চট্টগ্রামে বাসায় এক পেয়ে শিশু ধর্ষণ: মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের সদরঘাট থানায় এলাকায় ১০ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন।দন্ডিত ওই ব্যক্তি হলেন, মো. আকতার সর্দার (২৪)। একই সাথে একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত মো. আকতার সর্দার সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ থানার কুকড়াপর্শি এলাকার কাদের সর্দার বাড়ির মো. সাত্তার সর্দারের ছেলে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটি নগরের পূর্ব মাদারবাড়ি সাহেবপাড়া এলাকার ইউনুছ মিয়া সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তার বাবা একটি জুতার কারখানায় এবং মা একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। বাবা-মা প্রতিদিনের মতো কাজে চলে গেলে পূর্ব মাদারবাড়ীর সাহেবপাড়ার নার্গিস কলোনির ভাড়া বাসায় একাই থাকতো শিশুটি। প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে অভিযুক্ত আকতার সর্দার প্রায়ই তাদের বাসায় যাতায়াত করতেন এবং শিশুটিকে নানা রকম প্রলোভন দেখাতেন। ২০২২ সালের ২ জুলাই সকালে শিশুটির বাবা-মা কর্মস্থলে চলে যান।

ওই দিন বিকেলের দিকে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত আকতার সর্দার ঘরে ঢোকে এবং শিশুটিকে ধর্ষণ করে। এ সময় ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।ভয় ও আতঙ্কে শিশুটি কয়েকদিন বিষয়টি কাউকে জানায়নি। তবে ঘটনার চারদিন পর ৬ জুলাই বিকেলে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা কারণ জানতে চাইলে মাকে ঘটনার কথা জানায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে পরীক্ষা করে শারীরিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান এবং স্থানীয়দের বিষয়টি জানানোর পর শিশুটিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পর শিশুটির বাবা মনির হোসেন বাদী হয়ে সদরঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্ত কর্মকর্তা ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন (অভিযোগ গঠন) করে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু করেন আদালত।

এদিকে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে রোববার বিচারক এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন বলে জানালেন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ। তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল। পরে তাকে সাজা পরোয়ানা মূলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

এনসিটি-সিসিটি ইজারা ঠেকাতে আসছে কঠোর কর্মসূচী বন্দর রক্ষা কমিটির

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামী ৩১ আগস্ট বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি, চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচী ঘোষণা করেছে সংগঠনটি। রোববার (১৬ আগস্ট) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই হলে অনুষ্ঠিত নাগরিক কনভেনশন থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

বন্দর রক্ষা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদারের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় কনভেনশনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।কনভেনশনে সিদ্ধান্ত হয়, ১৭ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় ও জনসংযোগ কর্মসূচি চালানো হবে। এরপর ৩১ আগস্ট বারিক বিল্ডিং মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে।

কনভেনশনে বন্দর ও জাতীয় সম্পদ রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. এম আবু সাঈদ বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর শুধু চট্টগ্রামের নয়, এটি দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বন্দরের টার্মিনাল কোনো দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদি ইজারা দেওয়ার আগে অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও জাতীয় স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে।

কবি ও সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বন্দরের সক্ষমতা ও আয় বাড়ানোর পরিবর্তে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে জাতীয় স্বার্থ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হবে। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন বলেন, বন্দর ও বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিকদের স্বার্থ কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না। টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের বিরুদ্ধে শ্রমিক ও সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। এনসিটি ও সিসিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার আগে জাতীয় স্বার্থ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করা জরুরি। জনগণের সম্পদ জনগণের স্বার্থেই পরিচালিত হওয়া উচিত।

সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের জাতীয় সম্পদ। এর গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। বন্দর রক্ষা কমিটি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও জোরদার করবে।

কনভেনশনে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ, বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, রাজস্ব আয়, শ্রমিকদের অধিকার ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলে তা প্রতিহত করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

কনভেনশনে আরও বক্তব্য রাখেন টিইউসি চট্টগ্রাম কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারুল, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি কমরেড অশোক সাহা, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শ ম জামাল উদ্দিন, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক, পেশাজীবী ও নাগরিক সংগঠনের নেতারা।

চট্টগ্রাম বন্দর নোঙর করা জাহাজে ধাক্কা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের আলফা অ্যাঙ্করেজে আবারও দুটি জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কোনো হতাহত, জাহাজে পানি প্রবেশ কিংবা পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটেনি। দুই জাহাজের ২১ জন ক্রুই নিরাপদে রয়েছেন।শনিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে, তবে রোববার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে আলফা অ্যাঙ্করেজে প্রবল স্রোতের কারণে প্রবেশকারী বাল্ক ক্যারিয়ার এমভি আনাসসা নোঙর করে থাকা এমভি জাহাব জাহানের সামনের অংশে সামান্য ধাক্কা দেয়। এমভি আনাসসা ২১ জন ক্রু নিয়ে স্ল্যাগ বহন করছিল।বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, এ ঘটনায় দুই জাহাজের কোনো ক্রু আহত হননি। জাহাজ দুটিতে পানি প্রবেশ বা পরিবেশ দূষণেরও কোনো ঘটনা ঘটেনি।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরপরই জাহাজ দুটি নিরাপদে আলাদা হয়ে আবার নোঙর করে। বর্তমানে বন্দরের নৌ চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে থাকা একটি বাল্ক ক্যারিয়ারের সঙ্গে প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ডিজেলবাহী এমটি সি স্পাইক ট্যাংকারের সংঘর্ষ হয়। এতে ট্যাংকারটির ইঞ্জিন রুমে ফাটল দিয়ে পানি ঢুকে সাময়িক বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে। তবে কার্গো ট্যাংক অক্ষত থাকায় কোনো তেল ছড়িয়ে পড়েনি।

আলোচিত খবর

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মির্জা ফখরুল পেলেন রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে রাষ্ট্রপতি পদের মনোনয়নপত্র নিচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ