মরহুম মোজাহের মেম্বার ছিলেন প্রকৃত সমাজসেবক ও একজন রত্নগর্ভা পিতা।

উখিয়া প্রতিনিধি: এম.এ.রহমান সিমান্ত:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উখিয়ার পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি সদস্য থাইংখালীর বিশিষ্ট সমাজ সেবক মরহুম আলহাজ্ব মোজাহের আহমদ মেম্বারের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্নরণ সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪ টায় থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে আলহাজ্ব মোজাহের আহমদ মেম্বার মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন এ মহতি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মরহুমের সুযোগ্য সন্তান পালংখালী ইউপি’র ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য আলতাফ আহমদ সওদাগরের সভাপতিত্বে ও থাইংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক কমরুদ্দিন মুকুলের সঞ্চালনায় স্নরণ সভায় স্নৃতিচারণ করে প্রধান মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আলম চৌধুরী।

বিশেষ মেহমান হিসেবে বক্তব্য রাখেন মরহুমের সুযোগ্য সন্তান,আলহাজ্ব মোজাহের আহমদ মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক,চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আক্কাস আহমদ ও চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোজাহের আহমদ।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন উখিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ মঞ্জুর,রহমতের বিল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজ উল্লাহ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ফরিদ আহমদ চৌধুরী,মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা নুরুল আমিন সিদ্দিকী,থাইংখালী স্টেশন জামে মসজিদের খতিব মাওলানা হাফেজ আবদুল গফুর, মরহুমের নাতি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহাব উদ্দিন,টেকনাফের নয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নুরুল আকতার শিকদার
,রংগীখালী ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক আকতারুল জলিল,
আওয়ামীলীগ নেতা আহমদ উল্লাহ সওদাগর, মোজাফফর আহমদ সওদাগর,আবুল মঞ্জুর সিদ্দিকী, পালংখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শুক্কুর মেম্বার,মিছবাহ উদ্দিন সেলিম মেম্বার,বিএনপি নেতা রশিদ আহমদ,আবুল আলা হেলালী প্রমুখ সহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে মরহুমের জীবনীর উপর স্নৃতিচারণমুলক বক্তব্য রাখেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, মরহুম মোজাহের আহমদ মেম্বার কয়েক মেয়াদে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত ইউপি সদস্য ছিলেন।স্থানীয় পর্যায়ে শালিশী ব্যবস্থায় অত্যন্ত সততার সহিত দায়ীত্ব পালন করে একজন ন্যায় বিচারক ও সমাজসেবক হিসেবে মানুষের হ্নদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন বলেই এখনো তাকে অন্তরে লালন করে যাচ্ছেন পালংখালী ইউনিয়ন বাসী।তিনি একজন আদর্শবান পিতাও।তার কনিষ্ট ছেলে আক্কাস আহমদ চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। অন্য ছেলেরাও লেখাপড়ার পাশাপাশি সফল ব্যবসায়ী হিসেবেও সর্বজন বিদিত।

আলোচনা সভা শেষে মরহুমের আত্নার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালবা করা হয়।সব শেষে উপস্থিতিদের জন্য রাতের ভোজন ব্যবস্থা করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে স্থায়ী-অস্থায়ী জলাবদ্ধতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অতিসম্প্রতি টানা বৃষ্টি ও জোয়ারে চট্টগ্রাম মহানগরীর স্থায়ী-অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।গত ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত টানা বর্ষণ ও জোয়ারের নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। ওই সময়ে চট্টগ্রামে ৪৩ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়। এতে কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, আগ্রাবাদ, সিএন্ডবি মোহরা, কুয়াইশ এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। জনভোগান্তি কমাতে জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ১৬টি কুইক রিয়েকশন (কিআর) টিম মাঠে কাজ করেছে। এছাড়াও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা বিভাগও কাজ করেছে।

এদিকে জলাবদ্ধতার পিছনে পরিকল্পনা অনুযায়ী জলাধার নির্মাণ না করা, ড্রেন ভরাট, ডোবা ভরাট করে আবাসন প্লট, রাস্তা উঁচু না করা, খাল দখল এবং ক্রস কালভার্ট বন্ধ করাসহ ছয়টি কারণ চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এই প্রতিবেদন শীঘ্রই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী।

জানা গেছে, বৃষ্টি চলাকালীন সময়ে ৩৪ ব্রিগেডের পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করায় বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কাতালগঞ্জ ও কাপাসগোলায় জলাবদ্ধতা হয়নি। এছাড়া, আগ্রাবাদের পানি একদিনে নেমে গেলেও মোহরা ও কুয়াইশ এলাকার পানি প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা থাকা এলাকাগুলো নিয়ে কাজ শুরু করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এর কারণ অনুসন্ধান করে একটি তদন্ত প্রতিবেদনও প্রস্তুত করেছে ৩৪ ব্রিগেড। যা কিছুদিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রধানদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে খাল পুনঃখনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক আধুনিকীকরণ এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতেও চট্টগ্রাম নগরী একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হবে। সেনাবাহিনীর এই অনুসন্ধান ও কারিগরি সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার টেকসই সমাধানের পথ অনেকটাই সুগম হবে।

পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে ইতোমধ্যে একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, শিগগিরই প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে জলাবদ্ধতার কারণ এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হবে বলে জানান তিনি।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিনুল হক চৌধুরী বলেন, টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের সময় নগরীর পাঁচটি স্থানে উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। এর মধ্যে দুটি এলাকায় পাঁচ থেকে ছয় দিন পর্যন্ত পানি স্থায়ী ছিল। তবে কাতালগঞ্জ ও কাপাসগোলায় পানি উঠলেও আগাম পরিকল্পনার কারণে দ্রুত তা সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। আমরা আগে থেকেই জানতাম সেখানে পানি উঠবে এবং বৃষ্টি থামার এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে নেমে যাবে।

সে অনুযায়ী কুইক রিঅ্যাকশন টিম পাম্পিং ও পরিষ্কার কার্যক্রম চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মহসিন আরো জানান, আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল ও ব্যাংকিং এলাকায় প্রায় একদিন ধরে দুই থেকে আড়াই ফুট পর্যন্ত পানি জমে ছিল। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তা উঁচু না করায় এ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ২০২২ সালে চসিকের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ওই এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিকল্পনা গ্রহণ করি। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী কর্ণফুলী নদীতে পানি নিষ্কাশনের সুবিধার্থে রাস্তা উঁচু করার পাশাপাশি সমান উচ্চতায় ড্রেন নির্মাণের কথা ছিল। আমরা ড্রেন নির্মাণ করলেও রাস্তা উঁচু করার কাজ হয়নি। ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

সিএন্ডবি ও আশপাশের এলাকায় জলাবদ্ধতার পেছনে তিনটি কারণ খুঁজে পেয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড। এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রথমত, এলাকার পানি পাশের বিলে যেতে পারছে না। দ্বিতীয়ত, বিদ্যমান তিনটি ক্রস-কালভার্টের দুই পাশে পানি চলাচলের চ্যানেল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। তৃতীয়ত, ড্রেন ও নালা দখল করে ঘরবাড়ি, দোকান ও গুদাম নির্মাণের ফলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে দোকান বা গুদামে যানবাহন প্রবেশের সুবিধার জন্য ড্রেনের ওপর বালির বস্তা ফেলে পরে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণও করা হয়েছে বলে জানান তিনি।তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পানি না নামায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে বিষয়টি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উত্থাপন করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সম্মতিতে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হলে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে কোমরসমান পানি নেমে যায়।

অক্সিজেন-কুয়াইশ এলাকার জলাবদ্ধতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রকল্প পরিচালক আরো বলেন, অনন্যা আবাসিক এলাকা একসময় প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে কাজ করত। আশপাশের বৃষ্টির পানি সেখানে জমা হতো। পরে জলাভূমি ভরাট করে আবাসিক প্লট নির্মাণ করায় প্রাকৃতিক পানি ধারণক্ষমতা নষ্ট হয়েছে। এই এলাকার পানি সংরক্ষণে বামনশাহী খালের পাশে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় পরিকল্পিত কয়েকটি জলাধার নির্মাণের প্রস্তাব ছিল। তবে ব্যয় সংকোচনের কারণে বাদ দেওয়া হয়। সেই জলাধারগুলো থাকলে এলাকার পানি সেখানে জমা থাকত এবং জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে যেত।

তিনি আরও জানান, কুয়াইশ খাল দিয়ে আগে শিল্পকারখানা ও আশপাশ এলাকার বর্জ্য ও পানি হালদা নদীতে যেত। হালদা নদী রক্ষায় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সেই প্রবাহ বন্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, কুয়াইশ, কৃষ্ণা ও লিংক খাল দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালগুলোর নাব্যতা ও প্রস্থ কমে গেছে। ফলে অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে ছোট ছোট খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হয়েছে। আপাতত পাম্পিংয়ের মাধ্যমে পানি সরানো হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য আমরা একটি প্রস্তাব দিয়েছি। সিটি কর্পোরেশন নগরীর ৪০টি খাল সংস্কারের যে প্রকল্প নিতে যাচ্ছে সেখানে, কুয়াইশ, কৃষ্ণা ও লিংক খাল অন্তর্ভুক্ত করা এবং এলাকার পানি সংরক্ষণে জলাধার নির্মাণ করা।

চট্টগ্রামে বাসায় এক পেয়ে শিশু ধর্ষণ: মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের সদরঘাট থানায় এলাকায় ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।দন্ডিত ওই ব্যক্তি হলেন, মো. আকতার সর্দার (২৪)। একই সাথে একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত মো. আকতার সর্দার সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার কুকড়াপর্শি এলাকার কাদের সর্দার বাড়ির মো. সাত্তার সর্দারের ছেলে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি নগরের পূর্ব মাদারবাড়ি সাহেবপাড়া এলাকার ইউনুছ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা একটি জুতার কারখানায় এবং মা একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। বাবা-মা প্রতিদিনের মতো কাজে চলে গেলে পূর্ব মাদারবাড়ীর সাহেবপাড়ার নার্গিস কলোনির ভাড়া বাসায় একাই থাকতো শিশুটি। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে অভিযুক্ত আকতার সর্দার প্রায়ই তাদের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং শিশুটিকে নানা রকম প্রলোভন দেখাতেন। ২০২২ সালের ২ জুলাই সকালে শিশুটির বাবা-মা কর্মস্থলে চলে যান।

ওই দিন বিকেলের দিকে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত আকতার সর্দার ঘরে ঢোকে এবং শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।ভয় ও আতঙ্কে শিশুটি কয়েকদিন বিষয়টি কাউকে জানায়নি। তবে ঘটনার চারদিন পর ৬ জুলাই বিকেলে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা কারণ জানতে চাইলে মাকে ঘটনার কথা জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে পরীক্ষা করে শারীরিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান এবং স্থানীয়দের বিষয়টি জানানোর পর শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা মনির হোসেন বাদী হয়ে সদরঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন (অভিযোগ গঠন) করে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু করেন আদালত।

এদিকে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রোববার বিচারক এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন বলে জানালেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ। তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। পরে তাকে সাজা পরোয়ানা মূলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ