আজঃ বুধবার ৪ মার্চ, ২০২৬

৭০’র ভয়াল ১২ নভেম্বরেও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান বঙ্গবন্ধু

মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস ডেস্ক:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর। দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ স্মৃতি বিজড়িত দিন। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে ঘূর্ণিঝড় ‘হেরিকেন’ আঘাত হেনেছিলো দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে। সর্বোচ্চ ২৫০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের তোড়ের সঙ্গে ৩০ ফুট উচ্চতায় বঙ্গোপসাগরের জলোচ্ছ্বাস ভাসিয়ে নেয় সব কিছুই। এই দুর্যোগে প্রায় ১০লাখ মানুষ মারা গেলেও তৎকালীন পাকিস্তান সরকার এই ঘটনাকে কোন গুরুত্ব দেননি।

১২নভেম্বর ঘনার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৪ই নভেম্বর দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভোলায় যান। সেখানে তিনি ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নেন এবং তোফায়েল আহমেদকে নির্দেশ দেন দুর্গত মানুষকে সাহায্যে করার জন্য। দুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে ঢাকায় হোটেল শাহবাগে এসে বিদেশী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন শেখ মুজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ এক নিবন্ধে লিখেছেন, “বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, দুর্গত এলাকা আমি সফর করে এসেছি। …. পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এখনো দুর্গত এলাকায় আসেননি। আমরা যে কত অসহায় এই একটা সাইক্লোন তা প্রমাণ করেছে।”

ঝড়ের সময় ভোলায় অবস্থান করছিলেন তোফায়েল আহমেদ, যিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা। ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তখন তিনি নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। ১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোন নিয়ে স্মৃতিচারণ করে একটি নিবন্ধ লিখেছেন তোফায়েল আহমেদ। ‘১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড় ও ঐতিহাসিক নির্বাচনের স্মৃতিকথা’ শিরোনামের লেখায় মি. আহমেদ বলেন, অসংখ্য মানুষের মৃতদেহ দেখে তিনি দিশেহারা হয়ে যান।

ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার কয়েকদিন পরে ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের সাংবাদিক হাওয়ার্ড হোয়াইটেন ভোলায় গিয়েছিলেন। তখন তিনি ভোলার মনপুরায় বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন। তার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের ১৮ই নভেম্বর গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যাতে হাওয়ার্ড হোয়াইটেন লেখেন, ভোলার মনপুরায় গিয়ে তিনি মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখেছেন। দ্যা গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনপুরা এলাকার ২২ হাজার মানুষের মধ্যে ১৬ হাজার মানুষই মারা গিয়েছিলেন। এলাকায় ২০ হাজার গবাদিপশুর মধ্যে মাত্র কয়েকশো’ টিকে ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী চৌধুরী কামালকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান লিখেছিল, ঘূর্ণিঝড় যখন আঘাত হানে তখন ছিল মধ্যরাত। রেডিওতে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস তারা আগেই শুনেছিলেন। সেজন্য সবাই রাতে জেগেই ছিলেন। কিন্তু জলোচ্ছ্বাসের কোন পূর্বাভাস দেয়া হয়নি।

“অন্ধকারের মধ্যে আমরা হঠাৎ দেখলাম একটি আলোর ঝলকানি আমাদের দিকে আসছে। এরপর বজ্রপাতের মতো শব্দ। এরপর পুরো এলাকা পানিতে ভেসে যায়,” গার্ডিয়ানকে বলেছিলেন মি. কামাল। সাংবাদিক হাওয়ার্ড হোয়াইটেনকে মি. কামাল আরও বলেন, “আমরা এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার মৃতদেহ মাটি দিয়েছি। আপনি দেখতে পাচ্ছেন এখনও বহু মৃতদেহ পড়ে আছে।”

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পরবর্তী সময় ছিল আরও মারাত্মক। খাবারের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছিলেন। জলোচ্ছ্বাসের কারণে সেখানে খাবার উপযোগী কোন পানি ছিল না। ফলে বহু মানুষ পনিশুন্যতা এবং পানি-বাহিত রোগে মারা গেছেন। এছাড়া ছড়িয়ে পড়ে রোগব্যাধি।

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর থেকে পাকিস্তান সরকার দৃশ্যত উদাসীন ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করার জন্য প্রথম দিন কার্যত কিছুই করেনি পাকিস্তান সরকার। খোদ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান উপদ্রুত

এলাকায় যেতেই চাননি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ভোলার সাইক্লোনকে মোটেও গুরুত্ব দেননি শুধু প্রেসিডেন্ট নয়, পাকিস্তান সরকারের কোন মন্ত্রী ঘূর্ণিঝড়ের পর উপদ্রুত এলাকায় যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। ঘূর্ণিঝড়ের ১৪ দিন পরে অর্থাৎ ২৬শে নভেম্বর সি প্লেনে করে ভোলায় আসলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বলেন, ত্রাণ তৎপরতায় তিনি সন্তুষ্ট। অথচ তখন ত্রাণের জন্য মানুষ হাহাকার করছে। একজন বিদেশী সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে প্রশ্ন করেন, ত্রাণের হাহাকার নিয়ে মানুষ সমালোচনা করছে কেন? এ প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট বলেন, “মানুষ সমালোচনা করলে আমার কিছু করার নেই। আমার লক্ষ্য হচ্ছে কাজ করা এবং সমালোচনা ভুলে যাওয়া।”

ঘূর্ণিঝড়ের এক মাস পরেও বহু জায়গায় ত্রাণ পৌঁছায়নি পাকিস্তানি শাসক। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ভোলার সেই সাইক্লোনটি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি বাঙালির অবিশ্বাসের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় যখন আঘাত হানে তখন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে অবস্থান করছিলেন। ঝড়ের দুইদিন পরে তিনি চীন থেকে ঢাকায় আসেন। কিন্তু উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে না গিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইয়াহিয়া খান পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যান।

ফারুক চৌধুরী সে সময় পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরুণ কর্মকর্তা হিসেবে প্রেসিডেন্টের সাথে চীন সফরে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। তার আত্মজীবনী ‘জীবনের বালুকাবেলায়’ ফারুক চৌধুরী লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান চাইলে চীন থেকে ঝড়ের পরদিন অর্থাৎ ১৩ই নভেম্বর ঢাকায় আসতে পারতেন। সেজন্য বিমান প্রস্তুতও ছিল। কিন্তু সেটা না করে ইয়াহিয়া ১৪ই নভেম্বর পিকিং থেকে ঢাকায় ফিরেন। ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যে মোটেই চিন্তিত ছিলেন না, তা তার কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছিল। ফারুক চৌধুরীর বর্ণনায়, “সবাই ভেবেছিল, ঢাকায় থেকে রাষ্ট্রপতি নিজেই ত্রানকার্য তদারক করবেন। তা না করে পরদিনই তিনি চলে গেলেন ইসলামাবাদে। গিয়ে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের কাছে বার্তা পাঠালেন যে সফল হয়েছে তার চীন সফর।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আগামী ৩ মার্চ ২০২৬ নদীবাংলার কবি রিপন শান এর ৫১ তম জন্মবার্ষিকী ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একান্ন পূর্ণ হচ্ছে নদীবাংলার কবি রিপন শান এর । নদীর বুকে জীবন জ্বলে, ফিনিক্স পাখির উড়াল, রত্নখচিত কুয়াশা, আট বেহেশতের সুবাস, শতজনমের শিলালিপি, শিল্পের আলাপ, অপার বিস্ময়, ফুল ও পাথরের সংলাপ , ভোলা জেলার কবি ও কবিতা- প্রভৃতি গ্রন্থের অনবদ্য রচয়িতা কবি ও কণ্ঠশিল্পী রিপন শান যাপিত জীবনের অর্ধশতক হাকিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন সৃজনপিয়াসী নতুন দিগন্তে ।


জীবন ও সাহিত্যকর্ম মূল্যায়ন এবং ইফতার মাহফিল এর মধ্যে দিয়ে কবির জন্মজেলা দ্বীপজেলা ভোলার লালমোহনে বহুমাত্রিক প্রতিভাবান এই বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা জানাবে- তাঁর হাতে গড়া ১৪ বছর বয়সী গণমাধ্যম সংগঠন ⭕ লালমোহন মিডিয়া ক্লাব । আগামী মঙ্গলবার বিকেল ৩ টায় লালমোহন ফুডপ্লেস চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এক ধর্মীয় ভাবগম্ভীর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হবে কবির জন্মবার্ষিকীর এই প্রীতি সমাবেশ ।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ জাফর ইকবাল। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম বাবুল । প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন – লালমোহন প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল আজিজ শাহীন । বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন- লালমোহন পৌরসভা বিএনপির সভাপতি ছাদেক মিয়া ঝান্টু, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারী, লালমোহন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সহিদ মিয়া , ডেপুটি কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইউনুছ মিয়া প্রমুখ । অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন- লালমোহন মিডিয়া ক্লাবের সভাপতি প্রভাষক মোসলেউদ্দিন মুরাদ । সঞ্চালনা করবেন- সাংবাদিক মিজান হাওলাদার । ইসলামী সংগীত কথা কবিতা গানের আন্তরিক আয়োজনে নানা শ্রেণী পেশার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নদীবাংলার কবিকে শুভেচ্ছা নিবেদন করবে ।

বীরমুক্তিযোদ্ধার সন্তান বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কবি রিপন শান পেশায় কলেজ শিক্ষক ও সাংবাদিক ।
ভোলার লালমোহনের বদরপুর মহাবিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রভাষক # বাংলা । স্বতন্ত্রধারার সংবাদপত্র
দৈনিক অমৃতালোক এর ফিচার এডিটর হিসেবে আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন ।
১৯৯৮ সালে বরেণ্য অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী সম্পাদিত পাক্ষিক নটনন্দন দিয়ে সাংবাদিকতা জীবন শুরু করা বহুমাত্রিক লেখক সংগঠক রিপন শান বিভিন্ন সময়ে যুক্ত ছিলেন- সাপ্তাহিক বর্তমান সংলাপ, সাপ্তাহিক খবরের কাগজ (আজকের কাগজ), সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজ, সাপ্তাহিক দ্বীপকথা,দৈনিক খবরপত্র, বাংলারিপোর্ট২৪, বজ্রকণ্ঠ, দৈনিক দেশজনপদ, দৈনিক বাংলাদেশ বাণী, ইউরোসমাচার, ইউরোবাংলাটাইমস,

বিডিনিউজ২৪ইউরোপ, দৈনিক ভোরের আকাশসহ দেশী-বিদেশী বিভিন্ন গণমাধ্যমে। অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা থেকে প্রকাশিত বাংলা গণমাধ্যম ইউরোবাংলাটাইমসে ম্যানেজিং এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন টানা তিন বছর । অস্ট্রিয়া বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের বাংলাদেশ কো- অর্ডিনেটর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন টানা পাঁচ বছর।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির অবিস্মরণীয় “কবিকণ্ঠে আবৃত্তি সন্ধ্যা ২০০৭” অনুষ্ঠানের গ্রন্থিক ও উপস্থাপক, লালমোহন উপজেলা শিল্পকলা একাডমির নির্বাচিত সাবেক সাধারণ সম্পাদক কবি রিপন শান, টানা তিন টার্ম লালমোহন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ।

তাঁর সনদীয় নাম মোঃ শাহাবুদ্দিন রিপন । লেখালেখি, সমাজকর্ম ও সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে রিপন শান নামেই সমধিক পরিচিত। মূলত কবি হিসেবে সমাদৃত হলেও তুখোড় বক্তা, আবৃত্তিশিল্পী, উপস্থাপক, মঞ্চ নাট্যকার, নির্দেশক, লিটলম্যাগ সম্পাদক, সাংবাদিক, কলেজ শিক্ষক, সমাজকর্মীএবং কণ্ঠশিল্পী হিসেবেও বহুমাত্রিক পরিচয় রয়েছে তাঁর। ১৯৭৫ সালের ৩ মার্চ দ্বীপজেলা ভোলার লালমোহন উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চতলা গ্রামে এক বনেদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ।

পিতা একাত্তরের রণাঙ্গনের বীরমুক্তিযোদ্ধা শিক্ষাবিদ মরহুম সালাউদ্দিন আহমাদ। মাতা লালমোহনের প্রথম এন্ট্রান্স শিক্ষিতা মরহুমা বেগম রওশান আরা পঞ্চায়েত। পিতামহ মরহুম মাওলানা মনসুর আহমাদ গোল্ডমেডেলিস্ট ছিলেন ভোলা সরকারি কলেজের খ্যাতিমান অধ্যাপক। মাতামহ মরহুম দানবীর মজিবুর রহমান পঞ্চায়েত ছিলেন লালমোহন ইউপির জননন্দিত চেয়ারম্যান । জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অভিমানী সাবেক ছাত্র রিপন শান ঢাকা কলেজ থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। জীবনের শিক্ষাধারায় তিনি- চতলা বোর্ড মডেল গভর্নমেন্ট প্রাইমারি স্কুল, লালমোহন মডেল হাইস্কুল, সরকারি তিতুমীর কলেজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ এর মেধাবী ছাত্র ছিলেন । চিত্রনায়ক বুলবুল আহমেদের তত্ত্বাবধায়নে ঢাকার স্বপ্নীল একাডেমি থেকে তিনমাসমেয়াদী নাট্য প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন । স্বরকল্পন আবৃত্তিচক্র থেকে শুদ্ধ উচ্চারণ, বাচনিক উৎকর্ষ ও আবৃত্তির মাসব্যাপী কর্মশালায় ঋষভ (প্রথম শ্রেণী) অর্জন করেন ।

রিপন শান ব্র্যাক সিইপি প্রযোজিত গণনাটক নতুন সকাল এর কেন্দ্রীয় মাস্টার চরিত্রে ৫৬ টি শোতে অনবদ্য অভিনয় করে সাউন্ডবাংলা কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে সংবর্ধিত হয়েছেন । আব্দুল গাফফার চৌধুরী রচিত, বাংলার মুখ প্রযোজিত ‘পলাশী থেকে ধানমন্ডি’ নাটকের বোস্টার চরিত্রের সফল অভিনেতা । সাংস্কৃতিক কর্মধারায় বিভিন্ন সময়ে যুক্ত ছিলেন- ক্রান্তি, উদীচি, স্বপ্নকুঁড়ি, কপোতাক্ষ সাহিত্য পরিষদ, বাঙালি সংস্কৃতি মঞ্চ, বাঙালি সাংস্কৃতিক বন্ধন, ন্যাচার কনজারভেশন কমিটি, বাংলাদেশ বার্ড ওয়াচার সোসাইটি, বাংলাদেশ রাইটার্স গিল্ড.. এর সাথে । তিনি ভোলার লালমোহনের সাড়াজাগানো সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘তোলপাড় কৃষ্টি সংসার’ এর প্রতিষ্ঠাতা-সভাপতি । লালমোহন ফাউন্ডেশন ঢাকার উদ্যোক্তা ও অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

বহুমুখী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক রিপন শান বদরপুর মহাবিদ্যালয়ে একটানা ১৫ বছর ধরে বাঙলা বিষয়ে অধ্যাপনায় নিয়োজিত আছেন । এছাড়া জনপ্রিয় ম্যাগাজিন মুক্তবলির প্রধান সম্পাদক, মাতৃজগত আইপিএ টিভির পরিচালক , দৈনিক মাতৃজগতের ডেপুটি ম্যানেজিং এডিটর, ভয়েস চট্টগ্রামের উপদেষ্টা সম্পাদক, ভোলার কণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি ও দ্য রেডটাইমসের সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবেও যুক্ত আছেন।
লেখক রিপন শান এর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে : কাব্যগ্রন্থ- নদীর বুকে জীবন জ্বলে, রত্নখচিত কুয়াশা; গল্পগ্রণ্হ- ফিনিক্স পাখির উড়াল।

প্রকাশের পথে- শিল্পের আলাপ ( সাক্ষাৎকার সংকলন ), অপার বিস্ময় ( তথ্য সংকলন ), আট বেহেশতের সুবাস, শত জনমের শিলালিপি ( কাব্যগ্রন্থ ), কবিতা-কলাপ ( নির্বাচিত কবিতা ) । শ্যামল মাটির কমলেরা, বাউন্ডুলে, বেকার অমানিশা- নাট্যকার রিপন শান রচিত ও নির্দেশিত মঞ্চসফল তিনটি নাটক। সম্পাদনা করেছেন দুই বাংলার কবিতা সংকলন- জ্বলে ওঠার কবিতা ; লিটল ম্যাগ- রোদসী, বেতুয়া , প্রমিত বাংলার মুখ।
বাংলাদেশ রোদসী কৃষ্টিসংসারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান রিপন শান- ভোলা দক্ষিণ প্রেসক্লাব, জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ ভোলা, লালমোহন মিডিয়া ক্লাব ও নেক্সাস ৯৩ ফ্রেন্ডস প্লাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা ।

সামাজিক সাংস্কৃতিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন সময়ে অর্জন করেছেন- জাতীয় ছাত্রধারা পুরস্কার, চরফ্যাসন প্রগতি ইউনিটি এওয়ার্ড, আমরা করবো জয় পুরস্কার, মিরপুর এইচ এইচ মাইক্রো ইনস্টিটিউট সম্মাননা, নবকল্লোল পুরস্কার, এম আর মনজু কালচারাল সোসাইটি সম্মাননা, লালমোহন ফাউন্ডেশন ঢাকা পুরস্কার, সাউন্ডবাঙলা বেস্টবুক এওয়ার্ড, নিউন্যাশন মডেল স্কুল সম্মাননা, দৈনিক মাতৃজগত সম্মাননা , ম্যাজিক লণ্ঠন আড্ডার কবি সম্মাননা, সাউন্ডবাংলা কাব্যবন্ধু সম্মাননা, শব্দকুঠি সভাকবি সম্মাননা ইত্যাদি ।
২০২৩ সালের ১৭ মে এক পারিবারিক দুর্ঘটনায় ১১ বছরবয়সী একমাত্র সন্তান ( পরাণপাখি ) বিবি খাদিজা রওশান রোদসীকে হারিয়ে শোকের অথৈ সাগরে ভাসছেন কবি রিপন শান ।

💚❤️💚❤️💚❤️💚❤️💚

আলোচিত খবর

জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজনৈতিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদে বিরোধী দল থেকে প্রতিনিধি নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন- জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার ২ মার্চ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি জানান, রাজনৈতিক ঐকমত্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের জন্য একটি নাম প্রস্তাব করতে অনুরোধ করা হয়েছে। তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে মৌখিক ও সরাসরি যোগাযোগও করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

স্পিকার নির্বাচনের দিনই ডেপুটি স্পিকার পদেও নির্বাচন সম্পন্ন করা যেতে পারে। এতে সংসদ পরিচালনায় ভারসাম্য ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জাতীয় সনদের আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে, সেটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ