আজঃ বুধবার ১৩ মে, ২০২৬

৭০’র ভয়াল ১২ নভেম্বরেও দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ান বঙ্গবন্ধু

মুক্তিযুদ্ধ ও ইতিহাস ডেস্ক:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আজ ভয়াল ১২ নভেম্বর। দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ স্মৃতি বিজড়িত দিন। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে ঘূর্ণিঝড় ‘হেরিকেন’ আঘাত হেনেছিলো দেশের উপকূলীয় জেলাগুলোতে। সর্বোচ্চ ২৫০ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের তোড়ের সঙ্গে ৩০ ফুট উচ্চতায় বঙ্গোপসাগরের জলোচ্ছ্বাস ভাসিয়ে নেয় সব কিছুই। এই দুর্যোগে প্রায় ১০লাখ মানুষ মারা গেলেও তৎকালীন পাকিস্তান সরকার এই ঘটনাকে কোন গুরুত্ব দেননি।

১২নভেম্বর ঘনার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৪ই নভেম্বর দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভোলায় যান। সেখানে তিনি ত্রাণ তৎপরতায় অংশ নেন এবং তোফায়েল আহমেদকে নির্দেশ দেন দুর্গত মানুষকে সাহায্যে করার জন্য। দুর্গত এলাকা পরিদর্শন শেষে ঢাকায় হোটেল শাহবাগে এসে বিদেশী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন শেখ মুজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ এক নিবন্ধে লিখেছেন, “বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, দুর্গত এলাকা আমি সফর করে এসেছি। …. পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট এখনো দুর্গত এলাকায় আসেননি। আমরা যে কত অসহায় এই একটা সাইক্লোন তা প্রমাণ করেছে।”

ঝড়ের সময় ভোলায় অবস্থান করছিলেন তোফায়েল আহমেদ, যিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা। ১৯৭০ সালে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তখন তিনি নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। ১৯৭০ সালের ভোলা সাইক্লোন নিয়ে স্মৃতিচারণ করে একটি নিবন্ধ লিখেছেন তোফায়েল আহমেদ। ‘১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড় ও ঐতিহাসিক নির্বাচনের স্মৃতিকথা’ শিরোনামের লেখায় মি. আহমেদ বলেন, অসংখ্য মানুষের মৃতদেহ দেখে তিনি দিশেহারা হয়ে যান।

ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানার কয়েকদিন পরে ব্রিটিশ সংবাদপত্র গার্ডিয়ানের সাংবাদিক হাওয়ার্ড হোয়াইটেন ভোলায় গিয়েছিলেন। তখন তিনি ভোলার মনপুরায় বিস্তীর্ণ এলাকা ঘুরে দেখেন। তার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে ১৯৭০ সালের ১৮ই নভেম্বর গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যাতে হাওয়ার্ড হোয়াইটেন লেখেন, ভোলার মনপুরায় গিয়ে তিনি মৃতদেহ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখেছেন। দ্যা গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনপুরা এলাকার ২২ হাজার মানুষের মধ্যে ১৬ হাজার মানুষই মারা গিয়েছিলেন। এলাকায় ২০ হাজার গবাদিপশুর মধ্যে মাত্র কয়েকশো’ টিকে ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী চৌধুরী কামালকে উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান লিখেছিল, ঘূর্ণিঝড় যখন আঘাত হানে তখন ছিল মধ্যরাত। রেডিওতে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস তারা আগেই শুনেছিলেন। সেজন্য সবাই রাতে জেগেই ছিলেন। কিন্তু জলোচ্ছ্বাসের কোন পূর্বাভাস দেয়া হয়নি।

“অন্ধকারের মধ্যে আমরা হঠাৎ দেখলাম একটি আলোর ঝলকানি আমাদের দিকে আসছে। এরপর বজ্রপাতের মতো শব্দ। এরপর পুরো এলাকা পানিতে ভেসে যায়,” গার্ডিয়ানকে বলেছিলেন মি. কামাল। সাংবাদিক হাওয়ার্ড হোয়াইটেনকে মি. কামাল আরও বলেন, “আমরা এখনও পর্যন্ত ১০ হাজার মৃতদেহ মাটি দিয়েছি। আপনি দেখতে পাচ্ছেন এখনও বহু মৃতদেহ পড়ে আছে।”

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পরবর্তী সময় ছিল আরও মারাত্মক। খাবারের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছিলেন। জলোচ্ছ্বাসের কারণে সেখানে খাবার উপযোগী কোন পানি ছিল না। ফলে বহু মানুষ পনিশুন্যতা এবং পানি-বাহিত রোগে মারা গেছেন। এছাড়া ছড়িয়ে পড়ে রোগব্যাধি।

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার পর থেকে পাকিস্তান সরকার দৃশ্যত উদাসীন ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সহায়তা করার জন্য প্রথম দিন কার্যত কিছুই করেনি পাকিস্তান সরকার। খোদ প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান উপদ্রুত

এলাকায় যেতেই চাননি। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ভোলার সাইক্লোনকে মোটেও গুরুত্ব দেননি শুধু প্রেসিডেন্ট নয়, পাকিস্তান সরকারের কোন মন্ত্রী ঘূর্ণিঝড়ের পর উপদ্রুত এলাকায় যাওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। ঘূর্ণিঝড়ের ১৪ দিন পরে অর্থাৎ ২৬শে নভেম্বর সি প্লেনে করে ভোলায় আসলেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট। দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বলেন, ত্রাণ তৎপরতায় তিনি সন্তুষ্ট। অথচ তখন ত্রাণের জন্য মানুষ হাহাকার করছে। একজন বিদেশী সাংবাদিক প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানকে প্রশ্ন করেন, ত্রাণের হাহাকার নিয়ে মানুষ সমালোচনা করছে কেন? এ প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট বলেন, “মানুষ সমালোচনা করলে আমার কিছু করার নেই। আমার লক্ষ্য হচ্ছে কাজ করা এবং সমালোচনা ভুলে যাওয়া।”

ঘূর্ণিঝড়ের এক মাস পরেও বহু জায়গায় ত্রাণ পৌঁছায়নি পাকিস্তানি শাসক। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ভোলার সেই সাইক্লোনটি পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতি বাঙালির অবিশ্বাসের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় যখন আঘাত হানে তখন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে অবস্থান করছিলেন। ঝড়ের দুইদিন পরে তিনি চীন থেকে ঢাকায় আসেন। কিন্তু উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে না গিয়ে সবাইকে অবাক করে দিয়ে ইয়াহিয়া খান পশ্চিম পাকিস্তানে ফিরে যান।

ফারুক চৌধুরী সে সময় পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরুণ কর্মকর্তা হিসেবে প্রেসিডেন্টের সাথে চীন সফরে গিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি পররাষ্ট্র সচিব ছিলেন। তার আত্মজীবনী ‘জীবনের বালুকাবেলায়’ ফারুক চৌধুরী লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান চাইলে চীন থেকে ঝড়ের পরদিন অর্থাৎ ১৩ই নভেম্বর ঢাকায় আসতে পারতেন। সেজন্য বিমান প্রস্তুতও ছিল। কিন্তু সেটা না করে ইয়াহিয়া ১৪ই নভেম্বর পিকিং থেকে ঢাকায় ফিরেন। ঘূর্ণিঝড়ের বিষয়টি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান যে মোটেই চিন্তিত ছিলেন না, তা তার কর্মকাণ্ডে ফুটে উঠেছিল। ফারুক চৌধুরীর বর্ণনায়, “সবাই ভেবেছিল, ঢাকায় থেকে রাষ্ট্রপতি নিজেই ত্রানকার্য তদারক করবেন। তা না করে পরদিনই তিনি চলে গেলেন ইসলামাবাদে। গিয়ে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের কাছে বার্তা পাঠালেন যে সফল হয়েছে তার চীন সফর।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমি’র শাস্ত্রীয় সংগীতানুষ্ঠান সম্পন্ন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমি আয়োজিত ১০ই মে রবিবার সন্ধ্যা ৬.৩০ টায় চট্টগ্রাম নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনেঅনুষ্ঠিত শাস্ত্রীয় সঙ্গীতানুষ্ঠান। এতে শুরুতেই মঙ্গল প্রদীপ জ্বালিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের মুখ্য বাদ্যযন্ত্রী অনুপম বিশ্বাস। উদ্বোধনী অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করেন সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমির শিক্ষার্থীরা বাঁশী, দোতারা, বেহালা, উকুলেলে এবং কণ্ঠ সঙ্গীত সমন্বয়ে রাগ ভুপালীতে অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করেন। অর্কেস্ট্রা পরিবেশনায় অংশ গ্রহণ করেন জবাশ্রী দাশগুপ্ত, দিপংকর বড়ুয়া, হৃদিতা দাশ (পুজা), কমলিনী নাথ,   নীলরাজ নাথ, রাশী দাশ, দিঘী মজুমদার, উর্বশী দে, সঙ্গীতা মহাজন,  পুজা দাশ,  অনুষ্ক দে, জিশু দেবনাথ, অভিজিৎ আচার্য্য, রনি দে, রাইমা দাশ, দুর্লভ দাশ, সীমান্ত দাশ, প্রশান্ত দাশ,  শামীম হোসাইন, হৃদয় দাশ অর্চিতা দাশ,  আনোয়ার হোসেন, প্রান্ত ধর, তমাল মজুমদার,   প্রেরণা আচার্য্য, সঞ্জিত রায়, প্রসেনজিৎ নাথ। তবলা সহযোগিতায় ছিলেন শিল্পী রাজীব চক্রবর্তী।  অর্কেস্ট্রা পরিচালনা করেন সুরধ্বনি মিউজিক একাডেমির পরিচালক শিল্পী সুমন কুমার নাথ।
এরপর অদিতি সাহার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রকৌশলী টিটু কুমার দাশ।এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্যা নীড এ্যাপারেলস ( প্রা:) লিমিটেড এর চেয়ারম্যান রিয়াজ ওয়ায়েজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বেতার এবং টেলিভিশনের উচ্চাঙ্গসংগীত শিল্পী রনধীর দাশ।

বক্তারা একাডেমির এ ধরনের আয়োজনকে সাধুবাদ জানান,সংস্কৃতি প্রেমীদের জন্য উপভোগ্য হয়ে উঠবে উল্লেখ করেন, একাডেমির উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি কামনা করেন। ঢাকা থেকে আগত BASIC ACADEMY OF YOGIC ACOUSTIC TRADITIONAL INSTRUMENTS (BAYATI) দেশ রাগে দোতারাতে অর্কেস্ট্রা পরিবেশন করেন। পরবর্তীতে দরবারি রাগে একক খ্যায়াল পরিবেশন করেন শিল্পী রিষু তালুকদার।  তবলা বাদনে ছিলেন শিল্পী রাজীব চক্রবর্তী এবং  হারমেনিয়ামে বিজয় দেবনাথ। তানপুরায় সহযোগিতা করেন হৃদিতা দাশ পুজা।

বাঁশীতে সুরের মুর্ছনায় এক অনবদ্য পরিবেশনা উপহার দিলেন শিল্পী রাসেল দত্ত।  তিনি প্রথমে মত্যতাল এবং পরবর্তী তে ত্রিতালে রাগ বাগেশ্রী পরিবেশন করেন। তবলা বাদনে ছিলেন শিল্পী সানি দে এবং তানপুরা সহযোগিতায় আরাধ্যা দাশ। পরিশেষে শিল্পী রাসেল দত্ত কীর্তন ধুন পরিবেশন করে দর্শক শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।

ওপার বাংলার থেকে আগত শিল্পী বাবুসোনা বসু চতুরঙ্গী পরিবেশন করিয়ে দর্শকশ্রোতাবৃন্দের সুরের তৃপ্তি আস্বাদনের মাত্রা আরো বাড়িয়ে তোলেন। তিনি প্রথমে বিলম্বিত ত্রিতালে এবং পরে দ্রুত লয়ে রাগ যোগ পরিবেশন করেন। তবলা বাদনে ছিলেন ওপার বাংলা থেকে আগত শিল্পী সমীর আচার্য্য।  পরিশেষে একটি ধুন বাজিয়ে হলরুমে সুরের মায়াজালে উপস্থিত দর্শক – শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।

কবিয়াল রমেশ শীলের জন্মদিনে দুইদিন ব্যাপী ‘রমেশ উৎসব’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, ১৯৪৮ সালে কলকাতার শ্রদ্ধানন্দ পার্কে ‘বঙ্গের শ্রেষ্ঠ কবিয়াল’ উপাধিপ্রাপ্ত, মাইজভাণ্ডারী গানের অন্যতম গীতিকার ও কবিকুল সম্রাট, উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ কবিয়াল, একুশে পদকপ্রাপ্ত লোককবি রমেশ শীলের ১৪৯ তম জন্মবার্ষিকী শনিবার (৯ মে)। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার গোমদণ্ডী গ্রামে রমেশ সমাধি প্রাঙ্গণে এ উপলক্ষে ২ দিনব্যাপী রমেশ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

কবিয়াল রমেশ স্মৃতি ট্রাস্টের আয়োজনে ১ম দিন কবির সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন, রমেশ শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় রমেশ সংগীত ও আলোচনা সভা, সন্ধ্যায় স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় রমেশ গীতি; ২য় দিন কবির সমাধীতে শ্রদ্ধা নিবেদন, রমেশ শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় রমেশ সংগীতানুষ্ঠান, আলোচনা সভা, টিভি ও বেতার শিল্পীদের পরিবেশনায় রমেশ রচিত মাইজভাণ্ডারী গানের আসর বসবে বলে আয়োজক কমিটি জানান।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ