আজঃ রবিবার ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশপথে অবরোধের পর সারাদেশে মশাল মিছিল ও সমাবেশের ডাক

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ৫ ডিসেম্বর সারাদেশে মশাল মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশপথে অবরোধের পর কেন্দ্রীয়ভাবে এই সমাবেশের ডাক দেয়া হয়। বুধবার দুপুরে নগরীর বড়পোল এলাকায় অবরোধ কর্মসূচির সমাপনী সমাবেশে কেন্দ্রঘোষিত এ কর্মসূচির বিষয়টি জানান স্কপ নেতা ও চট্টগ্রাম জেলা ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সভাপতি তপন দত্ত। চট্টগ্রাম নগরীর পুরাতন রেলস্টেশন চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও তিনি জানান।

এর আগে, বুধবার সকাল ১০টা থেকে নগরীর বড়পোল ও ইছহাক ডিপোসংলগ্ন বন্দরের টোলপ্লাজার সামনে চট্টগ্রাম বন্দরমুখী সড়কে অবস্থান নেন স্কপভুক্ত শ্রমিক সংগঠন, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা। সেখানে অবরোধের সমর্থনে মিছিল-সমাবেশ হয়েছে। এছাড়া নগরীর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় সীম্যান্স হোস্টেলের সামনে পরিবহণ শ্রমিকরা মিছিল করেন।

টোল প্লাজা পয়েন্টে অবরোধ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন স্কপ নেতা তপন দত্ত, কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, তসলিম হোসেন সেলম ও ইব্রাহীম খোকন। আর বড়পোল পয়েন্টে নেতৃত্ব দেন এস কে খোদা তোতন, খোরশেদুল আলম, মছিউদ দৌলা, কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, রিজওয়ানুর রহমান খান, ফজলুল কবির মিন্টু, নুরুল আবসার তৌহিদ, জাহিদ উদ্দিন শাহিন, আব্দুল বাতেন, শফি উদ্দিন কবির আবিদ, আবু বক্কর সিদ্দিকী, হাসিবুর রহমান বিপ্লব, মো. সোহাগ।

অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে যুক্ত টোল রোডে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। ভারী পণ্য পরিবহণকারী শত, শত যানবাহন সড়কে আটকে থাকে। এ সময় বন্দর থেকে আমদানি পণ্যবোঝাই গাড়ি এবং বিভিন্ন ডিপো থেকে আসা রফতানি পণ্যবোঝাই গাড়ি সড়কে আটকা পড়ে। প্রায় দেড়ঘণ্টা টোল রোড অচল থাকার পর পুলিশ গিয়ে অবরোধকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। তবে এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বড়পোলের সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের নেতাকর্মী অবরোধ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানান। সেখানে সমাবেশে বক্তব্য দেন- বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রাক্তন সভাপতি কমরেড মোহাম্মদ শাহআলম, সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক শফি উদ্দিন কবির আবিদ, বাসদ চট্টগ্রাম জেলার ইনচার্জ আল আল কাদেরী জয় এবং গণমুক্তি ইউনিয়নের রাজা মিয়া।

সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোহাম্মদ শাহআলম বলেন, বন্দর রক্ষার আন্দোলন কেবল চট্টগ্রামবাসীর নয় এটি সারাদেশের মানুষের উদ্বেগের বিষয়। দেশের আমদানি-রফতানির সিংহভাগই সম্পন্ন হয় এই বন্দর দিয়ে। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালসহ (এনসিটি) বন্দর অবকাঠামোর যে কোনো অংশ ইজারা দেওয়া হলে জাতীয় অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশকে ভূ-রাজনীতির অংশ করে ফেলা হচ্ছে। এ চক্রান্ত বাস্তবায়ন করা হলে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।

বড়পোলের সমাবেশে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করে স্কপ নেতা তপন দত্ত বলেন, বন্দরকে ইজারা দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুন্ন হবে এবং শ্রমিকদের জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত আসবে। তাই দেশ বাঁচাতে এবং শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষার জন্য এই আন্দোলন শুরু হয়েছে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। দেশ রক্ষা এবং শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় স্কপ সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

কাজী নুরুল্লাহ বাহার বলেন, বন্দর ইজারা মানে দেশের অর্থনীতিকে বিদেশি স্বার্থের হাতে তুলে দেওয়া। আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই—এই সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ জনগণের স্বার্থে রাস্তায় নেমেছে, প্রয়োজনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে লাগেজে মিলল ৯০ লাখ টাকার সিগারেট

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মালিকানাহীন ছয়টি লাগেজ থেকে ৮০০ কার্টন মন্ড ব্র্যান্ডের সিগারেট জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। শনিবার সকাল ১১টার দিকে বিমানবন্দরের এরাইভাল হলের লস্ট অ্যান্ড ফাউন্ড কর্নারের পাশ থেকে এসব লাগেজ উদ্ধার করা হয়। জব্দ হওয়া সিগারেট প্রতি কার্টন ১১ হাজার ২৫০ টাকা মূল্য ধরে মোট ৯০ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, লাগেজগুলোর সঙ্গে কোনো যাত্রীর নাম, ট্যাগ বা মালিকানার কাগজপত্র ছিল না। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও কেউ লাগেজের দাবি না করায় সেগুলোকে কাস্টমস আইন অনুযায়ী পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। পরে লাগেজ খুলে ৮০০ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায় এবং তা জব্দ করা হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, লাগেজগুলো দীর্ঘ সময় ধরে মালিকবিহীন অবস্থায় ছিল। কেউ দায়িত্ব না নেওয়ায় সেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করে জব্দ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে চোরাচালান ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে এবং অভিযান চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।

সিএমপির ১৬ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি

চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ১৬ থানার সব ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একযোগে বদলি করা হয়েছে। শনিবার সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

চিঠি সূত্রে জানা গেছে, কোতোয়ালী থানার ওসি আব্দুর রহিমকে পাঁচলাইশে, সদরঘাট থানার মো. আব্দুর রহিমকে বন্দর থানায়, বাকলিয়া থানার মো. আফতাব উদ্দীনকে কোতোয়ালীতে, পাঁচলাইশ থানার ওসি মো. সোলায়মানকে বাকলিয়া থানায়, বায়েজিদ থানার ওসি জসিম উদ্দীনকে চান্দগাঁও থানায়, চান্দগাঁও থানার জাহেদুল কবিরকে বায়েজিদ থানায়,

খুলশী থানার শাহীনুল আমিনকে কর্ণফুলী থানায়, ডবলমুরিং থানার বাবুল আজাদকে চকবাজার থানায়, হালিশহর থানার নুরুল আবছারকে পাহাড়তলী থানায়, আকবরশাহ থানার মো. আরিফুর রহমানকে সদরঘাট থানায়, পাহাড়তলী থানার মো. জমির হোসেন মোহাম্মদ জিয়াকে ডবলমুরিং থানায়, কর্ণফুলী থানার জাহেদুল ইসলামকে খুলশী থানায়, বন্দর থানার ওসি মোস্তফা আহম্মেদক পতেঙ্গা থানায়, পতেঙ্গা থানার ওসি কাজী মোহাম্মদ সুলতার আহসান উদ্দীনকে হালিশহর থানায়, ইপিজেড থানার কামরুজ্জামানকে আকবরশাহ থানায়, চকবাজার থানায় শফিকুল ইসলামকে সিটিএসবিতে বদলী করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ