নির্বাচনে বিদেশীদের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে চবিতে মানববন্ধন

চবি রিপোর্টার:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী পরিচালিত ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিদেশীদের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষক সমিতি।

বুধবার (২২ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চত্বরে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল হকের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মো. হেলাল উদ্দিন নিজামী, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক সিরাজ উদ দৌল্লাহসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক সমিতির সদস্য ও অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল হক বলেন, আমরা মনে করি দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকবে৷ রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে বিরোধী দল দরকার। যে দলই হোক না কেন, তাদের আন্দোলন কর্মসূচির জন্য বৈধ পন্থা অবলম্বন করতে হবে। যাতে দেশ ও জনগণের ক্ষতি না হয়। কিন্তু বর্তমানে আমরা দেখতে পাচ্ছি গুপ্ত হামলার মাধ্যমে, রাস্তার পাশে রাখা গাড়ি, গ্যারেজের ভিতরে গিয়ে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঘটানো হচ্ছে। এসব নৈরাজ্য ও ধ্বংস কখনোই আমাদের কাম্য নয়৷ তাই আজকের মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে এসব ধ্বংসাত্মক কাজের তীব্র নিন্দা জানাই এবং এসব ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বিরোধী দলকে বিরত থাকার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান ছিদ্দিকী বলেন, সরকার পরিবর্তনের একমাত্র পন্থা নির্বাচন। কিন্তু একটি দল হরতাল অবরোধের নামে দেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে। এতে করে দেশের মানুষ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই আমরা তাদেরকে আহ্বান করছি এরকম ধ্বংসাত্মক কাজ বন্ধ করে স্বতস্ফুর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জনগনকে গনতান্ত্রিক পন্থায় নেতৃত্ব প্রদান করতে সহায়তা করুন।

তিনি আরও বলেন, আমরা দেখছি আমাদের গনতন্ত্রে বিদেশীদের নগ্ন হস্তক্ষেপ। এভাবে হস্তক্ষেপ করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পন্থা নস্যাৎ করতে পারবে না। আমরা জনগনের কাছে অনুরোধ করছি আপনারা নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হয়ে গনতান্ত্রিক পদ্ধতি বজায় রাখুন।

মানববন্ধনে তারা বলেন, হরতাল অবরোধের ১৪তম দিনে এসে আমরা বাধ্য হয়েছি এখানে দাঁড়াতে। নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। আমরা বলতে চাই, সরকার পরিবর্তন হবে গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ভোটের মাধ্যমে। জনগন যাকে চাইবে তারা নির্বাচিত হবে। এ হরতাল, অবরোধ, ধ্বংসযজ্ঞের মাধ্যমে দিনমজুর, বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে। ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।

এসময় হরতাল অবরোধ বন্ধ করে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি বজায় রেখে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনকে সরকার নির্বাচনে সহায়তা করার আহ্বান জানান শিক্ষক সমিতির নেতারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পণ্যের দাম বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত নজরদারি বাড়ানো জরুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে পরিবহন খরচ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম ইতোমধ্যে কেজিতে ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, সড়ক ও নৌপথে পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। ডিজেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা বাড়ার ধাক্কা পড়তে শুরু করেছে নিত্যপণ্যের বাজারে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণগুলোর একটি পরিবহন ব্যয়। শুধু সড়কপথ নয়, নৌপথেও বেড়েছে পরিবহন খরচ। খাতুনগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পণ্য পাঠাতে লাইটারেজ জাহাজ ব্যবহার করা হয়। ডিজেলের দাম বাড়ায় এসব জাহাজের পরিচালন ব্যয়ও বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে পণ্যের দামে।
খাতুনগঞ্জের একাধিক ব্যবসায়ী জানান, আগে যে ট্রাকটি চট্টগ্রামে পণ্য আনতে ২৫ হাজার টাকা ভাড়া নিত, ডিজেলের দাম বাড়ার পর সেই ভাড়া প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ ২৫ হাজার টাকার ভাড়া এখন প্রায় ৩৫ হাজার টাকা হয়েছে। বাড়তি এই পরিবহন ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু বক্কর বলেন, ডিজেলের দাম বাড়ায় পরিবহন ভাড়া ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। আগে বগুড়া থেকে ট্রাকে করে পণ্য আনতে আমাদের সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা খরচ হতো। এখন সেটি প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। একইভাবে নৌপথেও ভাড়া বেড়েছে। শুধু দেশের ভেতরে নয়, বিদেশ থেকে আমদানি করা পণ্য পরিবহনেও ব্যয় বেড়েছে।
খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২ টাকা বেড়ে ৪০ টাকা, আদা ৩ টাকা বেড়ে ৯৫ টাকা এবং রসুন ৪ টাকা বেড়ে ১২২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় লাল মরিচ ৫ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩৫০ টাকা এবং ভারতীয় মিষ্টি মরিচ ৫ টাকা বেড়ে ৪৪০ টাকা হয়েছে। চিনির দামও কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০২ টাকায়।
এ ছাড়া মোটা মসুর ডালের দাম ২ টাকা বেড়ে ৮০ টাকা, মুগ ডাল ৮ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা, মটর ডাল ২ টাকা বেড়ে ৫৪ টাকা এবং সাদা মটর ৩ টাকা বেড়ে ৫৪ টাকা হয়েছে। চিকন মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৫৭ টাকা কেজি দরে। তবে ছোলার দাম এখনো অপরিবর্তিত রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ছোলা ৯৫ টাকা এবং ভারতীয় ছোলা ৯৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এর পাশাপাশি বেড়েছে ভোজ্যতেলের দামও।
এক ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ডিজেলের প্রভাবে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে যে হারে পরিবহন ভাড়া বেড়েছে, সে তুলনায় পণ্যের দাম এখনো স্থিতিশীলই আছে। কিন্তু মানুষের আয় না বাড়ায় কেনাকাটা কমেছে।
বাজারে যাতে অপ্রত্যাশিতভাবে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানো না হয়, সেজন্য নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন। তিনি বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে এর প্রভাব শুরু হয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত বাড়তি খরচের চাপ ক্রেতার ওপরেই পড়ছে। সেজন্য বাজারে নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

চট্টগ্রামে নকল ঘি বিক্রি, ২ লাখ টাকা জরিমানা গুনল এম আর কনজিউমারস

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে নকল ঘি বিক্রি করার অপরাধে এম আর কনজিউমারস প্রোডাক্টসকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করাসহ নানা অপরাধে আরও তিন প্রতিষ্ঠানকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) নগরীর বহদ্দারহাট কাঁচাবাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার অধিদপ্তর চট্টগ্রাম।

অভিযানে নকল ঘি উৎপাদনের দায়ে এম আর কনজিউমারস প্রোডাক্টস নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা, মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং ক্রয় বিক্রয় ভাউচার যথাযথভাবে সংরক্ষণ না করায় আরিফের ফল বিতানকে ১ হাজার টাকা, পারভিন ট্রেডার্সকে ১০ হাজার টাকা, এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিকার অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক মো. ফয়েজ উল্ল্যাহ বলেন, ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ