আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশপথে অবরোধের পর সারাদেশে মশাল মিছিল ও সমাবেশের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামী ৫ ডিসেম্বর সারাদেশে মশাল মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশপথে অবরোধের পর কেন্দ্রীয়ভাবে এই সমাবেশের ডাক দেয়া হয়। বুধবার দুপুরে নগরীর বড়পোল এলাকায় অবরোধ কর্মসূচির সমাপনী সমাবেশে কেন্দ্রঘোষিত এ কর্মসূচির বিষয়টি জানান স্কপ নেতা ও চট্টগ্রাম জেলা ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি তপন দত্ত। চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন রেলস্টেশন চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও তিনি জানান।

এর আগে, বুধবার সকাল ১০টা থেকে নগরীর বড়পোল ও ইছহাক ডিপোসংলগ্ন বন্দরের টোলপ্লাজার সামনে চট্টগ্রাম বন্দরমুখী সড়কে অবস্থান নেন স্কপভুক্ত শ্রমিক সংগঠন, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা। সেখানে অবরোধের সমর্থনে মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। এছাড়া নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় সীম্যান্স হোস্টেলের সামনে পরিবহণ শ্রমিকরা মিছিল করেন।

টোল প্লাজা পয়েন্টে অবরোধ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন স্কপ নেতা তপন দত্ত, কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, তসলিম হোসেন সেলম ও ইব্রাহীম খোকন। আর বড়পোল পয়েন্টে নেতৃত্ব দেন এস কে খোদা তোতন, খোরশেদুল আলম, মছিউদ দৌলা, কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, রিজওয়ানুর রহমান খান, ফজলুল কবির মিন্টু, নুরুল আবসার তৌহিদ, জাহিদ উদ্দিন শাহিন, আব্দুল বাতেন, শফি উদ্দিন কবির আবিদ, আবু বক্কর সিদ্দিকী, হাসিবুর রহমান বিপ্লব, মো. সোহাগ।

অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে যুক্ত টোল রোডে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ভারী পণ্য পরিবহণকারী শত, শত যানবাহন সড়কে আটকে থাকে। এ সময় বন্দর থেকে আমদানি পণ্যবোঝাই গাড়ি এবং বিভিন্ন ডিপো থেকে আসা রফতানি পণ্যবোঝাই গাড়ি সড়কে আটকা পড়ে। প্রায় দেড়ঘণ্টা টোল রোড অচল থাকার পর পুলিশ গিয়ে অবরোধকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বড়পোলের সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মী অবরোধ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানান। সেখানে সমাবেশে বক্তব্য দেন- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রাক্তন সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহআলম, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক শফি উদ্দিন কবির আবিদ, বাসদ চট্টগ্রাম জেলার ইনচার্জ আল আল কাদেরী জয় এবং গণমুক্তি ইউনিয়নের রাজা মিয়া।

সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, বন্দর রক্ষার আন্দোলন কেবল চট্টগ্রামবাসীর নয় এটি সারাদেশের মানুষের উদ্বেগের বিষয়। দেশের আমদানি-রফতানির সিংহভাগই সম্পন্ন হয় এই বন্দর দিয়ে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ (এনসিটি) বন্দর অবকাঠামোর যে কোনো অংশ ইজারা দেওয়া হলে জাতীয় অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে ভূ-রাজনীতির অংশ করে ফেলা হচ্ছে। এ চক্রান্ত বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

বড়পোলের সমাবেশে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে স্কপ নেতা তপন দত্ত বলেন, বন্দরকে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হবে এবং শ্রমিকদের জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত আসবে। তাই দেশ বাঁচাতে এবং শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার জন্য এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দেশ রক্ষা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় স্কপ সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

কাজী নুরুল্লাহ বাহার বলেন, বন্দর ইজারা মানে দেশের অর্থনীতিকে বিদেশি স্বার্থের হাতে তুলে দেওয়া। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—এই সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ জনগণের স্বার্থে রাস্তায় নেমেছে, প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চমেক কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় যুক্ত হলো আরও ৪টি আধুনিক ডায়ালাইসিস মেশিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

  1.  চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে যুক্ত হলো আরও ৪টি আধুনিক ডায়ালাইসিস মেশিন। হাসপাতালটির নেফ্রোলজি বিভাগে কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় নতুন করে ডায়ালাইসিস মেশিনগুলো যুক্ত হয়। এ নিয়ে বিভাগটিতে ডায়ালাইসিস মেশিনের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৮টিতে। সোমবার নতুন মেশিন সংযোজন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেএসআরএম’র ডিএমডি নবাব সিরাজউদ্দৌলা।
  2. এসময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নতুন ডায়ালাইসিস মেশিনগুলো চালু হওয়ার ফলে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও দ্রুত হবে। একইসঙ্গে হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের সক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে।
  3. চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান, নতুন এই মেশিনগুলোর মাধ্যমে প্রতিদিন আগের চেয়ে অধিক সংখ্যক কিডনি রোগী উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুর রব, নেফ্রোলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. নুরুল হুদা, ড্যাব চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি ডা. তমিজ উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়েজুর রহমান এবং ড্যাব চমেক শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. বেলায়েত হোসেন ঢালী প্রমুখ।
  4. জানা গেছে, চমেক হাসপাতালে নেফ্রোলজি বিভাগ ছাড়াও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্যানডোর ডায়ালাইসিস সেবা দিয়ে থাকে। স্যানডোরের ৩১টি মেশিনের পাশাপাশি নেফ্রোলজি বিভাগে ছিল ১৪ ডায়ালাইসিস মেশিন। যা দিয়ে ভর্তুকি মূল্যে ডায়ালাইসিস করতে পারেন রোগীরা।প্রসঙ্গত, দেশের অন্যতম শিল্প প্রতিষ্ঠান কেএসআরএম এর অর্থায়নে এই চিকিৎসা সরঞ্জামগুলো চমেক হাসপাতালের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে (নেফ্রোলজি বিভাগ) স্থাপন করা হয়েছে।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান চবির নতুন উপাচার্য। 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান।তিনি  দীর্ঘ তিন দশকের বেশি  শিক্ষকতা, গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে আসীন হচ্ছেন।

বাংলাদেশ সচিবালয়ে  আজ সোমবার ১৬ মার্চ  এক প্রেস ব্রিফিংয়ে চবির নতুন উপাচার্যের নাম ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

 ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী  চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড. ফোরকানকে দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানশি

ক্ষকতা জীবনের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার।

******************************

ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও অধ্যাপক। তিনি চবির উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণিতে বিএসসি (সম্মান) ও এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ১৯৯৩ সালে একই বিভাগের প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন এবং ২০০৬ সালে অধ্যাপক পদে উন্নীত হন।

উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রেও তাঁর রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তিনি যুক্তরাজ্যের নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইন্ডিকা ধানের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ক গবেষণার ওপর পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব আলবার্টা এবং অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ কাউন্সিলে তেলবীজের গুণগত মান উন্নয়ন নিয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন।

এছাড়াও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, ডেভিসে ভিজিটিং প্রফেসর ও গবেষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য তিনি ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (IDB)-এর মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি লাভ করেন।

২০০৪ সালে তাঁর উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁর উদ্যোগে বিভাগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ফাংশনাল জেনোমিক্স অ্যান্ড প্রোটিওমিক্স ল্যাবরেটরি (FGPL) এবং অত্যাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন স্বয়ংক্রিয় জলবায়ু নিয়ন্ত্রিত গ্রিনহাউস।

 

এই ল্যাবরেটরিতে ডিএনএ সিকোয়েন্সার, আরটি-পিসিআর, জিন পালসারসহ অত্যাধুনিক গবেষণা যন্ত্রপাতি রয়েছে। ফলে উদ্ভিদ টিস্যু কালচার ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, প্রোটিওমিক্স, জেনোমিক ও ট্রান্সক্রিপ্টোমিক বিশ্লেষণ, মানব ও অন্যান্য রোগের গবেষণা, মাইক্রোবায়োলজি এবং বায়োইনফরমেটিক্সসহ জীববিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নত গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।

 

২০১৯ থেকে ২০২২ সালের করোনা মহামারির সময় তিনি কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কার্যক্রমে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেন। ৩১ বছরের শিক্ষকতা ও গবেষণা জীবনে ড. আল-ফোরকানের প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা ৫১টি। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিভিন্ন জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জার্নাল অব বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবেও কাজ করেছেন।

গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনি ইউএসডিএ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বিসিসিটিসহ (BCCT), শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গারেই (GARE), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পসহ দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য সংস্থা থেকে ৫০টিরও বেশি গবেষণা অনুদান অর্জন করেছেন। গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে তিনি ৩৯ জন এমএস শিক্ষার্থীর থিসিস, সাতজন এম.ফিল গবেষক এবং একজন পোস্টডক্টরাল গবেষকের গবেষণা তত্ত্বাবধান করেছেন।

এছাড়াও তিনি দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত আছেন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী ফোরামের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ