা ঘুরে চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে ওই জাহাজের মালিকপক্ষ বা স্থানীয় এজেন্টের প্রস্তাবে রাজি হয়।

স্বাভাবিক সময়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে জাহাজটি লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালি হয়ে ৪ হাজার ২০০ নটিক্যাল মাইল পেরিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আসত ১৩-১৫ দিনে।কিন্তু নতুন রুটে সুয়েজ খাল, জিব্রাল্টার প্রণালি ও দক্ষিণ আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীপ (কেপ অব গুড হোপ) ঘুরে আসায় পথ প্রায় ৯ হাজার নটিক্যাল মাইল বেড়েছে। সময় লাগছে প্রায় ৫২ দিন। ঘুরপথে জাহাজটির নিজস্ব জ্বালানি লো সালফার ফুয়েল, মেরিন গ্যাস অয়েল, সুয়েজ খাল পার হওয়ার ফি, ভাড়া ইত্যাদি খরচও বাড়ছে কয়েক মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ফিসহ কিছু খরচ ফিক্সড হলেও পুরো হিসাব উভয়পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে।

ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিপিসির অধীন ইস্টার্ন রিফাইনারিতে এখন প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হচ্ছে। এর জন্য বিপিসি থেকে পরিশোধন বাবদ ফি পায় ইআরএল। পরিশোধিত তেলের মধ্যে ডিজেলই বেশি উৎপাদন হচ্ছে। এ ছাড়া বাই প্রোডাক্ট হিসেবে এলপিজি, ফার্নেস অয়েল, কেরোসিন, এমএস অকটেন ইত্যাদিও উৎপাদিত হচ্ছে। ইআরএলের ট্যাংকে ক্রুড অয়েল মজুদ থাকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টন। এর বাইরে এসপিএমের পাইপলাইনে কিছু ক্রুড অয়েল রাখা ছিল যা ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের শুরুতে হরমুজ প্রণালিকেন্দ্রিক সংকটের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল ইআরএলের প্ল্যান্টে।

সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে ক্রুড অয়েলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ১২ এপ্রিল রাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির ক্রুড অয়েল ডিস্টিলেশন ইউনিট সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। এরপর এমটি নিনেমিয়া জাহাজে ক্রুড অয়েল আসার পর ৮ মে পুনরায় চালু হয়েছিল ইস্টার্ন রিফাইনারি। অবশ্য যুদ্ধকালীন জ্বালানি সংকট সামাল দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিকল্প দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পরিশোধিত ডিজেল আমদানি করে সরকার।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি বছরে ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে, যা দেশের বার্ষিক ৭২ লাখ টন চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে। দেশের চাহিদা মেটাতে ৯২ শতাংশ জ্বালানি তেল আমদানি করতে হয়। বাকি ৮ শতাংশ স্থানীয় উৎস ও কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করে পাওয়া যায়। জ্বালানি চাহিদার তালিকায় ডিজেল শীর্ষে রয়েছে। এরপর রয়েছে ফার্নেস অয়েল, পেট্রল, অকটেন, কেরোসিন এবং প্লেন চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল।

৯/১১ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার দিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার দিন ৯/১১।সেদিন আল-কায়েদার ১৯ জন সদস্য চারটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাই করে আত্মঘাতী হামলা চালান। দুটি উড়োজাহাজ আঘাত হানে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের টুইন টাওয়ারে। আরেকটি আঘাত করে ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে। চতুর্থ উড়োজাহাজটি পেনসিলভানিয়ার একটি এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ঐদিন নিহত হন ২ হাজার ৯৭৭ জন।

সেই ভয়াবহ হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ। ওই হামলা বদলে দিয়েছে বিশ্বরাজনীতি, যুদ্ধনীতি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের গতিপথ। হামলার নেতৃত্বে ছিল ওসামা বিন লাদেনের নেতৃত্বাধীন আল-কায়েদা। তবে ৯/১১ হঠাৎ করে ঘটেনি। এর আগে আল-কায়েদা ১৯৯৮ সালে আফ্রিকায় দুটি মার্কিন দূতাবাসে বোমা হামলা এবং ২০০০ সালে ইয়েমেন উপকূলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল-এ হামলা চালিয়েছিল। বিন লাদেন প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

হামলার আগে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে আল-কায়েদা ও সম্ভাব্য হামলা সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ছিল। কিন্তু সিআইএ ও এফবিআইয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যথাযথভাবে আদান-প্রদান হয়নি। পরে ৯/১১ কমিশন এটিকে বড় ধরনের গোয়েন্দা ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করে।
২০০১ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে। লক্ষ্য ছিল আল-কায়েদাকে ধ্বংস করা এবং তালেবান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরানো। পরে ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ করে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

পরবর্তী দুই দশকে আফগানিস্তান ও ইরাকে দীর্ঘ যুদ্ধ চলে। সন্ত্রাস দমনের নামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অভিযান, আটক, জিজ্ঞাসাবাদ ও নজরদারি বাড়ানো হয়। গুয়ানতানামো বে কারাগারে বিচার ছাড়াই বন্দী রাখা এবং ইরাক-আফগানিস্তানে বন্দীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও ওঠে। ফলে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের পাশাপাশি মানবাধিকার নিয়েও তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়।

গত ২৫ বছরে যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১-এর মতো মাত্রার আর কোনো হামলা হয়নি। তবে সন্ত্রাসী হুমকি পুরোপুরি শেষ হয়নি। ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রে উগ্র ইসলামপন্থী সহিংসতার শতাধিক ঘটনা ঘটেছে বলে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সন্ত্রাসবাদকে তুলনামূলক কম অগ্রাধিকার দেওয়ার ফলে আবারও গোয়েন্দা সক্ষমতা ও অভিজ্ঞ জনবল কমে যেতে পারে। বাজেট কমানো, অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের চলে যাওয়া এবং আত্মতুষ্টি-এই তিনটি বিষয়কে বিশেষ ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন তারা।

সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের ২৫ বছর পর তাই যুক্তরাষ্ট্রের সামনে প্রশ্নটি নতুন করে ফিরে এসেছে-হুমকির ধরন বদলালেও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কি সতর্কতা হারাচ্ছে? বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা, ৯/১১-এর আগে যে ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও তথ্যের সমন্বয়হীনতা ছিল, তা যেন আবার ফিরে না আসে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ